বাণিজ্য সম্প্রসারণসহ ৯ বিষয়ে একমত দুই দেশের সরকারপ্রধান : মাহদী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, মালয়েশিয়া থেকে বিনিয়োগ নিশ্চিত করাই সরকারের মূল উদ্দেশ্য। বাণিজ্য সম্প্রসারণসহ ৯টি বিষয়ে সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে দুই দেশের সরকারপ্রধান একমত হয়েছেন।

সোমবার (২২ জুন) তারেক রহমানের প্রথম রাষ্ট্রীয় ও দ্বিপাক্ষিক মালয়েশিয়া সফর উপলক্ষে অনুষ্ঠিত প্রেস কনফারেন্সে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, সফরে বাংলাদেশ এবং মালয়েশিয়ার মধ্েয রাজনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, হালাল শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি, এআই এবং সেমিকন্ডাক্টর খাত, বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ এবং তাঁদের কল্যাণে সহযোগিতা, শিক্ষা ও পর্যটন খাতে সহযোগিতা, জ্বালানি খাত, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক সহায়তা সম্প্রসারণ খাতগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সর্বমোট ৯টি বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্েয দুই দেশের সম্মতিতে ৩৩ টি পয়েন্টে একটি যৌথ বিবৃতি ইস্যু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সম্ভব হলে দ্রুত বাংলাদেশের জন্য শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এছাড়া, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কারাবন্দিদের আইনগতভাবে মুক্ত করতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, পারস্পরিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও কীভাবে শক্তিশালী করা যায় সে বিষয়ে দুই রাষ্ট্রনায়ক আলোচনা করেন। দুই দেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের লক্ষ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এছাড়া, বৈঠকে প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে শিল্প ও ব্যবসা খাতে সহযোগিতা বাড়িয়ে নতুন কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরিতে দুই দেশ একসাথে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয় বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আজকের আলোচনায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল অর্থনীতি, সাইবার নিরাপত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের তথ্য প্রযুক্তি খাতে, বিশেষ করে প্রযুক্তি পার্ক ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে, মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মাহদী আমিন জানান, এই সফরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে সংস্কৃতি বিষয়ে একটি সমঝোতা স্বাক্ষর স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো দুই দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং দীর্ঘদিনের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ককে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী করা।

তিনি বলেন, আজকের এই সফর কেবল একটি রাষ্ট্রীয় সফর নয়; এটি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের এক ঐতিহাসিক অধ্যায় এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার এক নতুন দিগন্তের সূচনা।

বিএনপি সরকারের সঙ্গে মালয়েশিয়ার একটি ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর তারেক রহমান এই দেশ দিয়েই বিদেশ সফর শুরু করেছেন বলে জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সর্বপ্রথম অভিনন্দন জানানো কয়েকজন বিশ্বনেতার অন্যতম ছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতো সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম।

তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মালয়েশিয়া সফর করেছিলেন এবং তার হাত ধরেই বাংলাদেশ থেকে এখানে জনশক্তি রপ্তানি শুরু হয়েছিল। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ১৯৯৩ সালে মালয়েশিয়া সফর করেন এবং এখানকার উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার বিভিন্ন দিক বাংলাদেশে বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। স্বাভাবিকভাবেই বিএনপি সরকারের সঙ্গে মালয়েশিয়ার একটি ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে এবং সেই ধারাবাহিকতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর তার বিদেশ সফর শুরু করলেন এই দেশ থেকে।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, প্রচলিত ধারার বিপরীতে প্রধানমন্ত্রী খুব ছোট একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে বাংলাদেশ থেকে এখানে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে আছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি আজ মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইলের সঙ্গে বেশ কয়েকটি পৃথক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

তিনি জানান, অফিশিয়াল ডেলিগেশনে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে আছেন আরও ২৩ জন, যার মধ্যে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা পদমর্যাদার ১০ জন। তা ছাড়া অতি অত্যাবশ্যকীয় কিছু সাপোর্ট স্টাফ, যেমন সিকিউরিটি, প্রটোকল ও মিডিয়া সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কয়েকজন এসেছেন।

স্বল্পসময়ের এই সফরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলেও জানান মাহদী আমিন। তিনি বলেন, প্রথমে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্েয একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর পর সীমিত পরিসরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে খোলামেলা আলোচনায় দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। পরবর্তীতে ডেলিগেশন পর্যায়ে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৃহত্তর পরিসরে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ডেলিগেশন মধ্যাহ্নভোজে অংশগ্রহণ করেন। পরে মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম সুলতান ইস্কান্দারের সঙ্গে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয় এবং সেখানেও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকসমূহে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়েও মতবিনিময় করা হয়। একই সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়, যোগ করেন মাহ্দী আমিন।

প্রেস কনফারেন্সে মাহদী আমিন বলেন, মাত্র ১৮ ঘণ্টার এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত ফলপ্রসূ সফরে যে আলোচনা, সমঝোতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে, তা আগামী দিনে দুই দেশের জন্য বহুমাত্রিক সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করবে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম এই বিদেশ সফর বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

এতে আরও উপস্থিত ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব- জাহিদুর রহমান রনিসহ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস টিম, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বাংলাদেশ হাইকমিশন, মালয়েশিয়ার কর্মকর্তারা।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

সংযোগ সড়ক না থাকায় কাজে আসছে না সেতু, দুর্ভোগে কয়েক হাজার মানুষ

বাণিজ্য সম্প্রসারণসহ ৯ বিষয়ে একমত দুই দেশের সরকারপ্রধান : মাহদী আমিন

প্রকাশের সময় : ০৪:২৬:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, মালয়েশিয়া থেকে বিনিয়োগ নিশ্চিত করাই সরকারের মূল উদ্দেশ্য। বাণিজ্য সম্প্রসারণসহ ৯টি বিষয়ে সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে দুই দেশের সরকারপ্রধান একমত হয়েছেন।

সোমবার (২২ জুন) তারেক রহমানের প্রথম রাষ্ট্রীয় ও দ্বিপাক্ষিক মালয়েশিয়া সফর উপলক্ষে অনুষ্ঠিত প্রেস কনফারেন্সে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, সফরে বাংলাদেশ এবং মালয়েশিয়ার মধ্েয রাজনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, হালাল শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি, এআই এবং সেমিকন্ডাক্টর খাত, বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ এবং তাঁদের কল্যাণে সহযোগিতা, শিক্ষা ও পর্যটন খাতে সহযোগিতা, জ্বালানি খাত, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক সহায়তা সম্প্রসারণ খাতগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সর্বমোট ৯টি বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্েয দুই দেশের সম্মতিতে ৩৩ টি পয়েন্টে একটি যৌথ বিবৃতি ইস্যু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সম্ভব হলে দ্রুত বাংলাদেশের জন্য শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এছাড়া, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কারাবন্দিদের আইনগতভাবে মুক্ত করতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, পারস্পরিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও কীভাবে শক্তিশালী করা যায় সে বিষয়ে দুই রাষ্ট্রনায়ক আলোচনা করেন। দুই দেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের লক্ষ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এছাড়া, বৈঠকে প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে শিল্প ও ব্যবসা খাতে সহযোগিতা বাড়িয়ে নতুন কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরিতে দুই দেশ একসাথে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয় বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আজকের আলোচনায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল অর্থনীতি, সাইবার নিরাপত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের তথ্য প্রযুক্তি খাতে, বিশেষ করে প্রযুক্তি পার্ক ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে, মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মাহদী আমিন জানান, এই সফরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে সংস্কৃতি বিষয়ে একটি সমঝোতা স্বাক্ষর স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো দুই দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং দীর্ঘদিনের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ককে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী করা।

তিনি বলেন, আজকের এই সফর কেবল একটি রাষ্ট্রীয় সফর নয়; এটি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের এক ঐতিহাসিক অধ্যায় এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার এক নতুন দিগন্তের সূচনা।

বিএনপি সরকারের সঙ্গে মালয়েশিয়ার একটি ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর তারেক রহমান এই দেশ দিয়েই বিদেশ সফর শুরু করেছেন বলে জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সর্বপ্রথম অভিনন্দন জানানো কয়েকজন বিশ্বনেতার অন্যতম ছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতো সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম।

তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মালয়েশিয়া সফর করেছিলেন এবং তার হাত ধরেই বাংলাদেশ থেকে এখানে জনশক্তি রপ্তানি শুরু হয়েছিল। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ১৯৯৩ সালে মালয়েশিয়া সফর করেন এবং এখানকার উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার বিভিন্ন দিক বাংলাদেশে বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। স্বাভাবিকভাবেই বিএনপি সরকারের সঙ্গে মালয়েশিয়ার একটি ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে এবং সেই ধারাবাহিকতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর তার বিদেশ সফর শুরু করলেন এই দেশ থেকে।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, প্রচলিত ধারার বিপরীতে প্রধানমন্ত্রী খুব ছোট একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে বাংলাদেশ থেকে এখানে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে আছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি আজ মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইলের সঙ্গে বেশ কয়েকটি পৃথক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

তিনি জানান, অফিশিয়াল ডেলিগেশনে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে আছেন আরও ২৩ জন, যার মধ্যে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা পদমর্যাদার ১০ জন। তা ছাড়া অতি অত্যাবশ্যকীয় কিছু সাপোর্ট স্টাফ, যেমন সিকিউরিটি, প্রটোকল ও মিডিয়া সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কয়েকজন এসেছেন।

স্বল্পসময়ের এই সফরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলেও জানান মাহদী আমিন। তিনি বলেন, প্রথমে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্েয একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর পর সীমিত পরিসরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে খোলামেলা আলোচনায় দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। পরবর্তীতে ডেলিগেশন পর্যায়ে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৃহত্তর পরিসরে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ডেলিগেশন মধ্যাহ্নভোজে অংশগ্রহণ করেন। পরে মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম সুলতান ইস্কান্দারের সঙ্গে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয় এবং সেখানেও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকসমূহে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়েও মতবিনিময় করা হয়। একই সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়, যোগ করেন মাহ্দী আমিন।

প্রেস কনফারেন্সে মাহদী আমিন বলেন, মাত্র ১৮ ঘণ্টার এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত ফলপ্রসূ সফরে যে আলোচনা, সমঝোতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে, তা আগামী দিনে দুই দেশের জন্য বহুমাত্রিক সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করবে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম এই বিদেশ সফর বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

এতে আরও উপস্থিত ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব- জাহিদুর রহমান রনিসহ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস টিম, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বাংলাদেশ হাইকমিশন, মালয়েশিয়ার কর্মকর্তারা।