নিজস্ব প্রতিবেদক :
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে অস্থিরতা ও নানা জটিলতা থাকলেও আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রী পরিবহনে নতুন রেকর্ড গড়েছে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে ৭ হাজার ৮০০ ফ্লাইটে প্রায় ৭ লাখ ৬০ হাজার যাত্রী পরিবহন করেছে বিমানবন্দরটি। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে দেড় মাসে ২৩৮টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় প্রায় ৩০ কোটি টাকার সম্ভাব্য রাজস্ব হারিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে বর্তমানে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালিত হয় ওমানের মাস্কট, সৌদি আরবের জেদ্দা ও মদিনা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, শারজাহ ও আবুধাবীতে। তবে চলতি বছরের মার্চের শুরু থেকে ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বিমানবন্দর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকিতে পড়ায় বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। এর প্রভাব পড়ে চট্টগ্রাম থেকেও পরিচালিত ফ্লাইটে। যুদ্ধের দেড় মাসে মধ্যপ্রাচ্যগামী ২৩৮টি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়।
এয়ার গ্যালেক্সির স্টেশন ইনচার্জ মো. আসিফ চৌধুরী বলেন, ফ্লাইট বাতিলের কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে অতিরিক্ত ফ্লাইট ও অনেক ক্ষেত্রে চার্টার্ড ফ্লাইটের ব্যবস্থা করে তাদের মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে।
এসব সংকটের মধ্যেও মে মাস পর্যন্ত শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে ৩ হাজার ২৪৫টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এসব ফ্লাইটে যাতায়াত করেছেন ৩ লাখ ৭২ হাজার ২৩৭ জন যাত্রী। একই সময়ে ৪ হাজার ৫৪৮টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে আরও ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৭০০ জন যাত্রী পরিবহন করা হয়েছে। নানা সংকটের মধ্যেও এই বিপুল যাত্রীচাপ সামাল দেয়া ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।
চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন শেখ আবদুল্লাহ আলমগীর বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে এবং সিভিল এভিয়েশন সদর দফতর ও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী যাত্রীদের বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৬০৭টি এবং ফেব্রুয়ারিতে ৬৩০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালিত হয়। যুদ্ধকালীন সময় হিসেবে চিহ্নিত মার্চে ৬৭১টি, এপ্রিলে ৬৮৫টি এবং মে মাসে ৬৫২টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ওঠানামা করেছে। প্রতি মাসে গড়ে ৭৩ থেকে ৭৪ হাজার যাত্রী আন্তর্জাতিক রুটে যাতায়াত করেছেন।
যুদ্ধের কারণে আটকে পড়া যাত্রীদের সুবিধার্থে এয়ারলাইন্সগুলো যেমন বিশেষ ছাড় দিয়েছে, তেমনি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোও ভিসা বাতিল না করে মেয়াদ বাড়িয়ে সহযোগিতা করেছে। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ আনোয়ার এইচ সিদ্দিকী বলেন, বিশেষ করে রেমিট্যান্সযোদ্ধা বা প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য দেশগুলো উদার ভিসা নীতি গ্রহণ করেছিল। ফলে ক্ষতিগ্রস্তদের ভিসা বাতিল হয়নি, বরং গ্রেস পিরিয়ড দেয়া হয়েছে। যাদের ভিসার মেয়াদ বা চাকরিতে যোগদানের সময় ঘনিয়ে এসেছিল, তাদের সময়সীমাও বাড়িয়ে দেয়া হয়। পরে টিকিট পুনরায় ইস্যু হওয়ার পর তারা সংশ্লিষ্ট দেশে যেতে পেরেছেন।
২০২৫ সালে পুরো বছরে শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে ৮ হাজার ১২৪টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ৯ লাখ ৯৯ হাজার ৭৩৩ জন এবং ১১ হাজার ৩৯টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ৬ লাখ ৬৮ হাজার ২৮৮ জন যাত্রী পরিবহন করা হয়েছিল। এতে বিমানবন্দরের রাজস্ব আয় হয়েছিল ২০০ কোটিরও বেশি টাকা। প্রতি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট থেকে গড়ে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হয়। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় প্রায় ৩০ কোটি টাকার সম্ভাব্য অতিরিক্ত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরের মুখপাত্র প্রকৌশলী ইব্রাহীম খলিল বলেন, যাত্রীরা যাতে বিমানবন্দরে এসে হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য এয়ারলাইন্স প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সমন্বয় সেল গঠন করা হয়েছিল। এছাড়া বার্তা ও সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে যাত্রীদের ফ্লাইটের সর্বশেষ তথ্য জানানো হয়েছে।
২০০০ সালে আন্তর্জাতিক মর্যাদা পাওয়ার পর ২৬ বছর এবং আধুনিকায়নের ছয় বছর পেরিয়ে এলেও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেই প্রতি বছর ১৫ লাখের বেশি যাত্রী পরিবহন করে চমক দেখিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মে পর্যন্ত ১১ মাসে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ২৪৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















