Dhaka বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিরোধী দলের ওপর ‘স্বৈরাচারের ভূত’ ভর করেছে : প্রধানমন্ত্রী

টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি :

বিরোধী দলের কর্মকাণ্ড নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিরোধী দলের ওপর এখনো “স্বৈরাচারের ভূত” ভর করেছে এবং তারা সরকারের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর কবর জিয়ারত শেষে এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে জেলা বিএনপি এই সমাবেশের আয়োজন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে ঠিকই, কিন্তু তার ভূত রয়ে গেছে।” তিনি দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনসম্পৃক্ত কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া যখন একবার সরকার গঠন করলো তখন ওই পাশে যারা বিরোধী দলে ছিল তারা বলল যে এক মিনিটেও বিএনপিকে শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না, মনে আছে? আমরা দেখি যে এখন যারা বিরোধী দলে বসছে এরাও একই কাজ শুরু করে দিছে। ওই যে স্বৈরাচারের ভূত এদের ওপর আছর করেছে।

জুলাই সনদে বিএনপি সই করেছে এবং এর প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি লাইন বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকের এই জনসভায় দাঁড়িয়ে পরিষ্কারভাবে আমি আপনাদের সামনে মিডিয়ার মাধ্যমে সমগ্র দেশের মানুষকে বলতে চাই, যে জুলাই সনদ আমরা সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ড. ইউনূস যখন ডেকেছিলেন সনদ সই করার জন্য, সবচেয়ে প্রথমে বিএনপি গিয়েছিল। বিএনপি জুলাই সনদ সই করে এসেছে। সেই জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি লাইন ইনশা আল্লাহ আমরা বাস্তবায়ন করব।’

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের জনগণ বিএনপিকে দায়িত্ব দিয়েছে দেশ পরিচালনা করার জন্য। সনদ, যেটি বিএনপি সই করে এসেছে, যেই সনদে অন্যরা সই করে এসেছে। আমরা দেখছি, এখন যারা বিরোধী দলে আছে…। আর তাদের সঙ্গে আরেকটা দল আছে, তারা তো তখন সইই করে নাই। তাদের দেখলাম নির্বাচনের পরে গিয়ে হঠাৎ করে চুরি করে সই করল। প্রথমে জুলাই সনদে কে সই করেছে? বিএনপি সই করেছে। যারা নির্বাচনের পরে গিয়ে সই করল, কিন্তু জুলাইয়ের জুলাই আন্দোলনে জুলাই সনদের জন্য যারা গলা ফাটায় ফেলে, তাদের তো আমরা প্রশ্ন করতে পারি, এতই যদি তোমাদের দরদ হয়, তো তোমরা প্রথমে কেন সই করলা না ভাই?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটু আগে বলেছি, আবারও পরিষ্কার বলছি, বিএনপি যেই জুলাই সনদে সই করেছে, অনুষ্ঠান করে যেই জুলাই সনদে সকল রাজনৈতিক দল সই করেছে, সেই জুলাই সনদ ইনশা আল্লাহ বিএনপি বাস্তবায়ন করবে। এর কোনো নড়চড় হবে না।

তিনি বলেন, আমাদের সজাগ থাকতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে, কারা স্বৈরাচারের ভূত, কাদের ওপর আবার ধীরে ধীরে আছর করছে, কারা আবার দেশে অরাজকতা তৈরি করতে চাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ যখন সংস্কারের কথা বলছে, তখন আমাদের মনে রাখতে হবে—সংস্কারের প্রস্তাব প্রথম কারা দিয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারের কথা বলছে, কিন্তু বিএনপি অনেক আগেই এই প্রস্তাবগুলো দিয়েছিল। ২০১৬ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি প্রথম সংস্কারের রূপরেখা দিয়েছিল। এরপর ২০২৩ সালে আন্দোলনে থাকা সব দলকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি একদফা আন্দোলন ও সংস্কারের ৩১ দফা ঘোষণা করে। ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার যখন সংস্কার কমিশন গঠন করে বিভিন্ন দলকে আমন্ত্রণ জানাল, তখন দেখা গেছে সেই সংস্কার প্রস্তাবগুলোর ৮৫ শতাংশই বিএনপির দেওয়া প্রস্তাবের সাথে মিলে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রের নিয়মই হচ্ছে মতামতের ভিন্নতা। আমাদের মধ্যে কোনো বিষয়ে দ্বিমত থাকতে পারে, তাতে সমস্যা নেই। কিন্তু সেই দ্বিমত নিরসন হতে হবে আলোচনার মাধ্যমে।

জনগণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘যারা বিএনপির খাল খনন, বিএনপির ফ্যামিলি কার্ড, বিএনপির কৃষকের কার্ড, পেশাদার খেলোয়াড় তৈরিসহ এই সকল জনগণের জনকল্যাণ কর্মসূচি সেইগুলোকে বাধাগ্রস্ত করবে, বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রতিহত করবে। আমাদের সজাগ থাকতে হবে; আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। স্বৈরাচারের ভূত কাদের ওপর আবার ফিরে ফিরে আছর করছে? কারা আবার দেশে অরাজকতা তৈরি করতে চাচ্ছে?’

শেরপুর-৩ আসনে স্থগিত হওয়া নির্বাচন এবং বগুড়া-৬ আসনের উপ-নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুইদিন আগে আপনারা দেখেছেন, সমগ্র দেশের মানুষ দেখল বাংলাদেশের দুটি জায়গা, এক শেরপুর ও দুই বগুড়ার একটি আসনে উপ-নির্বাচন হয়েছে। হ্যাঁ, হয়ত বা অবাঞ্ছিতভাবে দুই-একটি ছোটোখাট ঘটনা ঘটেছে। আমি দুইদিন আগে নির্বাচন হবার পরে বাংলাদেশের সব পত্রিকাগুলো ঘাঁটাঘাঁটি করলাম। পত্রিকার কোনো খবরেই কিন্তু কোনো জায়গায় অবাঞ্ছিত বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে তেমন কোনো কিছু নাই। ছোটোখাট একটা দুইটা হালকা ঘটনা আছে নিউজে। কিন্তু অভিযোগ করার মত কোনো পত্রিকায় কোনো ঘটনা নাই। যেখানে উপ-নির্বাচন হয়েছে, সেখানের মানুষ শান্তিতে আছে; পরিস্থিতি ঠান্ডা।  কিন্তু পরিস্থিতি গরম কোথায়? বায়তুল মোকারমে। কারা পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে নিশ্চয় সেটি আপনাদের অজানা নয়।

দেশ থেকে ‘স্বৈরাচার’ পালিয়ে গেছে কিন্তু ‘স্বৈরাচারের ভূত’ এখনো রয়ে গেছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে জনসম্পৃক্ত যেসব কর্মসূচি আছে, সেগুগুলো যাতে বাধাগ্রস্ত হতে না পারে।

শেষে তিনি বলেন, এই বাংলাদেশই আমাদের একমাত্র ঠিকানা। এই দেশকে আমরা আমাদের হৃদয়ে ধারণ করেছি। এ দেশ ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প ঠিকানা নেই। যেহেতু এই বাংলাদেশই আমাদের পরিচয় এবং শেষ আশ্রয়, তাই এই দেশটিকে আমাদেরই গড়ে তুলতে হবে। আমরা সকলকে সঙ্গে নিয়ে ইনশাআল্লাহ এই দেশকে একটি সমৃদ্ধ ও প্রত্যাশিত বাংলাদেশে রূপান্তর করব।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন। আরও বক্তব্য দেন কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশীদ, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য আবদুস সালাম পিন্টু, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান মতিন, টাঙ্গাইল-৭ নাগরপুর-দেলদুয়ার আসনের সংসদ সদস্য রবিউল আওয়াল লাভলু, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ারুল আজিম আখন্দ, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের প্রশাসক এস এম ওবায়দুল হক নাসির, বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজির আহমেদ টিটু, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু প্রমুখ।

আবহাওয়া

কৃষি ও কৃষকই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি : তথ্যমন্ত্রী

বিরোধী দলের ওপর ‘স্বৈরাচারের ভূত’ ভর করেছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ১০:০৪:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি :

বিরোধী দলের কর্মকাণ্ড নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিরোধী দলের ওপর এখনো “স্বৈরাচারের ভূত” ভর করেছে এবং তারা সরকারের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর কবর জিয়ারত শেষে এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে জেলা বিএনপি এই সমাবেশের আয়োজন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে ঠিকই, কিন্তু তার ভূত রয়ে গেছে।” তিনি দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনসম্পৃক্ত কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া যখন একবার সরকার গঠন করলো তখন ওই পাশে যারা বিরোধী দলে ছিল তারা বলল যে এক মিনিটেও বিএনপিকে শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না, মনে আছে? আমরা দেখি যে এখন যারা বিরোধী দলে বসছে এরাও একই কাজ শুরু করে দিছে। ওই যে স্বৈরাচারের ভূত এদের ওপর আছর করেছে।

জুলাই সনদে বিএনপি সই করেছে এবং এর প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি লাইন বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকের এই জনসভায় দাঁড়িয়ে পরিষ্কারভাবে আমি আপনাদের সামনে মিডিয়ার মাধ্যমে সমগ্র দেশের মানুষকে বলতে চাই, যে জুলাই সনদ আমরা সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ড. ইউনূস যখন ডেকেছিলেন সনদ সই করার জন্য, সবচেয়ে প্রথমে বিএনপি গিয়েছিল। বিএনপি জুলাই সনদ সই করে এসেছে। সেই জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি লাইন ইনশা আল্লাহ আমরা বাস্তবায়ন করব।’

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের জনগণ বিএনপিকে দায়িত্ব দিয়েছে দেশ পরিচালনা করার জন্য। সনদ, যেটি বিএনপি সই করে এসেছে, যেই সনদে অন্যরা সই করে এসেছে। আমরা দেখছি, এখন যারা বিরোধী দলে আছে…। আর তাদের সঙ্গে আরেকটা দল আছে, তারা তো তখন সইই করে নাই। তাদের দেখলাম নির্বাচনের পরে গিয়ে হঠাৎ করে চুরি করে সই করল। প্রথমে জুলাই সনদে কে সই করেছে? বিএনপি সই করেছে। যারা নির্বাচনের পরে গিয়ে সই করল, কিন্তু জুলাইয়ের জুলাই আন্দোলনে জুলাই সনদের জন্য যারা গলা ফাটায় ফেলে, তাদের তো আমরা প্রশ্ন করতে পারি, এতই যদি তোমাদের দরদ হয়, তো তোমরা প্রথমে কেন সই করলা না ভাই?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটু আগে বলেছি, আবারও পরিষ্কার বলছি, বিএনপি যেই জুলাই সনদে সই করেছে, অনুষ্ঠান করে যেই জুলাই সনদে সকল রাজনৈতিক দল সই করেছে, সেই জুলাই সনদ ইনশা আল্লাহ বিএনপি বাস্তবায়ন করবে। এর কোনো নড়চড় হবে না।

তিনি বলেন, আমাদের সজাগ থাকতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে, কারা স্বৈরাচারের ভূত, কাদের ওপর আবার ধীরে ধীরে আছর করছে, কারা আবার দেশে অরাজকতা তৈরি করতে চাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ যখন সংস্কারের কথা বলছে, তখন আমাদের মনে রাখতে হবে—সংস্কারের প্রস্তাব প্রথম কারা দিয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারের কথা বলছে, কিন্তু বিএনপি অনেক আগেই এই প্রস্তাবগুলো দিয়েছিল। ২০১৬ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি প্রথম সংস্কারের রূপরেখা দিয়েছিল। এরপর ২০২৩ সালে আন্দোলনে থাকা সব দলকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি একদফা আন্দোলন ও সংস্কারের ৩১ দফা ঘোষণা করে। ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার যখন সংস্কার কমিশন গঠন করে বিভিন্ন দলকে আমন্ত্রণ জানাল, তখন দেখা গেছে সেই সংস্কার প্রস্তাবগুলোর ৮৫ শতাংশই বিএনপির দেওয়া প্রস্তাবের সাথে মিলে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রের নিয়মই হচ্ছে মতামতের ভিন্নতা। আমাদের মধ্যে কোনো বিষয়ে দ্বিমত থাকতে পারে, তাতে সমস্যা নেই। কিন্তু সেই দ্বিমত নিরসন হতে হবে আলোচনার মাধ্যমে।

জনগণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘যারা বিএনপির খাল খনন, বিএনপির ফ্যামিলি কার্ড, বিএনপির কৃষকের কার্ড, পেশাদার খেলোয়াড় তৈরিসহ এই সকল জনগণের জনকল্যাণ কর্মসূচি সেইগুলোকে বাধাগ্রস্ত করবে, বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রতিহত করবে। আমাদের সজাগ থাকতে হবে; আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। স্বৈরাচারের ভূত কাদের ওপর আবার ফিরে ফিরে আছর করছে? কারা আবার দেশে অরাজকতা তৈরি করতে চাচ্ছে?’

শেরপুর-৩ আসনে স্থগিত হওয়া নির্বাচন এবং বগুড়া-৬ আসনের উপ-নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুইদিন আগে আপনারা দেখেছেন, সমগ্র দেশের মানুষ দেখল বাংলাদেশের দুটি জায়গা, এক শেরপুর ও দুই বগুড়ার একটি আসনে উপ-নির্বাচন হয়েছে। হ্যাঁ, হয়ত বা অবাঞ্ছিতভাবে দুই-একটি ছোটোখাট ঘটনা ঘটেছে। আমি দুইদিন আগে নির্বাচন হবার পরে বাংলাদেশের সব পত্রিকাগুলো ঘাঁটাঘাঁটি করলাম। পত্রিকার কোনো খবরেই কিন্তু কোনো জায়গায় অবাঞ্ছিত বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে তেমন কোনো কিছু নাই। ছোটোখাট একটা দুইটা হালকা ঘটনা আছে নিউজে। কিন্তু অভিযোগ করার মত কোনো পত্রিকায় কোনো ঘটনা নাই। যেখানে উপ-নির্বাচন হয়েছে, সেখানের মানুষ শান্তিতে আছে; পরিস্থিতি ঠান্ডা।  কিন্তু পরিস্থিতি গরম কোথায়? বায়তুল মোকারমে। কারা পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে নিশ্চয় সেটি আপনাদের অজানা নয়।

দেশ থেকে ‘স্বৈরাচার’ পালিয়ে গেছে কিন্তু ‘স্বৈরাচারের ভূত’ এখনো রয়ে গেছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে জনসম্পৃক্ত যেসব কর্মসূচি আছে, সেগুগুলো যাতে বাধাগ্রস্ত হতে না পারে।

শেষে তিনি বলেন, এই বাংলাদেশই আমাদের একমাত্র ঠিকানা। এই দেশকে আমরা আমাদের হৃদয়ে ধারণ করেছি। এ দেশ ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প ঠিকানা নেই। যেহেতু এই বাংলাদেশই আমাদের পরিচয় এবং শেষ আশ্রয়, তাই এই দেশটিকে আমাদেরই গড়ে তুলতে হবে। আমরা সকলকে সঙ্গে নিয়ে ইনশাআল্লাহ এই দেশকে একটি সমৃদ্ধ ও প্রত্যাশিত বাংলাদেশে রূপান্তর করব।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন। আরও বক্তব্য দেন কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশীদ, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য আবদুস সালাম পিন্টু, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান মতিন, টাঙ্গাইল-৭ নাগরপুর-দেলদুয়ার আসনের সংসদ সদস্য রবিউল আওয়াল লাভলু, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ারুল আজিম আখন্দ, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের প্রশাসক এস এম ওবায়দুল হক নাসির, বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজির আহমেদ টিটু, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু প্রমুখ।