মানুষের প্রত্যাশা পূরণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে সরকার : মাহদী আমিন

নিজস্ব প্রতিবেদক :

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন বলেন, সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, সুশাসন, জনকল্যাণ এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৩টায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

জনগণের ভোটে নির্বাচিত বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাস পূর্তি উপলক্ষ্যে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে প্রধানমন্ত্রী প্রেস উইং।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মাত্র ১৫০ দিন অর্থাৎ পাঁচ মাস পূর্ণ হয়েছে। সময়ের পরিমাপে এটা হয়তো খুব দীর্ঘ কোনো সময় নয়। কিন্তু, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের জন্য প্রতিটি দিনই জনগণের প্রতি দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য। প্রতিটি মুহূর্তই দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা পালনের পরীক্ষা। আর প্রতিটি পদক্ষেপই মানুষের আস্থা অর্জনের নতুন পরীক্ষা।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, আমরা বিশ্বাস করি— জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসই একটি সরকারের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই সরকারের প্রতিটি উদ্যোগ, প্রতিটি অর্জন, প্রতিটি সংস্কার এবং প্রতিটি চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করাকে আমরা নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে দেখি।

মাহদী আমিন বলেন, ‘জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার মূলত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহের পুনর্গঠন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার, পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনা এবং বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যয়সাশ্রয় ও দুর্নীতিমুক্ত পর্যালোচনা নিশ্চিত করে সরকারের সুশাসনের দৃঢ়বার্তা। একই সাথে সাম্প্রতিক বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসন, বিপর্যস্ত ও লুণ্ঠিত স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতের বিভিন্ন ধরনের বিনির্মাণ চলমান রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘পাঁচ মাসের সংক্ষিপ্ত সময়ে অর্জিত সাফল্যকে ভিত্তি করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন এবং সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ বিনির্মাণে জনগণের প্রতি সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

জনগণকে সরকারের কাজের প্রকৃত মূল্যায়নকারী উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, ‘জনগণের আস্থা, সমর্থন ও গঠনমূলক মতামতেই আগামী দিনের পথচলা সরকারের সবচেয়ে বড় প্রেরণা।’

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিগত দিনের ভেঙে পড়া রাষ্ট্র কাঠামোকে পুনরুদ্ধারে ম্যান্ডেট পেয়েছেন গণমানুষের নেতা বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দায়িত্ব হাতে নিয়ে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মাঝেই তিনি মানুষের আস্থার চূড়ায় অবস্থান করছেন।’

গত পাঁচ মাসে জনগণের আস্থা ভালোবাসা ও সমর্থন ইশতেহারের আলোকে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বার্থ রক্ষায় স্বল্প সময়ের মধ্যে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সফলতা অর্জনে বর্তমান সরকার দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে।’

বক্তব্যের শুরুতে জুলাই আন্দোলনে শহীদদের স্মরণ করে মাহদী আমিন বলেন, ‘দুই বছর আগে আজকের এই সময়ে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি এক রক্তাক্ত অধ্যায়ের সাক্ষী হয়েছিল। ন্যায্য অধিকার আদায়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের কণ্ঠ স্তব্ধ করতে ফ্যাসিবাদী শাসকগোষ্ঠী গুলি করে হত্যার পথ বেছে নিয়েছিল। রংপুরে আবু সাঈদ, চট্টগ্রামে ওয়াসিম আকরাম, ঢাকায় ফারহানাসহ অসংখ্য নিরপরাধ শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগে সে আন্দোলন পরিণত হয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘সব শ্রেণির, সব পেশা, সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের এক গণঅভুত্থানে যার প্রবল জনরোষে ফ্যাসিবাদী শক্তির পতন ঘটে, সেই পথ পরিক্রমায় গণআকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশের মাধ্যমে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় এসেছে গণঅভ্যুত্থানে এবং গত ১৬ বছরে সবচাইতে বেশি গুম, খুন, হামলা, মামলা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার দল বাংলাদেশ জাতীয় দল বিএনপির নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক সরকার। আমরা গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সব শহীদকে এবং মহান আল্লাহর দরবারে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।’

মাহদী আমিন বলেন, একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি ও ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্রকাঠামো পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করলেও অল্প সময়েই দৃশ্যমান সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে মূল্যস্ফীতি কমে ৯.১৬ শতাংশে নেমে এসেছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬.৫৮ বিলিয়ন ডলারে। গত মার্চ মাসে রেকর্ড ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

তিনি আরও জানান, সরকারের উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ১২ লাখ ক্ষুদ্র কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ, ৫৫ লাখ পরিবারের জন্য ১৫ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ, নারী ও তরুণদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, ফ্রিল্যান্সারদের আইডি কার্ড, স্টার্টআপ তহবিল গঠন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য বিশেষ কার্ড চালু।

স্বাস্থ্য খাতে এক লাখ জনবল নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার—এমনটা জানিয়ে এই মুখপাত্র বলেন, তার মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগ নারী। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা, উপজেলা হাসপাতাল উন্নীতকরণ এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্য ইউনিট গঠনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়।

গ্রামীন স্বাস্থ্যসেবা জোরদারের লক্ষ্যে উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীতকরণে সরকারি সিদ্ধান্তের কথাও জানান মাহ্‌দী আমিন।

শিক্ষা খাতে স্মার্ট ক্লাসরুম, ফ্রি ওয়াই-ফাই, মিড-ডে মিল, নতুন পাঠ্যপুস্তক এবং ছাত্রীদের জন্য অনার্স পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার সিদ্ধান্তের তথ্য তুলে ধরে
মাহ্‌দী আমিন বলেন, বিদেশি উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যাংক গ্যারান্টি হিসেবে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, স্থিতিশীলতা ও পুনর্গঠনের লক্ষ্যে সরকার-রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন কৌশল গ্রহণ করেছে।

মাহদী আমিন বলেন, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকারের পাঁচ মাসের যাত্রা সময়ের হিসেবে সংক্ষিপ্ত হলেও এ সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, সুশাসন, জবাবদিহিতা ও জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছে সরকার। দীর্ঘদিনের সংকট কাটিয়ে একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের ভিত্তি ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, সরকারের পাঁচ মাসের অর্জনকে পাঁচটি বৃহৎ পরিসরে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো—জনগণের আস্থা, ভালোবাসা ও সমর্থন অর্জন; নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন; স্বল্প সময়ে অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা; জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্ব।

সংবাদ সম্মেলনে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বিচারিক কার্যক্রমে গতি আনা, পরিবেশ সংরক্ষণে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, বৈদ্যুতিক বাস চালুর উদ্যোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, রেমিট্যান্স বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালীকরণ এবং অপচয় রোধে মন্ত্রিসভার সদস্যদের বিশেষ সুবিধা পরিহারের মতো উদ্যোগ ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কৃষক, নারী, শিক্ষার্থী, ফ্রিল্যান্সার, ক্রীড়াবিদ ও প্রবাসীদের জন্য পৃথক সুবিধা চালুর পাশাপাশি ভবিষ্যতে সমন্বিত ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতেও বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।

মাহদী আমিন বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টি এবং ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে দেশের মর্যাদা আরও সুসংহত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে তিনি বলেন, মাত্র ১৫০ দিনে সরকার শুধু তাৎক্ষণিক সমস্যা সমাধান করেনি; বরং একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের ভিত্তি স্থাপনের কাজ শুরু করেছে। ভবিষ্যতেও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে একই উদ্যম ও দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করবে সরকার।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার এসএএম মাহফুজুর রহমান, ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ), শাহাদাৎ স্বাধীন, সহকারী প্রেস সচিব কেএম নাজমুল হক, গাজী শাহরিয়ার পামির, আশরোফা ইমদাদ।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

বিএনপি-জামায়াত যা চেয়েছে জুলাই তার বেশি দিয়েছে : মঞ্জু

মানুষের প্রত্যাশা পূরণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে সরকার : মাহদী আমিন

প্রকাশের সময় : ০৮:৪০:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন বলেন, সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, সুশাসন, জনকল্যাণ এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৩টায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

জনগণের ভোটে নির্বাচিত বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাস পূর্তি উপলক্ষ্যে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে প্রধানমন্ত্রী প্রেস উইং।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মাত্র ১৫০ দিন অর্থাৎ পাঁচ মাস পূর্ণ হয়েছে। সময়ের পরিমাপে এটা হয়তো খুব দীর্ঘ কোনো সময় নয়। কিন্তু, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের জন্য প্রতিটি দিনই জনগণের প্রতি দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য। প্রতিটি মুহূর্তই দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা পালনের পরীক্ষা। আর প্রতিটি পদক্ষেপই মানুষের আস্থা অর্জনের নতুন পরীক্ষা।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, আমরা বিশ্বাস করি— জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসই একটি সরকারের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই সরকারের প্রতিটি উদ্যোগ, প্রতিটি অর্জন, প্রতিটি সংস্কার এবং প্রতিটি চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করাকে আমরা নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে দেখি।

মাহদী আমিন বলেন, ‘জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার মূলত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহের পুনর্গঠন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার, পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনা এবং বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যয়সাশ্রয় ও দুর্নীতিমুক্ত পর্যালোচনা নিশ্চিত করে সরকারের সুশাসনের দৃঢ়বার্তা। একই সাথে সাম্প্রতিক বন্যাদুর্গতদের পুনর্বাসন, বিপর্যস্ত ও লুণ্ঠিত স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতের বিভিন্ন ধরনের বিনির্মাণ চলমান রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘পাঁচ মাসের সংক্ষিপ্ত সময়ে অর্জিত সাফল্যকে ভিত্তি করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন এবং সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ বিনির্মাণে জনগণের প্রতি সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

জনগণকে সরকারের কাজের প্রকৃত মূল্যায়নকারী উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, ‘জনগণের আস্থা, সমর্থন ও গঠনমূলক মতামতেই আগামী দিনের পথচলা সরকারের সবচেয়ে বড় প্রেরণা।’

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিগত দিনের ভেঙে পড়া রাষ্ট্র কাঠামোকে পুনরুদ্ধারে ম্যান্ডেট পেয়েছেন গণমানুষের নেতা বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দায়িত্ব হাতে নিয়ে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মাঝেই তিনি মানুষের আস্থার চূড়ায় অবস্থান করছেন।’

গত পাঁচ মাসে জনগণের আস্থা ভালোবাসা ও সমর্থন ইশতেহারের আলোকে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বার্থ রক্ষায় স্বল্প সময়ের মধ্যে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সফলতা অর্জনে বর্তমান সরকার দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে।’

বক্তব্যের শুরুতে জুলাই আন্দোলনে শহীদদের স্মরণ করে মাহদী আমিন বলেন, ‘দুই বছর আগে আজকের এই সময়ে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি এক রক্তাক্ত অধ্যায়ের সাক্ষী হয়েছিল। ন্যায্য অধিকার আদায়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের কণ্ঠ স্তব্ধ করতে ফ্যাসিবাদী শাসকগোষ্ঠী গুলি করে হত্যার পথ বেছে নিয়েছিল। রংপুরে আবু সাঈদ, চট্টগ্রামে ওয়াসিম আকরাম, ঢাকায় ফারহানাসহ অসংখ্য নিরপরাধ শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগে সে আন্দোলন পরিণত হয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘সব শ্রেণির, সব পেশা, সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের এক গণঅভুত্থানে যার প্রবল জনরোষে ফ্যাসিবাদী শক্তির পতন ঘটে, সেই পথ পরিক্রমায় গণআকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশের মাধ্যমে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় এসেছে গণঅভ্যুত্থানে এবং গত ১৬ বছরে সবচাইতে বেশি গুম, খুন, হামলা, মামলা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার দল বাংলাদেশ জাতীয় দল বিএনপির নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক সরকার। আমরা গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সব শহীদকে এবং মহান আল্লাহর দরবারে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।’

মাহদী আমিন বলেন, একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি ও ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্রকাঠামো পুনর্গঠনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করলেও অল্প সময়েই দৃশ্যমান সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে মূল্যস্ফীতি কমে ৯.১৬ শতাংশে নেমে এসেছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬.৫৮ বিলিয়ন ডলারে। গত মার্চ মাসে রেকর্ড ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

তিনি আরও জানান, সরকারের উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ১২ লাখ ক্ষুদ্র কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ, ৫৫ লাখ পরিবারের জন্য ১৫ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ, নারী ও তরুণদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, ফ্রিল্যান্সারদের আইডি কার্ড, স্টার্টআপ তহবিল গঠন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য বিশেষ কার্ড চালু।

স্বাস্থ্য খাতে এক লাখ জনবল নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার—এমনটা জানিয়ে এই মুখপাত্র বলেন, তার মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগ নারী। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা, উপজেলা হাসপাতাল উন্নীতকরণ এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্য ইউনিট গঠনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়।

গ্রামীন স্বাস্থ্যসেবা জোরদারের লক্ষ্যে উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীতকরণে সরকারি সিদ্ধান্তের কথাও জানান মাহ্‌দী আমিন।

শিক্ষা খাতে স্মার্ট ক্লাসরুম, ফ্রি ওয়াই-ফাই, মিড-ডে মিল, নতুন পাঠ্যপুস্তক এবং ছাত্রীদের জন্য অনার্স পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার সিদ্ধান্তের তথ্য তুলে ধরে
মাহ্‌দী আমিন বলেন, বিদেশি উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যাংক গ্যারান্টি হিসেবে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, স্থিতিশীলতা ও পুনর্গঠনের লক্ষ্যে সরকার-রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন কৌশল গ্রহণ করেছে।

মাহদী আমিন বলেন, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকারের পাঁচ মাসের যাত্রা সময়ের হিসেবে সংক্ষিপ্ত হলেও এ সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, সুশাসন, জবাবদিহিতা ও জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছে সরকার। দীর্ঘদিনের সংকট কাটিয়ে একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের ভিত্তি ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, সরকারের পাঁচ মাসের অর্জনকে পাঁচটি বৃহৎ পরিসরে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো—জনগণের আস্থা, ভালোবাসা ও সমর্থন অর্জন; নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন; স্বল্প সময়ে অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা; জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্ব।

সংবাদ সম্মেলনে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বিচারিক কার্যক্রমে গতি আনা, পরিবেশ সংরক্ষণে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, বৈদ্যুতিক বাস চালুর উদ্যোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, রেমিট্যান্স বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালীকরণ এবং অপচয় রোধে মন্ত্রিসভার সদস্যদের বিশেষ সুবিধা পরিহারের মতো উদ্যোগ ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কৃষক, নারী, শিক্ষার্থী, ফ্রিল্যান্সার, ক্রীড়াবিদ ও প্রবাসীদের জন্য পৃথক সুবিধা চালুর পাশাপাশি ভবিষ্যতে সমন্বিত ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতেও বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।

মাহদী আমিন বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টি এবং ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে দেশের মর্যাদা আরও সুসংহত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে তিনি বলেন, মাত্র ১৫০ দিনে সরকার শুধু তাৎক্ষণিক সমস্যা সমাধান করেনি; বরং একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের ভিত্তি স্থাপনের কাজ শুরু করেছে। ভবিষ্যতেও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে একই উদ্যম ও দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করবে সরকার।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার এসএএম মাহফুজুর রহমান, ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ), শাহাদাৎ স্বাধীন, সহকারী প্রেস সচিব কেএম নাজমুল হক, গাজী শাহরিয়ার পামির, আশরোফা ইমদাদ।