টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি :
টাঙ্গাইলের দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও টাঙ্গাইল সদর থানা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম ফারুক হত্যা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এই মামলায় একজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের এক লাখ টাকা করে ও যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তদের ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ফয়সাল আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন। মামলাটি দায়েরের প্রায় ১৩ বছর পর এ রায় দেওয়া হলো।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- টাঙ্গাইলের প্রভাবশালী খান পরিবারের ছোট ছেলে তৎকালীণ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা (৩০), টাঙ্গাইল সদর থানার কাগমারা এলাকার আফজাল ফকিরের ছেলে মো. আজাদ (২৫) ও দাইন্যা ইউনিয়নের শ্রীফলিয়াটা গ্রামের সহিদ মিয়ার ছেলে শাহজাহান মিয়া (৩১)। তারা সবাই পলাতক রয়েছেন।
যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- টাঙ্গাইল সদর থানার কাঠোয়া যোগনী গ্রামের আব্দুল লতিফ মিয়ার ছেলে মো. সুজন (৩২), শ্রীফলিয়াটা গ্রামের রওশন আলীর ছেলে সানোয়ার হোসেন (৩৪), উত্তর কাইয়ামারা নদীর পাড় (চর পাড়া) গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে শফিকুল ইসলাম শফিক (২৫) ও ছিটকী বাড়ি গ্রামের নুর বক্সের ছেলে রুজবেল ওরফে ইমন।
তাদের মধ্যে শফিক ও রুজবেল পলাতক রয়েছেন। রায়ে সঞ্জিত ঘোষ (২৬) নামে এক আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। সঞ্জিত ঘোষ টাঙ্গাইল সদর থানার দাইন্যা চৌধুরী গ্রামের অমূল্য ঘোষের ছেলে। তিনি আদালতে হাজির ছিলেন।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. সাইদুল রহমান স্বপন জানান, রফিকুল ইসলাম ফারুক টাঙ্গাইল শহরে আকুরটাকুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর ভোরে তিনি বাসা থেকে হাটতে বের হন। এসময় আকুরটাকুর বটতলা বাজার এলাকায় পৌঁছালে একদল সন্ত্রাসী তাকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনার পরদিন তার ছোট ভাই লাভলু মিয়া বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী লাভলু মিয়া। পরে আদালতের নির্দেশে সিআইডি মামলাটি পুনরায় তদন্তের দায়িত্ব পায়। তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল টাঙ্গাইল সিআইডি আবার অভিযোগপত্র জমা দেন। এ অভিযোগপত্রেও আগের আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। পরে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলাটির অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচারিক কাজ শুরু হয়।
মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, রফিকুল ইসলাম ফারুক টাঙ্গাইল শহরের আকুরটাকুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তিনি প্রাতঃভ্রমণে বের হন। আকুরটাকুর বটতলা বাজার এলাকায় পৌঁছালে একদল সন্ত্রাসী তাকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় পরদিন ফারুকের ছোট ভাই লাভলু মিয়া বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।
তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তৎকালীন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অশোক কুমার সিংহ। তবে গোয়েন্দা পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী লাভলু মিয়া।
পরে আদালতের নির্দেশে মামলাটির পুনঃতদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল টাঙ্গাইল সিআইডির পরিদর্শক রফিক উদ্দিন আহম্মেদ আবারও অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ওই অভিযোগপত্রেও আগের আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।
পরে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে সোমবার আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি 






















