Dhaka বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পদ্মার পাশাপাশি তিস্তা ব্যারাজেও হাত দেবে বিএনপি : প্রধানমন্ত্রী

গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি : 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, গত ২০ বছরে আমরা ভূগর্ভস্থ যে পরিমাণ পানি নিচে থেকে টেনে ওপরে তুলেছি, খাল ও নদী খনন করে এবং বর্ষা মৌসুমের অতিরিক্ত পানি যদি আমরা ছড়িয়েও দিই, তবু আগামী ২০ বছরের তা রিচার্জ হবে না। তাই কোনোভাবেই ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করা যাবে না। ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার আমাদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে যাচ্ছে।’ সবার জন্য পানি পেতে পদ্মা ব্যারাজের পাশাপাশি বিএনপি তিস্তা ব্যারাজেও হাত দেবে।

বুধবার (২০ মে) বিকেল ৩টার দিকে গাজীপুরের টঙ্গী সাতাইশ এলাকায় জাতীয় দুর্যোগ ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উদ্বোধন অনুষ্ঠান ও সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, আমাদের নির্বাচনী যে মেনিফেস্টো ছিল, যে মিটিং ছিল সেখানে উল্লেখ করেছি- আমরা খাল খনন কর্মসূচি শুরু করবো। আমরা সরকার গঠন করেছি এবং আমাদের প্রতিশ্রুত সেই খাল খনন শুরু করেছি। কারণ এই খাল খনন কর্মসূচির সাথে মানুষের জীবন ওতপ্রোতভাবে জড়িত, কৃষি জড়িত, ভূমিকম্প পর্যন্ত জড়িত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারে সমুদ্রের তীর ধরে একটি রাস্তা নির্মাণ হচ্ছে। সেখানে দেখলাম ৩ শতাধিক গাছ কেটে ফেলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানালাম। যাতে ডিজাইনটা পরিবর্তন করা হয়। গাছ যাতে রক্ষা পায়।

তিনি বলেন, আমরা গত ২০ বছরে যে পরিমাণ পানি মাটির তলদেশ থেকে টেনে তুলেছি, এই পরিমাণ পানি যদি খাল খননের মাধ্যমে সারাদেশে ছড়িয়েও দেই, বিশেষ করে বর্ষাকালে আসা পানি যদি এই খালের মধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে দেই, তবুও ২০ বছর সময় লাগবে ঘাটতি পূরণ করতে। এই ২০ বছরে দেশের জনসংখ্যা আরও বাড়বে। এর ফলের খাদ্য উৎপাদন আমাদের আরও বাড়াতে হবে। আমাদেরকে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করা কমাতে হবে। এটি আমাদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে যাবে। এ বিষয়টিও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত। তাই আমাদের খাল খনন করতে হবে।

May be an image of one or more people and dais

তারেক রহমান বলেন, আপনারা জানেন যে দেশের উত্তর এবং দক্ষিণাঞ্চলে পদ্মা নদীতে একটি ব্যারাজ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সীমান্তের ওপারে তারা ব্যারাজ তৈরি করে বিভিন্নভাবে পানি সংগ্রহ করছে। এ কারণে শুষ্ক মৌসুমে আমরা নদীতে পানি কম পাচ্ছি। এ কারণে নদীতে দ্রুত পানি কমে যাচ্ছে, ধীরে ধীরে আশপাশগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। ছোটবেলায় আমরা দেখেছি পদ্মার এপার থেকে ওইপাড় দেখা যায় না। এখন দেখা যায় না। শুধু আগে পানি ছিল, আর এখন পানি নেই। ব্যারাজটি এ কারণেই করতে চাচ্ছি যাতে শুষ্ক মৌসুম অথবা বর্ষা মৌসুমেও আমাদের দেশের মানুষ যাতে পানি সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে। আরেকটি বিপজ্জনক বিষয় হলো ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের ফলে আমাদের নদীতে পানি কম। যার ফলে সুমদ্র থেকে নোনা জল ধীরে ধীরে দক্ষিণাঞ্চলে উঠে আসছে। এতে সুন্দরবনসহ ওইসব এলাকার ফসলি জমি, পশুপাখি, ও জনাপদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণে আমরা ব্যারাজ নির্মাণের মাধ্যমে বর্ষা মৌসুমে যে পানিটি ধরে রাখতে সক্ষম হবো, সেই পানি শুষ্ক মৌসুমে ওই অঞ্চলের মানুষের কাজে ব্যবহার করবো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের জন্য এই বিএনপি সরকার আগামীতে পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণ প্রকল্পে হাত দেবে। যারা বিভিন্ন বড় বড় কথা বলছেন তাদের পরিষ্কারভাবে বলতে চাই- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রীর নেতৃত্বে এই বিএনপি সরকার তিস্তা পাড়ে কর্মসূচি পালন করেছে। এটা অন্য কোনো সরকার করে নাই। তাই বলতে চাই এই তিস্তা ব্যারাজও বিএনপি সরকার বাস্তবায়ন করব। যেহেতু আমরা দুর্যোগকে থামাতে পারবো না সেহেতু আমরা কীভাবে দুর্যোগ মোকাবিলা করা যায় সেটি সম্পর্কে সচেতন হই।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতি ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, যারা বড় বড় কথা বলছে, তাদের উদ্দেশ্যে পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, এই যে আজকে এখানে দুর্যোগমন্ত্রী (আসাদুল হাবিব দুলু) বসে আছেন, এই লোকটার নেতৃত্বেই তিস্তায় বিএনপি কর্মসূচি পালন করেছে; যা বাংলাদেশে অন্য কোনো রাজনৈতিক দল করে নাই। তারা হয়ত বড় বড় কথা বলেছে, গরম গরম কথা বলেছে। কিন্তু কাজ যদি কেউ করে থাকে, ডেলিভারি যদি কেউ করে থাকে, পরিস্থিতি যদি কেউ তৈরি করে থাকে সেটা বিএনপিই করেছে।

May be an image of one or more people, dais and text

পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ কেন জরুরি, তার ব্যাখ্যা দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, “আপনারা পত্রিকায় দেখেছেন কয়েকদিন আগে আমরা একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণাঞ্চলে বিশেষ করে রাজবাড়ীতে আমরা পদ্মা নদীতে ব্যারাজ তৈরি করব। পদ্মা ব্যারেজ এইজন্য আমরা তৈরি করব যে সীমান্তের ওপারে তারা (ভারত) ব্যারাজ তৈরি করার মাধ্যমে বিভিন্নভাবে পানি নিচ্ছে। কিন্তু আমাদের কাছে যে পানিটি আসছে শুকনা মৌসুমে, হয়ত আমরা কম পাচ্ছি। ফলে যেটা হচ্ছে নদীতে পানির স্রোত কমে যাওয়ায় অনেক সমস্যা হচ্ছে। আস্তে আস্তে আশপাশগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন, ছোটবেলায় আমরা দেখেছি পদ্মা নদীর এপার থেকে ওপার দেখা যায় না। এখনো দেখা যায় না। তবে তখন পানি ছিল এখন পানি শূন্য।

তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারাজটি আমরা এই জন্য করতে চাচ্ছি, যেন বর্ষা এবং শুকনা মৌসুমে কৃষকই হোক বা যে কোন মানুষ তারা যাতে পানি পায়। আরেকটা বিপদজনক ব্যাপার হচ্ছে, এই ফারাক্কা বাঁধ হওয়ার কারণে যেটি হচ্ছে ধীরে ধীরে, যেহেতু পানির পরিমাণ কমৃসেজন্য ধীরে ধীরে যেটি হচ্ছে সমুদ্রের পানি দক্ষিণ অঞ্চলে ঢুকছে। ফলে সুন্দরবনসহ ওই সকল অঞ্চলে যেই সমস্যাগুলো আছে, লবণাক্ত পানি বেশি পরিমাণে ভিতরে চলে আসার কারণে গাছপালা নষ্ট হচ্ছে, বিভিন্ন পশু বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। কাজেই আমরা যদি সেই প্রেসারটাকে রাখতে চাই আমাদেরকে ব্যারাজটা নির্মাণ করতে হবে এবং ব্যারেজের মধ্যে আমরা পানি ধরে রাখবো। যখন বাড়তি পানি, বর্ষার মৌসুমে যে পানিটা আসে সেই পানিটি আমরা ধরে রাখতে পারব। যাতে করে সেই পানিটি আমরা আমাদের মানুষের জন্য কাজে ব্যবহার করতে পারি। সেই পানিটিকে আমরা আরো যাবতীয় কাজে ব্যবহার করতে পারি।

আবহাওয়া

পদ্মার পাশাপাশি তিস্তা ব্যারাজেও হাত দেবে বিএনপি : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৬:৪২:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি : 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, গত ২০ বছরে আমরা ভূগর্ভস্থ যে পরিমাণ পানি নিচে থেকে টেনে ওপরে তুলেছি, খাল ও নদী খনন করে এবং বর্ষা মৌসুমের অতিরিক্ত পানি যদি আমরা ছড়িয়েও দিই, তবু আগামী ২০ বছরের তা রিচার্জ হবে না। তাই কোনোভাবেই ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করা যাবে না। ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার আমাদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে যাচ্ছে।’ সবার জন্য পানি পেতে পদ্মা ব্যারাজের পাশাপাশি বিএনপি তিস্তা ব্যারাজেও হাত দেবে।

বুধবার (২০ মে) বিকেল ৩টার দিকে গাজীপুরের টঙ্গী সাতাইশ এলাকায় জাতীয় দুর্যোগ ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উদ্বোধন অনুষ্ঠান ও সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, আমাদের নির্বাচনী যে মেনিফেস্টো ছিল, যে মিটিং ছিল সেখানে উল্লেখ করেছি- আমরা খাল খনন কর্মসূচি শুরু করবো। আমরা সরকার গঠন করেছি এবং আমাদের প্রতিশ্রুত সেই খাল খনন শুরু করেছি। কারণ এই খাল খনন কর্মসূচির সাথে মানুষের জীবন ওতপ্রোতভাবে জড়িত, কৃষি জড়িত, ভূমিকম্প পর্যন্ত জড়িত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারে সমুদ্রের তীর ধরে একটি রাস্তা নির্মাণ হচ্ছে। সেখানে দেখলাম ৩ শতাধিক গাছ কেটে ফেলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানালাম। যাতে ডিজাইনটা পরিবর্তন করা হয়। গাছ যাতে রক্ষা পায়।

তিনি বলেন, আমরা গত ২০ বছরে যে পরিমাণ পানি মাটির তলদেশ থেকে টেনে তুলেছি, এই পরিমাণ পানি যদি খাল খননের মাধ্যমে সারাদেশে ছড়িয়েও দেই, বিশেষ করে বর্ষাকালে আসা পানি যদি এই খালের মধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে দেই, তবুও ২০ বছর সময় লাগবে ঘাটতি পূরণ করতে। এই ২০ বছরে দেশের জনসংখ্যা আরও বাড়বে। এর ফলের খাদ্য উৎপাদন আমাদের আরও বাড়াতে হবে। আমাদেরকে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করা কমাতে হবে। এটি আমাদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে যাবে। এ বিষয়টিও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত। তাই আমাদের খাল খনন করতে হবে।

May be an image of one or more people and dais

তারেক রহমান বলেন, আপনারা জানেন যে দেশের উত্তর এবং দক্ষিণাঞ্চলে পদ্মা নদীতে একটি ব্যারাজ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সীমান্তের ওপারে তারা ব্যারাজ তৈরি করে বিভিন্নভাবে পানি সংগ্রহ করছে। এ কারণে শুষ্ক মৌসুমে আমরা নদীতে পানি কম পাচ্ছি। এ কারণে নদীতে দ্রুত পানি কমে যাচ্ছে, ধীরে ধীরে আশপাশগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। ছোটবেলায় আমরা দেখেছি পদ্মার এপার থেকে ওইপাড় দেখা যায় না। এখন দেখা যায় না। শুধু আগে পানি ছিল, আর এখন পানি নেই। ব্যারাজটি এ কারণেই করতে চাচ্ছি যাতে শুষ্ক মৌসুম অথবা বর্ষা মৌসুমেও আমাদের দেশের মানুষ যাতে পানি সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে। আরেকটি বিপজ্জনক বিষয় হলো ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের ফলে আমাদের নদীতে পানি কম। যার ফলে সুমদ্র থেকে নোনা জল ধীরে ধীরে দক্ষিণাঞ্চলে উঠে আসছে। এতে সুন্দরবনসহ ওইসব এলাকার ফসলি জমি, পশুপাখি, ও জনাপদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণে আমরা ব্যারাজ নির্মাণের মাধ্যমে বর্ষা মৌসুমে যে পানিটি ধরে রাখতে সক্ষম হবো, সেই পানি শুষ্ক মৌসুমে ওই অঞ্চলের মানুষের কাজে ব্যবহার করবো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের জন্য এই বিএনপি সরকার আগামীতে পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণ প্রকল্পে হাত দেবে। যারা বিভিন্ন বড় বড় কথা বলছেন তাদের পরিষ্কারভাবে বলতে চাই- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রীর নেতৃত্বে এই বিএনপি সরকার তিস্তা পাড়ে কর্মসূচি পালন করেছে। এটা অন্য কোনো সরকার করে নাই। তাই বলতে চাই এই তিস্তা ব্যারাজও বিএনপি সরকার বাস্তবায়ন করব। যেহেতু আমরা দুর্যোগকে থামাতে পারবো না সেহেতু আমরা কীভাবে দুর্যোগ মোকাবিলা করা যায় সেটি সম্পর্কে সচেতন হই।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতি ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, যারা বড় বড় কথা বলছে, তাদের উদ্দেশ্যে পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, এই যে আজকে এখানে দুর্যোগমন্ত্রী (আসাদুল হাবিব দুলু) বসে আছেন, এই লোকটার নেতৃত্বেই তিস্তায় বিএনপি কর্মসূচি পালন করেছে; যা বাংলাদেশে অন্য কোনো রাজনৈতিক দল করে নাই। তারা হয়ত বড় বড় কথা বলেছে, গরম গরম কথা বলেছে। কিন্তু কাজ যদি কেউ করে থাকে, ডেলিভারি যদি কেউ করে থাকে, পরিস্থিতি যদি কেউ তৈরি করে থাকে সেটা বিএনপিই করেছে।

May be an image of one or more people, dais and text

পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ কেন জরুরি, তার ব্যাখ্যা দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, “আপনারা পত্রিকায় দেখেছেন কয়েকদিন আগে আমরা একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণাঞ্চলে বিশেষ করে রাজবাড়ীতে আমরা পদ্মা নদীতে ব্যারাজ তৈরি করব। পদ্মা ব্যারেজ এইজন্য আমরা তৈরি করব যে সীমান্তের ওপারে তারা (ভারত) ব্যারাজ তৈরি করার মাধ্যমে বিভিন্নভাবে পানি নিচ্ছে। কিন্তু আমাদের কাছে যে পানিটি আসছে শুকনা মৌসুমে, হয়ত আমরা কম পাচ্ছি। ফলে যেটা হচ্ছে নদীতে পানির স্রোত কমে যাওয়ায় অনেক সমস্যা হচ্ছে। আস্তে আস্তে আশপাশগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন, ছোটবেলায় আমরা দেখেছি পদ্মা নদীর এপার থেকে ওপার দেখা যায় না। এখনো দেখা যায় না। তবে তখন পানি ছিল এখন পানি শূন্য।

তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারাজটি আমরা এই জন্য করতে চাচ্ছি, যেন বর্ষা এবং শুকনা মৌসুমে কৃষকই হোক বা যে কোন মানুষ তারা যাতে পানি পায়। আরেকটা বিপদজনক ব্যাপার হচ্ছে, এই ফারাক্কা বাঁধ হওয়ার কারণে যেটি হচ্ছে ধীরে ধীরে, যেহেতু পানির পরিমাণ কমৃসেজন্য ধীরে ধীরে যেটি হচ্ছে সমুদ্রের পানি দক্ষিণ অঞ্চলে ঢুকছে। ফলে সুন্দরবনসহ ওই সকল অঞ্চলে যেই সমস্যাগুলো আছে, লবণাক্ত পানি বেশি পরিমাণে ভিতরে চলে আসার কারণে গাছপালা নষ্ট হচ্ছে, বিভিন্ন পশু বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। কাজেই আমরা যদি সেই প্রেসারটাকে রাখতে চাই আমাদেরকে ব্যারাজটা নির্মাণ করতে হবে এবং ব্যারেজের মধ্যে আমরা পানি ধরে রাখবো। যখন বাড়তি পানি, বর্ষার মৌসুমে যে পানিটা আসে সেই পানিটি আমরা ধরে রাখতে পারব। যাতে করে সেই পানিটি আমরা আমাদের মানুষের জন্য কাজে ব্যবহার করতে পারি। সেই পানিটিকে আমরা আরো যাবতীয় কাজে ব্যবহার করতে পারি।