নিজস্ব প্রতিবেদক :
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সিটি করপোরেশন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বগুড়া। নতুন এ সিটি করপোরেশনের প্রথম পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিএনপির সহ-সভাপতি এম আর ইসলাম স্বাধীন।
মঙ্গলবার (১৯ মে) আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেছেন।
এদিন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর কাছে যোগদানপত্র দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এম আর ইসলাম স্বাধীন। এর মাধ্যমে নতুন এ সিটি করপোরেশনটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলো।
এর আগে সোমবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ (সিটি করপোরেশন-১ শাখা) থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রণালয়ের উপসিচব মো. রবিউল ইসলাম এতে স্বাক্ষর করেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’-এর ধারা ২৫ক (১) অনুযায়ী পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন।নিয়োগপ্রাপ্ত এম আর ইসলাম স্বাধীন বগুড়া সদরের মালতিনগর এলাকার বকশিবাজার সড়কের বাসিন্দা।
এতে আরও বলা হয়েছে, সিটি করপোরেশনের নতুন পরিষদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসক হিসেবে তিনি মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিধি অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা প্রাপ্য হবেন। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান স্বাক্ষরিত এক সরকারি গেজেটে বগুড়াকে সিটি করপোরেশন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বর্তমান বগুড়া পৌরসভা এবং সদর ও শাজাহানপুর উপজেলার বিভিন্ন সম্প্রসারিত ও পার্শ্ববর্তী এলাকা (ফুলবাড়ী, নিশিন্দারা, কাটনারপাড়া, সুত্রাপুর, মালগ্রাম, ঠনঠনিয়া, মালতীনগর, ফুলদিঘী ও বেতগাড়ী) সমন্বয়ে মোট ২১টি ওয়ার্ড নিয়ে নতুন সিটি করপোরেশন গঠন করা হয়েছে।
বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রথম প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ছাত্রদল নেতা নাহিদ বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে স্বাধীন ভাই প্রথম প্রশাসক হয়েছেন। আমরা চাই, তার হাত ধরেই বগুড়া সিটি করপোরেশনের সব অপূর্ণতা পূরণ হোক।’
যোগদানের পর এম আর ইসলাম স্বাধীন বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। সেই সঙ্গে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীকেও ধন্যবাদ জানাই। সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বগুড়া সিটি করপোরেশনকে নতুনভাবে সাজাব।’
বগুড়াকে সিটি করপোরেশন ঘোষণা এবং প্রথম প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে পুরো শহর ও এর আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। তবে নতুন এ সিটি করপোরেশনকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া, পরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বর্ধিত নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাই হবে প্রথম প্রশাসকের প্রধান চ্যালেঞ্জ—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















