নিজস্ব প্রতিবেদক :
গণভোট বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে আগামী ৬ জুলাই থেকে দেশব্যাপী ‘জুলাই পদযাত্রা-২০২৬’ কর্মসূচি শুরু করছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। মাসব্যাপী ‘জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের ৬৪ জেলার ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভায় এ পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।
শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এনসিপির (উত্তরাঞ্চলে) মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, ২০২৫ সালে দল আত্মপ্রকাশের পর ২৫ জুলাই দেশের ৬৪ জেলা শহরে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি পালন করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার গণভোট বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান ও সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে ‘জুলাই পদযাত্রা-২০২৬’ আয়োজন করা হয়েছে।
সারজিস আলম বলেন, ঐতিহাসিক জুলাই শুধু একটি মাস নয়, এটি আত্মত্যাগ, গণআকাঙ্ক্ষা, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং নতুন বাংলাদেশ গঠনের প্রতীক। তাই মাসব্যাপী কর্মসূচির মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা নতুন প্রজন্ম ও সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া, শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণ করা এবং দেশ গঠনের অঙ্গীকার আরও দৃঢ় করাই তাদের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, আগামী ৬ জুলাই গাজীপুরের কালীগঞ্জ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদযাত্রার উদ্বোধন হবে। উদ্বোধনী কর্মসূচিতে দলের আহ্বায়ক, সদস্যসচিব, মুখ্য সংগঠকসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
তিনি আরো বলেন,, ৭ জুলাই থেকে দক্ষিণাঞ্চলের পদযাত্রা শুরু হবে কক্সবাজারের উখিয়া থেকে। উত্তরাঞ্চলের কর্মসূচি পরিচালনা করবেন সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারী। দক্ষিণাঞ্চলে নেতৃত্ব দেবেন মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ ও মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
সংবাদ সম্মেলনে সারজিস আলম বলেন, ‘স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে যেসব ১০০ উপজেলা ও পৌরসভায় এনসিপি প্রার্থী ঘোষণা করেছে, সেসব এলাকাতেই পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে একদিকে জুলাইয়ের বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে, অন্যদিকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের সমস্যা সরাসরি শুনে তা জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরা হবে।’
পদযাত্রার উদ্দেশ্যে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এনসিপি একটি নবীন রাজনৈতিক দল। এই পদযাত্রার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে দলের প্রার্থীদের পরিচিতি বাড়বে, সাংগঠনিক সক্ষমতা যাচাই হবে এবং উপজেলা পর্যায়ে সংগঠনের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।’
পদযাত্রায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ সংকট, কৃষকদের সার ও কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধি এবং বাজারে সিন্ডিকেটের প্রভাবের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাবে বলেও জানান সারজিস আলম।
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা শুধু ক্ষমতাসীন বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে। বিএনপি যদি ৫০ শতাংশ ভোট পেয়ে সরকার গঠন করে থাকে, তাহলে বাকি ৫০ শতাংশ মানুষেরও রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। মাঠপর্যায়ে এসব বঞ্চিত মানুষের কথাও তুলে ধরা হবে বলে জানান তিনি।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ১৫ জুলাই কুড়িগ্রামে কৃষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ওই সমাবেশ থেকেই এনসিপির সহযোগী সংগঠন জাতীয় কৃষক শক্তি-এর আত্মপ্রকাশ হবে। এছাড়া ১৬ জুলাই রংপুরে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও দোয়া-মোনাজাতে অংশ নেবেন দলের নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের বিচার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে সারজিস আলম বলেন, বিচার, সংস্কার ও নতুন সংবিধান, এই তিনটি বিষয় গত বছরের মতো এবারও এনসিপির কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
এনসিপির এই শীর্ষ নেতা আরও বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি আওয়ামী লীগকে গণহত্যাকারী দল হিসেবে উল্লেখ করে দলটির বিচার হবে বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটির বাস্তব প্রতিফলনও দেখতে চায় এনসিপি।
যারা জুলাইকে কটাক্ষ করছে তাদের পাত্তা দিতে ইচ্ছুক নন জানিয়ে সারজিস আলম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চলছে। যারা গণহত্যা ও স্বৈরাচারের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন, তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। শহীদ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের অভিযুক্তদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
সংবাস সম্মেলনে এনসিপির অন্যতম শীর্ষ নেতা আলী আহসান জুনায়েদ, মাহিন সরকারসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















