Dhaka মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফায়ার সার্ভিসকে আধুনিকায়ন করতে লোকবলসহ স্টেশন বাড়ানো হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ফায়ার সার্ভিসকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে যুগোপযোগী করতে হবে বলে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সারা দেশে মাত্র ৫৩৮টি ফায়ার স্টেশন যথেষ্ট নয়। দেশে অগ্নি নির্বাপণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্ঘটনা মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিসকে আধুনিকায়ন করে যুগোপযোগী করতে হবে। এ জন্য ফায়ার সার্ভিসের লোকবল ও স্টেশন বাড়ানো হবে।

মঙ্গলবার দুপুরে (১৯ মে) পূর্বাচল মাল্টিপারপাস ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে পাসিং আউট প্যারেড ও পদক প্রদান-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফায়ার সার্ভিসের ৫২ জন সদস্য অগ্নিদুর্ঘটনা মোকাবিলা করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন। তাঁদের প্রতি আমরা শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। আজকের ফায়ার সার্ভিসের স্লোগান ‘অগ্নিযোদ্ধাদের একটাই পণ; নিরাপদ রুখব সম্পদ ও জীবন’-এর প্রতি সমর্থন জানিয়ে ফায়ার সার্ভিসকে আধুনিকায়নে সরকারের পদক্ষেপ ও পরিকল্পনা রয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ইতিমধ্যে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের ট্রেনিং একাডেমিসহ আরও ২০টি প্রকল্পের কাজ চলমান। তবে ৫৩৮টি স্টেশন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যথেষ্ট নয়। অবিলম্বে সেবাকে ছড়িয়ে দিতে ই-ফায়ার সনদ চালু করা হয়েছে। অগ্নিদুর্ঘটনায় জনগণের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এই কার্যক্রম চলমান থাকবে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সক্ষমতা বাড়াতে সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে নতুন ফায়ার স্টেশন নির্মাণ, অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহ, জনবল বৃদ্ধি, ডুবুরি ইউনিট সম্প্রসারণ এবং আধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধা গড়ে তোলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান। যেকোনো দুর্যোগ-দুর্ঘটনায় এ বাহিনীর সদস্যরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের জানমাল রক্ষায় কাজ করেন। দেশের মানুষের কাছে তারা এখন নির্ভরতার প্রতীক।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, অগ্নিকাণ্ড, সড়ক দুর্ঘটনা, বন্যা, ভবনধস ও ভূমিকম্পের ঝুঁকির কারণে ফায়ার সার্ভিসের গুরুত্ব দিনদিন বাড়ছে। এ কারণে বাহিনীর জন্য আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষিত জনবল ও পর্যাপ্ত সরঞ্জাম নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভূমিকা দিন দিন আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা জানি, জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট কারণে আমাদের দেশ প্রতিনিয়ত অগ্নিকাণ্ড, সড়ক দুর্ঘটনা, বন্যা, ভূমিধস, ভবনধসসহ বিভিন্ন দুর্যোগ-দুর্ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছে। ভূমিকম্পের মতো ভয়াবহ দুর্যোগের আশঙ্কাও রয়েছে। সে কারণে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের জন্য আধুনিক প্রযুক্তিগত সেবা-সুবিধা সৃষ্টি, প্রশিক্ষিত জনবল ও পর্যাপ্ত সরঞ্জাম নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভলান্টিয়ারসহ সরকারের অন্যান্য সেবা সংস্থার সঙ্গে তাদের কার্যকর সমন্বয় থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ইতোমধ্যে ২০টি ফায়ার স্টেশন নির্মাণ ও পুনর্র্নিমাণের প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, সারাদেশে ৫৩৮টি ফায়ার স্টেশনের মাধ্যমে এ বাহিনী সেবা প্রদান করে যাচ্ছে যা চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়। সেজন্য জনগুরুত্ব বিবেচনায় আমরা ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধিতে জোর দিচ্ছি।

তিনি বলেন, অ্যাম্বুলেন্স সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ১শটি অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহের কাজও চলমান রয়েছে। অতি সম্প্রতি ডুবুরিদের সক্ষমতা বাড়াতে ৭২টি পদ সৃজনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। জনবল নিয়োগ সম্পন্ন হলে নৌযান দুর্ঘটনা মোকাবিলায় এ বাহিনীর সেবা-সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া এই বাহিনীর ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী সদস্য সংখ্যা ৩০ হাজারের অধিক করার জন্য ফায়ার সার্ভিসের জনবল কাঠামো পুনর্গঠনের প্রস্তাবও বিবেচনাধীন রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, এছাড়া প্রশিক্ষণের মান উন্নয়নের জন্য মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স একাডেমি স্থাপনের জন্যও আমরা কার্যক্রম গ্রহণ করেছি। আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে ইতোমধ্যে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিসের সেবা সহজীকরণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অনলাইনভিত্তিক ই-ফায়ার লাইসেন্স প্রদানের কার্যক্রম চলতি বছরের পহেলা মে থেকে চালু করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন সম্ভব হলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ এ প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ানোর সাথে সাথে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করার বিষয়েও বর্তমান সরকার সচেষ্ট রয়েছে। এ বাহিনীর সদস্যদের অন্যান্য বাহিনী ও সরকারি দপ্তরের সাথে সমন্বয় করে আপগ্রেডেশন সংক্রান্ত বেশকিছু প্রস্তাব বিবেচনাধীন রয়েছে।

তিনি বলেন, এ বাহিনীর সদস্যদের আবাসনের সমস্যা দূরীকরণে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য ঢাকার মিরপুর ও সদরঘাটে ২টি বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণের প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্যায়ে রয়েছে। মিরপুরে তাদের সদর দপ্তর ভবন নির্মাণের কাজও চলমান। এছাড়া বাহিনীর সদস্যদের বিশেষ ভাতা হিসেবে ‘ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ ভাতা’ এবং ফ্রেশ মানির বিষয়ে চাহিদা রয়েছে। তা আমরা পর্যালোচনা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবো।

বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকাজে নিহত ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ বাহিনীর ৫২ জন সদস্য জীবন উৎসর্গ করেছেন।

তিনি ফায়ার সার্ভিসের সফলতা ও আভিযানিক কার্যক্রম জানান, ২০২৫ সালে ফায়ার সার্ভিস ২৭ হাজার ৫৯টি অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে প্রায় ৩ হাজার ২৬৩ কোটি টাকার সম্পদ উদ্ধার করেছে। একই সময়ে ৭ হাজার ৮১৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ৯ হাজার ২৬৬ জন ও নিহত ১ হাজার ৩৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রায় ১৫ হাজার গণসংযোগ কার্যক্রম, ১০ হাজারের বেশি ভবন পরিদর্শন এবং আড়াই লাখের বেশি মানুষকে অগ্নিনিরাপত্তা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকাজে অংশ নিয়ে বিভিন্ন সময় এই প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা আত্মাহুতি দিয়েছেন, জীবন উৎসর্গ করেছেন। সর্বশেষ টঙ্গীর কেমিক্যাল অগ্নিদুর্ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের ৩ জন কর্মী জীবন উৎসর্গ করেছেন। আমি জানতে পেরেছি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা ২০২৫ সালে ২৭, ০৫৯টি আগুন নেভানোর কাজ করে ৩,২৬৩.৬২ কোটি টাকার সম্পদ উদ্ধার করেছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে মন্ত্রী ‘ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ’র উদ্বোধন ঘোষণা করেন। তিনি পাসিং আউট প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন।

পাসিং আউট প্যারেডে স্টেশন অফিসার ও স্টাফ অফিসার ক্যাটাগরিতে ১২ জন, ফায়ার ফাইটার ক্যাটাগরিতে ১৫৮ জন, নার্সিং অ্যাটেনডেন্ট ক্যাটাগরিতে ২ জন, ড্রাইভার ক্যাটাগরিতে ৫৬ জন, ডুবুরি ক্যাটাগরিতে ৬ জনসহ মোট ২৩৪ জন অংশগ্রহণ করেন।

মন্ত্রী বহুমাত্রিক বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ৮৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাতে পদক তুলে দেন। পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছে ২০২৩ সালের ৩৪ জন এবং ২০২৪ সালের ৫০ জনসহ মোট ৮৪ জন।

ফায়ার সার্ভিসের পাসিং আউট প্যারেড ও পদক প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-১ রূপগঞ্জ আসনের এমপি মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল। এ ছাড়া ছিলেন রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, জেলা পুলিশের এএসপি মেহেদী ইসলাম, রূপগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি এএইচ এম সালাহউদ্দিন আহমদসহ ফায়ার সার্ভিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

আবহাওয়া

সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষিকার মৃত্যুর খবর শুনে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

ফায়ার সার্ভিসকে আধুনিকায়ন করতে লোকবলসহ স্টেশন বাড়ানো হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৪:৩৬:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ফায়ার সার্ভিসকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে যুগোপযোগী করতে হবে বলে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সারা দেশে মাত্র ৫৩৮টি ফায়ার স্টেশন যথেষ্ট নয়। দেশে অগ্নি নির্বাপণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্ঘটনা মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিসকে আধুনিকায়ন করে যুগোপযোগী করতে হবে। এ জন্য ফায়ার সার্ভিসের লোকবল ও স্টেশন বাড়ানো হবে।

মঙ্গলবার দুপুরে (১৯ মে) পূর্বাচল মাল্টিপারপাস ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে পাসিং আউট প্যারেড ও পদক প্রদান-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফায়ার সার্ভিসের ৫২ জন সদস্য অগ্নিদুর্ঘটনা মোকাবিলা করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন। তাঁদের প্রতি আমরা শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। আজকের ফায়ার সার্ভিসের স্লোগান ‘অগ্নিযোদ্ধাদের একটাই পণ; নিরাপদ রুখব সম্পদ ও জীবন’-এর প্রতি সমর্থন জানিয়ে ফায়ার সার্ভিসকে আধুনিকায়নে সরকারের পদক্ষেপ ও পরিকল্পনা রয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ইতিমধ্যে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের ট্রেনিং একাডেমিসহ আরও ২০টি প্রকল্পের কাজ চলমান। তবে ৫৩৮টি স্টেশন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যথেষ্ট নয়। অবিলম্বে সেবাকে ছড়িয়ে দিতে ই-ফায়ার সনদ চালু করা হয়েছে। অগ্নিদুর্ঘটনায় জনগণের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এই কার্যক্রম চলমান থাকবে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সক্ষমতা বাড়াতে সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে নতুন ফায়ার স্টেশন নির্মাণ, অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহ, জনবল বৃদ্ধি, ডুবুরি ইউনিট সম্প্রসারণ এবং আধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধা গড়ে তোলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান। যেকোনো দুর্যোগ-দুর্ঘটনায় এ বাহিনীর সদস্যরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের জানমাল রক্ষায় কাজ করেন। দেশের মানুষের কাছে তারা এখন নির্ভরতার প্রতীক।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, অগ্নিকাণ্ড, সড়ক দুর্ঘটনা, বন্যা, ভবনধস ও ভূমিকম্পের ঝুঁকির কারণে ফায়ার সার্ভিসের গুরুত্ব দিনদিন বাড়ছে। এ কারণে বাহিনীর জন্য আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষিত জনবল ও পর্যাপ্ত সরঞ্জাম নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভূমিকা দিন দিন আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা জানি, জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট কারণে আমাদের দেশ প্রতিনিয়ত অগ্নিকাণ্ড, সড়ক দুর্ঘটনা, বন্যা, ভূমিধস, ভবনধসসহ বিভিন্ন দুর্যোগ-দুর্ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছে। ভূমিকম্পের মতো ভয়াবহ দুর্যোগের আশঙ্কাও রয়েছে। সে কারণে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের জন্য আধুনিক প্রযুক্তিগত সেবা-সুবিধা সৃষ্টি, প্রশিক্ষিত জনবল ও পর্যাপ্ত সরঞ্জাম নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভলান্টিয়ারসহ সরকারের অন্যান্য সেবা সংস্থার সঙ্গে তাদের কার্যকর সমন্বয় থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ইতোমধ্যে ২০টি ফায়ার স্টেশন নির্মাণ ও পুনর্র্নিমাণের প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, সারাদেশে ৫৩৮টি ফায়ার স্টেশনের মাধ্যমে এ বাহিনী সেবা প্রদান করে যাচ্ছে যা চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়। সেজন্য জনগুরুত্ব বিবেচনায় আমরা ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধিতে জোর দিচ্ছি।

তিনি বলেন, অ্যাম্বুলেন্স সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ১শটি অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহের কাজও চলমান রয়েছে। অতি সম্প্রতি ডুবুরিদের সক্ষমতা বাড়াতে ৭২টি পদ সৃজনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। জনবল নিয়োগ সম্পন্ন হলে নৌযান দুর্ঘটনা মোকাবিলায় এ বাহিনীর সেবা-সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া এই বাহিনীর ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী সদস্য সংখ্যা ৩০ হাজারের অধিক করার জন্য ফায়ার সার্ভিসের জনবল কাঠামো পুনর্গঠনের প্রস্তাবও বিবেচনাধীন রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, এছাড়া প্রশিক্ষণের মান উন্নয়নের জন্য মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স একাডেমি স্থাপনের জন্যও আমরা কার্যক্রম গ্রহণ করেছি। আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে ইতোমধ্যে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিসের সেবা সহজীকরণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অনলাইনভিত্তিক ই-ফায়ার লাইসেন্স প্রদানের কার্যক্রম চলতি বছরের পহেলা মে থেকে চালু করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন সম্ভব হলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ এ প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ানোর সাথে সাথে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করার বিষয়েও বর্তমান সরকার সচেষ্ট রয়েছে। এ বাহিনীর সদস্যদের অন্যান্য বাহিনী ও সরকারি দপ্তরের সাথে সমন্বয় করে আপগ্রেডেশন সংক্রান্ত বেশকিছু প্রস্তাব বিবেচনাধীন রয়েছে।

তিনি বলেন, এ বাহিনীর সদস্যদের আবাসনের সমস্যা দূরীকরণে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য ঢাকার মিরপুর ও সদরঘাটে ২টি বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণের প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্যায়ে রয়েছে। মিরপুরে তাদের সদর দপ্তর ভবন নির্মাণের কাজও চলমান। এছাড়া বাহিনীর সদস্যদের বিশেষ ভাতা হিসেবে ‘ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ ভাতা’ এবং ফ্রেশ মানির বিষয়ে চাহিদা রয়েছে। তা আমরা পর্যালোচনা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবো।

বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকাজে নিহত ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ বাহিনীর ৫২ জন সদস্য জীবন উৎসর্গ করেছেন।

তিনি ফায়ার সার্ভিসের সফলতা ও আভিযানিক কার্যক্রম জানান, ২০২৫ সালে ফায়ার সার্ভিস ২৭ হাজার ৫৯টি অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে প্রায় ৩ হাজার ২৬৩ কোটি টাকার সম্পদ উদ্ধার করেছে। একই সময়ে ৭ হাজার ৮১৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ৯ হাজার ২৬৬ জন ও নিহত ১ হাজার ৩৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রায় ১৫ হাজার গণসংযোগ কার্যক্রম, ১০ হাজারের বেশি ভবন পরিদর্শন এবং আড়াই লাখের বেশি মানুষকে অগ্নিনিরাপত্তা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকাজে অংশ নিয়ে বিভিন্ন সময় এই প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা আত্মাহুতি দিয়েছেন, জীবন উৎসর্গ করেছেন। সর্বশেষ টঙ্গীর কেমিক্যাল অগ্নিদুর্ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের ৩ জন কর্মী জীবন উৎসর্গ করেছেন। আমি জানতে পেরেছি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা ২০২৫ সালে ২৭, ০৫৯টি আগুন নেভানোর কাজ করে ৩,২৬৩.৬২ কোটি টাকার সম্পদ উদ্ধার করেছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে মন্ত্রী ‘ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ’র উদ্বোধন ঘোষণা করেন। তিনি পাসিং আউট প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন।

পাসিং আউট প্যারেডে স্টেশন অফিসার ও স্টাফ অফিসার ক্যাটাগরিতে ১২ জন, ফায়ার ফাইটার ক্যাটাগরিতে ১৫৮ জন, নার্সিং অ্যাটেনডেন্ট ক্যাটাগরিতে ২ জন, ড্রাইভার ক্যাটাগরিতে ৫৬ জন, ডুবুরি ক্যাটাগরিতে ৬ জনসহ মোট ২৩৪ জন অংশগ্রহণ করেন।

মন্ত্রী বহুমাত্রিক বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ৮৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাতে পদক তুলে দেন। পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছে ২০২৩ সালের ৩৪ জন এবং ২০২৪ সালের ৫০ জনসহ মোট ৮৪ জন।

ফায়ার সার্ভিসের পাসিং আউট প্যারেড ও পদক প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-১ রূপগঞ্জ আসনের এমপি মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল। এ ছাড়া ছিলেন রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, জেলা পুলিশের এএসপি মেহেদী ইসলাম, রূপগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি এএইচ এম সালাহউদ্দিন আহমদসহ ফায়ার সার্ভিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।