১৬ ডিসেম্বর আংশিক, মার্চ-এপ্রিলে পুরোপুরি চালু হতে পারে থার্ড টার্মিনাল : বিমানমন্ত্রী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : ০৬:৪৪:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৮০ জন দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের আংশিক কার্যক্রম আগামী ১৬ ডিসেম্বর শুরু হতে পারে। ধাপে ধাপে আগামী বছরের মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে টার্মিনালটির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

বিমানমন্ত্রী বলেন, আগামী ১৬ ডিসেম্বর থার্ড টার্মিনালের আংশিক কার্যক্রম চালুর লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। এরপর ধাপে ধাপে এর কার্যক্রম বাড়ানো হবে। আগামী বছরের মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে টার্মিনালটি পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।

তিনি বলেন, আগে থার্ড টার্মিনাল চালুর উদ্যোগ সেভাবে নেওয়া হয়নি। ইন্টারনেট, বিভিন্ন মেশিন ও অন্যান্য ব্যবস্থার মধ্যে প্রয়োজনীয় ইন্টিগ্রেশনও পুরোপুরি হয়নি। এখন এসব কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিদিনই মেশিনের টেস্ট ও ট্রায়াল চলছে। বর্তমানে কাজের অগ্রগতি প্রায় ৫৭ শতাংশ বলে জানান তিনি।

এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, থার্ড টার্মিনাল চালু হলে আগের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি সক্ষমতা নিয়ে বিমানবন্দর পরিচালনা করা সম্ভব হবে। পুরোপুরি চালু হলে ২০০ থেকে ২৫০টি এয়ারক্রাফট হ্যান্ডেল করার সক্ষমতা তৈরি হবে।

তিনি বলেন, আগামী বছর থেকে বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগকারী আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তাদের কাছে বাংলাদেশকে বিনিয়োগের উপযোগী দেশ হিসেবে তুলে ধরতে বিমানবন্দরের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

থার্ড টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগির বিষয়েও পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, আগে বাংলাদেশের অংশ ছিল ১৫ শতাংশ, সেটি বাড়িয়ে ২৭ শতাংশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে জাপানের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে।

টার্মিনালের কাজ শেষ করতে আরও প্রায় ৯০০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে বলেও জানান তিনি। এরই মধ্যে কিস্তিতে অর্থ দেওয়া শুরু হয়েছে।

যাত্রীদের দ্রুত লাগেজ বুঝিয়ে দেওয়ার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান বিমানমন্ত্রী। তিনি বলেন, থার্ড টার্মিনাল চালুর পর যাত্রীরা যাতে ১৫ মিনিটের মধ্যে লাগেজ হাতে পান, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিংয়ের প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স করবে বলেও জানান তিনি। লাগেজ সরবরাহে নির্ধারিত সময়ের ব্যত্যয় হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জরিমানার ব্যবস্থাও থাকবে বলে জানান মন্ত্রী।

এছাড়াও, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, জনগণের টাকা অতিরিক্ত খরচ করে বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করতে চায় না সরকার। ফলে বর্তমান নামই বহাল থাকছে।

মন্ত্রী বলেন, ১৬ ডিসেম্বর আংশিকভাবে টার্মিনাল চালু করার লক্ষ্য সামনে রেখে আজ থেকেই উদ্বোধনের প্রস্তুতি শুরু হবে। সংশ্লিষ্ট কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে বৈঠক করে বাকি কাজ দ্রুত শেষ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, কাজের বর্তমান অগ্রগতি অব্যাহত থাকলে ১৬ ডিসেম্বর আংশিক উদ্বোধন সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী। এরপর ধাপে ধাপে টার্মিনালের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু করা হবে এবং আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিদর্শনকালে বিমানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

২০১৭ সালে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়। ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর নির্মাণকাজ শুরু হয়। এই ব্যয়ের মধ্যে সরকার ৫ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে এবং বাকি অর্থ জাপানি সংস্থা জাইকার ঋণ।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর টার্মিনালের আংশিক উদ্বোধন হয়। তখন বেবিচক জানিয়েছিল ২০২৪ সালের মধ্যে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে, যদিও শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

গ্যাস ও বিদ্যুৎ-সংকটকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে : রিজভী

১৬ ডিসেম্বর আংশিক, মার্চ-এপ্রিলে পুরোপুরি চালু হতে পারে থার্ড টার্মিনাল : বিমানমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৬:৪৪:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের আংশিক কার্যক্রম আগামী ১৬ ডিসেম্বর শুরু হতে পারে। ধাপে ধাপে আগামী বছরের মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে টার্মিনালটির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

বিমানমন্ত্রী বলেন, আগামী ১৬ ডিসেম্বর থার্ড টার্মিনালের আংশিক কার্যক্রম চালুর লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। এরপর ধাপে ধাপে এর কার্যক্রম বাড়ানো হবে। আগামী বছরের মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে টার্মিনালটি পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।

তিনি বলেন, আগে থার্ড টার্মিনাল চালুর উদ্যোগ সেভাবে নেওয়া হয়নি। ইন্টারনেট, বিভিন্ন মেশিন ও অন্যান্য ব্যবস্থার মধ্যে প্রয়োজনীয় ইন্টিগ্রেশনও পুরোপুরি হয়নি। এখন এসব কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিদিনই মেশিনের টেস্ট ও ট্রায়াল চলছে। বর্তমানে কাজের অগ্রগতি প্রায় ৫৭ শতাংশ বলে জানান তিনি।

এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, থার্ড টার্মিনাল চালু হলে আগের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি সক্ষমতা নিয়ে বিমানবন্দর পরিচালনা করা সম্ভব হবে। পুরোপুরি চালু হলে ২০০ থেকে ২৫০টি এয়ারক্রাফট হ্যান্ডেল করার সক্ষমতা তৈরি হবে।

তিনি বলেন, আগামী বছর থেকে বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগকারী আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তাদের কাছে বাংলাদেশকে বিনিয়োগের উপযোগী দেশ হিসেবে তুলে ধরতে বিমানবন্দরের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

থার্ড টার্মিনাল পরিচালনায় জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগির বিষয়েও পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, আগে বাংলাদেশের অংশ ছিল ১৫ শতাংশ, সেটি বাড়িয়ে ২৭ শতাংশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে জাপানের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে।

টার্মিনালের কাজ শেষ করতে আরও প্রায় ৯০০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে বলেও জানান তিনি। এরই মধ্যে কিস্তিতে অর্থ দেওয়া শুরু হয়েছে।

যাত্রীদের দ্রুত লাগেজ বুঝিয়ে দেওয়ার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান বিমানমন্ত্রী। তিনি বলেন, থার্ড টার্মিনাল চালুর পর যাত্রীরা যাতে ১৫ মিনিটের মধ্যে লাগেজ হাতে পান, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিংয়ের প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স করবে বলেও জানান তিনি। লাগেজ সরবরাহে নির্ধারিত সময়ের ব্যত্যয় হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জরিমানার ব্যবস্থাও থাকবে বলে জানান মন্ত্রী।

এছাড়াও, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, জনগণের টাকা অতিরিক্ত খরচ করে বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করতে চায় না সরকার। ফলে বর্তমান নামই বহাল থাকছে।

মন্ত্রী বলেন, ১৬ ডিসেম্বর আংশিকভাবে টার্মিনাল চালু করার লক্ষ্য সামনে রেখে আজ থেকেই উদ্বোধনের প্রস্তুতি শুরু হবে। সংশ্লিষ্ট কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে বৈঠক করে বাকি কাজ দ্রুত শেষ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, কাজের বর্তমান অগ্রগতি অব্যাহত থাকলে ১৬ ডিসেম্বর আংশিক উদ্বোধন সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী। এরপর ধাপে ধাপে টার্মিনালের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু করা হবে এবং আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিদর্শনকালে বিমানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

২০১৭ সালে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়। ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর নির্মাণকাজ শুরু হয়। এই ব্যয়ের মধ্যে সরকার ৫ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে এবং বাকি অর্থ জাপানি সংস্থা জাইকার ঋণ।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর টার্মিনালের আংশিক উদ্বোধন হয়। তখন বেবিচক জানিয়েছিল ২০২৪ সালের মধ্যে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে, যদিও শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।