বাড়ছে বিমানের বহর, বোয়িং-এয়ারবাস থেকে আসছে ২১ উড়োজাহাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক : 
চলাচলের অনুমতি থাকা বিভিন্ন রুটে যাত্রী চাহিদা থাকলেও উড়োজাহাজের সংকটে ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারছে না বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বর্তমান বহরের কোনো উড়োজাহাজ ত্রুটিতে পড়লে নিয়মিত ফ্লাইট সূচিতেও এর প্রভাব পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্সটির বহর সম্প্রসারণে আরো ২১ উড়োজাহাজ কেনার  উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এরই মধ্যে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বিমান। এবার প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়াও এগোচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্রগুলো বলছে, বোয়িংয়ের সঙ্গে নতুন করে ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে হতে পারে। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এরপর অক্টোবর মাসে এয়ারবাসের সঙ্গে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সূত্র জানায়, বর্তমানে বিমানের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। গত এপ্রিল মাসে বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করা হয়। নতুন করে বোয়িংয়ের ১১টি এবং এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ যুক্ত হলে কয়েক বছরের মধ্যে বিমানের বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াবে ৫৪টিতে।
বোয়িং ও এয়ারবাসের সঙ্গে প্রস্তাবিত দুটি চুক্তি সম্পন্ন হলে এটি বিমানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বহর সম্প্রসারণের উদ্যোগ হতে পারে।
এর আগে গত এপ্রিল মাসে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকায় বোয়িংয়ের ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। চুক্তিতে রয়েছে আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স উড়োজাহাজ। চুক্তি অনুযায়ী, ২০৩১ সালের নভেম্বর থেকে উড়োজাহাজগুলোর সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সরবরাহ শেষ হবে ২০৩৫ সালের অক্টোবরে।
তবে নতুন করে বোয়িংয়ের কাছ থেকে যে ১১টি উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর মডেল, দাম, অর্থায়ন এবং সরবরাহের সময়সূচি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
অন্যদিকে, এয়ারবাসের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তিতে চারটি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইডবডি এবং ছয়টি এ৩২১নিও ন্যারোবডি উড়োজাহাজ থাকার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
নতুন দুটি চুক্তির বিষয়ে বিমান বা সরকারের পক্ষ থেকে এখনো সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে গত ৩১ আগস্ট ময়মনসিংহে এক অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছিলেন, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও জার্মানি থেকে উড়োজাহাজ কেনা হবে।
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে বিমানমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আধুনিকায়নে এয়ারবাস থেকে উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিমানের বহরে জরুরি ভিত্তিতে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করতে নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়টিও সেখানে জানানো হয়।
এদিকে, বোয়িং থেকে আরও উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে গত ৩০ আগস্ট। ওই দিন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত এবং ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘আরেকটি অসাধারণ চুক্তি’ করেছেন।
পোস্টে তিনি বলেন, বাংলাদেশ অতিরিক্ত বোয়িং উড়োজাহাজ কিনতে ‘বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার’ ব্যয় করবে এবং প্রাথমিক ক্রয়াদেশ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই ঘোষণা পুনঃপ্রচার করেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চিঠি দিয়ে উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।
সার্জিও গোরের ওই পোস্ট এবং প্রধানমন্ত্রীকে লেখা মার্কিন প্রেসিডেন্টের চিঠির পর গত ১ সেপ্টেম্বর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছিলেন, বিমান খাতের প্রয়োজন বিবেচনা করেই বহর সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
গত ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে হুমায়ুন কবির বলেন, নতুন রুট চালু এবং নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের জন্য বাংলাদেশের উড়োজাহাজের বহর বাড়ানো প্রয়োজন। বোয়িং কিংবা এয়ারবাস—যে কোনো কোম্পানি থেকে উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের নিজস্ব ব্যবসায়িক বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে এয়ারবাস থেকে উড়োজাহাজ কেনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত মাসেই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করার প্রস্তুতি ছিল বিমানের। সে সময় চুক্তি না হলেও অক্টোবরের মধ্যে তা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্রটির দাবি, এয়ারবাস তুলনামূলক কম দামে উড়োজাহাজ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই উড়োজাহাজ সরবরাহের প্রক্রিয়া শুরু করার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
সম্ভাব্য চুক্তির অর্থের অন্তত ৮৫ শতাংশ যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্সের ঋণের মাধ্যমে অর্থায়নের কথা রয়েছে। উড়োজাহাজ সরবরাহের পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহল (এমআরও), পাইলট ও কেবিন ক্রু প্রশিক্ষণ, বহর পরিকল্পনা এবং কেবিন নকশার সুবিধাও দেওয়ার প্রস্তাব করেছে এয়ারবাস।
এছাড়া বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে রপ্তানি পণ্য পরিবহনে বিদ্যমান হাইরিস্ক কার্গো অ্যান্ড মেইল (এইচআরসিএম) স্ট্যাটাস প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছে বাংলাদেশ।
২০১৭ সালে নিরাপত্তা ঘাটতির কারণ দেখিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের আকাশপথে বিভিন্ন রপ্তানি চালানের ওপর এইচআরসিএম নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর ফলে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের দেশগুলোতে সরাসরি কার্গো বা পণ্যবাহী উড়োজাহাজ পাঠাতে বাড়তি নিরাপত্তা স্ক্রিনিং ও কঠোর নজরদারির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য ধীর ও ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।
দেশের বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে। সর্বশেষ গতকাল বিমানমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সৌজন্য সাক্ষাতে বিষয়টি আবারও উত্থাপন করা হয়।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এইচআরসিএম স্ট্যাটাস প্রত্যাহারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরে প্রয়োজন অনুযায়ী এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া অডিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর সন্তোষজনক রেটিং অর্জন করেছে। তাই সরকার চায়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এইচআরসিএম স্ট্যাটাস প্রত্যাহারে উদ্যোগ নিক।
জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

ফরিদপুরে হত্যা মামলায় চারজনের যাবজ্জীবন

বাড়ছে বিমানের বহর, বোয়িং-এয়ারবাস থেকে আসছে ২১ উড়োজাহাজ

প্রকাশের সময় : ০৮:২৯:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক : 
চলাচলের অনুমতি থাকা বিভিন্ন রুটে যাত্রী চাহিদা থাকলেও উড়োজাহাজের সংকটে ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারছে না বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বর্তমান বহরের কোনো উড়োজাহাজ ত্রুটিতে পড়লে নিয়মিত ফ্লাইট সূচিতেও এর প্রভাব পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্সটির বহর সম্প্রসারণে আরো ২১ উড়োজাহাজ কেনার  উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এরই মধ্যে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বিমান। এবার প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়াও এগোচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্রগুলো বলছে, বোয়িংয়ের সঙ্গে নতুন করে ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে হতে পারে। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এরপর অক্টোবর মাসে এয়ারবাসের সঙ্গে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সূত্র জানায়, বর্তমানে বিমানের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। গত এপ্রিল মাসে বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করা হয়। নতুন করে বোয়িংয়ের ১১টি এবং এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ যুক্ত হলে কয়েক বছরের মধ্যে বিমানের বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াবে ৫৪টিতে।
বোয়িং ও এয়ারবাসের সঙ্গে প্রস্তাবিত দুটি চুক্তি সম্পন্ন হলে এটি বিমানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বহর সম্প্রসারণের উদ্যোগ হতে পারে।
এর আগে গত এপ্রিল মাসে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকায় বোয়িংয়ের ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। চুক্তিতে রয়েছে আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স উড়োজাহাজ। চুক্তি অনুযায়ী, ২০৩১ সালের নভেম্বর থেকে উড়োজাহাজগুলোর সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সরবরাহ শেষ হবে ২০৩৫ সালের অক্টোবরে।
তবে নতুন করে বোয়িংয়ের কাছ থেকে যে ১১টি উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর মডেল, দাম, অর্থায়ন এবং সরবরাহের সময়সূচি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
অন্যদিকে, এয়ারবাসের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তিতে চারটি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইডবডি এবং ছয়টি এ৩২১নিও ন্যারোবডি উড়োজাহাজ থাকার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
নতুন দুটি চুক্তির বিষয়ে বিমান বা সরকারের পক্ষ থেকে এখনো সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে গত ৩১ আগস্ট ময়মনসিংহে এক অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছিলেন, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও জার্মানি থেকে উড়োজাহাজ কেনা হবে।
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে বিমানমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আধুনিকায়নে এয়ারবাস থেকে উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিমানের বহরে জরুরি ভিত্তিতে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করতে নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়টিও সেখানে জানানো হয়।
এদিকে, বোয়িং থেকে আরও উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে গত ৩০ আগস্ট। ওই দিন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত এবং ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘আরেকটি অসাধারণ চুক্তি’ করেছেন।
পোস্টে তিনি বলেন, বাংলাদেশ অতিরিক্ত বোয়িং উড়োজাহাজ কিনতে ‘বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার’ ব্যয় করবে এবং প্রাথমিক ক্রয়াদেশ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই ঘোষণা পুনঃপ্রচার করেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চিঠি দিয়ে উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।
সার্জিও গোরের ওই পোস্ট এবং প্রধানমন্ত্রীকে লেখা মার্কিন প্রেসিডেন্টের চিঠির পর গত ১ সেপ্টেম্বর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছিলেন, বিমান খাতের প্রয়োজন বিবেচনা করেই বহর সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
গত ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে হুমায়ুন কবির বলেন, নতুন রুট চালু এবং নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের জন্য বাংলাদেশের উড়োজাহাজের বহর বাড়ানো প্রয়োজন। বোয়িং কিংবা এয়ারবাস—যে কোনো কোম্পানি থেকে উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের নিজস্ব ব্যবসায়িক বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে এয়ারবাস থেকে উড়োজাহাজ কেনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত মাসেই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করার প্রস্তুতি ছিল বিমানের। সে সময় চুক্তি না হলেও অক্টোবরের মধ্যে তা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্রটির দাবি, এয়ারবাস তুলনামূলক কম দামে উড়োজাহাজ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই উড়োজাহাজ সরবরাহের প্রক্রিয়া শুরু করার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
সম্ভাব্য চুক্তির অর্থের অন্তত ৮৫ শতাংশ যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্সের ঋণের মাধ্যমে অর্থায়নের কথা রয়েছে। উড়োজাহাজ সরবরাহের পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহল (এমআরও), পাইলট ও কেবিন ক্রু প্রশিক্ষণ, বহর পরিকল্পনা এবং কেবিন নকশার সুবিধাও দেওয়ার প্রস্তাব করেছে এয়ারবাস।
এছাড়া বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে রপ্তানি পণ্য পরিবহনে বিদ্যমান হাইরিস্ক কার্গো অ্যান্ড মেইল (এইচআরসিএম) স্ট্যাটাস প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছে বাংলাদেশ।
২০১৭ সালে নিরাপত্তা ঘাটতির কারণ দেখিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের আকাশপথে বিভিন্ন রপ্তানি চালানের ওপর এইচআরসিএম নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর ফলে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের দেশগুলোতে সরাসরি কার্গো বা পণ্যবাহী উড়োজাহাজ পাঠাতে বাড়তি নিরাপত্তা স্ক্রিনিং ও কঠোর নজরদারির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য ধীর ও ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।
দেশের বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে। সর্বশেষ গতকাল বিমানমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সৌজন্য সাক্ষাতে বিষয়টি আবারও উত্থাপন করা হয়।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এইচআরসিএম স্ট্যাটাস প্রত্যাহারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরে প্রয়োজন অনুযায়ী এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া অডিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর সন্তোষজনক রেটিং অর্জন করেছে। তাই সরকার চায়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এইচআরসিএম স্ট্যাটাস প্রত্যাহারে উদ্যোগ নিক।