সিলেট জেলা প্রতিনিধি :
সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার আন্তর্জাতিক মান যাচাইয়ে যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর ট্রান্সপোর্ট (ডিএফটি) ও আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) নিরাপত্তা অডিট শুরু হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, মূল্যায়নে সন্তোষজনক ফল এলে এই বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাজ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা আরো জোরালো হবে। দীর্ঘদিন ধরে এ দাবিতে সোচ্চার সিলেট অঞ্চলের প্রবাসীদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের ১৪ থেকে ১৭ জুলাই ডিএফটির প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে তিন দিনব্যাপী নিরাপত্তা মূল্যায়ন করবে। আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত আইকাওর বিশেষজ্ঞ দল দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা অডিট করবে।
এই দুই আন্তর্জাতিক পরিদর্শনকে সামনে রেখে নিরাপত্তা অবকাঠামো আরো শক্তিশালী করতে ইতোমধ্যে অত্যাধুনিক এক্স-রে মেশিন, উন্নত স্ক্যানারসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা সরঞ্জামের ফ্যাক্টরি অ্যাকসেপ্টেন্স টেস্ট (এফএটি) সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। এসব সরঞ্জাম আগামী আগস্ট মাসে দেশে পৌঁছাবে এবং আগামী ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে ৯টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে তিনটি উচ্চপর্যায়ের ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করেছে বেবিচক। প্রতিটি গ্রুপ তিনটি করে মোট ৯টি স্কোপ নিয়ে কাজ করবে। এই অডিটে সংশ্লিষ্ট ৪৯৪টি প্রটোকল প্রশ্নের জবাব ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিশ্চিত করবে এসব ওয়ার্কিং গ্রুপ।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এই অডিটের ফলাফল শুধু আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানের স্বীকৃতিই নয়, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাজ্যগামী সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে সিলেটের বিপুলসংখ্যক যুক্তরাজ্যপ্রবাসীকে সরাসরি ফ্লাইটের অভাবে ঢাকার ওপর নির্ভর করতে হয়।
তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে আইকাওর নিরাপত্তা অডিটে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৬৮ দশমিক ৫ শতাংশ, যেখানে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ছিল ৬৫ শতাংশ। এবার বেবিচকের লক্ষ্য ৭৫ শতাংশের বেশি স্কোর অর্জন করা। এ জন্য বিদ্যমান নিরাপত্তা কার্যক্রম পর্যালোচনা, সম্ভাব্য দুর্বলতা চিহ্নিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের কাজ চলছে।
অন্যদিকে, সর্বশেষ ডিএফটির অডিটে বাংলাদেশ কার্গো নিরাপত্তায় ১০০ শতাংশ স্কোর অর্জন করে। যাত্রী নিরাপত্তায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্কোর ছিল ৯৩ শতাংশ এবং সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্কোর ছিল ৯৪ শতাংশ।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবাল বলেন, এটি আমাদের জন্য একটি বড় অডিট। তিনটি ওয়ার্কিং গ্রুপ, প্রতিটি তিনটি করে স্কোপ নিয়ে কাজ করবে। সব মিলিয়ে মোট ৯টি স্কোপ তারা অ্যাড্রেস করবেন। আমাদের প্রটোকল প্রশ্ন রয়েছে ৪৯৪টি। এসব প্রশ্নের প্রস্তুতি ও সমন্বয়ের কাজ করছে ওয়ার্কিং গ্রুপগুলো। এ জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমাদের কাজগুলো কেমন হয়েছে, কোথাও কোনো গ্রে এরিয়া রয়ে গেছে কি না; কিংবা অতিরিক্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন আছে কি না এসব বিষয় চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা চলছে। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে ইনশাআল্লাহ, এবার আমাদের স্কোর ৭৫ শতাংশের বেশি হবে।
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমদ বলেন, এটি নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। প্রতি বছরই এ ধরনের মূল্যায়ন হয়। গত বছর ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্কোর ছিল ৯৪ শতাংশ। তবে, এবার যুক্তরাজ্যের সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থার আরো উন্নয়নই মূল ফোকাসে রয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের যাত্রী ও কার্গো নিরাপত্তা আরো শক্তিশালী হবে।
সিলেট জেলা প্রতিনিধি 

























