নিজস্ব প্রতিবেদক :
বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক মামলায় ইন্টারপোলের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার (১৪ জুন) পুলিশ সদর দপ্তরের ঊধ্বর্তন এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বর্তমানে বেনজীর আহমেদ দুবাই পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবে দুদক।
১১ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে মামলাটি করেছিলেন দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম। ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর মামলাটি করেন তিনি। তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ নভেম্বর বেনজীরের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন হাফিজুল ইসলাম।
মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, বেনজীর আহমেদ তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দেন। তবে তদন্তে তার নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়।
তদন্তে মোট ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেলেও বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে পাওয়া গেছে ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা। ব্যয় বাদ দিলে নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। এ হিসাবে তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকা।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, এসব অর্থের অবৈধ উৎস, প্রকৃতি ও মালিকানা গোপন করে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও যৌথ মূলধনি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছেন বেনজীর আহমেদ।
গত ৩ মে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার শুরু হয়। গত ৮ মার্চ মামলার অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে সাবেক এই আইজিপির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি ছিলেন বেনজীর আহমেদ। এর আগে তিনি ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত র্যাবের মহাপরিচালক ছিলেন। তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















