ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে : প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে বিএনপি সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার ভিত্তি রচনা করেছে বলে মন্তব্য করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র খামারিদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে বিশুদ্ধ জাতের ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল ও দেশীয় ভেড়া সম্প্রসারণ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ কারণে বর্তমানে পাইলট ভিত্তিতে বাস্তবায়িত প্রকল্পটি পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় সম্প্রসারণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) সেমিনার হলে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর বাস্তবায়নাধীন ‘বিশুদ্ধ জাতের ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল ও দেশীয় ভেড়া সম্প্রসারণে পাইলট প্রকল্প’ এর অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত মূল্যবান দেশীয় জাত, যা দ্রুত বংশবিস্তার, উন্নত মাংসের গুণগত মান এবং ব্যাপক বাজার চাহিদার কারণে গ্রামীণ মানুষের জন্য লাভজনক আয়ের উৎস হতে পারে।

তিনি বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে এ খাতে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং জাতীয় অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের খামারীদের কাছে গিয়ে প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে আধুনিক প্রাণিপালন ব্যবস্থার প্রসারে কাজ করার আহ্বান জানাই।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, প্রাণিসম্পদ উৎপাদনে অপ্রয়োজনীয় ও অনিয়ন্ত্রিত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। নিরাপদ প্রাণিজ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করতে অ্যান্টিবায়োটিকের সঠিক ব্যবহার এবং সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি।

তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যা কোনো বোঝা নয়, বরং দক্ষ ও কর্মক্ষম মানবসম্পদে পরিণত করা গেলে এ জনশক্তিই দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হবে। যুবসমাজকে উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদার করতে হবে।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন। এ সময় মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গবেষক এবং খামারীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে উপস্থাপনা করেন প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আনিছুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের পরিচালক ফরিদা ইয়াসমিন।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে : প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে : প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০২:৩৭:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে বিএনপি সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার ভিত্তি রচনা করেছে বলে মন্তব্য করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র খামারিদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে বিশুদ্ধ জাতের ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল ও দেশীয় ভেড়া সম্প্রসারণ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ কারণে বর্তমানে পাইলট ভিত্তিতে বাস্তবায়িত প্রকল্পটি পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় সম্প্রসারণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) সেমিনার হলে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর বাস্তবায়নাধীন ‘বিশুদ্ধ জাতের ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল ও দেশীয় ভেড়া সম্প্রসারণে পাইলট প্রকল্প’ এর অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত মূল্যবান দেশীয় জাত, যা দ্রুত বংশবিস্তার, উন্নত মাংসের গুণগত মান এবং ব্যাপক বাজার চাহিদার কারণে গ্রামীণ মানুষের জন্য লাভজনক আয়ের উৎস হতে পারে।

তিনি বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে এ খাতে দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং জাতীয় অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের খামারীদের কাছে গিয়ে প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে আধুনিক প্রাণিপালন ব্যবস্থার প্রসারে কাজ করার আহ্বান জানাই।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, প্রাণিসম্পদ উৎপাদনে অপ্রয়োজনীয় ও অনিয়ন্ত্রিত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। নিরাপদ প্রাণিজ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করতে অ্যান্টিবায়োটিকের সঠিক ব্যবহার এবং সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি।

তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যা কোনো বোঝা নয়, বরং দক্ষ ও কর্মক্ষম মানবসম্পদে পরিণত করা গেলে এ জনশক্তিই দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হবে। যুবসমাজকে উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদার করতে হবে।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন। এ সময় মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গবেষক এবং খামারীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে উপস্থাপনা করেন প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আনিছুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের পরিচালক ফরিদা ইয়াসমিন।