এইচএসসি পরীক্ষায় শিক্ষার্থী নকল করলে প্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা : শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

এইচএসসি পরীক্ষায় কোনও শিক্ষার্থী নকল করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

বুধবার (২৪ জুন) রাজধানীর আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষ্যে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, এখন আর নকল নেই, তবে নকলের রূপ পরিবর্তন হয়েছে। সেজন্য পুরোনো ‘পরীক্ষা আইন’ পরিবর্তন করা হয়েছে। আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষায় যদি কোনো শিক্ষার্থীর কাছে নকল পাওয়া যায়, তবে তাকে ডিটেনশনে বা আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে কোনো পরীক্ষাকেন্দ্রে নকলের প্রমাণ মিললে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা কেন্দ্র সচিবকেও কঠোর আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে।

প্রশ্নফাঁস প্রতিরোধেও সরকার সক্রিয় রয়েছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, গত পরীক্ষায় আমি নিজে বিভিন্ন পর্যায়ে তদারকি করেছেন এবং সম্ভাব্য দুর্বল জায়গা শনাক্তের চেষ্টা করেছেন। এবার সারা দেশে একক প্রশ্নপত্র ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোথাও প্রশ্নফাঁস বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সংসদে আগের পরীক্ষা আইন সংশোধন করে বর্তমান সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে। নকল-প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সেজন্য এখন পরীক্ষা আইনের পরিবর্তন করা হয়েছে।

সংসদে পাস হওয়া সংশোধিত পরীক্ষা আইনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আগের আইন পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রশ্নফাঁস বা নকলের মতো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। পরীক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে এই নতুন আইনের প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, প্রিটেস্ট ও টেস্ট পরীক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য ইনহাউস কোচিংয়ের ব্যবস্থা রাখতে হবে। একইসঙ্গে স্থানীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষকদের সম্মানীর বিষয়টিও নির্ধারণ করার আহ্বানও জানান তিনি।

শিক্ষাজীবনের সময়ক্ষেপণ কমাতে পরীক্ষা-সূচিতে পরিবর্তনের কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দুই বছরের কোর্স শেষ হওয়ার পরই যেন পাবলিক পরীক্ষা নেওয়া যায়, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এ কারণে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারিতে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফল আগামী ২০ জুলাই প্রকাশের লক্ষ্য রয়েছে। এছাড়া আগামী ২ জুলাই শুরু হচ্ছে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা।

তিনি বলেন, বর্তমানে একজন শিক্ষার্থী ছয় বছর বয়সে স্কুলে ভর্তি হয়ে এসএসসি শেষ করতে ১৬ বছর বয়সে পৌঁছায়। এরপর উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় শেষ হতে আরও দীর্ঘ সময় লেগে যায়। অতীতে পরীক্ষা গ্রহণ ও ফল প্রকাশে অতিরিক্ত সময় লাগায় একজন শিক্ষার্থীর উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় শেষ করতে প্রায় ২০ বছর বয়স হয়ে যেত। এতে শিক্ষার্থীদের উৎপাদনশীল সময় নষ্ট হয় এবং দেশের ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তিনি আরো বলেন, এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরীক্ষা ও ফল প্রকাশের সময়কে সমন্বিত করার চেষ্টা করছে। ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রে রমজান ও ঈদকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মতামত নিয়েই পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করা হচ্ছে। তবে নির্ধারিত কোর্স শেষ করা হবে বলে তিনি জানান।

খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের কথা জানান তিনি। বলেন, অতীতে অনেক শিক্ষককে অতিরিক্ত খাতা মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হতো, ফলে যথাযথ মূল্যায়ন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকত। এখন পরীক্ষক প্রশিক্ষণ বাড়ানো, পরীক্ষকের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সীমিত সংখ্যক খাতা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি খাতা স্যাম্পলিংয়ের মাধ্যমে মূল্যায়নের মানও পর্যবেক্ষণ করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘একটি রাষ্ট্র, একটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং একই সিলেবাস হওয়া সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন বোর্ডে আলাদা আলাদা প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। আমরা এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডকে এক সুতায় বেঁধেছি, একক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামী বছর থেকে মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের ক্ষেত্রেও বাংলা, ইংরেজির মতো সাধারণ বিষয়গুলোর পরীক্ষা অভিন্ন প্রশ্নপত্রে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে।’

চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় একক প্রশ্নপত্র চালুর চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে কর্মকর্তাদের সতর্ক করে মন্ত্রী বলেন, ‘বিজি প্রেস থেকে সঠিক নিয়মে প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সংশ্লিষ্টদের সাথে সমন্বয় করে কোড অনুযায়ী সঠিক প্রশ্নপত্র পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে হবে। প্রশ্ন বিতরণে কোনো ভুল বা কোড বিভ্রাট ঘটলে ‘সরি’ বা দুঃখ প্রকাশ করে পার পাওয়া যাবে না। যার ভুল, তাকেই কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।’

শিক্ষা খাতে নিয়োগ জট ও মামলা সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘নয় মাসের পিটিআই ট্রেনিং, পিএসসির ব্যাকলগ কিংবা এনটিআরসিএ’র শিক্ষক নিয়োগে সব জায়গায় মামলা দিয়ে স্থবিরতা তৈরি করা হচ্ছে। ১৫ হাজার শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ার পরও মামলা করে নিয়োগ আটকে দেওয়া হয়েছে। একটি গ্রুপ ও অ্যাসোসিয়েশনের কিছু লোক এই মামলার সাথে জড়িত। আমি তাদের চিহ্নিত করছি। যারা জাতি গঠনের অগ্রযাত্রায় বাধা সৃষ্টি করে, তারা রাষ্ট্রের শত্রু, দেশের শত্রু। এ বিষয়ে মহামান্য আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। সরকারও তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেবে।’

এনটিআরসিএ’র মূল প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘২০০১ থেকে ২০০৬ সালে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন ওভার-স্যাচুরেটেড (অতিরিক্ত) প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যত্রতত্র স্কুল-কলেজ খোলা বন্ধ করতে আমি এনটিআরসিএ গঠন করেছিলাম। এর উদ্দেশ্য ছিল চিকিৎসকদের পিএমডিসি বা আইনজীবীদের বার কাউন্সিলের মতো শিক্ষকদের যোগ্যতার একটি রাষ্ট্রীয় সনদ দেওয়া, সরাসরি চাকরি দেওয়া নয়। কিন্তু বিগত সরকার একে ডাল-খিচুড়ি বানিয়ে ফেলেছে। ফলে উত্তীর্ণ শিক্ষকেরা ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত চাকরির জন্য ঘুরছেন।’

তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের আমলে কোনো নিয়ম না মেনে প্রতি ৩ কিলোমিটারের মধ্যে অপরিকল্পিতভাবে স্কুল ও মাদ্রাসা স্থাপন করা হয়েছে। ২৩ থেকে ২৬ শতক জায়গার ওপর ঘর তুলে নিবন্ধনহীন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে শিক্ষকদের যোগ্যতার কোনো সঠিক যাচাই করা হয়নি।

মন্ত্রী জানান, ইবতেদায়ী ও প্রাথমিক স্কুলের মধ্যে দ্রুত সমন্বয় এবং এই লাগামহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি নিয়মের (রেগুলেশন) মধ্যে আনতে ইতোমধ্যে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ৭ এর সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান। এছাড়া মতবিনিময় সভায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, জেলা-উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

শেষ পত্রে দেখা মিলবে তিন কিংবদন্তির

এইচএসসি পরীক্ষায় শিক্ষার্থী নকল করলে প্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা : শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ১২:৫৪:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

এইচএসসি পরীক্ষায় কোনও শিক্ষার্থী নকল করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

বুধবার (২৪ জুন) রাজধানীর আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষ্যে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, এখন আর নকল নেই, তবে নকলের রূপ পরিবর্তন হয়েছে। সেজন্য পুরোনো ‘পরীক্ষা আইন’ পরিবর্তন করা হয়েছে। আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষায় যদি কোনো শিক্ষার্থীর কাছে নকল পাওয়া যায়, তবে তাকে ডিটেনশনে বা আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে কোনো পরীক্ষাকেন্দ্রে নকলের প্রমাণ মিললে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা কেন্দ্র সচিবকেও কঠোর আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে।

প্রশ্নফাঁস প্রতিরোধেও সরকার সক্রিয় রয়েছে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, গত পরীক্ষায় আমি নিজে বিভিন্ন পর্যায়ে তদারকি করেছেন এবং সম্ভাব্য দুর্বল জায়গা শনাক্তের চেষ্টা করেছেন। এবার সারা দেশে একক প্রশ্নপত্র ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোথাও প্রশ্নফাঁস বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সংসদে আগের পরীক্ষা আইন সংশোধন করে বর্তমান সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে। নকল-প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সেজন্য এখন পরীক্ষা আইনের পরিবর্তন করা হয়েছে।

সংসদে পাস হওয়া সংশোধিত পরীক্ষা আইনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আগের আইন পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রশ্নফাঁস বা নকলের মতো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। পরীক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে এই নতুন আইনের প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, প্রিটেস্ট ও টেস্ট পরীক্ষার পাশাপাশি প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য ইনহাউস কোচিংয়ের ব্যবস্থা রাখতে হবে। একইসঙ্গে স্থানীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষকদের সম্মানীর বিষয়টিও নির্ধারণ করার আহ্বানও জানান তিনি।

শিক্ষাজীবনের সময়ক্ষেপণ কমাতে পরীক্ষা-সূচিতে পরিবর্তনের কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দুই বছরের কোর্স শেষ হওয়ার পরই যেন পাবলিক পরীক্ষা নেওয়া যায়, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এ কারণে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারিতে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফল আগামী ২০ জুলাই প্রকাশের লক্ষ্য রয়েছে। এছাড়া আগামী ২ জুলাই শুরু হচ্ছে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা।

তিনি বলেন, বর্তমানে একজন শিক্ষার্থী ছয় বছর বয়সে স্কুলে ভর্তি হয়ে এসএসসি শেষ করতে ১৬ বছর বয়সে পৌঁছায়। এরপর উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় শেষ হতে আরও দীর্ঘ সময় লেগে যায়। অতীতে পরীক্ষা গ্রহণ ও ফল প্রকাশে অতিরিক্ত সময় লাগায় একজন শিক্ষার্থীর উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় শেষ করতে প্রায় ২০ বছর বয়স হয়ে যেত। এতে শিক্ষার্থীদের উৎপাদনশীল সময় নষ্ট হয় এবং দেশের ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তিনি আরো বলেন, এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরীক্ষা ও ফল প্রকাশের সময়কে সমন্বিত করার চেষ্টা করছে। ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রে রমজান ও ঈদকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মতামত নিয়েই পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করা হচ্ছে। তবে নির্ধারিত কোর্স শেষ করা হবে বলে তিনি জানান।

খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের কথা জানান তিনি। বলেন, অতীতে অনেক শিক্ষককে অতিরিক্ত খাতা মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হতো, ফলে যথাযথ মূল্যায়ন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকত। এখন পরীক্ষক প্রশিক্ষণ বাড়ানো, পরীক্ষকের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সীমিত সংখ্যক খাতা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি খাতা স্যাম্পলিংয়ের মাধ্যমে মূল্যায়নের মানও পর্যবেক্ষণ করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘একটি রাষ্ট্র, একটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং একই সিলেবাস হওয়া সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন বোর্ডে আলাদা আলাদা প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। আমরা এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডকে এক সুতায় বেঁধেছি, একক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামী বছর থেকে মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের ক্ষেত্রেও বাংলা, ইংরেজির মতো সাধারণ বিষয়গুলোর পরীক্ষা অভিন্ন প্রশ্নপত্রে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে।’

চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় একক প্রশ্নপত্র চালুর চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে কর্মকর্তাদের সতর্ক করে মন্ত্রী বলেন, ‘বিজি প্রেস থেকে সঠিক নিয়মে প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সংশ্লিষ্টদের সাথে সমন্বয় করে কোড অনুযায়ী সঠিক প্রশ্নপত্র পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে হবে। প্রশ্ন বিতরণে কোনো ভুল বা কোড বিভ্রাট ঘটলে ‘সরি’ বা দুঃখ প্রকাশ করে পার পাওয়া যাবে না। যার ভুল, তাকেই কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।’

শিক্ষা খাতে নিয়োগ জট ও মামলা সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘নয় মাসের পিটিআই ট্রেনিং, পিএসসির ব্যাকলগ কিংবা এনটিআরসিএ’র শিক্ষক নিয়োগে সব জায়গায় মামলা দিয়ে স্থবিরতা তৈরি করা হচ্ছে। ১৫ হাজার শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ার পরও মামলা করে নিয়োগ আটকে দেওয়া হয়েছে। একটি গ্রুপ ও অ্যাসোসিয়েশনের কিছু লোক এই মামলার সাথে জড়িত। আমি তাদের চিহ্নিত করছি। যারা জাতি গঠনের অগ্রযাত্রায় বাধা সৃষ্টি করে, তারা রাষ্ট্রের শত্রু, দেশের শত্রু। এ বিষয়ে মহামান্য আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। সরকারও তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেবে।’

এনটিআরসিএ’র মূল প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘২০০১ থেকে ২০০৬ সালে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন ওভার-স্যাচুরেটেড (অতিরিক্ত) প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যত্রতত্র স্কুল-কলেজ খোলা বন্ধ করতে আমি এনটিআরসিএ গঠন করেছিলাম। এর উদ্দেশ্য ছিল চিকিৎসকদের পিএমডিসি বা আইনজীবীদের বার কাউন্সিলের মতো শিক্ষকদের যোগ্যতার একটি রাষ্ট্রীয় সনদ দেওয়া, সরাসরি চাকরি দেওয়া নয়। কিন্তু বিগত সরকার একে ডাল-খিচুড়ি বানিয়ে ফেলেছে। ফলে উত্তীর্ণ শিক্ষকেরা ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত চাকরির জন্য ঘুরছেন।’

তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের আমলে কোনো নিয়ম না মেনে প্রতি ৩ কিলোমিটারের মধ্যে অপরিকল্পিতভাবে স্কুল ও মাদ্রাসা স্থাপন করা হয়েছে। ২৩ থেকে ২৬ শতক জায়গার ওপর ঘর তুলে নিবন্ধনহীন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে শিক্ষকদের যোগ্যতার কোনো সঠিক যাচাই করা হয়নি।

মন্ত্রী জানান, ইবতেদায়ী ও প্রাথমিক স্কুলের মধ্যে দ্রুত সমন্বয় এবং এই লাগামহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি নিয়মের (রেগুলেশন) মধ্যে আনতে ইতোমধ্যে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা ৭ এর সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান। এছাড়া মতবিনিময় সভায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, জেলা-উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।