ভিসা চালু হয়েছে, তবে কবে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত ট্রেন চলাচল

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

দীর্ঘ দুই বছর পর বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য আবারও পর্যটন ভিসা চালু করেছে ভারত সরকার। এবার বর্তমানে স্থগিত থাকা বাংলাদেশ-ভারত যাত্রীবাহী তিনটি ট্রেন সেবাও আবার চালু হচ্ছে কি না, তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা। এ নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন ভারতের পূর্ব রেলওয়ে বিভাগীয় রেল ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) রাজিব সাক্সেনা।

গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, এখন কথাবার্তা চলছে। পরিস্থিতি ঠিকঠাক হলে আমাদের কাছে যখনই সবুজ সংকেত আসবে, তখনই ট্রেন চালু করে দেবো।

ভারতীয় এ রেল কর্মকর্তার মতে, এটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। যখনই সিদ্ধান্ত হবে, তখনই ট্রেন চালু হবে।

রাজিব সাক্সেনা আরও বলেন, আমাদের কাছে অনেক ট্রেনের বগি স্টকে রয়েছে। আমরা যে ধরনের স্পেশাল ট্রেন চালাই, বেশ কয়েকটি বগিকে একসঙ্গে করে। সেভাবেই ট্রেন তৈরি হবে। নতুন একটা ট্রেন তৈরি করা সমস্যার নয়।

ট্রেন চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, এটি রাজনৈতিক বিষয়। এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো নির্দেশনা আসেনি। ভারত সরকার এবং বাংলাদেশ সরকার যখন সিদ্ধান্ত নেবে এখন চালানো দরকার, আমরা চালিয়ে দেব। আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া রয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জি-২৪ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা এবং বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার মধ্যে চলাচল করা মিতালি এক্সপ্রেস চালুর কাজ চলছে। ভারতীয় রেল মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবে।

সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের রেল কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে বৈঠক করেছেন। এরপর মিতালি এক্সপ্রেস চালুর ব্যাপারে সবুজ সংকেত মিলেছে। রেললাইনের নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত বিষয় সব প্রায় সম্পন্ন। অল্প কয়েকদিনের মধ্যে ট্রেনের সময়সূচি এবং টিকিট বুকিংয়ের তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করতে হবে।

এদিকে গত সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশিদের আবারও টুরিস্ট ভিসা দেওয়া শুরু করেছে ভারত। ধারণা করা হচ্ছে, নতুন করে ভিসা সেবা চালু হওয়ায় ধীরে ধীরে মৈত্রী ও বন্ধন এক্সপ্রেসও চালু করা হবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলনের মুখে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী ট্রেন বন্ধ।

জানা যায়, ভারত থেকে ট্রেন সেবা বন্ধের ঘোষণা আসার পরই বাংলাদেশে আটকে পড়ে ভারতের মিতালী এক্সপ্রেস। এটি ছিল জলপাইগুড়ি ও ঢাকার মধ্যে চলাচলকারী একমাত্র ট্রেন, যা ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই থেকে বন্ধ। এছাড়া, মৈত্রী এক্সপ্রেস কলকাতা থেকে ঢাকার মধ্যে চলাচলকারী ট্রেন ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই থেকে বন্ধ এবং বন্ধন এক্সপ্রেস ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই থেকে বন্ধ।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

সহকারী সচিব হলেন ৩৪ কর্মকর্তা

ভিসা চালু হয়েছে, তবে কবে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত ট্রেন চলাচল

প্রকাশের সময় : ০৭:৪৪:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

দীর্ঘ দুই বছর পর বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য আবারও পর্যটন ভিসা চালু করেছে ভারত সরকার। এবার বর্তমানে স্থগিত থাকা বাংলাদেশ-ভারত যাত্রীবাহী তিনটি ট্রেন সেবাও আবার চালু হচ্ছে কি না, তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা। এ নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন ভারতের পূর্ব রেলওয়ে বিভাগীয় রেল ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) রাজিব সাক্সেনা।

গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, এখন কথাবার্তা চলছে। পরিস্থিতি ঠিকঠাক হলে আমাদের কাছে যখনই সবুজ সংকেত আসবে, তখনই ট্রেন চালু করে দেবো।

ভারতীয় এ রেল কর্মকর্তার মতে, এটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। যখনই সিদ্ধান্ত হবে, তখনই ট্রেন চালু হবে।

রাজিব সাক্সেনা আরও বলেন, আমাদের কাছে অনেক ট্রেনের বগি স্টকে রয়েছে। আমরা যে ধরনের স্পেশাল ট্রেন চালাই, বেশ কয়েকটি বগিকে একসঙ্গে করে। সেভাবেই ট্রেন তৈরি হবে। নতুন একটা ট্রেন তৈরি করা সমস্যার নয়।

ট্রেন চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, এটি রাজনৈতিক বিষয়। এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো নির্দেশনা আসেনি। ভারত সরকার এবং বাংলাদেশ সরকার যখন সিদ্ধান্ত নেবে এখন চালানো দরকার, আমরা চালিয়ে দেব। আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া রয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জি-২৪ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা এবং বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার মধ্যে চলাচল করা মিতালি এক্সপ্রেস চালুর কাজ চলছে। ভারতীয় রেল মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবে।

সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের রেল কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে বৈঠক করেছেন। এরপর মিতালি এক্সপ্রেস চালুর ব্যাপারে সবুজ সংকেত মিলেছে। রেললাইনের নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত বিষয় সব প্রায় সম্পন্ন। অল্প কয়েকদিনের মধ্যে ট্রেনের সময়সূচি এবং টিকিট বুকিংয়ের তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করতে হবে।

এদিকে গত সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশিদের আবারও টুরিস্ট ভিসা দেওয়া শুরু করেছে ভারত। ধারণা করা হচ্ছে, নতুন করে ভিসা সেবা চালু হওয়ায় ধীরে ধীরে মৈত্রী ও বন্ধন এক্সপ্রেসও চালু করা হবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলনের মুখে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী ট্রেন বন্ধ।

জানা যায়, ভারত থেকে ট্রেন সেবা বন্ধের ঘোষণা আসার পরই বাংলাদেশে আটকে পড়ে ভারতের মিতালী এক্সপ্রেস। এটি ছিল জলপাইগুড়ি ও ঢাকার মধ্যে চলাচলকারী একমাত্র ট্রেন, যা ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই থেকে বন্ধ। এছাড়া, মৈত্রী এক্সপ্রেস কলকাতা থেকে ঢাকার মধ্যে চলাচলকারী ট্রেন ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই থেকে বন্ধ এবং বন্ধন এক্সপ্রেস ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই থেকে বন্ধ।