Dhaka মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাম নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরুরি নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

দেশে হাম ও হাম উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সরকারি হাসপাতালগুলোকে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নির্দেশনায় জরুরি বিভাগ, লেবার রুম, আইসিইউ, ল্যাব, হাম ওয়ার্ড অ্যাম্বুলেন্সসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবা সার্বক্ষণিক চালু রাখার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে হাম রোগীদের জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিশ্চিতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখা থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঈদের ছুটিকালীন ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত হাসপাতালগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জরুরি বিভাগে প্রয়োজনে অতিরিক্ত চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে সার্বক্ষণিক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি লেবার রুম, ইমারজেন্সি অপারেশন থিয়েটার, সিটি স্ক্যান, এমআরআই ও জরুরি ল্যাবসেবা চালু রাখতে হবে। উপজেলা পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অনকল সেবাও নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

হাম পরিস্থিতি বিবেচনায় বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে শিশু ওয়ার্ড এবং হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত জনবল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ছুটির দিনসহ প্রতিদিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সকাল ও বিকেলে দুই দফা রাউন্ড দিতে বলা হয়েছে।

ঈদের আগে পর্যাপ্ত ওষুধ, আইভি ফ্লুইড, কেমিক্যাল রি-এজেন্ট ও সার্জিক্যাল সামগ্রী মজুত রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টোরকিপার বা সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নিজ নিজ জেলা ও উপজেলায় অবস্থান নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলেছে, ঈদের সময় কোনো অবস্থাতেই অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ রাখা যাবে না। রোগী রেফারের আগে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় রেফার কমানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, পশুর হাটসংলগ্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হবে। একই সঙ্গে হাসপাতালের নিরাপত্তায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আগাম চিঠি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

ছুটির সময়ে হাসপাতালগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ সতর্কতা জোরদার রাখার নির্দেশও রয়েছে। হাসপাতালপ্রধানদের ঈদের দিন রোগীদের উন্নতমানের খাবার পরিবেশন তদারকি এবং রোগীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের কথাও বলা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বহির্বিভাগ টানা ৭২ ঘণ্টার বেশি বন্ধ রাখা যাবে না। প্রয়োজন হলে ২৬ মে ও ৩০ মে হাসপাতাল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠানপ্রধানেরা নিতে পারবেন। এ ছাড়া বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোকে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের অধীনে সার্বক্ষণিক জরুরি বিভাগ, প্রসূতি বিভাগ ও হাম ওয়ার্ড চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঈদের ছুটিকালে যেকোনো দুর্যোগ বা অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমে জানাতে হবে।

আবহাওয়া

মাগুরায় বাড়ির পাশে ডোবায় ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু

হাম নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরুরি নির্দেশনা

প্রকাশের সময় : ০৭:২৯:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

দেশে হাম ও হাম উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সরকারি হাসপাতালগুলোকে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নির্দেশনায় জরুরি বিভাগ, লেবার রুম, আইসিইউ, ল্যাব, হাম ওয়ার্ড অ্যাম্বুলেন্সসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবা সার্বক্ষণিক চালু রাখার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে হাম রোগীদের জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিশ্চিতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখা থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঈদের ছুটিকালীন ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত হাসপাতালগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জরুরি বিভাগে প্রয়োজনে অতিরিক্ত চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে সার্বক্ষণিক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি লেবার রুম, ইমারজেন্সি অপারেশন থিয়েটার, সিটি স্ক্যান, এমআরআই ও জরুরি ল্যাবসেবা চালু রাখতে হবে। উপজেলা পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অনকল সেবাও নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

হাম পরিস্থিতি বিবেচনায় বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে শিশু ওয়ার্ড এবং হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত জনবল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ছুটির দিনসহ প্রতিদিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সকাল ও বিকেলে দুই দফা রাউন্ড দিতে বলা হয়েছে।

ঈদের আগে পর্যাপ্ত ওষুধ, আইভি ফ্লুইড, কেমিক্যাল রি-এজেন্ট ও সার্জিক্যাল সামগ্রী মজুত রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টোরকিপার বা সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নিজ নিজ জেলা ও উপজেলায় অবস্থান নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলেছে, ঈদের সময় কোনো অবস্থাতেই অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ রাখা যাবে না। রোগী রেফারের আগে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় রেফার কমানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, পশুর হাটসংলগ্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হবে। একই সঙ্গে হাসপাতালের নিরাপত্তায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আগাম চিঠি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

ছুটির সময়ে হাসপাতালগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ সতর্কতা জোরদার রাখার নির্দেশও রয়েছে। হাসপাতালপ্রধানদের ঈদের দিন রোগীদের উন্নতমানের খাবার পরিবেশন তদারকি এবং রোগীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের কথাও বলা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বহির্বিভাগ টানা ৭২ ঘণ্টার বেশি বন্ধ রাখা যাবে না। প্রয়োজন হলে ২৬ মে ও ৩০ মে হাসপাতাল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠানপ্রধানেরা নিতে পারবেন। এ ছাড়া বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোকে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের অধীনে সার্বক্ষণিক জরুরি বিভাগ, প্রসূতি বিভাগ ও হাম ওয়ার্ড চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঈদের ছুটিকালে যেকোনো দুর্যোগ বা অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমে জানাতে হবে।