নিরপরাধ বিডিআর সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি, পুনর্বহালের সুযোগ নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০৬:৪৮:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৯০ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

কোনও নিরপরাধ বিডিআর সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, এ কারণে চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের চাকরিতে পুনর্বহালের সুযোগ নেই।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল ওয়ারেছের লিখিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এদিন প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

সংসদ সদস্য মো. আব্দুল ওয়ারেছ জানতে চান, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআরের একটি বিদ্রোহী গ্রুপ কর্তৃক সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচারে নিরাপরাধ যেসব বিডিআর সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তাদের আবার বিজিবিতে চাকরি দেওয়া হবে কিনা?

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বিদ্রোহ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন বিডিআরের আইন ও বিধি অনুযায়ী গঠিত বিভাগীয় স্পেশাল কোর্ট এবং প্রশাসনিক বিচার ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট বিডিআর সদস্যদের বিভিন্ন ইউনিট কর্তৃক গঠিত তদন্ত পর্ষদের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়।

তিনি বলেন, ৬ হাজার ২৮৬ জন বিডিআর সদস্যকে চাকরি থেকে বরখাস্ত (বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডসহ) এবং প্রশাসনিক বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে ২ হাজার ৫১০ জন বিডিআর সদস্যকে পেনশন সুবিধাসহ চাকরি থেকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর’ প্রদান করা হয়েছে। অর্থাৎ সর্বমোট ৮ হাজার ৭৯৬ জন বিডিআর সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, বর্ণিত শাস্তি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণে বিচার করে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্তান্তে প্রদান করা হয়েছে এবং কোনও নিরাপরাধ বিডিআর সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি বিধায় বর্ণিত চাকরিচ্যুত সদস্যদের চাকরিতে পুনর্বহালের সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের মধ্য থেকে ৮৫০ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা এবং ৮৩৪ জনের বিরুদ্ধে একটি বিস্ফোরক মামলা দায়ের করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হত্যা মামলায় নিম্ন আদালত কর্তৃক অভিযুক্ত বিডিআর সদস্যগণকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়েছে, যার দরুন বর্তমানে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল চলমান রয়েছে।

এ ছাড়া বিস্ফোরক মামলায় ৮৩৪ জন বিডিআর সদস্যের বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতে বর্তমানে বিচারকার্য চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি। এমতাবস্থায়, বর্ণিত বিডিআর সদস্যদের বিরুদ্ধে হত্যা ও বিস্ফোরক মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলমান থাকায় উক্ত মামলাদ্বয়ে আসামিভুক্ত চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের চাকরিতে পুনর্বহালের সুযোগ নেই বলে জানান তিনি।

নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফজলে হুদার লিখিত এক প্রশ্নে জানতে চান, বিডিআর বিদ্রোহে সাজাপ্রাপ্ত অনেক সদস্য সাজা ভোগ করে বের হওয়ার পরও আওয়ামী লীগ আমলের মামলায় হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এ ধরনের হয়রানি বন্ধে মন্ত্রণালয় সুনির্দিষ্ট কোনও পদক্ষেপ নেবে কি না এবং সাজা শেষ হওয়া বিডিআর বিদ্রোহে সাজাপ্রাপ্তদের দ্রুত খালাসের পরিকল্পনা আছে কি না।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিডিআর বিদ্রোহ সংক্রান্ত মামলাসমূহ ইতোমধ্যে বিজ্ঞ আদালতের সুনির্দিষ্ট বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রচলিত আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি সাজা ভোগ করার পর তার বিরুদ্ধে নতুন কোনো মামলা থাকলে তা যথাযথ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শুধুমাত্র পরিচয়, পূর্ববর্তী সাজা বা রাজনৈতিক বিবেচনার ভিত্তিতে কেউ যেন কোনো প্রকার অযথা হয়রানির শিকার না হয়, সে লক্ষ্যে পুলিশকে স্পষ্ট ও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি আইনবহির্ভূত বা উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়রানি, মিথ্যা মামলা কিংবা কোনো অযৌক্তিক পরিস্থিতির সম্মুখীন হন, তবে সেই সংক্রান্ত প্রাপ্ত অভিযোগের সত্যতা ও বস্তুনিষ্ঠতা নিবিড়ভাবে যাচাই করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিডিআর বিদ্রোহে সাজাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তির সাজা ভোগ শেষ হলে তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকলে যথাযথ পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি কারাগার থেকে খালাস প্রাপ্ত হন।

অন্যদিকে গাইবান্ধা-৫ সংসদ সদস্য মো. আব্দুল ওয়ারেছ জানতে চান, ২০০৯ সালে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআরের একটি বিদ্রোহী গ্রুপ কর্তৃক সংগঠিত হত্যাকাণ্ডের বিচারে নিরাপরাধ যেসব বিডিআর সদস্যদের চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে তাদেরকে আবার বিজিবিতে চাকুরি দেওয়া হবে কিনা?

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কোনো নিরাপরাধ বিডিআর সদস্যকে চাকুরিচ্যুত করা হয়নি, বিধায় বর্ণিত চাকুরিচ্যুত সদস্যদের চাকুরিতে পুনর্বহালের সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারিতে পিলখানায় সংঘটিত বিদ্রোহ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন বিডিআরের আইন/বিধি মোতাবেক গঠিত বিভাগীয় স্পেশাল কোর্টের মাধ্যমে ও প্রশাসনিক বিচার ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট বিডিআর সদস্যদের বিভিন্ন ইউনিট কর্তৃক গঠিত তদন্ত পর্ষদের মাধ্যমে শনাক্তকরণ শেষে ৬ হাজার ২৮৬ জন বিডিআর সদস্যকে চাকুরি থেকে বরখাস্ত (বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডসহ) এবং প্রশাসনিক বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে ২ হাজার ৫১০ জন বিডিআর সদস্যকে পেনশন সুবিধাসহ চাকুরি থেকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর’ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ সর্বমোট ৮ হাজার ৭৯৬ জন বিডিআর সদস্যকে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে। বর্ণিত শাস্তি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণে বিচারের মাধ্যমে সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত করার পরে দেওয়া হয়েছে। কোনো নিরাপরাধ বিডিআর সদস্যকে চাকুরিচ্যুত করা হয়নি। বিধায় বর্ণিত চাকুরিচ্যুত সদস্যদের চাকুরিতে পুনর্বহালের সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে বর্ণিত চাকুরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের মধ্য থেকে ৮৫০ জন সদস্যের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা এবং ৮৩৪ জন সদস্যের বিরুদ্ধে একটি বিস্ফোরক মামলা দায়ের করা হয়।

বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের (ঢাকা-৫) লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুরো ঢাকা শহরকে সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থার আওতায় আনতে নেওয়া প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পুনর্গঠন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, যাচাই কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রকল্পটির ডিপিপি বর্তমানে পুনর্গঠন করা হচ্ছে। প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) অনুমোদন করলে পুরো ঢাকা মহানগর এলাকাকে সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থার আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ডেভেলপমেন্ট অব স্মার্ট পুলিশিং ইন ডিএমপি’ শীর্ষক প্রকল্পটি পুরো ঢাকা শহরকে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনার লক্ষ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অনুমোদন না পাওয়া নতুন প্রকল্পের তালিকায় রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রকল্পটির প্রাথমিক ডিপিপি নিয়ে ২০২৬ সালের ২৪ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের সভাপতিত্বে যাচাই কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রী বলেন, ‘যাচাই কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডিপিপিটি বর্তমানে পুনর্গঠন করা হচ্ছে।’

কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের স্বতন্ত্র সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের অন্য এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডকে আধুনিকায়ন এবং এর কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা বাড়াতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্থানীয় ডকইয়ার্ডে পাঁচটি নতুন ইনশোর প্যাট্রোল ভেসেল (আইপিভি) নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে সরকার।

তিনি বলেন, একই সঙ্গে কোস্ট গার্ডের গবেষণা ও উদ্ভাবন সক্ষমতা বাড়াতে কোস্ট গার্ড রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (সিআরডিসি) প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম চলছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোস্টাল সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম (সিএসএস) প্রতিষ্ঠার কার্যক্রমও চলছে। এর মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন, পরিচালনাগত সমস্যা মোকাবিলা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করবে।

মহিলা আসন-৪৯ এর স্বতন্ত্র সদস্য সুলতানা জেসমিনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১ কোটি ৫৫ লাখ ইয়াবা ট্যাবলেট, ২৯ কেজি ক্রিস্টাল মেথামফেটামিন (আইস), ৯ দশমিক ৫ কেজি হেরোইন, ১ কেজি আফিম, ১৪ বোতল এলএসডি, ২৬ হাজার ৪৭৪ বোতল ফেনসিডিল, ১১ হাজার ৭০৭ কেজি গাঁজা এবং ৫৭ হাজার ৪৬৯ বোতল বিদেশি মদ ও বিয়ার জব্দ করেছে।

তিনি বলেন, চলতি বছরে এসব অভিযানে ১ হাজার ২১৯ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, থার্মাল ক্যামেরা ও ড্রোনের মাধ্যমে আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা ব্যবহার করে ভারত-মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে দেশে মাদক প্রবেশের পথগুলো বন্ধ করার কার্যক্রম চলছে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

শরীয়তপুর-চাঁদপুর সড়কের মেঘনা নদীতে সেতু নির্মাণে আগ্রহী জাপানি প্রতিষ্ঠান

নিরপরাধ বিডিআর সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি, পুনর্বহালের সুযোগ নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৬:৪৮:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

কোনও নিরপরাধ বিডিআর সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, এ কারণে চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের চাকরিতে পুনর্বহালের সুযোগ নেই।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল ওয়ারেছের লিখিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এদিন প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

সংসদ সদস্য মো. আব্দুল ওয়ারেছ জানতে চান, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআরের একটি বিদ্রোহী গ্রুপ কর্তৃক সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচারে নিরাপরাধ যেসব বিডিআর সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তাদের আবার বিজিবিতে চাকরি দেওয়া হবে কিনা?

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বিদ্রোহ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন বিডিআরের আইন ও বিধি অনুযায়ী গঠিত বিভাগীয় স্পেশাল কোর্ট এবং প্রশাসনিক বিচার ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট বিডিআর সদস্যদের বিভিন্ন ইউনিট কর্তৃক গঠিত তদন্ত পর্ষদের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়।

তিনি বলেন, ৬ হাজার ২৮৬ জন বিডিআর সদস্যকে চাকরি থেকে বরখাস্ত (বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডসহ) এবং প্রশাসনিক বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে ২ হাজার ৫১০ জন বিডিআর সদস্যকে পেনশন সুবিধাসহ চাকরি থেকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর’ প্রদান করা হয়েছে। অর্থাৎ সর্বমোট ৮ হাজার ৭৯৬ জন বিডিআর সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, বর্ণিত শাস্তি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণে বিচার করে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্তান্তে প্রদান করা হয়েছে এবং কোনও নিরাপরাধ বিডিআর সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি বিধায় বর্ণিত চাকরিচ্যুত সদস্যদের চাকরিতে পুনর্বহালের সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের মধ্য থেকে ৮৫০ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা এবং ৮৩৪ জনের বিরুদ্ধে একটি বিস্ফোরক মামলা দায়ের করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হত্যা মামলায় নিম্ন আদালত কর্তৃক অভিযুক্ত বিডিআর সদস্যগণকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়েছে, যার দরুন বর্তমানে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল চলমান রয়েছে।

এ ছাড়া বিস্ফোরক মামলায় ৮৩৪ জন বিডিআর সদস্যের বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতে বর্তমানে বিচারকার্য চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি। এমতাবস্থায়, বর্ণিত বিডিআর সদস্যদের বিরুদ্ধে হত্যা ও বিস্ফোরক মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলমান থাকায় উক্ত মামলাদ্বয়ে আসামিভুক্ত চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের চাকরিতে পুনর্বহালের সুযোগ নেই বলে জানান তিনি।

নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফজলে হুদার লিখিত এক প্রশ্নে জানতে চান, বিডিআর বিদ্রোহে সাজাপ্রাপ্ত অনেক সদস্য সাজা ভোগ করে বের হওয়ার পরও আওয়ামী লীগ আমলের মামলায় হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এ ধরনের হয়রানি বন্ধে মন্ত্রণালয় সুনির্দিষ্ট কোনও পদক্ষেপ নেবে কি না এবং সাজা শেষ হওয়া বিডিআর বিদ্রোহে সাজাপ্রাপ্তদের দ্রুত খালাসের পরিকল্পনা আছে কি না।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিডিআর বিদ্রোহ সংক্রান্ত মামলাসমূহ ইতোমধ্যে বিজ্ঞ আদালতের সুনির্দিষ্ট বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রচলিত আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি সাজা ভোগ করার পর তার বিরুদ্ধে নতুন কোনো মামলা থাকলে তা যথাযথ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শুধুমাত্র পরিচয়, পূর্ববর্তী সাজা বা রাজনৈতিক বিবেচনার ভিত্তিতে কেউ যেন কোনো প্রকার অযথা হয়রানির শিকার না হয়, সে লক্ষ্যে পুলিশকে স্পষ্ট ও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি আইনবহির্ভূত বা উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়রানি, মিথ্যা মামলা কিংবা কোনো অযৌক্তিক পরিস্থিতির সম্মুখীন হন, তবে সেই সংক্রান্ত প্রাপ্ত অভিযোগের সত্যতা ও বস্তুনিষ্ঠতা নিবিড়ভাবে যাচাই করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিডিআর বিদ্রোহে সাজাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তির সাজা ভোগ শেষ হলে তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকলে যথাযথ পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি কারাগার থেকে খালাস প্রাপ্ত হন।

অন্যদিকে গাইবান্ধা-৫ সংসদ সদস্য মো. আব্দুল ওয়ারেছ জানতে চান, ২০০৯ সালে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআরের একটি বিদ্রোহী গ্রুপ কর্তৃক সংগঠিত হত্যাকাণ্ডের বিচারে নিরাপরাধ যেসব বিডিআর সদস্যদের চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে তাদেরকে আবার বিজিবিতে চাকুরি দেওয়া হবে কিনা?

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কোনো নিরাপরাধ বিডিআর সদস্যকে চাকুরিচ্যুত করা হয়নি, বিধায় বর্ণিত চাকুরিচ্যুত সদস্যদের চাকুরিতে পুনর্বহালের সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারিতে পিলখানায় সংঘটিত বিদ্রোহ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন বিডিআরের আইন/বিধি মোতাবেক গঠিত বিভাগীয় স্পেশাল কোর্টের মাধ্যমে ও প্রশাসনিক বিচার ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট বিডিআর সদস্যদের বিভিন্ন ইউনিট কর্তৃক গঠিত তদন্ত পর্ষদের মাধ্যমে শনাক্তকরণ শেষে ৬ হাজার ২৮৬ জন বিডিআর সদস্যকে চাকুরি থেকে বরখাস্ত (বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডসহ) এবং প্রশাসনিক বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে ২ হাজার ৫১০ জন বিডিআর সদস্যকে পেনশন সুবিধাসহ চাকুরি থেকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর’ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ সর্বমোট ৮ হাজার ৭৯৬ জন বিডিআর সদস্যকে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে। বর্ণিত শাস্তি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণে বিচারের মাধ্যমে সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত করার পরে দেওয়া হয়েছে। কোনো নিরাপরাধ বিডিআর সদস্যকে চাকুরিচ্যুত করা হয়নি। বিধায় বর্ণিত চাকুরিচ্যুত সদস্যদের চাকুরিতে পুনর্বহালের সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে বর্ণিত চাকুরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের মধ্য থেকে ৮৫০ জন সদস্যের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা এবং ৮৩৪ জন সদস্যের বিরুদ্ধে একটি বিস্ফোরক মামলা দায়ের করা হয়।

বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের (ঢাকা-৫) লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুরো ঢাকা শহরকে সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থার আওতায় আনতে নেওয়া প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পুনর্গঠন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, যাচাই কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রকল্পটির ডিপিপি বর্তমানে পুনর্গঠন করা হচ্ছে। প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) অনুমোদন করলে পুরো ঢাকা মহানগর এলাকাকে সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থার আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ডেভেলপমেন্ট অব স্মার্ট পুলিশিং ইন ডিএমপি’ শীর্ষক প্রকল্পটি পুরো ঢাকা শহরকে সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনার লক্ষ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অনুমোদন না পাওয়া নতুন প্রকল্পের তালিকায় রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রকল্পটির প্রাথমিক ডিপিপি নিয়ে ২০২৬ সালের ২৪ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের সভাপতিত্বে যাচাই কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রী বলেন, ‘যাচাই কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডিপিপিটি বর্তমানে পুনর্গঠন করা হচ্ছে।’

কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের স্বতন্ত্র সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের অন্য এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডকে আধুনিকায়ন এবং এর কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা বাড়াতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্থানীয় ডকইয়ার্ডে পাঁচটি নতুন ইনশোর প্যাট্রোল ভেসেল (আইপিভি) নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে সরকার।

তিনি বলেন, একই সঙ্গে কোস্ট গার্ডের গবেষণা ও উদ্ভাবন সক্ষমতা বাড়াতে কোস্ট গার্ড রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (সিআরডিসি) প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম চলছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোস্টাল সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম (সিএসএস) প্রতিষ্ঠার কার্যক্রমও চলছে। এর মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন, পরিচালনাগত সমস্যা মোকাবিলা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করবে।

মহিলা আসন-৪৯ এর স্বতন্ত্র সদস্য সুলতানা জেসমিনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১ কোটি ৫৫ লাখ ইয়াবা ট্যাবলেট, ২৯ কেজি ক্রিস্টাল মেথামফেটামিন (আইস), ৯ দশমিক ৫ কেজি হেরোইন, ১ কেজি আফিম, ১৪ বোতল এলএসডি, ২৬ হাজার ৪৭৪ বোতল ফেনসিডিল, ১১ হাজার ৭০৭ কেজি গাঁজা এবং ৫৭ হাজার ৪৬৯ বোতল বিদেশি মদ ও বিয়ার জব্দ করেছে।

তিনি বলেন, চলতি বছরে এসব অভিযানে ১ হাজার ২১৯ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, থার্মাল ক্যামেরা ও ড্রোনের মাধ্যমে আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা ব্যবহার করে ভারত-মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে দেশে মাদক প্রবেশের পথগুলো বন্ধ করার কার্যক্রম চলছে।