ঝুলন্ত সেতু এলাকার উন্নয়ন কাজে ধীরগতি, বিপাকে পর্যটক

রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি : 

রাঙ্গামাটি পর্যটন শিল্পের আইকনিক স্থান ঝুলন্ত সেতু। যেখানে প্রতিদিন ভিড় জমায় ভ্রমণপিপাসুরা। সেতু পার হয়ে অপর প্রান্তে দর্শনীয় স্থানে যেতে বিপাকে পড়তে হচ্ছে পর্যটকদের। নির্মাণাধীন সিঁড়ির কাজ শেষ না হওয়ায় এই বিড়ম্বনা। পর্যটকের একমাত্র চলাচলের এই রাস্তায় পড়ে আছে রড। সেই রডের ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে শত শত পর্যটক। শুধু তাই নয়, যেখানে সেখানে স্তূপ করে রাখা হয়েছে নির্মাণ সামগ্রী।

পর্যটকদের চলাচলের সুবিধার্থে পূর্বের ভাঙাচোরা রাস্তা সংস্কার ও সম্প্রসারণে কাজ চলছে। হস্তান্তরিত বিভাগ হিসেবে প্রথমবারের মতো এই সেতু এলাকায় এমন উন্নয়ন কাজ করছে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ। তবে এরই মধ্যে কিছু কাজ শেষে হলেও গুরুত্বপূর্ণ এই সিঁড়ির কাজের ধীরগতির কারণে সমস্যায় পড়তে পর্যটকদের। আইকনিক পর্যটন কেন্দ্রের এমন দশায় হতাশ পর্যটকরা।

স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, সেতু থেকে ওপরের ওঠার এই স্থানে সিড়ি নির্মাণের কাজটি প্রায় চার মাস ধরে চলছে। যেখানে মাসে সিঁড়ির দুই থেকে তিনটি ধার নির্মাণ করছে ঠিকাদার। এই সামান্য স্থানে কাজ করতে কাজে কি এত সময় লাগে?’

ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা সাইদ আনোযার বলেন, এমন একটা দর্শনীয স্থানে এসে যদি দেখে যেখানে সেখান নির্মাণ সামগ্রী পড়ে আছে। যার ফলে আমাদের চালাচলে সমস্যা হচ্ছে, এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

রমজান আলী বলেন, এই রাস্তায় চলাচল করতে আমাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে। রডের ওপর দিয়ে হাঁটতে হচ্ছে। এই ঢালু জায়গার বেশ কযেকটি স্থানে রডের মাথা বের হয়ে আছে। সেখান দিয়ে সকলে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানাচ্ছি।

নোয়াখালীর থেকে আসা রুহুল আমিন বলেন, এই কাজ করার এটাই কি উপযুক্ত সময়? কর্তৃপক্ষের কাছে সেই প্রশ্ন রাখলাম। আমার ট্যুর এজেন্সি আছে। সেই সুবাদে আমি প্রায়ই পর্যটক নিয়ে রাঙ্গামাটি আসি। মাস দুয়েক আগেও একবার এসেছিলাম। তখন তেমন পর্যটক ছিল না। তখন কেন এই কাজ করা হলো না? সামনের বর্ষায় আমি দুইটি গ্রুপ নিয়ে আবার আসব। একজন গাইড ও পর্যটক হিসেবে মনে করি কাজটা এখন শুরু করাটা কোনোভাবেই পর্যটক বান্ধব সিদ্ধান্ত হয়নি।

রাঙ্গামাটি পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক আলক বিকাশ চাকমা বলেন, হস্তান্তরিত বিভাগ হিসেবে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ এই উন্নযন কাজ করছে। খুবই ধীরগতিতে কাজ চলছে। তাই দ্রুত উন্নয়ন কাজটি শেষ করতে জেলা পরিষদের কাছে আহ্বান জানাই।

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার বলেন, কাজের বিষয়টি আমি অবগত হযেছি। আমার প্রকৌশল শাখা ও ঠিকাদারকে নির্দেশনা দিয়েছি, দ্রুত কাজ শেষ করতে। আশা করছি ত্রুতই কাজ শেষ হবে। পর্যটকদের বিড়ম্বনার অবসান হবে।

জেলা পরিষদের তথ্য মতে, ঝুলন্ত সেতু এলাকার রাস্তা, সিঁড়িসহ সার্বিক উন্নয়নের ব্যয় ধরা হয়েছে দেড় কোটি টাকা।

জনপ্রিয় খবর

আবহাওয়া

ঝুলন্ত সেতু এলাকার উন্নয়ন কাজে ধীরগতি, বিপাকে পর্যটক

প্রকাশের সময় : ০৪:৩০:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি : 

রাঙ্গামাটি পর্যটন শিল্পের আইকনিক স্থান ঝুলন্ত সেতু। যেখানে প্রতিদিন ভিড় জমায় ভ্রমণপিপাসুরা। সেতু পার হয়ে অপর প্রান্তে দর্শনীয় স্থানে যেতে বিপাকে পড়তে হচ্ছে পর্যটকদের। নির্মাণাধীন সিঁড়ির কাজ শেষ না হওয়ায় এই বিড়ম্বনা। পর্যটকের একমাত্র চলাচলের এই রাস্তায় পড়ে আছে রড। সেই রডের ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে শত শত পর্যটক। শুধু তাই নয়, যেখানে সেখানে স্তূপ করে রাখা হয়েছে নির্মাণ সামগ্রী।

পর্যটকদের চলাচলের সুবিধার্থে পূর্বের ভাঙাচোরা রাস্তা সংস্কার ও সম্প্রসারণে কাজ চলছে। হস্তান্তরিত বিভাগ হিসেবে প্রথমবারের মতো এই সেতু এলাকায় এমন উন্নয়ন কাজ করছে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ। তবে এরই মধ্যে কিছু কাজ শেষে হলেও গুরুত্বপূর্ণ এই সিঁড়ির কাজের ধীরগতির কারণে সমস্যায় পড়তে পর্যটকদের। আইকনিক পর্যটন কেন্দ্রের এমন দশায় হতাশ পর্যটকরা।

স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, সেতু থেকে ওপরের ওঠার এই স্থানে সিড়ি নির্মাণের কাজটি প্রায় চার মাস ধরে চলছে। যেখানে মাসে সিঁড়ির দুই থেকে তিনটি ধার নির্মাণ করছে ঠিকাদার। এই সামান্য স্থানে কাজ করতে কাজে কি এত সময় লাগে?’

ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা সাইদ আনোযার বলেন, এমন একটা দর্শনীয স্থানে এসে যদি দেখে যেখানে সেখান নির্মাণ সামগ্রী পড়ে আছে। যার ফলে আমাদের চালাচলে সমস্যা হচ্ছে, এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

রমজান আলী বলেন, এই রাস্তায় চলাচল করতে আমাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে। রডের ওপর দিয়ে হাঁটতে হচ্ছে। এই ঢালু জায়গার বেশ কযেকটি স্থানে রডের মাথা বের হয়ে আছে। সেখান দিয়ে সকলে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানাচ্ছি।

নোয়াখালীর থেকে আসা রুহুল আমিন বলেন, এই কাজ করার এটাই কি উপযুক্ত সময়? কর্তৃপক্ষের কাছে সেই প্রশ্ন রাখলাম। আমার ট্যুর এজেন্সি আছে। সেই সুবাদে আমি প্রায়ই পর্যটক নিয়ে রাঙ্গামাটি আসি। মাস দুয়েক আগেও একবার এসেছিলাম। তখন তেমন পর্যটক ছিল না। তখন কেন এই কাজ করা হলো না? সামনের বর্ষায় আমি দুইটি গ্রুপ নিয়ে আবার আসব। একজন গাইড ও পর্যটক হিসেবে মনে করি কাজটা এখন শুরু করাটা কোনোভাবেই পর্যটক বান্ধব সিদ্ধান্ত হয়নি।

রাঙ্গামাটি পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক আলক বিকাশ চাকমা বলেন, হস্তান্তরিত বিভাগ হিসেবে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ এই উন্নযন কাজ করছে। খুবই ধীরগতিতে কাজ চলছে। তাই দ্রুত উন্নয়ন কাজটি শেষ করতে জেলা পরিষদের কাছে আহ্বান জানাই।

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার বলেন, কাজের বিষয়টি আমি অবগত হযেছি। আমার প্রকৌশল শাখা ও ঠিকাদারকে নির্দেশনা দিয়েছি, দ্রুত কাজ শেষ করতে। আশা করছি ত্রুতই কাজ শেষ হবে। পর্যটকদের বিড়ম্বনার অবসান হবে।

জেলা পরিষদের তথ্য মতে, ঝুলন্ত সেতু এলাকার রাস্তা, সিঁড়িসহ সার্বিক উন্নয়নের ব্যয় ধরা হয়েছে দেড় কোটি টাকা।