নিজস্ব প্রতিবেদক :
বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন-২০২৬ শুরু হয়েছে। রোববার (৩ মে) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় সচিবালয় থেকে হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী। এর কিছুক্ষণ পরই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।
চার দিনব্যাপী এ সম্মেলন চলবে আগামী ৬ মে পর্যন্ত। এবারের সম্মেলনে দেশের আটটি বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ও ৬৪ জেলার ডিসিরা অংশ নিয়েছেন।
সরকারের নীতি, উন্নয়ন কর্মসূচি ও মাঠ প্রশাসনের জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা, দিকনির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য প্রতিবছর এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সম্মেলন চলাকালে বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিরা রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করবেন। এসব সাক্ষাৎ থেকে তারা রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তিদের কাছ থেকে মাঠ পর্যায়ে কাজ করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা নেবেন।
এছাড়া প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্যান্য কমিশনারদের সঙ্গে এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সঙ্গেও ডিসিদের পৃথক কার্য-অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।
ডিসিদের দেওয়া প্রস্তাব
প্রেস ব্রিফিংয়ে এবারের সম্মেলন উপলক্ষে ডিসিদের দেওয়া ৫০টি প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এসব প্রস্তাবে জনসেবা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধি, জনদুর্ভোগ কমানো, রাস্তাঘাট ও সেতু নির্মাণ, পর্যটনের বিকাশ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনস্বার্থ সংরক্ষণের বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি ৪৪টি প্রস্তাব স্বাস্থ্যসেবা বিভাগসংক্রান্ত বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হুমায়ুন কবির।
প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে— গাজীপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করে শিল্পকারখানাগুলোকে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে স্থানান্তর; ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো পুনর্নির্মাণ/মেরামত, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা; হাসপাতাল ও ক্লিনিকের চিকিৎসা বর্জ্য ও পয়োবর্জ্যের বিজ্ঞানসম্মত পরিশোধনাগার নির্মাণ; কওমি মাদ্রাসা স্থাপনের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন এবং মাদ্রাসাগুলোকে ওই নীতিমালার আওতায় আনা; নোয়াখালীতে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর স্থাপন; কৃষিপ্রধান জেলাগুলোতে স্থানীয় উদ্যোক্তা ও খামারিদের জন্য স্বল্প সুদে বড় ঋণ সুবিধা দেওয়া; মা ইলিশ রক্ষা অভিযানের সময় ভিজিএফ চাল দেওয়ার পাশাপাশি জেলেদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা; হাওর অঞ্চলে স্থায়ী মৎস্য অভয়াশ্রম স্থাপন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, এবারের সম্মেলনে ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, স্থানীয় সরকারের কার্যক্রম জোরদার, কর্মসৃজন কর্মসূচি, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির ব্যবহারসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাবে।
গত বছরের ডিসি সম্মেলনে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ৪০০টি প্রস্তাব বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে স্বল্পমেয়াদী ৬১ শতাংশ, মধ্যমেয়াদী ৩৫ শতাংশ এবং দীর্ঘমেয়াদি ১৬ শতাংশ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
















