স্পোর্টস ডেস্ক :
ফরাসি লিগে একেবারে যাচ্ছেতাই অবস্থা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ের (পিএসজি)। ৩ ম্যাচে ২ ড্র ও এক হারের পর লুইস এনরিকের দল পয়েন্ট টেবিলের ১৩ নম্বরে রয়েছে। সেই দলটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এসে জ্বলে উঠেছে। টানা দু’বারের চ্যাম্পিয়নরা অবশ্য ভাগে পেয়েছিল মাত্র দ্বিতীয়বার টুর্নামেন্ট খেলতে নামা স্লোভান ব্রাতিস্লাভাকে। পিএসজি তাদের ৬-১ গোলে বিধ্বস্ত করল।
পিএসজির বড় জয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ফেররান তোরেস। চলতি মৌসুমের শুরুতেই বার্সেলোনা থেকে প্যারিসের ক্লাবটিতে যোগ দেওয়া এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড তুলে নিয়েছেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক। দুটি গোল করেছেন উসমান দেম্বেলে। অন্য গোলটি ফ্যাবিয়ান রুইজের।
নিজেদের মাঠ পার্ক দে প্রিন্সেসে বুধবারের ম্যাচে শুরু থেকেই প্রতিপক্ষকে কোনো সুযোগ না দিয়ে বড় জয় তুলে নেয় লুইস এনরিকের দল।
ঘরের মাঠ পার্ক দ্য প্রিন্সেসে শুরু থেকেই ব্রাতিস্লাভার ওপর আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকে পিএসজি। ম্যাচে ৭২ শতাংশ বলের দখল রাখার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের গোলমুখে ১৪টি শট নেয় তারা।
প্রথম মিনিট থেকেই ব্রাতিস্লাভাকে চেপে ধরে পিএসজি। দ্বিতীয় মিনিটে প্রথম সুযোগ পায় গত দুই আসরের চ্যাম্পিয়নরা। দ্রু ফের্নান্দেসের শট কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান সফরকারী গোলরক্ষক। গতিময় আক্রমণাত্মক ফুটবলে পরের মিনিটে আরেকটি সুযোগ তৈরি করে পিএসজি। তবে সেটিও কাজে লাগাতে পারেনি ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা।

আক্রমণের জোয়ার বইয়ে দেওয়া এনরিকের দল এগিয়ে যায় ষোড়শ মিনিটে। নুনো মেন্দ্সের গতিময় শট ক্রসবার কাঁপিয়ে ফিরলে সুযোগ পান দেম্বেলে। ফিরতি বলে বাম পায়ের শটে জাল খুঁজে নেন তিনি। পরের মিনিটেই আবার সুযোগ পান দেম্বেলে। এবার ডান পায়ের আড়াআড়ি শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি তিনি।
২৩তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন দেম্বেলে। মাহনেজ আক্লিউশের ক্রস ব্রাতিস্লাভার একজন ডিফেন্ডারের পায়ে লাগলে বল পেয়ে যান ফরাসি তারকা। খুব কাছ থেকে হেডে বাকিটা সারেন তিনি। কিছুই করার ছিল না গোলরক্ষকের। ২৮তম মিনিটে গোলরক্ষকের চমৎকার সেভের পর একটুর জন্য বাঁকানো শট লক্ষ্েয রাখতে পারেননি তরেস। ৩১তম মিনিটে জালের দেখা পান গত বিশ্বকাপ ফাইনালের একমাত্র গোলদাতা। দেম্বেলের ক্রসে ঠিকানা খুঁজে নেন স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড।
তিন মিনিট পর দারুণ সেভে দেম্বেলের হ্যাটট্রিক ঠেকিয়ে দেন ব্রাতিস্লাভা গোলরক্ষক। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে তাকে পরাস্ত করতে পারলেও, একটুর জন্য শট লক্ষ্যে রাখতে পারেনি বিশ্বকাপজয়ী ফরাসি ফরোয়ার্ড। দেম্বেলের ক্রস থেকে পাওয়া বলে নিখুঁত শটে পিএসজিকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তোরেস।
বিরতির পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করে পিএসজি। দ্বিতীয়ার্ধের দ্বিতীয় মিনিটেই অ্যাকলিউচ দুর্দান্ত গতিতে কয়েকজন প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে কাটব্যাক করেন। তোরেস কিছুটা জায়গা তৈরি করে জোরালো শটে বল জালে পাঠান। ৪-০ গোলে এগিয়ে যায় পিএসজি।

৫৫ মিনিটে নুনো মেন্দেসের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। তবে দুই মিনিট পরই নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তোরেস। দেম্বেলের নেওয়া কর্নারে দারুণ কৌশলে পা উঁচু করে হাঁটু দিয়ে শট নেন তিনি। ব্রাতিস্লাভার গোলরক্ষক আগেই অন্যদিকে সরে যাওয়ায় বলের গতিপথ আটকানোর কোনো সুযোগই পাননি। এরপর ধারার বিপরীতে একটি গোল শোধ করে ব্রাতিস্লাভা। ৬৪ মিনিটে সুলেমান কামারা চমৎকার এক গোলে ব্যবধান কমান। তবে সেটিই ছিল ম্যাচে স্লোভাকিয়ার ক্লাবটির একমাত্র সান্ত্বনা।
একই মিনিটে একসঙ্গে তিন খেলোয়াড় বদলি করেন পিএসজি কোচ লুইস এনরিকে। তাতে ম্যাচের গতি কিছুটা কমে আসে। তবে শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা পায় পিএসজি। ৮৮ মিনিটে প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের পা থেকে আসা বল জালে পাঠিয়ে দলের ষষ্ঠ গোলটি করেন ফ্যাবিয়ান রুইজ।
শেষ পর্যন্ত ৬-১ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পিএসজি। ঘরোয়া লিগে ধুঁকতে থাকা দলটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের শক্তির জানান দিল দারুণ এক জয়ে।
স্পোর্টস ডেস্ক 
























