কোরবানির বর্জ্য ৮ ঘণ্টার মধ্যেই অপসারণ করা হবে : ডিএসসিসি প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় আগামী ঈদুল আজহার কোরবানির বর্জ্য মাত্র ৮ ঘণ্টার মধ্যেই অপসারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালাম।

বুধবার (২০ মে) রাজধানীর পুরাতন এলিফ্যান্ট রোডের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডস্থ সবজি বাগান সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনের (এসটিএস) সৌন্দর্যবর্ধন ও ল্যান্ডস্ক্যাপিং কাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, কোরবানির পশুর হাট শেষ হওয়ার রাত থেকেই সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হবে। এ কাজে প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম আগেই প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে দ্রুততম সময়ে বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন করা যায়।

আবদুস সালাম বলেন, এবারের কোরবানির জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট ১১টি পশুর হাটের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এসব হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রশাসন নিয়মিত নজরদারি চালাবে। পাশাপাশি পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভেটেরিনারি চিকিৎসক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। যাতে নির্বিঘ্নে মানুষ হাটে এসে কেনাকাটা করতে পারে। পশুর হাটের বর্জ্য হাট শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পরিষ্কার করা হবে।

আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডিএসসিসি এখন থেকেই প্রস্তুত জানিয়ে প্রশাসক বলেন, প্রতিটি এলাকায় জরিপ চালানো হচ্ছে এবং যেখানে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বেশি, সেখানে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে বিশেষ কার্যক্রম চলছে। তিনি নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনারা যার যার বাড়ি, আঙিনা ও ড্রেন পরিষ্কার রাখুন। কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

এসটিএস আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একসময় দুর্গন্ধের কারণে যেসব জায়গায় কেউ এসটিএস নির্মাণ করতে দিতে চাইত না, আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এখন আমরা সেখানে দুর্গন্ধ দূর করে সৌন্দর্য বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছি। ইতোমধ্যে তিনটি এসটিএস-কে দৃষ্টিনন্দন ও পরিবেশবান্ধব করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবগুলো এসটিএস-কে এভাবে রূপান্তর করে নগরবাসীকে একটি নান্দনিক পরিবেশ উপহার দেওয়া হবে।

জনগণের সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে আব্দুস সালাম বলেন, ঢাকা শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি, পরিবেশ রক্ষা, বায়ুদূষণ ও যানজট মুক্ত রাখা আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। একা সিটি করপোরেশন বা প্রশাসকের পক্ষে এটি সম্ভব নয়। জনগণ পাশে থাকলে আগামী দুই বছরের মধ্যে ঢাকা শহরের চেহারা বদলে দেওয়া সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের নেতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিনিয়ত ঢাকা শহরের খোঁজখবর রাখছেন। পার্ক, খাল ও নগরীর বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তিনি আমাদের সাথে আলোচনা করছেন। সরকারপ্রধান নিজে সচেতন ও দূরদর্শী হওয়ায় আমাদের কাজ অনেক সহজ হয়ে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

জনসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান পুলিশ সদর দপ্তরের

কোরবানির বর্জ্য ৮ ঘণ্টার মধ্যেই অপসারণ করা হবে : ডিএসসিসি প্রশাসক

প্রকাশের সময় : ০৩:০৪:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় আগামী ঈদুল আজহার কোরবানির বর্জ্য মাত্র ৮ ঘণ্টার মধ্যেই অপসারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালাম।

বুধবার (২০ মে) রাজধানীর পুরাতন এলিফ্যান্ট রোডের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডস্থ সবজি বাগান সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনের (এসটিএস) সৌন্দর্যবর্ধন ও ল্যান্ডস্ক্যাপিং কাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, কোরবানির পশুর হাট শেষ হওয়ার রাত থেকেই সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হবে। এ কাজে প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম আগেই প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে দ্রুততম সময়ে বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন করা যায়।

আবদুস সালাম বলেন, এবারের কোরবানির জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট ১১টি পশুর হাটের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এসব হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রশাসন নিয়মিত নজরদারি চালাবে। পাশাপাশি পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভেটেরিনারি চিকিৎসক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। যাতে নির্বিঘ্নে মানুষ হাটে এসে কেনাকাটা করতে পারে। পশুর হাটের বর্জ্য হাট শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পরিষ্কার করা হবে।

আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডিএসসিসি এখন থেকেই প্রস্তুত জানিয়ে প্রশাসক বলেন, প্রতিটি এলাকায় জরিপ চালানো হচ্ছে এবং যেখানে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বেশি, সেখানে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে বিশেষ কার্যক্রম চলছে। তিনি নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনারা যার যার বাড়ি, আঙিনা ও ড্রেন পরিষ্কার রাখুন। কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

এসটিএস আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একসময় দুর্গন্ধের কারণে যেসব জায়গায় কেউ এসটিএস নির্মাণ করতে দিতে চাইত না, আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এখন আমরা সেখানে দুর্গন্ধ দূর করে সৌন্দর্য বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছি। ইতোমধ্যে তিনটি এসটিএস-কে দৃষ্টিনন্দন ও পরিবেশবান্ধব করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবগুলো এসটিএস-কে এভাবে রূপান্তর করে নগরবাসীকে একটি নান্দনিক পরিবেশ উপহার দেওয়া হবে।

জনগণের সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে আব্দুস সালাম বলেন, ঢাকা শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি, পরিবেশ রক্ষা, বায়ুদূষণ ও যানজট মুক্ত রাখা আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। একা সিটি করপোরেশন বা প্রশাসকের পক্ষে এটি সম্ভব নয়। জনগণ পাশে থাকলে আগামী দুই বছরের মধ্যে ঢাকা শহরের চেহারা বদলে দেওয়া সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের নেতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিনিয়ত ঢাকা শহরের খোঁজখবর রাখছেন। পার্ক, খাল ও নগরীর বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তিনি আমাদের সাথে আলোচনা করছেন। সরকারপ্রধান নিজে সচেতন ও দূরদর্শী হওয়ায় আমাদের কাজ অনেক সহজ হয়ে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।