আমদানিকারকদের হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা : অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে আমদানিকারকদের হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন ও বিধি-বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সাংসদ সদস্য মো. আব্দুল্লাহর এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

প্রশ্নে মো. আব্দুল্লাহ্ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে কাস্টমসের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ শতভাগ পরীক্ষার পরও পণ্য পুনঃনিরীক্ষার নামে আমদানিকারকদের নানাভাবে হয়রানি করে। তাই হয়রানি হইতে নিস্তার বা রক্ষার কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করা হইবে কিনা হইলে, তাহা কত দিনের মধ্যে কার্যকর হইবে?

উত্তরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এ ধরনের হয়রানি প্রতিরোধে কাস্টমস রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিশনারেট গঠন করা হয়েছে এবং আগামী অর্থবছরের জুলাই মাস থেকে এর কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

উক্ত ব্যবস্থা কার্যকর করার মাধ্যমে ঝুঁকিভিত্তিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে মানবীয় হস্তক্ষেপ ব্যতিরেকে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে পণ্য পরীক্ষণের জন্য নির্বাচন সম্পন্ন হবে। একই সঙ্গে ASYCUDA World সিস্টেমের Risk Management মডিউল উন্নয়নের মাধ্যমে ইতোমধ্যে স্বয়ংক্রিয় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করা হয়েছে।

পুনঃপরীক্ষণের ক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন নিশ্চিতকরণ, স্ক্যানিং প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং তদারকি কার্যক্রম জোরদারের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে হয়রানি প্রতিরোধ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া, কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে হয়রানি বা অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধান অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীনের এক প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্টার্ট-আপ ও তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকার বদ্ধপরিকর। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ২০২৬-২৭ অর্থ-বছরের বাজেটে ‘স্টার্ট-আপ’ তহবিল, নারী উদ্যোক্তা এবং তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে মোট ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

সংসদে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নিম্ন ও মধ্যম আয়ের জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নে সরকারের তিনটি বিশেষ পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় ঢাকা মহানগরের সামগ্রিক অবকাঠামো, রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে নিয়মিত প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। ঢাকা-৪ আসনের অন্তর্গত এলাকার সুনির্দিষ্ট চাহিদার ওপর ভিত্তি করে স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নিম্ন ও মধ্য আয়ের জনগোষ্ঠীর জীবনমান বাড়াতে আগামী বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার সারা দেশে ক্রমান্বয়ে সুবিধাভোগীর সংখ্যা ও ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে।

নিম্ন ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতাসহ অন্যান্য চলমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা ও বরাদ্দ আগামী অর্থ-বছরে আরও সম্প্রসারণের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে বলে তিনি জানান।
যুবসমাজকে আত্মনির্ভরশীল করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে সহজ শর্তে যুব ঋণ বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতায় ‘স্টার্ট-আপ বাংলাদেশ লিমিটেড’ এবং অর্থ বিভাগের বিভিন্ন তহবিলের মাধ্যমে দেশব্যাপী ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য কম সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, চলমান ২০২৫-২৬ অর্থ-বছরের সংশোধিত বাজেটে ‘স্টার্ট-আপ তহবিল’ খাতে ইতোমধ্যে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যুব ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা যাতে এই সুযোগ-সুবিধা এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ আরও সহজে পেতে পারেন, সেজন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও দপ্তরগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হবে। এছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থ-বছরের বাজেটে ‘স্টার্ট-আপ’ তহবিল, নারী উদ্যোক্তা তৈরি ও নারী উন্নয়ন উদ্যোক্তা তৈরিতে প্রস্তাবিত বরাদ্দ মোট ৪০০ কোটি টাকা।

কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান জানতে চান, ব্যাংকিং খাতকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার বিশেষ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কি না; করলে তা কী?

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ব্যাংকিং খাতকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সরকার একটি সুসংগঠিত ও বহুমাত্রিক রেজল্যুশন কাঠামো প্রতিষ্ঠা করেছে। যার আইনি ভিত্তি হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন ২০২৬’ কার্যকর করা হয়েছে। এই কাঠামোর আওতায় পাঁচটি সমস্যাপীড়িত ইসলামি ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ গঠন করা হয়েছে, যা একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।

তিনি জানান, ‘আমানত সুরক্ষা আইন ২০২৬’-এর মাধ্যমে আমানতকারীদের সুরক্ষিত আমানতের পরিমাণ সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর আমানতকারীরা আগে এই সুরক্ষার বাইরে থাকলেও বর্তমানে তাদেরও এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

খেলাপি ঋণ আদায় এবং ঋণশৃঙ্খলা ফেরাতে গৃহীত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথাও সংসদে তুলে ধরেন মন্ত্রী। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের (Willful defaulter) শনাক্তকরণ এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিআরপিডি সার্কুলার জারি করা হয়েছে। খেলাপি ও ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের তালিকা প্রকাশেরও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ঋণের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ: একজন ঋণগ্রহীতা সমগ্র ব্যাংকিং খাত হতে সর্বোচ্চ কত টাকা ঋণ নিতে পারবেন, তার সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হচ্ছে।

বন্ড ইস্যুর নির্দেশনা: ১০০০ কোটি টাকার বেশি বিশাল অঙ্কের অর্থায়নের ক্ষেত্রে ব্যাংকের ওপর চাপ কমিয়ে বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে ফান্ড সংগ্রহের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রিট বাণিজ্য বন্ধে উদ্যোগ: খেলাপি ঋণগ্রহীতারা যাতে উচ্চ আদালতে রিট করে ঋণ আদায় কার্যক্রম স্থগিত (Stay order) করতে না পারেন, সে লক্ষ্যে অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে আলাপ করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অর্থ ঋণ আদালতে ব্যাংকার: অর্থ ঋণ আদালতের বিচারক প্যানেল বা জুরি বোর্ডে অভিজ্ঞ ব্যাংকারদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এএমসি গঠন: বেসরকারি খাতে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (AMC) প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে।

ভালো গ্রাহকদের প্রণোদনা: দেশে উন্নত ঋণ সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে যারা নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করেন, অর্থাৎ ভালো ঋণগ্রহীতাদের চিহ্নিত করে প্রণোদনা দেওয়ার নীতিমালা হালনাগাদ করা হচ্ছে।

এছাড়া, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (ADR) মাধ্যমে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে প্রত্যেক ব্যাংকের খেলাপি ঋণস্থিতির ন্যূনতম ১ শতাংশ নগদ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি, প্রতিটি ব্যাংকের শীর্ষ ২০ খেলাপি ঋণ আদায়ের অগ্রগতি নিয়মিত যাচাই এবং যেসব ব্যাংকে ১০ শতাংশের বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে তাদের জন্য বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

সবশেষে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, একটি সুস্পষ্ট আইনি কাঠামো, স্বচ্ছ রেজল্যুশন প্রক্রিয়া এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার নিশ্চয়তা—এই তিনটি উপাদান একত্রে ব্যাংকিং খাতে আমানতকারী ও অংশীজনদের আস্থা পুনরুদ্ধারে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিক তার প্রশ্নে তরুণ উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ও বিনা সুদে ঋণ প্রদানের কোনো প্রকল্প আছে কি না, তা জানতে চান।

জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের তরুণদের জন্য বিনা সুদে কোনো ঋণ প্রকল্প চলমান নেই। তবে সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব তহবিল থেকে বিভিন্ন পুনঃঅর্থায়ন স্কিম পরিচালনা করে আসছে।
নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০ কোটির তহবিল

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত কটেজ, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র খাতে ‘নতুন উদ্যোক্তা পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’-এর তহবিলের পরিমাণ ১০০ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এই তহবিল থেকে নতুন উদ্যোক্তারা বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। এছাড়া জামানত সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

স্টর্টআপদের জন্য ৪ শতাংশ সুদে ঋণ ও ইক্যুইটি সহায়তা

স্টর্টআপ উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রাপ্তি সহজ করার লক্ষ্যে ‘স্টার্ট আপ ফান্ড’ নামে ৫০০ কোটি টাকার আরও একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করার কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, এই তহবিল থেকে উদ্যোক্তারা মাত্র ৪ শতাংশ সুদে ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন।

শুধু ঋণ নয়, স্টার্টআপ খাতের অনুকূলে ইক্যুইটি সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে ৩৯টি তফসিলি ব্যাংকের অংশীদারিতে ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি পিএলসি’ নামক একটি ইক্যুইটি ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানিও গঠন করা হয়েছে। স্টার্টআপ উদ্যোগগুলো এই কোম্পানি থেকে ইক্যুইটি সহায়তা গ্রহণ করতে পারবে।

বিনা খরচে ১০০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ ও ৫ হাজার টাকা ভাতা

উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের বিষয়টি তুলে ধরে আমির খসরু জানান, ‘Skills for Industry Competitiveness and Innovation Program (SICIP)’-এর অধীনে বাংলাদেশ ব্যাংকের চওট-ঝওঈওচ কর্তৃক পরিচালিত Entrepreneurship Development Program (EDP)-এর মাধ্যমে বিভিন্ন জেলায় সম্ভাব্য উদ্যোক্তাদের মাসব্যাপী ১০০ ঘণ্টার উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

এ প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য উদ্যোক্তাদের কোনো ফি দিতে হয় না। বরং সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা সাপেক্ষে উদ্যোক্তাদের ৫ হাজার টাকা প্রশিক্ষণ ভাতা প্রদান করা হয় এবং পরবর্তীতে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম জানতে চান, আমদানী নিয়ন্ত্রণে নানা উদ্যোগের পরও ডলার পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না এবং বৈদেশিক লেনদেনের আর্থিক হিসাবে ঘাটতি বাড়ছে কি না। এ ছাড়া ঘাটতি কমাতে আমদানি নিয়ন্ত্রণ ছাড়া সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে, তাও জানতে চান তিনি।
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে সঠিক নয়। বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে চাপ থাকলেও সরকারের সাম্প্রতিক নীতিগত পদক্ষেপের ফলে পরিস্থিতিতে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরছে। আমদানি ব্যবস্থাপনা, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, রপ্তানি আয় বাড়ানোর উদ্যোগ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে অর্থায়ন আলোচনা এক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, আমদানি নিয়ন্ত্রণই সরকারের একমাত্র কৌশল নয়। বৈধ চ্যানেলে প্রবাসী আয় বৃদ্ধি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, স্বল্পসুদী ও দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক অর্থায়ন আহরণ, মুনাফা ও মূলধন প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং বিনিময় হারকে আরও বাজারভিত্তিক ও পূর্বানুমানযোগ্য করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিরুৎসাহিত করা হলেও উৎপাদন, কৃষি, জ্বালানি, শিল্প ও রপ্তানিখাতের প্রয়োজনীয় আমদানি যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমানো, রিজার্ভ শক্তিশালী করা, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য টেকসইভাবে উন্নত করাই সরকারের লক্ষ্য।

তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে এবং বর্তমানে এক মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ১২২ থেকে ১২৩ টাকার মধ্যে অবস্থান করছে।

সংরক্ষিত নারী আসন-৩ এর এমপি রাশেদা বেগম হীরা প্রশ্ন করেছিলেন, তামাকের ওপর সুনির্দিষ্ট হারে কর বৃদ্ধি যেমন বিড়ির খুচরা মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহাল রাখিয়া ২০ শলাকা বিড়ির খুচরা মূল্য আরও বৃদ্ধি করিয়া অধিক সম্পূরক শুল্ক এবং সুনির্দিষ্ট কর আরোপ করিবেন কিনা?

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেটে বিড়ি ক্ষেত্রে মূল্য এবং করহার পূর্বের বছরের ন্যায় অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ব্রাজিলে যোগ দিলেন যুবক

আমদানিকারকদের হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা : অর্থমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৮:১১:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে আমদানিকারকদের হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন ও বিধি-বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সাংসদ সদস্য মো. আব্দুল্লাহর এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

প্রশ্নে মো. আব্দুল্লাহ্ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে কাস্টমসের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ শতভাগ পরীক্ষার পরও পণ্য পুনঃনিরীক্ষার নামে আমদানিকারকদের নানাভাবে হয়রানি করে। তাই হয়রানি হইতে নিস্তার বা রক্ষার কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করা হইবে কিনা হইলে, তাহা কত দিনের মধ্যে কার্যকর হইবে?

উত্তরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এ ধরনের হয়রানি প্রতিরোধে কাস্টমস রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিশনারেট গঠন করা হয়েছে এবং আগামী অর্থবছরের জুলাই মাস থেকে এর কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

উক্ত ব্যবস্থা কার্যকর করার মাধ্যমে ঝুঁকিভিত্তিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে মানবীয় হস্তক্ষেপ ব্যতিরেকে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে পণ্য পরীক্ষণের জন্য নির্বাচন সম্পন্ন হবে। একই সঙ্গে ASYCUDA World সিস্টেমের Risk Management মডিউল উন্নয়নের মাধ্যমে ইতোমধ্যে স্বয়ংক্রিয় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করা হয়েছে।

পুনঃপরীক্ষণের ক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন নিশ্চিতকরণ, স্ক্যানিং প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং তদারকি কার্যক্রম জোরদারের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে হয়রানি প্রতিরোধ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া, কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে হয়রানি বা অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধান অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীনের এক প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্টার্ট-আপ ও তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকার বদ্ধপরিকর। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ২০২৬-২৭ অর্থ-বছরের বাজেটে ‘স্টার্ট-আপ’ তহবিল, নারী উদ্যোক্তা এবং তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে মোট ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

সংসদে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নিম্ন ও মধ্যম আয়ের জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নে সরকারের তিনটি বিশেষ পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় ঢাকা মহানগরের সামগ্রিক অবকাঠামো, রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে নিয়মিত প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। ঢাকা-৪ আসনের অন্তর্গত এলাকার সুনির্দিষ্ট চাহিদার ওপর ভিত্তি করে স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নিম্ন ও মধ্য আয়ের জনগোষ্ঠীর জীবনমান বাড়াতে আগামী বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার সারা দেশে ক্রমান্বয়ে সুবিধাভোগীর সংখ্যা ও ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে।

নিম্ন ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতাসহ অন্যান্য চলমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা ও বরাদ্দ আগামী অর্থ-বছরে আরও সম্প্রসারণের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে বলে তিনি জানান।
যুবসমাজকে আত্মনির্ভরশীল করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে সহজ শর্তে যুব ঋণ বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতায় ‘স্টার্ট-আপ বাংলাদেশ লিমিটেড’ এবং অর্থ বিভাগের বিভিন্ন তহবিলের মাধ্যমে দেশব্যাপী ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য কম সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, চলমান ২০২৫-২৬ অর্থ-বছরের সংশোধিত বাজেটে ‘স্টার্ট-আপ তহবিল’ খাতে ইতোমধ্যে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যুব ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা যাতে এই সুযোগ-সুবিধা এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ আরও সহজে পেতে পারেন, সেজন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও দপ্তরগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হবে। এছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থ-বছরের বাজেটে ‘স্টার্ট-আপ’ তহবিল, নারী উদ্যোক্তা তৈরি ও নারী উন্নয়ন উদ্যোক্তা তৈরিতে প্রস্তাবিত বরাদ্দ মোট ৪০০ কোটি টাকা।

কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান জানতে চান, ব্যাংকিং খাতকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার বিশেষ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কি না; করলে তা কী?

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ব্যাংকিং খাতকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সরকার একটি সুসংগঠিত ও বহুমাত্রিক রেজল্যুশন কাঠামো প্রতিষ্ঠা করেছে। যার আইনি ভিত্তি হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন ২০২৬’ কার্যকর করা হয়েছে। এই কাঠামোর আওতায় পাঁচটি সমস্যাপীড়িত ইসলামি ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ গঠন করা হয়েছে, যা একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।

তিনি জানান, ‘আমানত সুরক্ষা আইন ২০২৬’-এর মাধ্যমে আমানতকারীদের সুরক্ষিত আমানতের পরিমাণ সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর আমানতকারীরা আগে এই সুরক্ষার বাইরে থাকলেও বর্তমানে তাদেরও এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

খেলাপি ঋণ আদায় এবং ঋণশৃঙ্খলা ফেরাতে গৃহীত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথাও সংসদে তুলে ধরেন মন্ত্রী। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের (Willful defaulter) শনাক্তকরণ এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিআরপিডি সার্কুলার জারি করা হয়েছে। খেলাপি ও ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের তালিকা প্রকাশেরও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ঋণের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ: একজন ঋণগ্রহীতা সমগ্র ব্যাংকিং খাত হতে সর্বোচ্চ কত টাকা ঋণ নিতে পারবেন, তার সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হচ্ছে।

বন্ড ইস্যুর নির্দেশনা: ১০০০ কোটি টাকার বেশি বিশাল অঙ্কের অর্থায়নের ক্ষেত্রে ব্যাংকের ওপর চাপ কমিয়ে বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে ফান্ড সংগ্রহের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রিট বাণিজ্য বন্ধে উদ্যোগ: খেলাপি ঋণগ্রহীতারা যাতে উচ্চ আদালতে রিট করে ঋণ আদায় কার্যক্রম স্থগিত (Stay order) করতে না পারেন, সে লক্ষ্যে অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে আলাপ করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অর্থ ঋণ আদালতে ব্যাংকার: অর্থ ঋণ আদালতের বিচারক প্যানেল বা জুরি বোর্ডে অভিজ্ঞ ব্যাংকারদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এএমসি গঠন: বেসরকারি খাতে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (AMC) প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে।

ভালো গ্রাহকদের প্রণোদনা: দেশে উন্নত ঋণ সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে যারা নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করেন, অর্থাৎ ভালো ঋণগ্রহীতাদের চিহ্নিত করে প্রণোদনা দেওয়ার নীতিমালা হালনাগাদ করা হচ্ছে।

এছাড়া, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (ADR) মাধ্যমে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে প্রত্যেক ব্যাংকের খেলাপি ঋণস্থিতির ন্যূনতম ১ শতাংশ নগদ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি, প্রতিটি ব্যাংকের শীর্ষ ২০ খেলাপি ঋণ আদায়ের অগ্রগতি নিয়মিত যাচাই এবং যেসব ব্যাংকে ১০ শতাংশের বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে তাদের জন্য বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

সবশেষে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, একটি সুস্পষ্ট আইনি কাঠামো, স্বচ্ছ রেজল্যুশন প্রক্রিয়া এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার নিশ্চয়তা—এই তিনটি উপাদান একত্রে ব্যাংকিং খাতে আমানতকারী ও অংশীজনদের আস্থা পুনরুদ্ধারে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিক তার প্রশ্নে তরুণ উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ও বিনা সুদে ঋণ প্রদানের কোনো প্রকল্প আছে কি না, তা জানতে চান।

জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের তরুণদের জন্য বিনা সুদে কোনো ঋণ প্রকল্প চলমান নেই। তবে সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব তহবিল থেকে বিভিন্ন পুনঃঅর্থায়ন স্কিম পরিচালনা করে আসছে।
নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০ কোটির তহবিল

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত কটেজ, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র খাতে ‘নতুন উদ্যোক্তা পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’-এর তহবিলের পরিমাণ ১০০ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এই তহবিল থেকে নতুন উদ্যোক্তারা বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। এছাড়া জামানত সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

স্টর্টআপদের জন্য ৪ শতাংশ সুদে ঋণ ও ইক্যুইটি সহায়তা

স্টর্টআপ উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রাপ্তি সহজ করার লক্ষ্যে ‘স্টার্ট আপ ফান্ড’ নামে ৫০০ কোটি টাকার আরও একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করার কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, এই তহবিল থেকে উদ্যোক্তারা মাত্র ৪ শতাংশ সুদে ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন।

শুধু ঋণ নয়, স্টার্টআপ খাতের অনুকূলে ইক্যুইটি সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে ৩৯টি তফসিলি ব্যাংকের অংশীদারিতে ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি পিএলসি’ নামক একটি ইক্যুইটি ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানিও গঠন করা হয়েছে। স্টার্টআপ উদ্যোগগুলো এই কোম্পানি থেকে ইক্যুইটি সহায়তা গ্রহণ করতে পারবে।

বিনা খরচে ১০০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ ও ৫ হাজার টাকা ভাতা

উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের বিষয়টি তুলে ধরে আমির খসরু জানান, ‘Skills for Industry Competitiveness and Innovation Program (SICIP)’-এর অধীনে বাংলাদেশ ব্যাংকের চওট-ঝওঈওচ কর্তৃক পরিচালিত Entrepreneurship Development Program (EDP)-এর মাধ্যমে বিভিন্ন জেলায় সম্ভাব্য উদ্যোক্তাদের মাসব্যাপী ১০০ ঘণ্টার উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

এ প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য উদ্যোক্তাদের কোনো ফি দিতে হয় না। বরং সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা সাপেক্ষে উদ্যোক্তাদের ৫ হাজার টাকা প্রশিক্ষণ ভাতা প্রদান করা হয় এবং পরবর্তীতে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম জানতে চান, আমদানী নিয়ন্ত্রণে নানা উদ্যোগের পরও ডলার পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না এবং বৈদেশিক লেনদেনের আর্থিক হিসাবে ঘাটতি বাড়ছে কি না। এ ছাড়া ঘাটতি কমাতে আমদানি নিয়ন্ত্রণ ছাড়া সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে, তাও জানতে চান তিনি।
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে সঠিক নয়। বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে চাপ থাকলেও সরকারের সাম্প্রতিক নীতিগত পদক্ষেপের ফলে পরিস্থিতিতে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা ফিরছে। আমদানি ব্যবস্থাপনা, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, রপ্তানি আয় বাড়ানোর উদ্যোগ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে অর্থায়ন আলোচনা এক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, আমদানি নিয়ন্ত্রণই সরকারের একমাত্র কৌশল নয়। বৈধ চ্যানেলে প্রবাসী আয় বৃদ্ধি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, স্বল্পসুদী ও দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক অর্থায়ন আহরণ, মুনাফা ও মূলধন প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং বিনিময় হারকে আরও বাজারভিত্তিক ও পূর্বানুমানযোগ্য করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিরুৎসাহিত করা হলেও উৎপাদন, কৃষি, জ্বালানি, শিল্প ও রপ্তানিখাতের প্রয়োজনীয় আমদানি যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমানো, রিজার্ভ শক্তিশালী করা, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য টেকসইভাবে উন্নত করাই সরকারের লক্ষ্য।

তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে এবং বর্তমানে এক মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ১২২ থেকে ১২৩ টাকার মধ্যে অবস্থান করছে।

সংরক্ষিত নারী আসন-৩ এর এমপি রাশেদা বেগম হীরা প্রশ্ন করেছিলেন, তামাকের ওপর সুনির্দিষ্ট হারে কর বৃদ্ধি যেমন বিড়ির খুচরা মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহাল রাখিয়া ২০ শলাকা বিড়ির খুচরা মূল্য আরও বৃদ্ধি করিয়া অধিক সম্পূরক শুল্ক এবং সুনির্দিষ্ট কর আরোপ করিবেন কিনা?

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেটে বিড়ি ক্ষেত্রে মূল্য এবং করহার পূর্বের বছরের ন্যায় অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।