নিজস্ব প্রতিবেদক :
দেশে বর্তমানে উগ্রবাদ মাথাচাড়া দেওয়ার মতো কোনো আশঙ্কাজনক লক্ষণ নেই বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। তবে সম্ভাব্য উগ্রবাদী তৎপরতা প্রতিরোধে অনলাইন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গোয়েন্দা তথ্য এবং নিজস্ব ডাটাবেসের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সিটিটিসি প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শামসুল হক।
৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশে কোনো জঙ্গিবাদ নেই বলে বারবার দাবি করেছে। অথচ জঙ্গিবাদ দমনে বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে সিটিটিসি গঠনের পরও কেরানীগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে বোমা বিস্ফোরণ এবং সর্বশেষ মতিঝিলে ছাতার ভেতর বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। এসব বিষয়কে সিটিটিসি কীভাবে দেখছে এবং বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাগুলোর তদন্তে উগ্রবাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সিটিটিসি প্রধান বলেন, সিটিটিসি ইউনিটের বেশ কয়েকটি বিভাগ রয়েছে। এর মধ্যে একটি বিভাগ কাউন্টার টেররিজম। এ ছাড়া আরও কয়েকটি বিভাগ রয়েছে, যারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে কাজ করছে।
তিনি বলেন, উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডের ওপর অনলাইন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নিজস্ব ডাটাবেসের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। কোনো তথ্য পাওয়া মাত্রই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। উগ্রবাদী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে রাখতে সিটিটিসি সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখনই এমন কোনো মন্তব্য করার সুযোগ নেই। তবে দেশের পরিস্থিতিতে আশঙ্কাজনক কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
মতিঝিলে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনাটি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেয় এবং বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। বর্তমানে ঘটনাটি নিয়ে মতিঝিল বিভাগ তদন্ত করছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ ঘটনায় কারা জড়িত ছিল বা তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
সংবাদ সম্মেলনে জঙ্গিবাদসংক্রান্ত গ্রেফতার ও মামলার অগ্রগতি নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শামসুল হক বলেন, গ্রেফতারের সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান পরে জানানো হবে। তবে তিনি জানান, আলোচিত পাতা কমব্যাট মামলায় সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তে আরও কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
সিটিটিসি জানিয়েছে, সম্ভাব্য উগ্রবাদী তৎপরতা প্রতিরোধে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও গোয়েন্দা কার্যক্রম আগের মতোই অব্যাহত থাকবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















