ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে বাংলাদেশ : তথ্যমন্ত্রী

  • প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশের সময় : ০৩:৪৫:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৮১ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বাংলাদেশ তার ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে বলে মন্তব্য করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, ১৭ বছর দায়িত্ব পেয়েছি। একটি দেশকে শূন্য থেকে শুরু করা কঠিন। কিন্তু এখানে সমস্যা আরও গভীর। বিগত সময়ে দেশের পুরো ব্যবস্থাটাই দুর্নীতিগ্রস্ত ও ভেঙে পড়েছে। তাই দেশকে ঠিকভাবে এগিয়ে নিতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, উই হ্যাভ দ্য সেম ব্যুরোক্রেসি। বর্তমান আমলাতন্ত্রকে নিয়েই সরকারকে কাজ করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে যে প্রশাসনিক ধারা চলে এসেছে, সেটিও এক দিনে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

কাউকে বন্ধ কিংবা থামিয়ে রাখার কোনো মানসিকতা বর্তমান সরকারের নেই বলেও এসময় জানান তিনি।

পলাতক হাসিনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের সরকার শেখ হাসিনার বিষয়ে হয়তো রাজনৈতিকভাবে দায়ভার নিতে চাচ্ছে না বলে জুডিশিয়ারির ওপর দিয়ে দিচ্ছে। এটি তার জন্য খুব একটা সুখকর নয়। বাংলাদেশ সব পলাতক আসামিকে ফেরত চায়।’

তবে অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে ফ্যাসিজমের চর্চা করলে তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে। তাদের ধিক্কার জানানোই সঠিক বিচার হবে। তবে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এসময় তিনি গণমাধ্যম ইস্যুতে বলেন, আমরা কাউকে নিয়ন্ত্রণ করব না। কোনো গণমাধ্যম বন্ধ করার মানসিকতাও নেই এ সরকারের।

বর্তমান সময়ে সরকার অনেক বেশি চাপে আছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছি। গত ১৭ বছরে করাপ্টেড সিস্টেমের পর স্বাভাবিক সময়ে সরকার দায়িত্ব নেয়নি। আর আমরা সেনসেটিভ সময় পার করছি।

কোনো কনসার্ট বাতিল হওয়ার পেছনে নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। সেটিকে সরকারের অসহযোগিতা বা আপত্তির ফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান।

সরকারের পক্ষ থেকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে কোনো ধরনের বাধা বা বিঘ্ন সৃষ্টির মানসিকতা নেই বলেও জানান তিনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনে স্থানীয় আলেম-ওলামাদের বাধা দেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, কনসার্ট বাতিল হওয়া মানেই যে সরকার সহযোগিতা করেনি, তা নয়। হয়তো সেখানে নিরাপত্তার বিষয় ছিল, আরও অনেক কিছু ছিল। আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি জানতে পারব।

তিনি বলেন, বিভিন্ন কারণে মাঝে মাঝে কনসার্ট বাতিল হতে পারে। সব সময় কারও আপত্তির কারণে অনুষ্ঠান বাতিল হয় বিষয়টি এমন নয়। কোথাও কোনো ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি আশঙ্কা করা হলে সে কারণে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

বাংলাদেশে বর্তমানে অনেক কনসার্ট হচ্ছে এবং বড় বড় আয়োজনও হচ্ছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট স্থানে নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা থাকলে সেটি আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হয় বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকারের তরফ থেকে এ ধরনের কোনো মানসিকতা নেই যে কোনো সাংস্কৃতিক বিষয়ে কোনো বাধা বা বিঘ্ন সৃষ্টি করা হবে। আমরা এ ধরনের চিন্তা শেয়ার করি না।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সম্পর্কে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করা কোনো ব্যবস্থার বিষয় নয়, এটি মানসিকতার বিষয়। নিজের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের বিষয়টি গ্রহণ করার মানসিকতা থাকতে হয়।

গত ১৭ বছরে সমালোচনা শোনার সেই মানসিকতা ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, গত ছয় মাসে সরকারের পক্ষ থেকে কিংবা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে কোনো নির্দিষ্টভাবে সংবাদ প্রকাশের নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকেও তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, কাউকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে না এবং কারও মুখ বন্ধ করে দেওয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, আপনারা গণতন্ত্রের আরেকটা স্তম্ভ। আপনারা আছেন বলেই আমরা এখানে আছি, আমরা আছি বলেই আপনারা আছেন। আমরা সবাই মিলেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব।

Tag :
জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ৫ ও ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু

ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে বাংলাদেশ : তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৩:৪৫:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বাংলাদেশ তার ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে বলে মন্তব্য করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, ১৭ বছর দায়িত্ব পেয়েছি। একটি দেশকে শূন্য থেকে শুরু করা কঠিন। কিন্তু এখানে সমস্যা আরও গভীর। বিগত সময়ে দেশের পুরো ব্যবস্থাটাই দুর্নীতিগ্রস্ত ও ভেঙে পড়েছে। তাই দেশকে ঠিকভাবে এগিয়ে নিতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, উই হ্যাভ দ্য সেম ব্যুরোক্রেসি। বর্তমান আমলাতন্ত্রকে নিয়েই সরকারকে কাজ করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে যে প্রশাসনিক ধারা চলে এসেছে, সেটিও এক দিনে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

কাউকে বন্ধ কিংবা থামিয়ে রাখার কোনো মানসিকতা বর্তমান সরকারের নেই বলেও এসময় জানান তিনি।

পলাতক হাসিনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের সরকার শেখ হাসিনার বিষয়ে হয়তো রাজনৈতিকভাবে দায়ভার নিতে চাচ্ছে না বলে জুডিশিয়ারির ওপর দিয়ে দিচ্ছে। এটি তার জন্য খুব একটা সুখকর নয়। বাংলাদেশ সব পলাতক আসামিকে ফেরত চায়।’

তবে অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে ফ্যাসিজমের চর্চা করলে তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে। তাদের ধিক্কার জানানোই সঠিক বিচার হবে। তবে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এসময় তিনি গণমাধ্যম ইস্যুতে বলেন, আমরা কাউকে নিয়ন্ত্রণ করব না। কোনো গণমাধ্যম বন্ধ করার মানসিকতাও নেই এ সরকারের।

বর্তমান সময়ে সরকার অনেক বেশি চাপে আছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছি। গত ১৭ বছরে করাপ্টেড সিস্টেমের পর স্বাভাবিক সময়ে সরকার দায়িত্ব নেয়নি। আর আমরা সেনসেটিভ সময় পার করছি।

কোনো কনসার্ট বাতিল হওয়ার পেছনে নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। সেটিকে সরকারের অসহযোগিতা বা আপত্তির ফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান।

সরকারের পক্ষ থেকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে কোনো ধরনের বাধা বা বিঘ্ন সৃষ্টির মানসিকতা নেই বলেও জানান তিনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনে স্থানীয় আলেম-ওলামাদের বাধা দেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, কনসার্ট বাতিল হওয়া মানেই যে সরকার সহযোগিতা করেনি, তা নয়। হয়তো সেখানে নিরাপত্তার বিষয় ছিল, আরও অনেক কিছু ছিল। আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি জানতে পারব।

তিনি বলেন, বিভিন্ন কারণে মাঝে মাঝে কনসার্ট বাতিল হতে পারে। সব সময় কারও আপত্তির কারণে অনুষ্ঠান বাতিল হয় বিষয়টি এমন নয়। কোথাও কোনো ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি আশঙ্কা করা হলে সে কারণে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

বাংলাদেশে বর্তমানে অনেক কনসার্ট হচ্ছে এবং বড় বড় আয়োজনও হচ্ছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট স্থানে নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা থাকলে সেটি আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হয় বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকারের তরফ থেকে এ ধরনের কোনো মানসিকতা নেই যে কোনো সাংস্কৃতিক বিষয়ে কোনো বাধা বা বিঘ্ন সৃষ্টি করা হবে। আমরা এ ধরনের চিন্তা শেয়ার করি না।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সম্পর্কে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রে বিশ্বাস করা কোনো ব্যবস্থার বিষয় নয়, এটি মানসিকতার বিষয়। নিজের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের বিষয়টি গ্রহণ করার মানসিকতা থাকতে হয়।

গত ১৭ বছরে সমালোচনা শোনার সেই মানসিকতা ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, গত ছয় মাসে সরকারের পক্ষ থেকে কিংবা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে কোনো নির্দিষ্টভাবে সংবাদ প্রকাশের নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকেও তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, কাউকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে না এবং কারও মুখ বন্ধ করে দেওয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, আপনারা গণতন্ত্রের আরেকটা স্তম্ভ। আপনারা আছেন বলেই আমরা এখানে আছি, আমরা আছি বলেই আপনারা আছেন। আমরা সবাই মিলেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব।