আমিরাতে বেনজীর, ফেরাতে কূটনৈতিক চাপ দিচ্ছে সরকার : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ১০:০৪:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৮৪ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সেন্ট লুসিয়ায় নয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতেই অবস্থান করছেন বলে জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, সেখানে তার ওপর নজরদারি রাখতে আমিরাত সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে। কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় জঘন্য এই খুনিকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

মঙ্গলবার (০৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেমের এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

মীর আহমদ বিন কাসেম তার প্রস্তাবে বেনজীর আহমেদকে সেন্ট লুসিয়া থেকে ফিরিয়ে আনার কথা বলেছিলেন।

এ তথ্যের সংশোধন করে হুমায়ুন কবির বলেন, আপনার তথ্যে কিছুটা ঘাটতি আছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টের ভিত্তিতে আপনি বলেছেন বেনজীর সেন্ট লুসিয়া চলে গেছেন। কিন্তু আমরা দূতাবাসের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে খোঁজ নিয়েছি। তারা জানিয়েছেন, এমন কোনো বিষয়ে তারা অবগত নন। তার মানে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতেই অবস্থান করছেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের দূতাবাস সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সতর্ক করেছে এবং সংস্থাগুলোকে তার ওপর নজর রাখার অনুরোধ করেছে। আমরা তা করব। বিচারের দীর্ঘ হাত দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া প্রত্যেক সন্ত্রাসীকে টেনে-হিঁচড়ে ফিরিয়ে আনবে।

আমিরাতের সঙ্গে বন্দি বিনিময় চুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে আমাদের কোনো সক্রিয় দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ (বন্দি বিনিময়) চুক্তি নেই। তবে প্রতিটি আলাদা ঘটনার ভিত্তিতে বিশেষ বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। আমরা কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করব। স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কঠোর পরিশ্রম করছে। আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সক্রিয় কূটনীতি চালিয়ে যাচ্ছি, যাতে বিশেষ বিবেচনায় জঘন্য এই হত্যাকারীকে ফিরিয়ে আনতে পারি।

বেনজীর আহমেদকে ‘খুনি’ ও ‘জাতির দুশমন’ আখ্যা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, গত ১৫ বছর ধরে দেশের মানুষকে নিপীড়নকারী অপশক্তির বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এই খুনি শুধু আপনাদের (জামায়াত) বা বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করেনি, সে সাধারণ মানুষকেও হত্যা করেছে, মিথ্যা মামলা দিয়েছে। সে দেশের দুশমন, জাতির দুশমন। তার বিরুদ্ধে আমাদের এক হতে হবে।

সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেমের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের কাছ থেকে আপনি যে নিপীড়নের মধ্য দিয়ে গেছেন, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমরা আপনাকে কখনোই কেবল জামায়াতে ইসলামীর সদস্য হিসেবে দেখিনি, একজন বিরোধীদলীয় কর্মী হিসেবে দেখেছি; যাকে এক ভয়াবহ রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার হতে হয়েছিল এবং মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল।

গুম হওয়া বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে আরও যারা হেফাজতে আছেন, তাদের মধ্যে কর্নেল জিয়াও রয়েছেন। আমরা জানতে পেরেছি যে, তিনি সিলেট অঞ্চলের বিশিষ্ট সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলীকে গুম করার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। শুনছি তাকে হত্যা করা হয়েছে। এতগুলো বছর ধরে একজন মানুষ নেই! সরকার এই বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা হবে জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমাদের সরকার ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার আওতায় সেই অপরাধীদের প্রত্যেককে ধরে তাদের বিচার করতে সফল হবে। দেশ লুটে ও মানুষ হত্যা করে যারা পালিয়েছে, সবাইকে ধরে আনা হবে। দলমত নির্বিশেষে আপনাদের সবাইকে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর পাশে থাকতে হবে।

বিদেশে অবস্থানরত শেখ হাসিনাসহ গণহত্যা ও রাষ্ট্রীয় লুণ্ঠনে জড়িত অপরাধীদের আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, এই সরকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনকারী, গণহত্যায় জড়িত এবং পালিয়ে থাকা আওয়ামী সন্ত্রাসীদের বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের সর্বশক্তি প্রয়োগ করবে।

সংসদের বৈঠকে বক্তব্য উপস্থাপনকালে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে স্পিকারকে অবহিত করেন যে, বৈষম্যবিরোধী জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ায় সম্প্রতি ইতালিতে গিয়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের তোপের মুখে পড়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। সেখানে জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকেই অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন করে তার ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়।

আখতার হোসেন আরও উল্লেখ করেন, এর আগেও তিনি নিজে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জাতিসংঘ কর্মসূচিতে অংশ নিতে আমেরিকা সফরে গেলে সেখানেও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা তার ওপর একইভাবে হামলা চালিয়েছিল।

তিনি জানান, জুলাই আন্দোলনে যুক্ত সাধারণ মানুষ কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যারা বর্তমানে বিদেশে যাচ্ছেন, বিদেশের মাটিতে আওয়ামী গুন্ডারা তাদের ওপর হামলা, হেনস্থা ও হুমকি প্রদান অব্যাহত রেখেছে। এসব অপরাধীরা বিদেশে অপরাধ করে পার পেয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে এমন হামলাকারী আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের গুন্ডাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সরকারের দৃঢ় পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ আছে কি না তা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর কাছে জানতে চান রংপুর-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য।

প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, ইতালির ভেনিস শহরে সংঘটিত এই ন্যক্কারজনক ঘটনার বিরুদ্ধে সরকার কঠোর কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। একইসঙ্গে দেশের ভেতর হত্যা, লুণ্ঠন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে বিদেশে পালিয়ে থাকা শেখ হাসিনাসহ সব আওয়ামী সন্ত্রাসীদের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে সরকার বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করবে না।

আখতার হোসেনের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সংসদে তার প্রথম ভাষণে সকল জুলাই শহীদ ও আহত গণতন্ত্রপ্রেমীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বিদেশে জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়ে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, একজন জুলাই যোদ্ধার ওপর হামলা মানেই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর নগ্ন হামলা।

ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি বলেন, সেপ্টেম্বর মাসের ৪ তারিখ সন্ধ্যায় ইতালির ভেনিস শহরের একটি পার্কে আজমেরী হক বাঁধন, তার ভাই, বোন ও সন্তানকে নিয়ে অবস্থান করছিলেন। সে সময় বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত আওয়ামী লীগের কয়েকজন চিহ্নিত ক্যাডার তার ওপর অতর্কিত ও কাপুরুষোচিত হামলা চালায়।

ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গেই সরকার তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, তিনি নিজে সকালে পররাষ্ট্র সচিবের সাথে কথা বলেছেন এবং সংশ্লিষ্ট রোমস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। রোমের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে এরইমধ্যে ইতালীয় পুলিশ প্রশাসন এবং ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করা হয়েছে। মিস বাঁধন যেন সর্বোচ্চ কনসুলার সহায়তা ও নিরাপত্তা পান তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ঘটনার শিকার আজমেরী হক বাঁধন ইতালি পুলিশে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করার পর সেই দেশের সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা আরও জোরদার করা হচ্ছে।

হুমায়ুন কবির জাতীয় সংসদে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, দেশের জনগণের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে নির্বাচিত এই সরকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনকারী, গণহত্যায় জড়িত এবং পালিয়ে থাকা আওয়ামী সন্ত্রাসীদের বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের সর্বশক্তি প্রয়োগ করবে। শেখ হাসিনাসহ যেসব সন্ত্রাসীরা বিদেশে আশ্রয় নিয়ে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের সবাইকে আইনের দীর্ঘ হাত ব্যবহার করে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্সি গ্রহণসহ আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বাংলাদেশ এখন অন্যতম শক্তিশালী ও কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ আর কোনো পরাশক্তির দাসত্ব বা গোলামি করবে না, বরং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এবং এই মহান সংসদের সমর্থনে স্বাধীন গতিতে এগিয়ে গিয়ে বিশ্বের বুকে একটি স্বকীয় প্রভাবশালী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

আমিরাতে বেনজীর, ফেরাতে কূটনৈতিক চাপ দিচ্ছে সরকার : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

আমিরাতে বেনজীর, ফেরাতে কূটনৈতিক চাপ দিচ্ছে সরকার : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ১০:০৪:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সেন্ট লুসিয়ায় নয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতেই অবস্থান করছেন বলে জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, সেখানে তার ওপর নজরদারি রাখতে আমিরাত সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে। কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় জঘন্য এই খুনিকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

মঙ্গলবার (০৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেমের এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

মীর আহমদ বিন কাসেম তার প্রস্তাবে বেনজীর আহমেদকে সেন্ট লুসিয়া থেকে ফিরিয়ে আনার কথা বলেছিলেন।

এ তথ্যের সংশোধন করে হুমায়ুন কবির বলেন, আপনার তথ্যে কিছুটা ঘাটতি আছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টের ভিত্তিতে আপনি বলেছেন বেনজীর সেন্ট লুসিয়া চলে গেছেন। কিন্তু আমরা দূতাবাসের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে খোঁজ নিয়েছি। তারা জানিয়েছেন, এমন কোনো বিষয়ে তারা অবগত নন। তার মানে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতেই অবস্থান করছেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের দূতাবাস সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সতর্ক করেছে এবং সংস্থাগুলোকে তার ওপর নজর রাখার অনুরোধ করেছে। আমরা তা করব। বিচারের দীর্ঘ হাত দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া প্রত্যেক সন্ত্রাসীকে টেনে-হিঁচড়ে ফিরিয়ে আনবে।

আমিরাতের সঙ্গে বন্দি বিনিময় চুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে আমাদের কোনো সক্রিয় দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ (বন্দি বিনিময়) চুক্তি নেই। তবে প্রতিটি আলাদা ঘটনার ভিত্তিতে বিশেষ বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। আমরা কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করব। স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কঠোর পরিশ্রম করছে। আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সক্রিয় কূটনীতি চালিয়ে যাচ্ছি, যাতে বিশেষ বিবেচনায় জঘন্য এই হত্যাকারীকে ফিরিয়ে আনতে পারি।

বেনজীর আহমেদকে ‘খুনি’ ও ‘জাতির দুশমন’ আখ্যা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, গত ১৫ বছর ধরে দেশের মানুষকে নিপীড়নকারী অপশক্তির বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এই খুনি শুধু আপনাদের (জামায়াত) বা বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করেনি, সে সাধারণ মানুষকেও হত্যা করেছে, মিথ্যা মামলা দিয়েছে। সে দেশের দুশমন, জাতির দুশমন। তার বিরুদ্ধে আমাদের এক হতে হবে।

সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেমের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের কাছ থেকে আপনি যে নিপীড়নের মধ্য দিয়ে গেছেন, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমরা আপনাকে কখনোই কেবল জামায়াতে ইসলামীর সদস্য হিসেবে দেখিনি, একজন বিরোধীদলীয় কর্মী হিসেবে দেখেছি; যাকে এক ভয়াবহ রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার হতে হয়েছিল এবং মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল।

গুম হওয়া বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে আরও যারা হেফাজতে আছেন, তাদের মধ্যে কর্নেল জিয়াও রয়েছেন। আমরা জানতে পেরেছি যে, তিনি সিলেট অঞ্চলের বিশিষ্ট সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলীকে গুম করার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। শুনছি তাকে হত্যা করা হয়েছে। এতগুলো বছর ধরে একজন মানুষ নেই! সরকার এই বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা হবে জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমাদের সরকার ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার আওতায় সেই অপরাধীদের প্রত্যেককে ধরে তাদের বিচার করতে সফল হবে। দেশ লুটে ও মানুষ হত্যা করে যারা পালিয়েছে, সবাইকে ধরে আনা হবে। দলমত নির্বিশেষে আপনাদের সবাইকে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর পাশে থাকতে হবে।

বিদেশে অবস্থানরত শেখ হাসিনাসহ গণহত্যা ও রাষ্ট্রীয় লুণ্ঠনে জড়িত অপরাধীদের আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, এই সরকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনকারী, গণহত্যায় জড়িত এবং পালিয়ে থাকা আওয়ামী সন্ত্রাসীদের বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের সর্বশক্তি প্রয়োগ করবে।

সংসদের বৈঠকে বক্তব্য উপস্থাপনকালে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে স্পিকারকে অবহিত করেন যে, বৈষম্যবিরোধী জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ায় সম্প্রতি ইতালিতে গিয়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের তোপের মুখে পড়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। সেখানে জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকেই অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন করে তার ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়।

আখতার হোসেন আরও উল্লেখ করেন, এর আগেও তিনি নিজে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জাতিসংঘ কর্মসূচিতে অংশ নিতে আমেরিকা সফরে গেলে সেখানেও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা তার ওপর একইভাবে হামলা চালিয়েছিল।

তিনি জানান, জুলাই আন্দোলনে যুক্ত সাধারণ মানুষ কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যারা বর্তমানে বিদেশে যাচ্ছেন, বিদেশের মাটিতে আওয়ামী গুন্ডারা তাদের ওপর হামলা, হেনস্থা ও হুমকি প্রদান অব্যাহত রেখেছে। এসব অপরাধীরা বিদেশে অপরাধ করে পার পেয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে এমন হামলাকারী আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের গুন্ডাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সরকারের দৃঢ় পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ আছে কি না তা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর কাছে জানতে চান রংপুর-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য।

প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, ইতালির ভেনিস শহরে সংঘটিত এই ন্যক্কারজনক ঘটনার বিরুদ্ধে সরকার কঠোর কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। একইসঙ্গে দেশের ভেতর হত্যা, লুণ্ঠন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে বিদেশে পালিয়ে থাকা শেখ হাসিনাসহ সব আওয়ামী সন্ত্রাসীদের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে সরকার বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করবে না।

আখতার হোসেনের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সংসদে তার প্রথম ভাষণে সকল জুলাই শহীদ ও আহত গণতন্ত্রপ্রেমীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বিদেশে জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়ে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, একজন জুলাই যোদ্ধার ওপর হামলা মানেই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর নগ্ন হামলা।

ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি বলেন, সেপ্টেম্বর মাসের ৪ তারিখ সন্ধ্যায় ইতালির ভেনিস শহরের একটি পার্কে আজমেরী হক বাঁধন, তার ভাই, বোন ও সন্তানকে নিয়ে অবস্থান করছিলেন। সে সময় বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত আওয়ামী লীগের কয়েকজন চিহ্নিত ক্যাডার তার ওপর অতর্কিত ও কাপুরুষোচিত হামলা চালায়।

ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গেই সরকার তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, তিনি নিজে সকালে পররাষ্ট্র সচিবের সাথে কথা বলেছেন এবং সংশ্লিষ্ট রোমস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। রোমের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে এরইমধ্যে ইতালীয় পুলিশ প্রশাসন এবং ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করা হয়েছে। মিস বাঁধন যেন সর্বোচ্চ কনসুলার সহায়তা ও নিরাপত্তা পান তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ঘটনার শিকার আজমেরী হক বাঁধন ইতালি পুলিশে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করার পর সেই দেশের সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা আরও জোরদার করা হচ্ছে।

হুমায়ুন কবির জাতীয় সংসদে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, দেশের জনগণের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে নির্বাচিত এই সরকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনকারী, গণহত্যায় জড়িত এবং পালিয়ে থাকা আওয়ামী সন্ত্রাসীদের বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের সর্বশক্তি প্রয়োগ করবে। শেখ হাসিনাসহ যেসব সন্ত্রাসীরা বিদেশে আশ্রয় নিয়ে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের সবাইকে আইনের দীর্ঘ হাত ব্যবহার করে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্সি গ্রহণসহ আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বাংলাদেশ এখন অন্যতম শক্তিশালী ও কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ আর কোনো পরাশক্তির দাসত্ব বা গোলামি করবে না, বরং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এবং এই মহান সংসদের সমর্থনে স্বাধীন গতিতে এগিয়ে গিয়ে বিশ্বের বুকে একটি স্বকীয় প্রভাবশালী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।