Dhaka মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিচার পাওয়া দয়া নয়, সাধারণ মানুষের অধিকার : আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

সারাদেশের লিগ্যাল এইড অফিসগুলো যাতে বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের ভরসার জায়গা হয় সে ব্যাপারে কাজ করতে নির্দেশনা দিয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, খরচ না করেই সাধারণ মানুষ লিগ্যাল এইড অফিসে আইনগত সহায়তা পাবে। বিচার পাওয়া দয়া নয়, সাধারণ মানুষের অধিকার।

রোববার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৪’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, এটি দেশের গরীব মানুষের জন্য বিনা পয়সায় বিচার পাওয়ার জায়গা। এর বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে আরও প্রচার করতে হবে। যাতে সাধারণ মানুষ লিগ্যাল এইড অফিসকে বিচার পাওয়ার জন্য ভরসার জায়গা মনে করে।

বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত মামলাগুলো যাতে সারাদেশের মানুষ আইনগত সহায়তা অফিসে গিয়ে আপোষ করতে পারে সে ব্যাপারে আরও মনোযোগী হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন আনিসুল হক। তিনি বলেন, বিচারের জন্য খরচ না করে সাধারণ মানুষ লিগ্যাল এইড অফিসে আইনগত সহায়তা পাবে। যেখানে বিচার পাওয়া দয়া নয়, সাধারণ মানুষের অধিকার।

২০২০ সাল থেকে শুরু হওয়া লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে সারাদেশে দেড় লাখের উপরে মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, এটি দেশের গরীব মানুষের জন্য বিনা পয়সায় বিচার পাওয়ার জায়গা। এর বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে আরও প্রচার করতে হবে যাতে সাধারণ মানুষ তাদের বিচার পাওয়ার জন্য ভরসার জায়গা মনে করে লিগ্যাল এইড অফিসকে।

আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে দেশের মানুষ আইনগত সহায়তা পাওয়ার অধিকার পেয়েছে; যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিশ্চিত করেছেন। দেশের মানুষের আইনি অধিকার বিগত ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত অন্ধকারে ছিল। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দায়িত্ব নেয়ার পর মানুষ বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা পাওয়ার অধিকার পেয়েছে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার অধীনে মানবাধিকারসহ সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। মানবাধিকারসহ আইনের সহায়তা এখন দেশের মানুষ পাচ্ছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, তবে দুঃখজনক হলো স্থানীয়পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির হার অত্যন্ত কম। এর কারণ সামাজিক পরিবর্তন। লিগাল এইড অফিসগুলোকে তাই আমরা বিরোধ নিষ্পত্তির নানা দায়িত্ব দিয়েছি। তারা সেসব পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নিবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, মামলার সঠিক ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি ‘বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতি’ বা এডিআর মামলাজট নিরসনের সহায়ক একটি পন্থা হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। জার্মান সরকারের উন্নয়ন সংস্থা- জিআইজেড এর এক সমীক্ষায় দেখা যায়, বাংলাদেশের ৮৭ ভাগ মানুষ স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তিতে আগ্রহী এবং শতকরা ৩০ ভাগ নাগরিকের প্রাথমিক দ্বন্দ্বের কারণ প্রতিবেশির সাথে ছোট-খাটো বিরোধ বা মারামারি যা স্থানীয়ভাবেই নিষ্পত্তিযোগ্য। আমাদের স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির হার অতি নগণ্য, যার মূল কারণ সামাজিক পরিবর্তন, সামাজিক উন্নয়ন, মানুষের ব্যস্ততা এবং মধ্যস্থতাকারীর প্রতি আস্থার অভাব।

‘স্মার্ট লিগ্যাল এইড, স্মার্ট দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’- এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে আইন ও বিচার বিভাগ এবং জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংস্থার সম্মানিত পরিচালক মোহাম্মদ আল মামুন।

আবহাওয়া

চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, একজনের ভাঙল ৪ দাঁত, আহত ২ যাত্রী

বিচার পাওয়া দয়া নয়, সাধারণ মানুষের অধিকার : আইনমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৩:০০:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

সারাদেশের লিগ্যাল এইড অফিসগুলো যাতে বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের ভরসার জায়গা হয় সে ব্যাপারে কাজ করতে নির্দেশনা দিয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, খরচ না করেই সাধারণ মানুষ লিগ্যাল এইড অফিসে আইনগত সহায়তা পাবে। বিচার পাওয়া দয়া নয়, সাধারণ মানুষের অধিকার।

রোববার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৪’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, এটি দেশের গরীব মানুষের জন্য বিনা পয়সায় বিচার পাওয়ার জায়গা। এর বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে আরও প্রচার করতে হবে। যাতে সাধারণ মানুষ লিগ্যাল এইড অফিসকে বিচার পাওয়ার জন্য ভরসার জায়গা মনে করে।

বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত মামলাগুলো যাতে সারাদেশের মানুষ আইনগত সহায়তা অফিসে গিয়ে আপোষ করতে পারে সে ব্যাপারে আরও মনোযোগী হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন আনিসুল হক। তিনি বলেন, বিচারের জন্য খরচ না করে সাধারণ মানুষ লিগ্যাল এইড অফিসে আইনগত সহায়তা পাবে। যেখানে বিচার পাওয়া দয়া নয়, সাধারণ মানুষের অধিকার।

২০২০ সাল থেকে শুরু হওয়া লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে সারাদেশে দেড় লাখের উপরে মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, এটি দেশের গরীব মানুষের জন্য বিনা পয়সায় বিচার পাওয়ার জায়গা। এর বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে আরও প্রচার করতে হবে যাতে সাধারণ মানুষ তাদের বিচার পাওয়ার জন্য ভরসার জায়গা মনে করে লিগ্যাল এইড অফিসকে।

আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে দেশের মানুষ আইনগত সহায়তা পাওয়ার অধিকার পেয়েছে; যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিশ্চিত করেছেন। দেশের মানুষের আইনি অধিকার বিগত ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত অন্ধকারে ছিল। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দায়িত্ব নেয়ার পর মানুষ বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা পাওয়ার অধিকার পেয়েছে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার অধীনে মানবাধিকারসহ সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। মানবাধিকারসহ আইনের সহায়তা এখন দেশের মানুষ পাচ্ছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, তবে দুঃখজনক হলো স্থানীয়পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির হার অত্যন্ত কম। এর কারণ সামাজিক পরিবর্তন। লিগাল এইড অফিসগুলোকে তাই আমরা বিরোধ নিষ্পত্তির নানা দায়িত্ব দিয়েছি। তারা সেসব পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নিবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, মামলার সঠিক ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি ‘বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতি’ বা এডিআর মামলাজট নিরসনের সহায়ক একটি পন্থা হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। জার্মান সরকারের উন্নয়ন সংস্থা- জিআইজেড এর এক সমীক্ষায় দেখা যায়, বাংলাদেশের ৮৭ ভাগ মানুষ স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তিতে আগ্রহী এবং শতকরা ৩০ ভাগ নাগরিকের প্রাথমিক দ্বন্দ্বের কারণ প্রতিবেশির সাথে ছোট-খাটো বিরোধ বা মারামারি যা স্থানীয়ভাবেই নিষ্পত্তিযোগ্য। আমাদের স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির হার অতি নগণ্য, যার মূল কারণ সামাজিক পরিবর্তন, সামাজিক উন্নয়ন, মানুষের ব্যস্ততা এবং মধ্যস্থতাকারীর প্রতি আস্থার অভাব।

‘স্মার্ট লিগ্যাল এইড, স্মার্ট দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’- এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে আইন ও বিচার বিভাগ এবং জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংস্থার সম্মানিত পরিচালক মোহাম্মদ আল মামুন।