Dhaka বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বচ্ছ আর্থিক তথ্য ছাড়া অর্থনীতিতে আস্থা ফিরবে না : অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে আর্থিক খাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, নির্ভরযোগ্য আর্থিক প্রতিবেদন ছাড়া দেশের অর্থনীতিতে আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।

বুধবার (২০ মে) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি) আয়োজিত ‘ট্রাস্টওয়ার্দি ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং: হোয়াট রিয়েলি ম্যাটারস’ শীর্ষক এফএআর সামিটে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত বছরগুলোয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। এর সুযোগে ‘ফলস রিপ্রেজেন্টেশন’ বা মিথ্যা আর্থিক প্রতিবেদনের মাধ্যমে অনেক প্রতিষ্ঠান শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে এবং একই কৌশলে ব্যাংকিং খাত থেকে বিপুল অর্থ সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের এমন একটি ইকোসিস্টেম তৈরি করতে হবে যেখানে পূর্ণ স্বচ্ছতা থাকবে। আইসিএবি ও আইসিএমএবি’র সদস্যদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সঠিক ও স্বচ্ছ আর্থিক চিত্র উপস্থাপনে দায়িত্বশীল হতে হবে।

জেপি মর্গান চেসসহ বিশ্বের বড় বড় ফান্ড ম্যানেজাররা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী উল্লেখ করে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, তাদের আস্থা অর্জনে নির্ভরযোগ্য অডিট রিপোর্টের কোনো বিকল্প নেই।

ভুয়া আর্থিক তথ্য, দুর্বল নজরদারি এবং জবাবদিহির অভাবে দেশের ব্যাংক ও পুঁজিবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটপাট হয়েছে বলে মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে পুঁজিবাজার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ দেশের আর্থিক খাতগুলোকে বিকেন্দ্রীভূত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি নানা অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গেছে। এ সময় অনেক প্রতিষ্ঠান কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে। ব্যাংকিং খাত থেকে শুরু করে পুঁজিবাজার পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে আর্থিক অনিয়ম, তথ্য গোপন এবং ভুয়া তথ্য উপস্থাপনের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, ভুয়া তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে অনেক কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এতে প্রকৃত ও ভালো কোম্পানিগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট হয়েছে এবং বাজারে বড় ধরনের মূলধন সংকট তৈরি হয়েছে।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ব্যাংকের মালিকানা নিয়ে দেশে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে। কেউ কিছু শেয়ার কিনেই নিজেকে ব্যাংকের মালিক ভাবতে শুরু করে। অথচ ব্যাংকের মালিকানা শেয়ারধারীদের এবং ব্যাংকের অর্থ আমানতকারীদের। ব্যক্তি নিজেকে ব্যাংকের মালিক দাবি করতে পারেন না।

তিনি বলেন, মানি লন্ডারিং, দুর্বল করপোরেট ব্যবস্থাপনা এবং ভুয়া আর্থিক তথ্য প্রদানের কারণে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নির্ভরযোগ্য আর্থিক প্রতিবেদন না থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থাও কমে যাচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার আর্থিক খাত সংস্কারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ জন্য স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আন্তর্জাতিক মানসম্মত আর্থিক প্রতিবেদন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে হিসাববিদ, নিরীক্ষক ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি হিসাববিদ ও নিরীক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত অবস্থা মূল্যায়ন করা হয়। যদি সেই প্রতিবেদন সঠিক না হয়, তাহলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কখনোই ফিরবে না।

ব্যাংক মালিকানার ধারণা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ব্যাংকের প্রকৃত মালিক শেয়ারহোল্ডার ও আমানতকারীরা। কেউ ব্যক্তিগতভাবে ব্যাংকের মালিক দাবি করে বোর্ডে বসে নিজেরাই ঋণ অনুমোদন করবে—এটা সঠিক নয়।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে স্বার্থের সংঘাত (কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট) কঠোরভাবে বিবেচনায় নিতে হবে। বর্তমান সরকার একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়। এজন্য আইসিএবি ও আইসিএমএবির সদস্যদের নিজেদের পেশাগত জায়গা থেকে আত্মনিয়ন্ত্রণ (সেলফ রেগুলেশন) নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, এফআরসি শুধু ওভারসাইট করতে পারে। কিন্তু সঠিক রিপোর্টিং ও অডিটের দায়িত্ব শুরু হতে হবে আপনাদের ভেতর থেকেই।

নিজের বাণিজ্যমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ের একটি উদাহরণ তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিজিএমইএকে ইউডি সার্টিফিকেট দেওয়ার দায়িত্ব দিয়ে সরকার বড় ঝুঁকি নিয়েছিল। কিন্তু তারা সফলভাবে সেই দায়িত্ব পালন করেছে। একইভাবে পেশাজীবী সংগঠনগুলোকেও নিজেদের সদস্যদের কার্যক্রম তদারকি করতে হবে।

বিদেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বড় বড় আন্তর্জাতিক ফান্ড ম্যানেজার ও বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখাচ্ছে। জেপি মরগ্যানসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে আসতে চায়।

তিনি বলেন, প্রতিদিনই আমি আন্তর্জাতিক ফান্ড ম্যানেজারদের সঙ্গে বৈঠক করছি। তারা বাংলাদেশকে নিয়ে বিলিয়ন ডলারের ফান্ড গঠনের কথা বলছে।
অর্থমন্ত্রী অডিটরদের সতর্ক করে বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আনতে হলে কোম্পানির ব্যালেন্স শিট, অডিট রিপোর্ট ও আর্থিক প্রতিবেদনের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরি করতে হবে। সরকার পুঁজিবাজার, আর্থিক খাত ও এনবিআরসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় ধরনের ডিরেগুলেশনের পরিকল্পনা করছে। তবে সেটি সফল করতে পেশাজীবীদের সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ডিরেগুলেশন করলাম, কিন্তু রিপোর্টিং ঠিক না থাকলে কোনো লাভ হবে না। দেশের অর্থনীতি বাস্তব অর্থে বড় হলে সবাই লাভবান হবে। তাই আমাদের সবাইকে মিলেই গ্লোবাল বেস্ট প্র্যাকটিস অনুসরণ করে কাজ করতে হবে।

অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এফআরসি চেয়ারম্যান ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া। এতে আরও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু প্রমুখ।

আবহাওয়া

মব সৃষ্টি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না : মজনু

স্বচ্ছ আর্থিক তথ্য ছাড়া অর্থনীতিতে আস্থা ফিরবে না : অর্থমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০২:৫০:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে আর্থিক খাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, নির্ভরযোগ্য আর্থিক প্রতিবেদন ছাড়া দেশের অর্থনীতিতে আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।

বুধবার (২০ মে) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি) আয়োজিত ‘ট্রাস্টওয়ার্দি ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং: হোয়াট রিয়েলি ম্যাটারস’ শীর্ষক এফএআর সামিটে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত বছরগুলোয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। এর সুযোগে ‘ফলস রিপ্রেজেন্টেশন’ বা মিথ্যা আর্থিক প্রতিবেদনের মাধ্যমে অনেক প্রতিষ্ঠান শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে এবং একই কৌশলে ব্যাংকিং খাত থেকে বিপুল অর্থ সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের এমন একটি ইকোসিস্টেম তৈরি করতে হবে যেখানে পূর্ণ স্বচ্ছতা থাকবে। আইসিএবি ও আইসিএমএবি’র সদস্যদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সঠিক ও স্বচ্ছ আর্থিক চিত্র উপস্থাপনে দায়িত্বশীল হতে হবে।

জেপি মর্গান চেসসহ বিশ্বের বড় বড় ফান্ড ম্যানেজাররা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী উল্লেখ করে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, তাদের আস্থা অর্জনে নির্ভরযোগ্য অডিট রিপোর্টের কোনো বিকল্প নেই।

ভুয়া আর্থিক তথ্য, দুর্বল নজরদারি এবং জবাবদিহির অভাবে দেশের ব্যাংক ও পুঁজিবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটপাট হয়েছে বলে মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে পুঁজিবাজার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ দেশের আর্থিক খাতগুলোকে বিকেন্দ্রীভূত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি নানা অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গেছে। এ সময় অনেক প্রতিষ্ঠান কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে। ব্যাংকিং খাত থেকে শুরু করে পুঁজিবাজার পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে আর্থিক অনিয়ম, তথ্য গোপন এবং ভুয়া তথ্য উপস্থাপনের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, ভুয়া তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে অনেক কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এতে প্রকৃত ও ভালো কোম্পানিগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট হয়েছে এবং বাজারে বড় ধরনের মূলধন সংকট তৈরি হয়েছে।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ব্যাংকের মালিকানা নিয়ে দেশে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে। কেউ কিছু শেয়ার কিনেই নিজেকে ব্যাংকের মালিক ভাবতে শুরু করে। অথচ ব্যাংকের মালিকানা শেয়ারধারীদের এবং ব্যাংকের অর্থ আমানতকারীদের। ব্যক্তি নিজেকে ব্যাংকের মালিক দাবি করতে পারেন না।

তিনি বলেন, মানি লন্ডারিং, দুর্বল করপোরেট ব্যবস্থাপনা এবং ভুয়া আর্থিক তথ্য প্রদানের কারণে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নির্ভরযোগ্য আর্থিক প্রতিবেদন না থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থাও কমে যাচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার আর্থিক খাত সংস্কারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ জন্য স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আন্তর্জাতিক মানসম্মত আর্থিক প্রতিবেদন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে হিসাববিদ, নিরীক্ষক ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি হিসাববিদ ও নিরীক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত অবস্থা মূল্যায়ন করা হয়। যদি সেই প্রতিবেদন সঠিক না হয়, তাহলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কখনোই ফিরবে না।

ব্যাংক মালিকানার ধারণা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ব্যাংকের প্রকৃত মালিক শেয়ারহোল্ডার ও আমানতকারীরা। কেউ ব্যক্তিগতভাবে ব্যাংকের মালিক দাবি করে বোর্ডে বসে নিজেরাই ঋণ অনুমোদন করবে—এটা সঠিক নয়।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে স্বার্থের সংঘাত (কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট) কঠোরভাবে বিবেচনায় নিতে হবে। বর্তমান সরকার একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়। এজন্য আইসিএবি ও আইসিএমএবির সদস্যদের নিজেদের পেশাগত জায়গা থেকে আত্মনিয়ন্ত্রণ (সেলফ রেগুলেশন) নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, এফআরসি শুধু ওভারসাইট করতে পারে। কিন্তু সঠিক রিপোর্টিং ও অডিটের দায়িত্ব শুরু হতে হবে আপনাদের ভেতর থেকেই।

নিজের বাণিজ্যমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ের একটি উদাহরণ তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিজিএমইএকে ইউডি সার্টিফিকেট দেওয়ার দায়িত্ব দিয়ে সরকার বড় ঝুঁকি নিয়েছিল। কিন্তু তারা সফলভাবে সেই দায়িত্ব পালন করেছে। একইভাবে পেশাজীবী সংগঠনগুলোকেও নিজেদের সদস্যদের কার্যক্রম তদারকি করতে হবে।

বিদেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বড় বড় আন্তর্জাতিক ফান্ড ম্যানেজার ও বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখাচ্ছে। জেপি মরগ্যানসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে আসতে চায়।

তিনি বলেন, প্রতিদিনই আমি আন্তর্জাতিক ফান্ড ম্যানেজারদের সঙ্গে বৈঠক করছি। তারা বাংলাদেশকে নিয়ে বিলিয়ন ডলারের ফান্ড গঠনের কথা বলছে।
অর্থমন্ত্রী অডিটরদের সতর্ক করে বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আনতে হলে কোম্পানির ব্যালেন্স শিট, অডিট রিপোর্ট ও আর্থিক প্রতিবেদনের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরি করতে হবে। সরকার পুঁজিবাজার, আর্থিক খাত ও এনবিআরসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় ধরনের ডিরেগুলেশনের পরিকল্পনা করছে। তবে সেটি সফল করতে পেশাজীবীদের সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ডিরেগুলেশন করলাম, কিন্তু রিপোর্টিং ঠিক না থাকলে কোনো লাভ হবে না। দেশের অর্থনীতি বাস্তব অর্থে বড় হলে সবাই লাভবান হবে। তাই আমাদের সবাইকে মিলেই গ্লোবাল বেস্ট প্র্যাকটিস অনুসরণ করে কাজ করতে হবে।

অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এফআরসি চেয়ারম্যান ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া। এতে আরও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু প্রমুখ।