Dhaka শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অপতথ্যকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে চায় সরকার : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০৩:২৯:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৪
  • ২৪৮ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেন, সঠিক তথ্যের ওপর সমালোচনা হলে সরকার তা থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যাবে। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে যারা অপপ্রচার চালায়, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মালিকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব টিভি চ্যানেল ওনার্স (এটকো) নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন তিনি।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, অপতথ্যকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে চায় সরকার। সেই সঙ্গে সবার জন্য মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে। গণতন্ত্রের স্বার্থে সরকার তথ্যের অবাধ স্বাধীনতা চায়।

অপতথ্য ও গুজবমুক্ত গণমাধ্যম গড়ে তুলতে বেসরকারি টেলিভিশনগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, উদ্দেশ্যমূলক ভুলতথ্য দিয়ে জাতিতে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করলে তা রুখে দিতে হবে।

মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেছেন, আমরা গণমাধ্যমের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা চাই। অপতথ্যকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে চাই। আমরা দিন শেষে চাই গুজব বা রিউমারমুক্ত গণমাধ্যম। যেখানে তথ্যের অবাধ প্রবাহ থাকবে এবং সরকার বা অথরিটিকে অবশ্যই প্রশ্ন করা হবে। উত্তর দেওয়ার সুযোগ থাকবে এবং সমালোচনার জায়গা থাকবে।

এ আরাফাত বলেন, প্রথম কেবিনেট মিটিংয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন অনেক ক্ষেত্রে সমালোচনা হবে, কিছু কিছু সমালোচনা হবে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে, সেগুলো জেনে সুধরে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। তিনি চান সমালোচনা হোক সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার বা সরকারের বিভিন্ন অধিদপ্তর বা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কাজ নিয়ে যদি কোনো বিচ্যুতি বা ব্যর্থতা থাকে অবশ্যই সমালোচনা হবে এবং সেটা যদি প্রথম পাতায় প্রিন্ট মিডিয়া বা ইলেক্টনিক মিডিয়াতে হেডলাইনে থাকে তাহলে সরকারের সেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা ব্যক্তিবর্গ যে জবাব দিবেন সেই জবাবগুলো যাতে একইভাবে গুরুত্বসহকারে মিডিয়াতে আসে; যেন জনগণ একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে। কারণ গণতন্ত্রে কিন্তু মানুষকে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হয় এবং ইনফর্ম ডিসিশন নিতে হয়।

এ আরাফাত বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে এক ধরনের অপচেষ্টা চলে। গত ১৫ বছরে গণমাধ্যমের যে বিস্তৃতি ঘটেছে সেখানে কীভাবে প্রতিষ্ঠান দাঁড় করানো যায় এবং শৃঙ্খলা আনা যায় সেই চেষ্টা করতে হবে। প্রথমেই সতর্ক থাকতে হবে, আমরা যেমন মিসইনফরমেশনকে নির্মূল করতে চাই, অপতথ্যকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে চাই কিন্তু সেটি করতে যেয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সেখানে যেন ওভারস্টেপ না হয়। তবে দেশ, জাতীয় পতাকা, জাতীয় সংগীত, মুক্তিযুদ্ধ এবং ত্রিশ লক্ষ শহীদদের নিয়ে কোনো বিতর্ক থাকতে পারে না। এগুলো দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড।

তিনি মনে করেন, আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে সমালোচনার স্পেস রেখে কীভাবে একসাথে কাজ করা যায়, সেই চেষ্টা থাকবে।

যে জিনিসটা আসলে কোনো কল্যাণে আসে না আমাদের বৃহত্তর স্বার্থে বরং হয় তো একটা গোষ্ঠীর ক্ষুদ্র স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের এজেন্ডাভিত্তিক কিছু ঘটনা ঘটে যায়। অনেক সময় গণমাধ্যমের ঘাড়ে চেপে বিষয়গুলো ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়। সেক্ষেত্রে আমরা সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে কীভাবে রোধ করতে পারি এ রকম চেষ্টা করা- বলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সরকার বা সরকারের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট বা মন্ত্রণালয় বা বিভিন্ন কাজ নিয়ে যদি কোনো বিচ্যুতি ব্যর্থতা থাকে অবশ্যই সমালোচনা হবে এবং সেটা যদি প্রথম পাতায় হেডলাইনে আসে প্রিন্ট মিডিয়া হোক বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায়, তাহলে সরকারের সেই কনসার্ন মন্ত্রণালয় বা ব্যক্তিবর্গ যখন জবাব দেবে সেই জবাবগুলো যেন গুরুত্বসহকারে প্রচার করা হয়। যেন জনগণ দুই ধরনের ভিউ থেকে একটা সিদ্ধান্ত পৌঁছাতে পারে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

কেরাণীগঞ্জে অটোরিকশাচালককে হত্যার দায়ে ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড

অপতথ্যকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে চায় সরকার : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৩:২৯:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেন, সঠিক তথ্যের ওপর সমালোচনা হলে সরকার তা থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যাবে। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে যারা অপপ্রচার চালায়, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মালিকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব টিভি চ্যানেল ওনার্স (এটকো) নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন তিনি।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, অপতথ্যকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে চায় সরকার। সেই সঙ্গে সবার জন্য মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে। গণতন্ত্রের স্বার্থে সরকার তথ্যের অবাধ স্বাধীনতা চায়।

অপতথ্য ও গুজবমুক্ত গণমাধ্যম গড়ে তুলতে বেসরকারি টেলিভিশনগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, উদ্দেশ্যমূলক ভুলতথ্য দিয়ে জাতিতে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করলে তা রুখে দিতে হবে।

মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেছেন, আমরা গণমাধ্যমের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা চাই। অপতথ্যকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে চাই। আমরা দিন শেষে চাই গুজব বা রিউমারমুক্ত গণমাধ্যম। যেখানে তথ্যের অবাধ প্রবাহ থাকবে এবং সরকার বা অথরিটিকে অবশ্যই প্রশ্ন করা হবে। উত্তর দেওয়ার সুযোগ থাকবে এবং সমালোচনার জায়গা থাকবে।

এ আরাফাত বলেন, প্রথম কেবিনেট মিটিংয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন অনেক ক্ষেত্রে সমালোচনা হবে, কিছু কিছু সমালোচনা হবে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে, সেগুলো জেনে সুধরে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। তিনি চান সমালোচনা হোক সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার বা সরকারের বিভিন্ন অধিদপ্তর বা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কাজ নিয়ে যদি কোনো বিচ্যুতি বা ব্যর্থতা থাকে অবশ্যই সমালোচনা হবে এবং সেটা যদি প্রথম পাতায় প্রিন্ট মিডিয়া বা ইলেক্টনিক মিডিয়াতে হেডলাইনে থাকে তাহলে সরকারের সেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা ব্যক্তিবর্গ যে জবাব দিবেন সেই জবাবগুলো যাতে একইভাবে গুরুত্বসহকারে মিডিয়াতে আসে; যেন জনগণ একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে। কারণ গণতন্ত্রে কিন্তু মানুষকে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হয় এবং ইনফর্ম ডিসিশন নিতে হয়।

এ আরাফাত বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে এক ধরনের অপচেষ্টা চলে। গত ১৫ বছরে গণমাধ্যমের যে বিস্তৃতি ঘটেছে সেখানে কীভাবে প্রতিষ্ঠান দাঁড় করানো যায় এবং শৃঙ্খলা আনা যায় সেই চেষ্টা করতে হবে। প্রথমেই সতর্ক থাকতে হবে, আমরা যেমন মিসইনফরমেশনকে নির্মূল করতে চাই, অপতথ্যকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে চাই কিন্তু সেটি করতে যেয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সেখানে যেন ওভারস্টেপ না হয়। তবে দেশ, জাতীয় পতাকা, জাতীয় সংগীত, মুক্তিযুদ্ধ এবং ত্রিশ লক্ষ শহীদদের নিয়ে কোনো বিতর্ক থাকতে পারে না। এগুলো দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড।

তিনি মনে করেন, আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে সমালোচনার স্পেস রেখে কীভাবে একসাথে কাজ করা যায়, সেই চেষ্টা থাকবে।

যে জিনিসটা আসলে কোনো কল্যাণে আসে না আমাদের বৃহত্তর স্বার্থে বরং হয় তো একটা গোষ্ঠীর ক্ষুদ্র স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের এজেন্ডাভিত্তিক কিছু ঘটনা ঘটে যায়। অনেক সময় গণমাধ্যমের ঘাড়ে চেপে বিষয়গুলো ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়। সেক্ষেত্রে আমরা সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে কীভাবে রোধ করতে পারি এ রকম চেষ্টা করা- বলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সরকার বা সরকারের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট বা মন্ত্রণালয় বা বিভিন্ন কাজ নিয়ে যদি কোনো বিচ্যুতি ব্যর্থতা থাকে অবশ্যই সমালোচনা হবে এবং সেটা যদি প্রথম পাতায় হেডলাইনে আসে প্রিন্ট মিডিয়া হোক বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায়, তাহলে সরকারের সেই কনসার্ন মন্ত্রণালয় বা ব্যক্তিবর্গ যখন জবাব দেবে সেই জবাবগুলো যেন গুরুত্বসহকারে প্রচার করা হয়। যেন জনগণ দুই ধরনের ভিউ থেকে একটা সিদ্ধান্ত পৌঁছাতে পারে।