আগামীতে হজের খরচ আরও কমাবে সরকার : সংসদে ধর্মমন্ত্রী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০৯:০৬:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৮১ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

২০২৬ সালের হজে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়া ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজির ব্যয় না হওয়া ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ফেরত দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আগামী ২০২৭ সালের হজে বিমান ভাড়াসহ সরকারি প্যাকেজের খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এবার প্যাকেজের মধ্যে খাবারের খরচ অন্তর্ভুক্ত করার পরও মোট ব্যয় কমানো সম্ভব হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ও হজের ব্যয় কমানোর ঐতিহাসিক নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। এদিন অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বিবৃতিতে ধর্মমন্ত্রী বলেন, আল্লাহর মেহমান হাজিদের সেবা করাই বর্তমান সরকারের একমাত্র ব্রত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্ব, বলিষ্ঠ দিকনির্দেশনা এবং নিবিড় মনিটরিংয়ের কারণেই ২০২৬ সালের হজ অত্যন্ত সফল, সুন্দর ও সাবলীলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনায় স্বচ্ছতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে প্রতিটি প্যাকেজের ব্যয় কমানো সম্ভব হয়েছে। খাতভিত্তিক হিসেব শেষে উদ্বৃত্ত ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি ইএফটি (ঊঋঞ)-এর মাধ্যমে ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে।

প্যাকেজভিত্তিক অর্থ ফেরতের বিস্তারিত চিত্র সংসদে তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, ২০২৬ সালের হজ প্যাকেজ-১ এর (খাবার খরচ ছাড়া মূল্য ছিল ৬ লাখ ৯০ হাজার ৫৯৭ টাকা) পূর্ণাঙ্গ ও শর্ট প্যাকেজের হাজীদের যথাক্রমে ৩৮ হাজার ৬৯৭ টাকা এবং ৪৬ হাজার ৮৮৮ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এই প্যাকেজে সিট আপগ্রেডেশন অনুযায়ী হাজীদের সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮০ হাজার ৫৭২ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হয়েছে।

একইভাবে প্যাকেজ-২ এর হাজিদের জনপ্রতি সর্বনিম্ন ২ হাজার ৫০৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার ৭১৩ টাকা এবং প্যাকেজ-৩ এর পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজের হাজিদের জনপ্রতি ৩ হাজার ৭১৮ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।

আগামী হজের খরচ কমানোর বিষয়ে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন, সফলতার ধারাবাহিকতায় ২০২৭ সালের হজের খরচ সাধারণ মানুষের জন্য আরও সাশ্রয়ী করতে আমরা যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় ২০২৭ সালের হজের বিমানভাড়া ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই, ২০২৩ সালে এই বিমান ভাড়া ছিল ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৭ টাকা।

আগামী বছর (২০২৭) দুটি হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে জানিয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, সরকারি হজ প্যাকেজ-১ এর খরচ আগের বছরের (২০২৬) তুলনায় ৭৫ হাজার ৩৩৪ টাকা কমিয়ে ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সাশ্রয়ী হজ প্যাকেজ-২ এর খরচ ৫৩ হাজার ২৩৩ টাকা কমিয়ে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই বিএফটির মাধ্যমে ওই উদ্বৃত্ত অর্থ সরাসরি সংশ্লিষ্ট হাজীদের ব্যাংক হিসাবে ফেরত দেওয়া হয়েছে। সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার কারণেই এ অর্থ ফেরত দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

২০২৬ সালের হজ ব্যবস্থাপনা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্ব, বলিষ্ঠ দিকনির্দেশনা ও নিবিড় মনিটরিংয়ের মাধ্যমে এবারের হজ অত্যন্ত সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সৌদি হজ মন্ত্রীও বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেছেন।

তিনি বলেন, আল্লাহর মেহমান হাজীদের খেদমত করাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। হাজীদের সেবায় মানবিকতা, সততা, দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতার এ ধারা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

আমিরাতে বেনজীর, ফেরাতে কূটনৈতিক চাপ দিচ্ছে সরকার : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

আগামীতে হজের খরচ আরও কমাবে সরকার : সংসদে ধর্মমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৯:০৬:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

২০২৬ সালের হজে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়া ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজির ব্যয় না হওয়া ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ফেরত দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আগামী ২০২৭ সালের হজে বিমান ভাড়াসহ সরকারি প্যাকেজের খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এবার প্যাকেজের মধ্যে খাবারের খরচ অন্তর্ভুক্ত করার পরও মোট ব্যয় কমানো সম্ভব হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ও হজের ব্যয় কমানোর ঐতিহাসিক নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। এদিন অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বিবৃতিতে ধর্মমন্ত্রী বলেন, আল্লাহর মেহমান হাজিদের সেবা করাই বর্তমান সরকারের একমাত্র ব্রত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্ব, বলিষ্ঠ দিকনির্দেশনা এবং নিবিড় মনিটরিংয়ের কারণেই ২০২৬ সালের হজ অত্যন্ত সফল, সুন্দর ও সাবলীলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনায় স্বচ্ছতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে প্রতিটি প্যাকেজের ব্যয় কমানো সম্ভব হয়েছে। খাতভিত্তিক হিসেব শেষে উদ্বৃত্ত ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি ইএফটি (ঊঋঞ)-এর মাধ্যমে ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে।

প্যাকেজভিত্তিক অর্থ ফেরতের বিস্তারিত চিত্র সংসদে তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, ২০২৬ সালের হজ প্যাকেজ-১ এর (খাবার খরচ ছাড়া মূল্য ছিল ৬ লাখ ৯০ হাজার ৫৯৭ টাকা) পূর্ণাঙ্গ ও শর্ট প্যাকেজের হাজীদের যথাক্রমে ৩৮ হাজার ৬৯৭ টাকা এবং ৪৬ হাজার ৮৮৮ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এই প্যাকেজে সিট আপগ্রেডেশন অনুযায়ী হাজীদের সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮০ হাজার ৫৭২ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হয়েছে।

একইভাবে প্যাকেজ-২ এর হাজিদের জনপ্রতি সর্বনিম্ন ২ হাজার ৫০৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার ৭১৩ টাকা এবং প্যাকেজ-৩ এর পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজের হাজিদের জনপ্রতি ৩ হাজার ৭১৮ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।

আগামী হজের খরচ কমানোর বিষয়ে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন, সফলতার ধারাবাহিকতায় ২০২৭ সালের হজের খরচ সাধারণ মানুষের জন্য আরও সাশ্রয়ী করতে আমরা যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় ২০২৭ সালের হজের বিমানভাড়া ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই, ২০২৩ সালে এই বিমান ভাড়া ছিল ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৭ টাকা।

আগামী বছর (২০২৭) দুটি হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে জানিয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, সরকারি হজ প্যাকেজ-১ এর খরচ আগের বছরের (২০২৬) তুলনায় ৭৫ হাজার ৩৩৪ টাকা কমিয়ে ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সাশ্রয়ী হজ প্যাকেজ-২ এর খরচ ৫৩ হাজার ২৩৩ টাকা কমিয়ে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই বিএফটির মাধ্যমে ওই উদ্বৃত্ত অর্থ সরাসরি সংশ্লিষ্ট হাজীদের ব্যাংক হিসাবে ফেরত দেওয়া হয়েছে। সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার কারণেই এ অর্থ ফেরত দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

২০২৬ সালের হজ ব্যবস্থাপনা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্ব, বলিষ্ঠ দিকনির্দেশনা ও নিবিড় মনিটরিংয়ের মাধ্যমে এবারের হজ অত্যন্ত সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সৌদি হজ মন্ত্রীও বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেছেন।

তিনি বলেন, আল্লাহর মেহমান হাজীদের খেদমত করাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। হাজীদের সেবায় মানবিকতা, সততা, দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতার এ ধারা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে।