স্পোর্টস ডেস্ক :
ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কিংবদন্তি পেলের ১৯৫৮ বিশ্বকাপজয়ী দলের ঐতিহাসিক জার্সিটি নিলামে তুলতে যাচ্ছে বিখ্যাত নিলামকারী প্রতিষ্ঠান ‘সদবিস’। মঙ্গলবার (২ জুন) প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, চলতি বছরের বিশ্বকাপ চলাকালীন আয়োজিত বিশেষ নিলামে পেলের জার্সিটি হবে প্রধান আকর্ষণ।
১৯৫৮ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্বাগতিক সুইডেনকে ৫-২ গোলে হারিয়েছিল ব্রাজিল। সেই ম্যাচে মাত্র ১৭ বছর বয়সী পেলে দুটি গোল করেছিলেন। ব্রাজিলের পাঁচটি বিশ্বকাপ শিরোপার মধ্যে সেটিই ছিল প্রথম।
নিলামে ওঠা পেলের বিখ্যাত ১০ নম্বর জার্সিটির সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে ৬০ লাখ ডলারেরও বেশি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৭০ কোটির টাকার বেশি। আগামী ২৯ জুন থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত চলবে এই নিলাম।
চারু ও আলংকারিক শিল্পকর্ম, গহনা এবং সংগ্রাহ্য বস্তুর বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্রোকার প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি এই সদবিস।
সদবিস-এর আধুনিক সংগ্রহযোগ্য সামগ্রীর প্রধান ব্রাম ওয়াখটার বিবৃতিতে বলেন, “ইতিহাসের সেরা ফুটবলারের একজন তার রাজত্ব শুরুর রাতে তিনি এই পোশাকটিই পরেছিলেন।
ধারণা করা হচ্ছে, ৬০ লাখ ডলার পর্যন্ত দাম উঠতে পারে জার্সিটির। সেক্ষেত্রে এটি হবে পেলের স্মৃতিচিহ্নগুলোর মধ্যে বিক্রি হওয়া সবচেয়ে মূল্যবান স্মারক।
১৯৫৮ বিশ্বকাপে পেলের সবকিছুই ফুটবলের চিরন্তন গল্পগাঁথার অংশ হয়ে আছে। হাঁটুর চোট থাকার পরও তাকে বিশ্বকাপে নিয়ে গিয়েছিল ব্রাজিল। প্রথম দুই ম্যাচে তিনি মাঠের বাইরেই বসেছিলেন। পরের ম্যাচেও তার খেলার কথা ছিল না। কিন্তু কোচ তাকে মাঠে নামান এবং বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলারের রেকর্ড গড়েন তিনি। সেই ম্যাচে দলের জয়ে একটি গোলে সহায়তাও করেন তরুণ এই প্রতিভা।
কোয়ার্টার-ফাইনালে দলের জয়ে বিশ্বকাপে প্রথম গোলের দেখা পান তিনি, বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ গোলস্কোরারের রেকর্ডও গড়েন। বিশ্বজুড়ে তোলপাড় ফেলে দেন তিনি সেমি-ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে হ্যাটট্রিক করে। পরে ফাইনালেও দলের বিশাল জয়ে দুটি গোল করেন তিনি।
সেদিন প্রথম গোলটিকে এখনও মনে করা হয় বিশ্বকাপের সর্বকালের সেরা গোলগুলির একটি। বুক দিয়ে বল নিয়ন্ত্রণ করে, একজন সুইডিশ ডিফেন্ডারের ওপর দিয়ে তুলে দিয়ে গোল করেন তিনি। দ্বিতীয় গোলটি আসে ম্যাচের প্রায় শেষ দিকে হেড থেকে।
বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করা সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার এখনও তিনিই। সেই ফাইনালের জার্সিটি পেলে পরে উপহার দেন তার রুমমেট ও সতীর্থ দিদাকে। হাতে তৈরি জার্সিটি কয়েক দশক ধরে দিদার পরিবারের কাছে ছিল, এরপর একটি ব্রাজিলিয়ান জাদুঘরে স্থানান্তরিত হয় এবং অবশেষে ২০০৪ সালে এটি কিনে নেন এর বর্তমান মালিক, যিনি পরিচয় গোপন রেখেছেন।
২০২২ সালের ডিসেম্বরে ৮২ বছর বয়সে মারা যান তিনটি বিশ্বকাপজয়ী একমাত্র ফুটবলার এই কিংবদন্তি।
পেলের নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য রেকর্ড। তিনবার বিশ্বকাপ জেতা একমাত্র ফুটবলার তিনি। ১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছিলেন ব্রাজিলিয়ান মহাতারকা। ১৯৫৮ সালের সেই শিরোপাই ছিল ব্রাজিলের প্রথম বিশ্বকাপ জয়, যা পরে রেকর্ড পাঁচটি বিশ্বকাপ জয়ের ভিত্তি তৈরি করে।
জার্সিটির যাত্রাপথও কম আকর্ষণীয় নয়। ফাইনালের পর পেলে এটি উপহার দেন তাঁর সতীর্থ ও রুমমেট দিদাকে। দীর্ঘ কয়েক দশক জার্সিটি দিদার পরিবারের কাছেই ছিল। পরে এটি একটি ব্রাজিলিয়ান জাদুঘরে স্থান পায়। সেখান থেকে ২০০৪ সালে এক অজ্ঞাতপরিচয় সংগ্রাহকের হাতে চলে যায় ঐতিহাসিক এই স্মারক।
বর্তমানে ফুটবল জার্সির সর্বোচ্চ নিলামমূল্যের রেকর্ড রয়েছে দিয়েগো ম্যারাডোনার একটি জার্সির দখলে। ২০২২ সালে সেটি বিক্রি হয়েছিল ৯ দশমিক ২৮ মিলিয়ন ডলারে। যদিও পেলের এই জার্সির সম্ভাব্য মূল্য সেই রেকর্ড ছুঁতে পারবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।
স্পোর্টস ডেস্ক 























