সবকিছুর সমালোচনা না করে সরকারকে সহযোগিতা করা উচিত : অতিরিক্ত প্রেস সচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক : 
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, লাখ লাখ কোটি টাকার বৈদেশিক ঋণের বোঝা নিয়ে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। এই ঋণের বোঝা শুধু বর্তমান প্রজন্ম নয়, ভবিষ্যতে জন্ম নেওয়া শিশুকেও বহন করতে হবে। এ অবস্থায় সরকারকে সহযোগিতা করে একটি সুন্দর ও ‘ক্লিন বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারের গত এক মাসের কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
আতিকুর রহমান রুমন বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই সবকিছুর সমালোচনা না করে একবার চিন্তা করা উচিত—বিগত সরকার দেশের ওপর কী পরিমাণ বৈদেশিক ঋণের বোঝা রেখে গেছে। এই ঋণের দায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও বহন করতে হবে। তাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট থাকলেও সরকারের আরও কিছুটা সময় প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন উল্লেখ করে অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেই সংবাদপত্র জগতের মানুষ ছিলেন। তিনি একটি স্বনামধন্য জাতীয় দৈনিকের প্রকাশক ছিলেন, যা বিগত সরকার বন্ধ করে দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দুদিন আগেও তিনি ওই পত্রিকার প্রকাশকের দায়িত্বে ছিলেন। যারা সমালোচনা করছেন, তাদের মনে রাখা উচিত-প্রধানমন্ত্রী সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় সর্বোচ্চ বিশ্বাসী। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, যা খুশি তাই লিখে তাকে বিব্রত করা যাবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গবেষণামূলক কাজের প্রশংসা করে আতিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অনেক আগে থেকেই তিনি বনানীর কার্যালয়ে বসে দেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গভীর গবেষণা করতেন। আজও তাঁর কাছে এসব ফাইল সংরক্ষিত আছে। তাকে প্রশ্ন করলে তিনি মুখস্থ বলে দিতে পারবেন-দেশের কোন থানার কোন এলাকায় কী হয়, কোথায় কৃষি ভালো হয়, কোথায় পরিত্যক্ত পুকুর আছে বা কোথায় মাছ চাষ ভালো হয়। দেশের সব খবর তার নখদর্পণে।
দেশবাসীর প্রতি ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে আতিকুর রহমান রুম্মন বলেন, বিগত সরকার হাজার হাজার কোটি টাকার বিদেশি ঋণ আমাদের মাথার ওপর চাপিয়ে গেছে। কাল যে শিশুটি জন্ম নেবে, সেও ঋণের বোঝা নিয়ে জন্মাবে। সরকার গঠনের মাত্র ছয়-সাত মাস পার হতে না হতেই আমরা সরকারকে চেপে ধরেছি। আমাদের আরও কিছুটা ধৈর্য ধরা উচিত।
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় মানুষ গ্যাস পাচ্ছিল না, বিদ্যুৎ সংকটও দেখা দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছেন এবং ব্যবস্থা করেই ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি চাইলে গ্যাসের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘোষণা দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে পরদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় দিয়েছিলেন।
রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শুধু ঘোষণা দিয়েই থেমে থাকেননি; গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য মনিটরিং সেলও করা হয়েছে। কোন এলাকায় কতটুকু গ্যাসের চাপ যাচ্ছে এবং মানুষ কী পরিমাণ গ্যাস পাচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট। তাই জনগণের উচিত তাকে সহযোগিতা করা। সবাই সহযোগিতা করলে একটি সুন্দর, সুসজ্জিত ও সফল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
বিগত সরকারের রেখে যাওয়া বিপুল বিদেশি ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে বর্তমান সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে দেশবাসীকে আরও কিছুটা ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুম্মন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু পত্রিকায় গুজব ছড়িয়ে বর্তমান সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা চলছে।
পাশের দেশের কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী ও সাংবাদিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ছড়াচ্ছেন দাবি করে আতিকুর রহমান বলেন, ‘আজ সকালে ফেসবুকে দেখলাম, আমাদের দেশের একটি জীর্ণশীর্ণ মন্দির সংস্কারের জন্য ভাঙা হচ্ছে। কিন্তু পাশের দেশের কিছু লোক ভিডিও বানিয়ে বিকৃতভাবে প্রচার করছে যে, সরকার মন্দির ভেঙে দিচ্ছে। অথচ ওই মন্দিরের সংস্কারকাজে সরকার সহায়তা করছে এবং মন্দিরটির কর্মীরাই ভিডিওতে বলেছেন, সংস্কারের জন্যই সেটি ভাঙা হচ্ছে।
আতিকুর রহমান রুম্মন আক্ষেপ করে বলেন, শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার সময় দেখেছি, তার সঙ্গে আমাদের সংবাদপত্র জগতের কিছু লোকও পালিয়েছে। দীর্ঘ ৩৩ বছর সাংবাদিকতা করছি, কিন্তু সাংবাদিক পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম দেখলাম। সম্প্রতি কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পত্রিকায় বিভিন্ন ধরনের চাটুকারিতা দিয়ে এটা-সেটা বানিয়ে সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগও করেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব। তিনি বলেন, সম্প্রতি একটি পুরোনো মন্দির সংস্কারের জন্য ভেঙে ফেলার ঘটনাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিকৃতভাবে প্রচার করা হয়েছে। পরে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিনের পুরোনো মন্দিরটি যেকোনো সময় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলেই সংস্কারের জন্য সেটি ভাঙা হচ্ছিল। অথচ কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকর্মী বিষয়টি এমনভাবে প্রচার করেছেন, যেন সরকার মন্দিরটি ভেঙে ফেলছে।
রুমন বলেন, বাংলাদেশেও কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ‘জোড়াতালি’ দিয়ে তথ্য তৈরি করে সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে সবাইকে তিনি দোষারোপ করছেন না। কারণ, তিনিও সাংবাদিকতার মানুষ এবং ১৯৯৩ সাল থেকে এ পেশার সঙ্গে যুক্ত।
প্রধানমন্ত্রীর সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাসের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দুই দিন আগ পর্যন্ত একটি জাতীয় দৈনিকের মালিক ও প্রকাশক ছিলেন। বিগত সরকার তার দেশত্যাগের ছয় মাস আগে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে পত্রিকাটি বন্ধ করে দিয়েছিল। এতে বহু সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী বেকার হয়ে পড়েছিলেন।
তারেক রহমানের গবেষণামূলক কাজের প্রসঙ্গ তুলে রুমন বলেন, প্রায় ১৭-১৮ বছর আগে বনানীর একটি কার্যালয়ে তিনি গবেষণামূলক কাজ করতেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার কৃষি, ফসল, মাছ চাষ, পরিত্যক্ত পুকুরসহ নানা বিষয়ে সেখানে তথ্য সংগ্রহ করা হতো। ওই সময়কার ফাইলগুলো এখনো প্রধানমন্ত্রীর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, তখন দেখেছি আপনাদের অনেকে সেখানে ঢুকতে পারতেন। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ছিলেন।
তিনি বলেন, ইঞ্জিনিয়ার বকুল তখনও আমাদের সংসদ সদস্য (এমপি) ছিলেন। তিনি অনলাইনে বলছিলেন, তাঁর এলাকায় এই আছে, ওই আছে, এই সমস্যা, ওই সমস্যা।
তখন তারেক রহমান তাঁকে থামিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, আপনার এলাকা কোনটা। নরসিংদী উত্তর শুনে তারেক রহমান ফাইল বের করে তাঁকে প্রশ্ন করা শুরু করেন।
তিনি তাঁকে বলেন, আপনার এলাকায় এগুলো আছে, ওই আছে। আপনার এলাকায় এই জায়গা উর্বর,  ওই জায়গাতে এই জিনিস হয়।  এসব কিন্তু এই বনানীর কার্যালয়ে বসেই তিনি করেছেন।
আতিকুর রহমান রুমন বলেন, বিগত সরকার কয়েক লাখ কোটি টাকা বিদেশী ঋণ চাপিয়ে গেছে বর্তমান সরকারের ওপর। কালকে যে শিশু জন্মগ্রহণ করবে সে ঋণের বোঝা নিয়ে জন্মগ্রহণ করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবসময় সচেষ্ট আছেন মানুষের উন্নয়নে। তাই আমাদের ধৈর্য ধরা উচিত।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ গ্যাসের সংকটে ছিলেন, বিদ্যুতের সমস্যায় ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী এগুলোর ব্যবস্থা করেই ঘোষণা দিয়েছেন। আগামীকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় দিয়েছেন সমাধানের। মনিটরিং সেল করেছেন। আমাদের কর্মীরা, আমরা কাজ করছি এগুলো নিয়ে।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, তাই আমরা সরকারকে সহযোগিতা করলে একটি সুন্দর, সুফলা বাংলাদেশ গড়তে পারবো। আসুন,  আমাদের বাংলাদেশ নতুনভাবে গড়তে আমরা সবাই মিলে কাজ করি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমরা যে যতটুকু পারি নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতা করি।
সবশেষে রুমন বলেন, ‘আসুন, আমাদের বাংলাদেশ গড়তে আমরা সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করি এবং একটি ক্লিন বাংলাদেশ গড়তে জনাব তারেক রহমানকে আমরা যে যতটুকু পারি সহযোগিতা করি।’
সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন এবং প্রেস সচিব সালেহ শিবলী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার এস এ এম মাহফুজুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির (বিটু) এবং প্রেস উইংয়ের সদস্যবৃন্দ।
জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

ফরিদপুরে হত্যা মামলায় চারজনের যাবজ্জীবন

সবকিছুর সমালোচনা না করে সরকারকে সহযোগিতা করা উচিত : অতিরিক্ত প্রেস সচিব

প্রকাশের সময় : ০৮:১৬:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক : 
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, লাখ লাখ কোটি টাকার বৈদেশিক ঋণের বোঝা নিয়ে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। এই ঋণের বোঝা শুধু বর্তমান প্রজন্ম নয়, ভবিষ্যতে জন্ম নেওয়া শিশুকেও বহন করতে হবে। এ অবস্থায় সরকারকে সহযোগিতা করে একটি সুন্দর ও ‘ক্লিন বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারের গত এক মাসের কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
আতিকুর রহমান রুমন বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই সবকিছুর সমালোচনা না করে একবার চিন্তা করা উচিত—বিগত সরকার দেশের ওপর কী পরিমাণ বৈদেশিক ঋণের বোঝা রেখে গেছে। এই ঋণের দায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও বহন করতে হবে। তাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট থাকলেও সরকারের আরও কিছুটা সময় প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন উল্লেখ করে অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেই সংবাদপত্র জগতের মানুষ ছিলেন। তিনি একটি স্বনামধন্য জাতীয় দৈনিকের প্রকাশক ছিলেন, যা বিগত সরকার বন্ধ করে দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দুদিন আগেও তিনি ওই পত্রিকার প্রকাশকের দায়িত্বে ছিলেন। যারা সমালোচনা করছেন, তাদের মনে রাখা উচিত-প্রধানমন্ত্রী সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় সর্বোচ্চ বিশ্বাসী। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, যা খুশি তাই লিখে তাকে বিব্রত করা যাবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গবেষণামূলক কাজের প্রশংসা করে আতিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অনেক আগে থেকেই তিনি বনানীর কার্যালয়ে বসে দেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গভীর গবেষণা করতেন। আজও তাঁর কাছে এসব ফাইল সংরক্ষিত আছে। তাকে প্রশ্ন করলে তিনি মুখস্থ বলে দিতে পারবেন-দেশের কোন থানার কোন এলাকায় কী হয়, কোথায় কৃষি ভালো হয়, কোথায় পরিত্যক্ত পুকুর আছে বা কোথায় মাছ চাষ ভালো হয়। দেশের সব খবর তার নখদর্পণে।
দেশবাসীর প্রতি ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে আতিকুর রহমান রুম্মন বলেন, বিগত সরকার হাজার হাজার কোটি টাকার বিদেশি ঋণ আমাদের মাথার ওপর চাপিয়ে গেছে। কাল যে শিশুটি জন্ম নেবে, সেও ঋণের বোঝা নিয়ে জন্মাবে। সরকার গঠনের মাত্র ছয়-সাত মাস পার হতে না হতেই আমরা সরকারকে চেপে ধরেছি। আমাদের আরও কিছুটা ধৈর্য ধরা উচিত।
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় মানুষ গ্যাস পাচ্ছিল না, বিদ্যুৎ সংকটও দেখা দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছেন এবং ব্যবস্থা করেই ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি চাইলে গ্যাসের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘোষণা দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে পরদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় দিয়েছিলেন।
রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শুধু ঘোষণা দিয়েই থেমে থাকেননি; গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য মনিটরিং সেলও করা হয়েছে। কোন এলাকায় কতটুকু গ্যাসের চাপ যাচ্ছে এবং মানুষ কী পরিমাণ গ্যাস পাচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট। তাই জনগণের উচিত তাকে সহযোগিতা করা। সবাই সহযোগিতা করলে একটি সুন্দর, সুসজ্জিত ও সফল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
বিগত সরকারের রেখে যাওয়া বিপুল বিদেশি ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে বর্তমান সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে দেশবাসীকে আরও কিছুটা ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুম্মন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু পত্রিকায় গুজব ছড়িয়ে বর্তমান সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা চলছে।
পাশের দেশের কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী ও সাংবাদিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ছড়াচ্ছেন দাবি করে আতিকুর রহমান বলেন, ‘আজ সকালে ফেসবুকে দেখলাম, আমাদের দেশের একটি জীর্ণশীর্ণ মন্দির সংস্কারের জন্য ভাঙা হচ্ছে। কিন্তু পাশের দেশের কিছু লোক ভিডিও বানিয়ে বিকৃতভাবে প্রচার করছে যে, সরকার মন্দির ভেঙে দিচ্ছে। অথচ ওই মন্দিরের সংস্কারকাজে সরকার সহায়তা করছে এবং মন্দিরটির কর্মীরাই ভিডিওতে বলেছেন, সংস্কারের জন্যই সেটি ভাঙা হচ্ছে।
আতিকুর রহমান রুম্মন আক্ষেপ করে বলেন, শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার সময় দেখেছি, তার সঙ্গে আমাদের সংবাদপত্র জগতের কিছু লোকও পালিয়েছে। দীর্ঘ ৩৩ বছর সাংবাদিকতা করছি, কিন্তু সাংবাদিক পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম দেখলাম। সম্প্রতি কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পত্রিকায় বিভিন্ন ধরনের চাটুকারিতা দিয়ে এটা-সেটা বানিয়ে সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগও করেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব। তিনি বলেন, সম্প্রতি একটি পুরোনো মন্দির সংস্কারের জন্য ভেঙে ফেলার ঘটনাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিকৃতভাবে প্রচার করা হয়েছে। পরে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিনের পুরোনো মন্দিরটি যেকোনো সময় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলেই সংস্কারের জন্য সেটি ভাঙা হচ্ছিল। অথচ কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকর্মী বিষয়টি এমনভাবে প্রচার করেছেন, যেন সরকার মন্দিরটি ভেঙে ফেলছে।
রুমন বলেন, বাংলাদেশেও কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ‘জোড়াতালি’ দিয়ে তথ্য তৈরি করে সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে সবাইকে তিনি দোষারোপ করছেন না। কারণ, তিনিও সাংবাদিকতার মানুষ এবং ১৯৯৩ সাল থেকে এ পেশার সঙ্গে যুক্ত।
প্রধানমন্ত্রীর সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাসের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দুই দিন আগ পর্যন্ত একটি জাতীয় দৈনিকের মালিক ও প্রকাশক ছিলেন। বিগত সরকার তার দেশত্যাগের ছয় মাস আগে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে পত্রিকাটি বন্ধ করে দিয়েছিল। এতে বহু সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী বেকার হয়ে পড়েছিলেন।
তারেক রহমানের গবেষণামূলক কাজের প্রসঙ্গ তুলে রুমন বলেন, প্রায় ১৭-১৮ বছর আগে বনানীর একটি কার্যালয়ে তিনি গবেষণামূলক কাজ করতেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার কৃষি, ফসল, মাছ চাষ, পরিত্যক্ত পুকুরসহ নানা বিষয়ে সেখানে তথ্য সংগ্রহ করা হতো। ওই সময়কার ফাইলগুলো এখনো প্রধানমন্ত্রীর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, তখন দেখেছি আপনাদের অনেকে সেখানে ঢুকতে পারতেন। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ছিলেন।
তিনি বলেন, ইঞ্জিনিয়ার বকুল তখনও আমাদের সংসদ সদস্য (এমপি) ছিলেন। তিনি অনলাইনে বলছিলেন, তাঁর এলাকায় এই আছে, ওই আছে, এই সমস্যা, ওই সমস্যা।
তখন তারেক রহমান তাঁকে থামিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, আপনার এলাকা কোনটা। নরসিংদী উত্তর শুনে তারেক রহমান ফাইল বের করে তাঁকে প্রশ্ন করা শুরু করেন।
তিনি তাঁকে বলেন, আপনার এলাকায় এগুলো আছে, ওই আছে। আপনার এলাকায় এই জায়গা উর্বর,  ওই জায়গাতে এই জিনিস হয়।  এসব কিন্তু এই বনানীর কার্যালয়ে বসেই তিনি করেছেন।
আতিকুর রহমান রুমন বলেন, বিগত সরকার কয়েক লাখ কোটি টাকা বিদেশী ঋণ চাপিয়ে গেছে বর্তমান সরকারের ওপর। কালকে যে শিশু জন্মগ্রহণ করবে সে ঋণের বোঝা নিয়ে জন্মগ্রহণ করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবসময় সচেষ্ট আছেন মানুষের উন্নয়নে। তাই আমাদের ধৈর্য ধরা উচিত।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ গ্যাসের সংকটে ছিলেন, বিদ্যুতের সমস্যায় ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী এগুলোর ব্যবস্থা করেই ঘোষণা দিয়েছেন। আগামীকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় দিয়েছেন সমাধানের। মনিটরিং সেল করেছেন। আমাদের কর্মীরা, আমরা কাজ করছি এগুলো নিয়ে।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, তাই আমরা সরকারকে সহযোগিতা করলে একটি সুন্দর, সুফলা বাংলাদেশ গড়তে পারবো। আসুন,  আমাদের বাংলাদেশ নতুনভাবে গড়তে আমরা সবাই মিলে কাজ করি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমরা যে যতটুকু পারি নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতা করি।
সবশেষে রুমন বলেন, ‘আসুন, আমাদের বাংলাদেশ গড়তে আমরা সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করি এবং একটি ক্লিন বাংলাদেশ গড়তে জনাব তারেক রহমানকে আমরা যে যতটুকু পারি সহযোগিতা করি।’
সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন এবং প্রেস সচিব সালেহ শিবলী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার এস এ এম মাহফুজুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির (বিটু) এবং প্রেস উইংয়ের সদস্যবৃন্দ।