মানিকগঞ্জে যাত্রী ছাউনি অবৈধ দখল করে ব্যবসা, দুর্ভোগে সড়কের যাত্রীরা

মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : 

প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে নির্মিত যাত্রী ছাউনিটি এখন যাত্রীদের কোনো কাজে না আসার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে এটি অবৈধ দখলে থাকায় যাত্রীসেবার পরিবর্তে সেখানে চলছে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা। যাত্রীদের আনাগোনার বদলে দেখা যায় দোকানপাট, আড্ডা আর ভবঘুরেদের অবস্থান। অনেক দিনমজুর দিন-রাত ছাউনির ভেতরেই শুয়ে-বসে সময় কাটান। পুরো চিত্র দেখে মনে হয়, এটি যেন পরিত্যক্ত একটি স্থাপনা।

যাত্রী ছাউনিতে ব্যাবসা করা কয়েকজন জানান, সারা দিনে একজন যাত্রীও সেখানে আসেন না। তাই তারা গাড়ি মেরামতের কাজসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা করছেন।

ঢাকাগামী যাত্রী ও ব্যাংক কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন, আমি পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকি। প্রথম দিকে যাত্রী ছাউনি থেকে বাসে উঠতাম। কিন্তু দুই-এক বছর ধরে সেখানে যাই না। সেখানে যাওয়ার মতো পরিবেশ নেই। এখন সব বাসই সড়কে দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলে। আমাদের রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ছাউনিতে বসার ব্যবস্থা নেই, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নেই, বাথরুম নেই। সেখানে দোকানপাট ও বখাটেদের অবস্থান থাকায় আমরা ভয়ে যাই না।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মনির বলেন, মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে নামেই যাত্রী ছাউনি রয়েছে। পুরো এলাকাজুড়ে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। ছাউনির ভেতর বিভিন্ন ব্যবসায়ী, ভবঘুরে, মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি ও কুকুরের বিচরণে সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। তিনি আরও বলেন, যাত্রী ছাউনিতে যাওয়ারও কোনো উপযুক্ত ব্যবস্থা নেই। চারপাশে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। তার ওপর কাদা, পানি ও আবর্জনায় পুরো এলাকা নোংরা হয়ে থাকে।

সাভারগামী যাত্রী আম্বিয়া খাতুন বলেন, প্রতিদিন মানিকগঞ্জ থেকে সাভার যাতায়াত করি। কিন্তু কোনো দিন যাত্রী ছাউনিতে গিয়ে বাসে উঠতে পারিনি। কারণ সেখানে কোনো বাস আসে না। সব বাসই সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলে। তাই আমিও রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকি, বাস এলে উঠে পড়ি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার এক কর্মচারী অভিযোগ করেন, দোকান বরাদ্দের নামে মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হলেও অনেককে দোকান বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন, আমি সদ্য মানিকগঞ্জ পৌরসভায় যোগদান করেছি। প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত যাত্রী ছাউনিটি কেন ব্যবহার হচ্ছে না, তা সরেজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

প্রবাসফেরত অসুস্থ জামালকে রাস্তার পাশে ফেলে গেল স্ত্রী-সন্তান

মানিকগঞ্জে যাত্রী ছাউনি অবৈধ দখল করে ব্যবসা, দুর্ভোগে সড়কের যাত্রীরা

প্রকাশের সময় : ০৫:৪৯:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : 

প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে নির্মিত যাত্রী ছাউনিটি এখন যাত্রীদের কোনো কাজে না আসার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে এটি অবৈধ দখলে থাকায় যাত্রীসেবার পরিবর্তে সেখানে চলছে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা। যাত্রীদের আনাগোনার বদলে দেখা যায় দোকানপাট, আড্ডা আর ভবঘুরেদের অবস্থান। অনেক দিনমজুর দিন-রাত ছাউনির ভেতরেই শুয়ে-বসে সময় কাটান। পুরো চিত্র দেখে মনে হয়, এটি যেন পরিত্যক্ত একটি স্থাপনা।

যাত্রী ছাউনিতে ব্যাবসা করা কয়েকজন জানান, সারা দিনে একজন যাত্রীও সেখানে আসেন না। তাই তারা গাড়ি মেরামতের কাজসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা করছেন।

ঢাকাগামী যাত্রী ও ব্যাংক কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন, আমি পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকি। প্রথম দিকে যাত্রী ছাউনি থেকে বাসে উঠতাম। কিন্তু দুই-এক বছর ধরে সেখানে যাই না। সেখানে যাওয়ার মতো পরিবেশ নেই। এখন সব বাসই সড়কে দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলে। আমাদের রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ছাউনিতে বসার ব্যবস্থা নেই, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নেই, বাথরুম নেই। সেখানে দোকানপাট ও বখাটেদের অবস্থান থাকায় আমরা ভয়ে যাই না।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মনির বলেন, মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে নামেই যাত্রী ছাউনি রয়েছে। পুরো এলাকাজুড়ে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। ছাউনির ভেতর বিভিন্ন ব্যবসায়ী, ভবঘুরে, মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি ও কুকুরের বিচরণে সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। তিনি আরও বলেন, যাত্রী ছাউনিতে যাওয়ারও কোনো উপযুক্ত ব্যবস্থা নেই। চারপাশে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। তার ওপর কাদা, পানি ও আবর্জনায় পুরো এলাকা নোংরা হয়ে থাকে।

সাভারগামী যাত্রী আম্বিয়া খাতুন বলেন, প্রতিদিন মানিকগঞ্জ থেকে সাভার যাতায়াত করি। কিন্তু কোনো দিন যাত্রী ছাউনিতে গিয়ে বাসে উঠতে পারিনি। কারণ সেখানে কোনো বাস আসে না। সব বাসই সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলে। তাই আমিও রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকি, বাস এলে উঠে পড়ি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার এক কর্মচারী অভিযোগ করেন, দোকান বরাদ্দের নামে মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হলেও অনেককে দোকান বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন, আমি সদ্য মানিকগঞ্জ পৌরসভায় যোগদান করেছি। প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত যাত্রী ছাউনিটি কেন ব্যবহার হচ্ছে না, তা সরেজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।