নিজস্ব প্রতিবেদক :
জলবায়ু ইস্যুতে আগের সরকারের কোনো রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার আছে। সে কারণেই আমরা প্রথমবারের মতো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর একটি আলাদা শাখা খুলেছি, যাতে আমরা একেবারে নিবেদিতভাবে এ ইস্যু নিয়ে কাজ করতে পারি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের পথে’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে সৃষ্ট সংকট ও বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরা হবে। নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কপ-৩১ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী না হলেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বৈশ্বিক ফোরামে বড় দেশগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু অর্থায়ন যেন ঋণ হিসেবে না দিয়ে অনুদান আকারে দেওয়া হয়, সেটি আমাদের অন্যতম প্রধান দাবি থাকবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় কপ-৩১ সম্মেলনে পাট ও পাটজাত পণ্যকে পচনশীল ও প্রাকৃতিক তন্তু (বায়োডিগ্রেডেবল ন্যাচারাল ফাইবার) হিসেবে তুলে ধরা হবে।
বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগের বিনা ভোটের সরকারের সঙ্গে আমাদের পার্থক্য এখানেই যে, আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে বৃক্ষরোপণ ও খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছেন, তা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
শামা ওবায়েদ আরও উল্লেখ করেন, এবার প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সভাপতিত্ব করছেন। এতে প্রধানমন্ত্রীও বক্তব্য দেবেন, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ গত ১০ বছর ধরে ১৩ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে, যারা পরিবেশগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর অঞ্চলে বসবাস করছে। এটি আমাদের অভ্যন্তরীণ জলবায়ু বাস্তুচ্যুতির সঙ্গে অতিরিক্ত পরিবেশগত চাপ তৈরি করছে। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব। এতে বাংলাদেশের অন্যতম জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের ওপর থেকে পরিবেশ ও প্রতিবেশগত চাপ লাঘব হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















