Dhaka বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিনিয়োগবান্ধন পরিবেশ তৈরি করা সরকারের লক্ষ্য : মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিনিয়োগে যে সমস্যা রয়েছে সেখানে বাধা সরকারের এজেন্সিগুলোর ধীরগতি। ফলে বিনিয়োগকারীরা হতাশ হয়ে যায়। আমলাতন্ত্রকে সঠিক পথে এনে বিনিয়োগবান্ধন পরিবেশ তৈরি করা সরকারের লক্ষ্য।

বুধবার (৬ মে) সকালে রাজধানীর বনানীতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কম্পাস আয়োজিত সংলাপ শেষে তিনি এসব কথা বলেন। সংলাপের আয়োজক ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড ট্যাকটিকস রিসার্চ (আইএসটিআর)। সংলাপে বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি, কূটনীতিক ও ব্যবসায়ীরা অংশ নেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিনিয়োগকারীরা বলছেন, এখানে সরকারের যে সংস্থাগুলোর কাজের গতি অত্যন্ত ধীর। কোনো সুনির্দিষ্ট সমস্যা বা ইস্যুর সমাধান তারা যে দ্রুততার সঙ্গে প্রত্যাশা করেন, বাস্তবে তা পান না। এই দীর্ঘসূত্রতা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম হতাশা তৈরি করে এবং সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যা দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

দেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশ খুব ভালো নয় বলে মন্তব্য করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিদ্যমান আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন করে একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে নিয়মিত এই বিষয়গুলো তদারকি করছেন এবং প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে দ্রুততার সঙ্গে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে কীভাবে সামনে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে সরকার কাজ করছে। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে উদ্যোগ নিচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ফসলভিত্তিক কর্মসূচিগুলো মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। এছাড়া সরকার এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সৌরশক্তির প্রসার ঘটানোর পাশাপাশি দেশের জলভাগ ও স্থলভাগে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে এ খাতে দরপত্র আহ্বান করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, অতীতের রাজনৈতিক অস্থিরতা বা সমস্যাগুলো পুরোপুরি নির্মূল না হলেও বর্তমান অবস্থা আগের তুলনায় অনেকটাই ইতিবাচক। দেশে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা গেলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

বঙ্গোপসাগরের নিরাপত্তার পাশাপাশি বন্ধু ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট এখনো বাংলাদেশের জন্য বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। সরকার এই সমস্যারও সমাধান করতে চায়।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের বিনিয়োগের যে সমস্যা এখানে রয়েছে, বিশেষ করে বিনিয়োগের ব্যাপারে সবচেয়ে বড় যে বাধাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেটা হলো সরকারের এজেন্সিগুলো খুব ধীর গতিতে চলে। বিনিয়োগকারীরা যে গতিতে সমাধান চান, তা না হওয়ায় সেখানে নেতিবাচক অবস্থা তৈরি হয়। ফলে তারা হতাশ হয়ে যান। এটা অন্যতম প্রধান একটা সমস্যা। আমরা চেষ্টা করছি এ বিষয়গুলোকে ঠিক করার। আমাদের আমলাতন্ত্রকে ঠিক করার মাধ্যমে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করা হবে। কেননা এখানে ব্যবসা করার পরিবেশ কিন্তু খুব একটা ভালো না। আমরা এটাকে ভালো করার চেষ্টা করছি, প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে অত্যন্ত আগ্রহী। তিনি প্রতিদিনই এ বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন, কথা বলছেন। প্রত্যেকটা মন্ত্রণালয়কে তিনি অতি দ্রুত এই সমাধান করতে বলেছেন।

তিনি বলেন, আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা রয়েছে জ্বালানি খাতে। এক্ষেত্রে আমরা রিনিউয়েবল এনার্জির দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছি। সোলার এনার্জির দিকে আমরা যাওয়ার চেষ্টা করছি। গ্যাস ও তেল উত্তোলন করার কাজগুলো আমরা ইতোমধ্যে শুরু করেছি। তিন মাসের মধ্যে আমরা টেন্ডারে যাব বলে আশা করছি।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, আমরা সবাই জানি যে, আমাদের দেশের জনসংখ্যা বিশাল। এক্ষেত্রে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে। আমাদের রাজনৈতিক যে সমস্যাগুলো এখানে তৈরি হয়েছিল অতীতে, সে সমস্যা চলে গেছে তা বলব না। তবে আগের চাইতে অনেকটা ইতিবাচক। তবে আমরা বিশ্বাস করি যে, দেশে একটা স্থিতিশীলতা আনা গেলে অবশ্যই আমরা অর্থনৈতিক উন্নয়ন করার জন্য বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হবো।

এসময় প্রতিবেশী ও বন্ধু দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর তাগিদ দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু এটা আমাদের জন্য একটা বড় সমস্যা। আমরা এ সমস্যার সমাধান করতে চাই।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনীতিক, গবেষক ও বিশিষ্টজনেরা।

আবহাওয়া

বিনিয়োগবান্ধন পরিবেশ তৈরি করা সরকারের লক্ষ্য : মির্জা ফখরুল

প্রকাশের সময় : ০৯:১৮:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিনিয়োগে যে সমস্যা রয়েছে সেখানে বাধা সরকারের এজেন্সিগুলোর ধীরগতি। ফলে বিনিয়োগকারীরা হতাশ হয়ে যায়। আমলাতন্ত্রকে সঠিক পথে এনে বিনিয়োগবান্ধন পরিবেশ তৈরি করা সরকারের লক্ষ্য।

বুধবার (৬ মে) সকালে রাজধানীর বনানীতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কম্পাস আয়োজিত সংলাপ শেষে তিনি এসব কথা বলেন। সংলাপের আয়োজক ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড ট্যাকটিকস রিসার্চ (আইএসটিআর)। সংলাপে বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি, কূটনীতিক ও ব্যবসায়ীরা অংশ নেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিনিয়োগকারীরা বলছেন, এখানে সরকারের যে সংস্থাগুলোর কাজের গতি অত্যন্ত ধীর। কোনো সুনির্দিষ্ট সমস্যা বা ইস্যুর সমাধান তারা যে দ্রুততার সঙ্গে প্রত্যাশা করেন, বাস্তবে তা পান না। এই দীর্ঘসূত্রতা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম হতাশা তৈরি করে এবং সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যা দেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

দেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশ খুব ভালো নয় বলে মন্তব্য করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিদ্যমান আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন করে একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে নিয়মিত এই বিষয়গুলো তদারকি করছেন এবং প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে দ্রুততার সঙ্গে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে কীভাবে সামনে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে সরকার কাজ করছে। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে উদ্যোগ নিচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ফসলভিত্তিক কর্মসূচিগুলো মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। এছাড়া সরকার এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সৌরশক্তির প্রসার ঘটানোর পাশাপাশি দেশের জলভাগ ও স্থলভাগে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে এ খাতে দরপত্র আহ্বান করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, অতীতের রাজনৈতিক অস্থিরতা বা সমস্যাগুলো পুরোপুরি নির্মূল না হলেও বর্তমান অবস্থা আগের তুলনায় অনেকটাই ইতিবাচক। দেশে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা গেলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

বঙ্গোপসাগরের নিরাপত্তার পাশাপাশি বন্ধু ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট এখনো বাংলাদেশের জন্য বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। সরকার এই সমস্যারও সমাধান করতে চায়।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের বিনিয়োগের যে সমস্যা এখানে রয়েছে, বিশেষ করে বিনিয়োগের ব্যাপারে সবচেয়ে বড় যে বাধাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেটা হলো সরকারের এজেন্সিগুলো খুব ধীর গতিতে চলে। বিনিয়োগকারীরা যে গতিতে সমাধান চান, তা না হওয়ায় সেখানে নেতিবাচক অবস্থা তৈরি হয়। ফলে তারা হতাশ হয়ে যান। এটা অন্যতম প্রধান একটা সমস্যা। আমরা চেষ্টা করছি এ বিষয়গুলোকে ঠিক করার। আমাদের আমলাতন্ত্রকে ঠিক করার মাধ্যমে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করা হবে। কেননা এখানে ব্যবসা করার পরিবেশ কিন্তু খুব একটা ভালো না। আমরা এটাকে ভালো করার চেষ্টা করছি, প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে অত্যন্ত আগ্রহী। তিনি প্রতিদিনই এ বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন, কথা বলছেন। প্রত্যেকটা মন্ত্রণালয়কে তিনি অতি দ্রুত এই সমাধান করতে বলেছেন।

তিনি বলেন, আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা রয়েছে জ্বালানি খাতে। এক্ষেত্রে আমরা রিনিউয়েবল এনার্জির দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছি। সোলার এনার্জির দিকে আমরা যাওয়ার চেষ্টা করছি। গ্যাস ও তেল উত্তোলন করার কাজগুলো আমরা ইতোমধ্যে শুরু করেছি। তিন মাসের মধ্যে আমরা টেন্ডারে যাব বলে আশা করছি।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, আমরা সবাই জানি যে, আমাদের দেশের জনসংখ্যা বিশাল। এক্ষেত্রে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে। আমাদের রাজনৈতিক যে সমস্যাগুলো এখানে তৈরি হয়েছিল অতীতে, সে সমস্যা চলে গেছে তা বলব না। তবে আগের চাইতে অনেকটা ইতিবাচক। তবে আমরা বিশ্বাস করি যে, দেশে একটা স্থিতিশীলতা আনা গেলে অবশ্যই আমরা অর্থনৈতিক উন্নয়ন করার জন্য বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হবো।

এসময় প্রতিবেশী ও বন্ধু দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর তাগিদ দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু এটা আমাদের জন্য একটা বড় সমস্যা। আমরা এ সমস্যার সমাধান করতে চাই।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনীতিক, গবেষক ও বিশিষ্টজনেরা।