ফেনী জেলা প্রতিনিধি :
ফেনীর পরশুরাম উপজেলা মির্জানগর ইউনিয়নে উত্তর কাউতলী, দক্ষিণ কাউতলী কাশিনগরসহ প্রায় পাঁচটি গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। বিগত সরকারের আমলে উন্নয়নের জোয়ার থাকলে গত ১৮ বছরে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি এ রাস্তায়।
দক্ষিণ কাউতলী চৌরাস্তা থেকে উত্তর দিকে চম্পক নগর দারুণ আরকাম মাদ্রাসা পর্যন্ত রাস্তাটি কাঁচা থাকায় চরম দুর্ভোগে হাজারো মানুষ। সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক ও সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগে পোহাতে হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে রাস্তার কোনো সংস্কার না হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে বড়ো ধরনের গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও রাস্তা ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী রয়েছে। ফলে স্বাভাবিক যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে বাড়ছে। বর্ষা মৌসুমে শুরুতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ২৪ সালের বন্যায় বৃষ্টির পানিতে রাস্তাটি ভেঙে গেলে ভ্যান, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল, সিএনজি চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়ে।
সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় উত্তর কাউতলী গ্রামের মাদ্রাসার রাস্তাটি। সেখানে বৃষ্টি হলে সৃষ্টি হয় কাদা। যা চলাচলে সৃষ্টি হয় বাধা। কয়েকবার স্থানীয়রা নিজ উদ্যোগে সংস্কার করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। স্থানীয়রা কয়েকবার অভিযোগ করলেও নেই কোনো প্রতিকার। নির্বাচিত মেম্বার, চেয়ারম্যান না থাকায় স্থানীয়দের মাঝে রয়েছে আহাকার। কোথায় গেলে পাবে রাস্তা সংস্কারের সুব্যবহার। এটা নিয়ে স্থানীয়রা রয়েছে চিন্তায়। সে ঝুঁকি পূর্ণ রাস্তায় দিয়ে প্রতিদিন নারী, শিশু, বৃদ্ধ, রোগী, মাদ্রাসা ও প্রাইমারি শিক্ষার্থীরা চলাচল করছেন।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, মির্জানগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে অধিকাংশ গ্রামীণ রাস্তার অবস্থা ৯০ শতাংশ একই রকম। কোথাও মাটি ধসে গেছে, কোথাও গভীর গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। অনেক স্থানে রাস্তার অস্তিত্বই প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হওয়ার পথে।
চম্পক নগর গ্রামের বাসিন্দা হেলাল উদ্দিন বলেন, আমাদের গ্রামে রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে আমরা নিজেরাই মাটি দিয়ে সংস্কার করছি। কিন্তু বহুবার সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।
স্থানীয় স্কুল শিক্ষক জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা অচল হয়ে যায়। শিক্ষার্থীরা কষ্ট করে স্কুলে আসে। আবার অনেকে আসে না। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা পিছলে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে।
মো. ইব্রাহিম নামের আরেকজন বলেন, এ সড়ক দিয়ে চলাচল করার সময় বহুদিন পড়ে গেছি। এই দুর্ভোগ বলার ও শুনার যেন কেউ নেই। তবে এখন শোনা যাচ্ছে, পত্রিকায় নিউজ হলে রাস্তাটা হয়ে যাবে। রাস্তাটা হলে এলাকাবাসী খুব খুশি হবে।
শামীম ভূঁইয়া নামের একজন বলেন, আমরা বড়ই অবহেলিত। এমন রাস্তা দেখে মনে হয় এ এলাকায় কোনো মানুষ বসবাস করে না। পরিত্যক্ত এলাকা মনে হচ্ছে। রাস্তাটি দ্রুত পাকা করার জোর দাবি জানাই।
ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম, বিএনপি সরকার জনবান্ধব সরকার হিসেবে এ সড়কটি দ্রুত যেন পাকা করে সেই জন্য অবহিত করা হবে। এ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। আমরা আশা করছি এটি অচিরেই পাকা হবে।
ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা ইমরান হোসেন বলেন, বেশিরভাগ রাস্তাই জরাজীর্ণ। আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর অনেকগুলো রাস্তার কাজ করেছি। স্থানীয় লোকজনকে বলেন, রাস্তার ছবিসহ একটি দরখাস্ত করার জন্য। তাহলে আমি সরেজমিনে ঘুরে দেখে আসব। যদি সংস্কার করার উপযোগী হয়, তাহলে আগামীতে বরাদ্দ আসলে প্রথমে এ রাস্তার সংস্কার করার জন্য চেষ্টা করব।
পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ওবায়দুল বাশাব বলেন, এলাকাবাসীর দুর্ভোগ বিবেচনায় আগামী বাজেটে সড়কটি পাকাকরণ করা হবে। জনসম্পৃক্ত বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে নিয়ে আসার জন্য এলাকাবাসীকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
ফেনী জেলা প্রতিনিধি 






















