Dhaka বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামায়াতকে কখনই ক্ষমতায় আনবে না এ দেশের মানুষ : মির্জা ফখরুল

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি : 

এ দেশের মানুষ জামায়াতে ইসলামীকে কখনই ক্ষমতায় আনবে না বলে দৃঢ়তার সঙ্গে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ক মন্ত্রণায়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই জামায়াতে ইসলামী ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছিল এবং আমাদের মা-বোনদেদর সম্ভ্রমহানি ঘটিয়েছিল। তাই এ দেশের মানুষ কোনোমতে তাদের ক্ষমতায় আনতে পারি না। আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই। যারা মিথ্যাচার করে, দেশের মানুষ কখনও তাদের ক্ষমতায় আনবে না।

বুধবার (২০ মে) দুপুর ১২টায় ঠাকুরগাঁওয়ের শিবগঞ্জে অবস্থিত পরিত্যক্ত বিমানবন্দর চত্বরে জেলা বিএনপি আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াতের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, একটা দল আছে যারা ধর্মের নামে রাজনীতি করে। বলেন তো দলটার নাম কী? খুব মিথ্যা কথা বলে। সত্য কথা বলে জনগণের রাজনীতি করতে হবে। নির্বাচনের আগে তারা বলছে এসে গেছে, এসে গেছে, জামায়াত ক্ষমতায় এসে গেছে। এসেছে ক্ষমতায়? তারা ভবিষ্যতেও ক্ষমতায় আসতে পারবে না।

তিনি বলেন, কিছু দল আর গোষ্ঠী আছে যারা অপপ্রচার করছে। আমরা নাকি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চাই না। বিএনপি নাকি সংস্কার করতে চায় না; এটা যারা বলেন তারা মিথ্যা কথা বলেন। মিথ্যাচার করবেন না, জনগণ ক্ষমা করবে না।

‘জুলাই সনদ’ নিয়ে জামায়াতে ইসলামী মিথ্যাচার করছে বলে জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে জামায়াত অপপ্রচার চালাচ্ছে, মিথ্যা ছড়াচ্ছে, জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে- আমরা নাকি ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন চাই না! অথচ আমরাই ‘জুলাই সনদ’ তৈরি করেছি, সংস্কার আমাদের, আমরাই সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি। মিথ্যাচারের জন্য জনগণ জামায়াতকে ক্ষমা করবে না। আমি পরিষ্কার করে বলতেছি, জামায়াতকে কখনই এই দেশের জনগণ ক্ষমতা আনবে না। কারণ, তারা ১৯৭১ সালে আমার স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল; আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছে। আমাদের মা-বোনদের সম্ভ্রম বিনষ্ট করেছে। জামায়াতকে কোনোভাবেই এই দেশের মানুষ ক্ষমতা আনতে পারে না।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই, গণতান্ত্রিকভাবে করতে চাই; তার অর্থ এই নয় যে- আপনারা দেশের স্বাধীনতার বাইরে গিয়ে কথা বলবেন, অস্তিত্বের বিরুদ্ধে কথা বলবেন আর আমরা সেটা মেনে নিয়ে কাজ করব, এই দেশের মানুষ তা করতে দেবে না। আমি পরিষ্কার করে বলছি, মিথ্যাচার করবেন না, জনগণ আপনাদেরকে ক্ষমা করবে না। আমরা প্রতিটি শর্ত ‘জুলাই সনদে’ পালন করেছি।

বিএনপি নেতা বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি হচ্ছে মানুষের জন্য রাজনীতি। অতএব এখানে কোনো ধরনের বিভাজন থাকবে না। এখানে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই একসঙ্গে থাকবে; সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। এখানে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িকতা থাকবে না।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ নতুন রাজনৈতিক দিগন্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালু নিয়ে এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে বিমানবন্দরটি চালু করা হবে। তারেক রহমান নির্বাচনের পূর্বে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছিলেন, এয়ারপোর্ট হবেই। বলার সঙ্গে সঙ্গে পুরো মাঠ উজ্জীবিত হয়ে উঠেছিল। আমরা সবাই যাতায়াত করতে পারব না, কিন্তু এটা আমাদের গর্ব। আমরা বলতে পারব, আমাদের একটি বিমানবন্দর আছে।

তিনি আরও জানান, প্রকল্পটি ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা বিভাগের ‘সবুজ পাতায়’ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মিজ আফরোজা খানম বলেন, আপনাদের ধৈর্য ধরতে হবে। একটু সময় লাগবে। এমনভাবে করতে চাইনা যে দু-দিন পর বন্ধ হয়ে যায়। আমরা স্থায়ী বন্দোবস্ত করতে চাই। তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে ওয়াদা করে গেলাম, সেটা যাতে রক্ষা করতে পারি। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিমানবন্দর চালু করা হবে। এই বিশ্বাসটুকু রাখেন। যত কম সময়ের মধ্যে চালু করা দরকার সেটা আমরা রাতদিন পরিশ্রম করে করব।

ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিনের সভাপতিত্বে এসময় জেলা বিএনপির নেতা-কর্মী, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্য, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

আর বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘‘আগামী দুই বছরের মধ্যে বিমানবন্দরটির কার্যক্রম চালুর চেষ্টা করা হবে।’’

ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিনের সভাপতিত্বে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- ঠাকুরগাঁওয়ে নবগঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডক্টর ইসরাফিল শাহীন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ডাক্তার আব্দুস সালাম, জাহিদুর রহমান, ইএসডিও নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ্জামান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বিমান পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ স্থানীয় উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, সুধীজন এবং দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আবহাওয়া

জামায়াতকে কখনই ক্ষমতায় আনবে না এ দেশের মানুষ : মির্জা ফখরুল

প্রকাশের সময় : ০৭:৫৯:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি : 

এ দেশের মানুষ জামায়াতে ইসলামীকে কখনই ক্ষমতায় আনবে না বলে দৃঢ়তার সঙ্গে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ক মন্ত্রণায়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই জামায়াতে ইসলামী ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছিল এবং আমাদের মা-বোনদেদর সম্ভ্রমহানি ঘটিয়েছিল। তাই এ দেশের মানুষ কোনোমতে তাদের ক্ষমতায় আনতে পারি না। আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই। যারা মিথ্যাচার করে, দেশের মানুষ কখনও তাদের ক্ষমতায় আনবে না।

বুধবার (২০ মে) দুপুর ১২টায় ঠাকুরগাঁওয়ের শিবগঞ্জে অবস্থিত পরিত্যক্ত বিমানবন্দর চত্বরে জেলা বিএনপি আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াতের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, একটা দল আছে যারা ধর্মের নামে রাজনীতি করে। বলেন তো দলটার নাম কী? খুব মিথ্যা কথা বলে। সত্য কথা বলে জনগণের রাজনীতি করতে হবে। নির্বাচনের আগে তারা বলছে এসে গেছে, এসে গেছে, জামায়াত ক্ষমতায় এসে গেছে। এসেছে ক্ষমতায়? তারা ভবিষ্যতেও ক্ষমতায় আসতে পারবে না।

তিনি বলেন, কিছু দল আর গোষ্ঠী আছে যারা অপপ্রচার করছে। আমরা নাকি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চাই না। বিএনপি নাকি সংস্কার করতে চায় না; এটা যারা বলেন তারা মিথ্যা কথা বলেন। মিথ্যাচার করবেন না, জনগণ ক্ষমা করবে না।

‘জুলাই সনদ’ নিয়ে জামায়াতে ইসলামী মিথ্যাচার করছে বলে জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে জামায়াত অপপ্রচার চালাচ্ছে, মিথ্যা ছড়াচ্ছে, জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে- আমরা নাকি ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন চাই না! অথচ আমরাই ‘জুলাই সনদ’ তৈরি করেছি, সংস্কার আমাদের, আমরাই সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি। মিথ্যাচারের জন্য জনগণ জামায়াতকে ক্ষমা করবে না। আমি পরিষ্কার করে বলতেছি, জামায়াতকে কখনই এই দেশের জনগণ ক্ষমতা আনবে না। কারণ, তারা ১৯৭১ সালে আমার স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল; আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছে। আমাদের মা-বোনদের সম্ভ্রম বিনষ্ট করেছে। জামায়াতকে কোনোভাবেই এই দেশের মানুষ ক্ষমতা আনতে পারে না।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই, গণতান্ত্রিকভাবে করতে চাই; তার অর্থ এই নয় যে- আপনারা দেশের স্বাধীনতার বাইরে গিয়ে কথা বলবেন, অস্তিত্বের বিরুদ্ধে কথা বলবেন আর আমরা সেটা মেনে নিয়ে কাজ করব, এই দেশের মানুষ তা করতে দেবে না। আমি পরিষ্কার করে বলছি, মিথ্যাচার করবেন না, জনগণ আপনাদেরকে ক্ষমা করবে না। আমরা প্রতিটি শর্ত ‘জুলাই সনদে’ পালন করেছি।

বিএনপি নেতা বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি হচ্ছে মানুষের জন্য রাজনীতি। অতএব এখানে কোনো ধরনের বিভাজন থাকবে না। এখানে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই একসঙ্গে থাকবে; সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। এখানে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িকতা থাকবে না।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ নতুন রাজনৈতিক দিগন্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালু নিয়ে এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে বিমানবন্দরটি চালু করা হবে। তারেক রহমান নির্বাচনের পূর্বে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছিলেন, এয়ারপোর্ট হবেই। বলার সঙ্গে সঙ্গে পুরো মাঠ উজ্জীবিত হয়ে উঠেছিল। আমরা সবাই যাতায়াত করতে পারব না, কিন্তু এটা আমাদের গর্ব। আমরা বলতে পারব, আমাদের একটি বিমানবন্দর আছে।

তিনি আরও জানান, প্রকল্পটি ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা বিভাগের ‘সবুজ পাতায়’ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মিজ আফরোজা খানম বলেন, আপনাদের ধৈর্য ধরতে হবে। একটু সময় লাগবে। এমনভাবে করতে চাইনা যে দু-দিন পর বন্ধ হয়ে যায়। আমরা স্থায়ী বন্দোবস্ত করতে চাই। তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে ওয়াদা করে গেলাম, সেটা যাতে রক্ষা করতে পারি। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিমানবন্দর চালু করা হবে। এই বিশ্বাসটুকু রাখেন। যত কম সময়ের মধ্যে চালু করা দরকার সেটা আমরা রাতদিন পরিশ্রম করে করব।

ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিনের সভাপতিত্বে এসময় জেলা বিএনপির নেতা-কর্মী, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্য, শিল্পপতি, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

আর বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘‘আগামী দুই বছরের মধ্যে বিমানবন্দরটির কার্যক্রম চালুর চেষ্টা করা হবে।’’

ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিনের সভাপতিত্বে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- ঠাকুরগাঁওয়ে নবগঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডক্টর ইসরাফিল শাহীন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ডাক্তার আব্দুস সালাম, জাহিদুর রহমান, ইএসডিও নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ্জামান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বিমান পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ স্থানীয় উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, সুধীজন এবং দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।