নিজস্ব প্রতিবেদক :
আদ্-দীন হাসপাতালের ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় জনস্বার্থে সরকার কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হবে না। নির্দিষ্ট সময় শেষে সরকারের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সোমবার (৮ জুন) সকালে নিজ মন্ত্রণালয়ে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার সুবিধার্থে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ কর্তৃক অনুদান হিসেবে ১ লাখ ইন্ট্রাভেনাস ফ্লুইড (আইভি স্যালাইন) হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ঘটনার প্রতিবেদন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নিতে আরও দুই দিন সময় নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
আদ্-দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে জনস্বার্থে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এ ঘটনায় সরকার আইনজীবী নিয়োগ করে সঠিকভাবে প্রতিবেদন এবং সিদ্ধান্তের বিষয়ে সুপারিশ করবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের আইনজীবী নিয়োগ করে শিশুদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেবে, সে ব্যাপারে সরকারের কিছু বলার নেই। তবে এর কারণে তাদের বিরুদ্ধে সরকারের সিদ্ধান্ত কোনো পরিবর্তন হবে না।
তিনি বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কাকে কী ক্ষতিপূরণ দেবে, তা তাদের ব্যাপার। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যেহেতু সময় চেয়েছে, তাই তাদের সময় দেয়া হয়েছে। শিশুদের মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অবহেলা করা হবে না। সরকার স্বচ্ছভাবে এই বিষয়টিতে কাজ এগিয়ে নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ঘটনার প্রতিবেদন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নিতে আরও দুই দিন সময় নেওয়া হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রোগীর চিকিৎসা ব্যবস্থাকে সহায়তা করতে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এক লাখ ইউনিট আইভি স্যালাইন অনুদান হিসেবে দিয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় স্টোরে এক লাখ স্যালাইন মজুত রয়েছে এবং উপজেলা পর্যায়ে আরও ২০ থেকে ২৫ হাজার ইউনিট স্যালাইন ছড়িয়ে রয়েছে। তবে প্রয়োজন বাড়লে অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ১৪০ দেশে আমাদের ওষুধ রফতানি হচ্ছে। দেশীয় উৎপাদকরা ভ্যাকসিন তৈরি করতে পারলে এই পরিসর আরও বৃদ্ধি পাবে।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিগত ১৭ বছর সরকারগুলো কোনো ভেন্টিলেটর, মেশিন, ভ্যাকসিন দিয়ে যায়নি। এমনকি সিরিঞ্জও ছিল না। প্রাইভেট এন্টারপ্রেনারদের সহায়তায় হামের মতো বিপদগুলো মোকাবিলা করেছে সরকার।
‘হামের এন্টিবডি তৈরি হতে ২০ জুন পর্যন্ত সময় লাগবে’, যোগ করেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
আন্দোলনরত মেডিকেল শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকদের নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক তাদের নিয়ে বসবেন। গণতান্ত্রিক দেশ, আন্দোলন করার অধিকার সবার রয়েছে। আমরা দেখব তাদের দাবি কতটুকু যৌক্তিক এবং গ্রহণযোগ্য।
চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখনো ওই পর্যায়ে যায়নি। তারা সেবা দিচ্ছেন এবং সেবা অব্যাহত রেখেছেন। আমরা আলোচনা করবো।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, ডেঙ্গুর মৌসুম সামনে রেখে ডেঙ্গু আক্রান্তের হার কমাতে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এরপরও যারা আক্রান্ত হবেন, তাদের যথাসময়ে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্যকে পুনর্গঠন করতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে ড. এম এ মুহিত বলেন, প্রধান কর্মপন্থা হচ্ছে, স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করা। ডেঙ্গু প্রতিরোধে যে কাজ চলছে, সেখানে স্টেকহোল্ডারদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে।
‘ওষুধ শিল্পকে আরও বিকশিত করতে পলিসি সাপোর্টের চিন্তা করছে সরকার। দেশের মানুষকে সঠিক ওষুধ, সঠিক মূল্য কিংবা বিনামূল্যে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার’, যোগ করেন প্রতিমন্ত্রী।
সভায় স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















