নিজস্ব প্রতিবেদক :
গল্পগুজব করে সময় না কাটিয়ে রোগীরা যেন যথাযথ চিকিৎসা পায় সেদিকে চিকিৎসকদের খেয়াল রাখতে নির্দেশনা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে ‘বাংলাদেশ সোসাইটি অব ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন’ এর জাতীয় সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ করে দেওয়া হবে। কিন্তু রোগীদের দেখাশোনা চিকিৎসকদের করতে হবে। চিকিৎসকেরা গল্পগুজব করে সময় কাটালে হবে না, রোগীরা যেন যথাযথ চিকিৎসা পায় সেদিকে চিকিৎসকদের খেয়াল রাখতে হবে।
সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, চিকিৎসকেরা ঠিকমতো দায়িত্ব পালন না করলে বা জবাবদিহি নিশ্চিত না করলে ও নৈতিকতার চর্চা না করলে কোনোদিন জনকল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব না। মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম বাজেটে দ্বিতীয় বৃহত্তম বরাদ্দ পেয়েছে স্বাস্থ্যখাত।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টান্ত টেনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সংসদ থেকে শুরু করে সচিবালয় পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী যেভাবে নিরলস ও সময়ানুবর্তী হয়ে কাজ করেন, তা আমাদের সবার জন্য শিক্ষণীয়। তিনি আমাদের বুঝিয়েছেন যে, প্রতিটি দায়িত্বশীল ব্যক্তির আসন বা চেয়ারটি অত্যন্ত গরম (চ্যালেঞ্জিং)। কিন্তু সেই পদের গরমে আমাদের গরম হওয়া যাবে না, বরং বিনয় ও দায়বদ্ধতা নিয়ে মানুষের সেবা করতে হবে।
চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দেশের হাসপাতালগুলোতে কোটি কোটি টাকার বরাদ্দ বা আইসিইউ স্থাপন করা হলেও চিকিৎসকদের সুন্দর ব্যবহার এবং আন্তরিকতা ছাড়া সাধারণ মানুষের প্রকৃত উপকার সম্ভব নয়। বিশেষ করে গ্রামীণ ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের শত ভাগ সময়ানুবর্তী হতে হবে। কোনো অবস্থাতেই রোগীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখা যাবে না। একই সঙ্গে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও শয্যার মান বজায় রাখতে স্থানীয় ব্যবস্থাপনা জোরদার করার তাগিদ দেন তিনি।
করোনা মহামারির সময়ে দেশের চিকিৎসকদের অসামান্য অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, উন্নত বিশ্ব যেখানে হিমশিম খেয়েছে, সেখানে আমাদের চিকিৎসকরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে কাজ করেছেন। চিকিৎসকদের এই অবদানের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। এরইমধ্যে উপজেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য আনসার মোতায়েন এবং বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা বাজেটে অনুমোদন করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশের ১০টি জেলায় নতুন আইসিইউ চালুর পর খুব দ্রুত জয়পুরহাট, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া এবং রংপুর শিশু হাসপাতালেও আইসিইউ উদ্বোধন করা হবে। প্রতিটি জেলা হাসপাতালে দ্রুত ৫০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিট চালু করা হচ্ছে। এছাড়া একটি আন্তর্জাতিক প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে ১ হাজার শয্যাবিশিষ্ট ২০টি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে, যার মধ্যে ২টি বিশেষভাবে নারীদের জন্য ডেডিকেটেড থাকবে। মুমূর্ষ রোগীদের দ্রুত স্থানান্তরের জন্য বিশেষ হেলিকপ্টার ও আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর পরিকল্পনাও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
দেশের সাধারণ ও নিরীহ মানুষের ভালোবাসার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে চিকিৎসকদের আন্তরিকভাবে কাজ করার অনুরোধ জানান মন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, চিকিৎসকদের যেকোনো লজিস্টিক ও প্রশাসনিক সংকট সমাধানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সবসময় পাশে থাকবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি ডা. জোবায়দা রহমান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. এফএম সিদ্দিকী, বিএসসিসিএমের সভাপতি অধ্যাপক ডা. আরিফ আহসান ও সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. জাফর ইকবাল, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ ও মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস ও অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীমসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
















