দেশে আরো বাড়লো জ্বালানি তেলের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ভোক্তাপর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম ফের বাড়িয়েছে সরকার।জুন মাসের জন্য পেট্রোল-অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

রোববার (৩১ মে) জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।

এতে বলা হয়, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস/বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোক্তাপর্যায়ে বিক্রয়মূল্য ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকায় পুনর্র্নিধারণ করা হলো। যা সোমবার (১ জুন) থেকে কার্যকর হবে।

সর্বশেষ ১৯ এপ্রিল প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪০ টাকা করা হয়েছে। গত ১৯ এপ্রিল দামবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ২০২২ সালের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে অকটেন।

২০২২ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) জারি করা আদেশে ডিজেল ও কেরোসিন লিটার প্রতি ১১৪ টাকা, পেট্রোল ও অকটেন ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়।ওই দাম বৃদ্ধির পর গণপরিবহনের ভাড়া বেড়েছিল সর্বোচ্চ ২২ শতাংশ।

আর এপ্রিলে তেলের দাম বৃদ্ধির কয়েকদিনের মাথায় ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাস ও মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৪২ পয়সা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২ টাকা ৫৩ পয়সা হয়েছে (৪.৪৫% বৃদ্ধি)। অন্যদিকে দূরপাল্লার বাসে ৫.১৯ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়েছে।

ইরান যুদ্ধের কারনে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির সংকট চলছে। ব্যারেলপ্রতি ৭২ ডলারের ব্রেন্ট ক্রুড ১১৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্রেন্ট ক্রুডের সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল ২০২২ সালের ৮ মার্চ ব্যারেলপ্রতি ১৩৭.৬৪ ডলার। আর সর্বনিম্ন দামের রেকর্ড করা হয় করোনার সময় ২০২১ সালের ৪ জানুয়ারি ৫০.৩৩ ডলার।

বাংলাদেশ “জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকা” প্রজ্ঞাপন গত ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি। ওই ফর্মুলা অনুযায়ী প্রতিমাসে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দাম সমন্বয় করার কথা। গেজেট অনুযায়ী বিপিসি ও অন্যদের কমিশন অপরিবর্তিত থাকবে শুধু আমদানি মূল্যের তারতম্য প্রতিমাসে কমবেশি হবে। যদিও বিএনপি সরকার এপ্রিলে বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও পূর্বের দর বহাল রেখেছিল। যা মাসের ১৯ তারিখে গিয়ে বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, অকটেন ও পেট্রোল ব্যক্তিগত যানবাহনে অধিক পরিমাণে ব্যবহৃত হয় বিধায় এর মূল্য বিলাস দ্রব্য (লাক্সারি আইটেম) হিসেবে সব সময় ডিজেলের চেয়ে বেশি রাখা হয়। ফর্মুলা অনুযায়ী অকটেন এর মূল্য নির্ধারণকালে ডিজেল এর সাথে পার্থক্য লিটার প্রতি ন্যূনতম ১০ টাকা যেন থাকে সে জন্য প্রাইসিং ফর্মুলায় ‘α’ ফ্যাক্টর বিবেচনায় নিতে বলা হয়েছে।

জ্বালানি তেল নিয়ে নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হয়েছে বাংলাদেশ। ইরান যুদ্ধের কারণে আতঙ্কিত লোকজন বেশি তেল কেনা শুরু করলে গত ৬ মার্চ তেল সরবরাহে রেশনিং করা হয়। এতে করে পাম্পে যানবাহনের সারি লম্বা হতে থাকে। ১৫ মার্চ রেশনিং তুলে নেওয়া হলেও পরিস্থিতির উন্নতি না হয়ে আরও অবনতি হয়। তেল পেতে পাম্পের সামনে রাত্রিযাপনসহ অনেক ঘটনা ঘটতে থাকে। সরকার বাধ্য হয়ে ট্যাগ অফিসার নিয়োগসহ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা শুরু করে। তারপরও তখন পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক করা যায়নি। প্রায় দুই মাস পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

আবহাওয়া

দেশে আরো বাড়লো জ্বালানি তেলের দাম

প্রকাশের সময় : ১০:৪৩:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ভোক্তাপর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম ফের বাড়িয়েছে সরকার।জুন মাসের জন্য পেট্রোল-অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

রোববার (৩১ মে) জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।

এতে বলা হয়, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস/বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোক্তাপর্যায়ে বিক্রয়মূল্য ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকায় পুনর্র্নিধারণ করা হলো। যা সোমবার (১ জুন) থেকে কার্যকর হবে।

সর্বশেষ ১৯ এপ্রিল প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪০ টাকা করা হয়েছে। গত ১৯ এপ্রিল দামবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ২০২২ সালের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে অকটেন।

২০২২ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) জারি করা আদেশে ডিজেল ও কেরোসিন লিটার প্রতি ১১৪ টাকা, পেট্রোল ও অকটেন ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়।ওই দাম বৃদ্ধির পর গণপরিবহনের ভাড়া বেড়েছিল সর্বোচ্চ ২২ শতাংশ।

আর এপ্রিলে তেলের দাম বৃদ্ধির কয়েকদিনের মাথায় ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাস ও মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৪২ পয়সা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২ টাকা ৫৩ পয়সা হয়েছে (৪.৪৫% বৃদ্ধি)। অন্যদিকে দূরপাল্লার বাসে ৫.১৯ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়েছে।

ইরান যুদ্ধের কারনে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির সংকট চলছে। ব্যারেলপ্রতি ৭২ ডলারের ব্রেন্ট ক্রুড ১১৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্রেন্ট ক্রুডের সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল ২০২২ সালের ৮ মার্চ ব্যারেলপ্রতি ১৩৭.৬৪ ডলার। আর সর্বনিম্ন দামের রেকর্ড করা হয় করোনার সময় ২০২১ সালের ৪ জানুয়ারি ৫০.৩৩ ডলার।

বাংলাদেশ “জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকা” প্রজ্ঞাপন গত ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি। ওই ফর্মুলা অনুযায়ী প্রতিমাসে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দাম সমন্বয় করার কথা। গেজেট অনুযায়ী বিপিসি ও অন্যদের কমিশন অপরিবর্তিত থাকবে শুধু আমদানি মূল্যের তারতম্য প্রতিমাসে কমবেশি হবে। যদিও বিএনপি সরকার এপ্রিলে বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও পূর্বের দর বহাল রেখেছিল। যা মাসের ১৯ তারিখে গিয়ে বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, অকটেন ও পেট্রোল ব্যক্তিগত যানবাহনে অধিক পরিমাণে ব্যবহৃত হয় বিধায় এর মূল্য বিলাস দ্রব্য (লাক্সারি আইটেম) হিসেবে সব সময় ডিজেলের চেয়ে বেশি রাখা হয়। ফর্মুলা অনুযায়ী অকটেন এর মূল্য নির্ধারণকালে ডিজেল এর সাথে পার্থক্য লিটার প্রতি ন্যূনতম ১০ টাকা যেন থাকে সে জন্য প্রাইসিং ফর্মুলায় ‘α’ ফ্যাক্টর বিবেচনায় নিতে বলা হয়েছে।

জ্বালানি তেল নিয়ে নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হয়েছে বাংলাদেশ। ইরান যুদ্ধের কারণে আতঙ্কিত লোকজন বেশি তেল কেনা শুরু করলে গত ৬ মার্চ তেল সরবরাহে রেশনিং করা হয়। এতে করে পাম্পে যানবাহনের সারি লম্বা হতে থাকে। ১৫ মার্চ রেশনিং তুলে নেওয়া হলেও পরিস্থিতির উন্নতি না হয়ে আরও অবনতি হয়। তেল পেতে পাম্পের সামনে রাত্রিযাপনসহ অনেক ঘটনা ঘটতে থাকে। সরকার বাধ্য হয়ে ট্যাগ অফিসার নিয়োগসহ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা শুরু করে। তারপরও তখন পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক করা যায়নি। প্রায় দুই মাস পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।