Dhaka মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে রাস্তা সম্প্রসারণে কাটা হল কাঠবাদামের ৩০টি গাছ

রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি : 

রাজশাহী শহরের একটি রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য ৩০টি কাঠবাদামের গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। নগরীর রাজীব চত্বর থেকে কলাবাগান হয়ে ঘোষপাড়া মোড় পর্যন্ত রাস্তাটির একপাশে ডালপালা মেলে গাছগুলো দাঁড়িয়ে ছিল ছায়া আর প্রশান্তি নিয়ে।

বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার (১৮ এপ্রিল) পর্যন্ত গাছগুলো কাটা হয়। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে রাজশাহী শহরের পরিবেশবাদীদের ভেতর।

নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে ২০১০ সালের দিকে নগরের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৭০টি কাঠবাদামের গাছ লাগায় রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)। এই ১৬ বছরে গাছগুলো বেশ বড় হয়েছিল। গাছে কাঠবাদাম ধরতো। রাস্তার পাশে পড়ে থাকতো। এখন ওই এলাকায় একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের পর রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য গাছগুলো কেটে ফেলা হলো।

শনিবার সকালে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ইতিমধ্যে ২৩টি গাছ কাটা হয়ে গেছে। আর মাত্র সাতটি গাছ কাটা বাকি আছে। সেসব গাছের কোনোটিতে উঠে ডাল কাটছেন শ্রমিকরা; কোনও গাছের গোড়ায় দুই পাশে দুজন বসে করাত টানছেন। অনেকে মন খারাপ করে এই দৃশ্য দেখছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা তুহিন আলী বলেন, গাছগুলো কাটা ঠিক হলো না। এই এলাকায় গাড়ির এত চাপ নেই যে রাস্তাটা সম্প্রসারণ করতে হবে। কেন যে তারা এসব করে বুঝি না।

 স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদুল ইসলাম কাটার সময় পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। গাছের প্রসঙ্গ তুলতেই বললেন, ‘খুব খারাপ লাগছে। গাছগুলো কাটা উচিত হয়নি। রোদের মধ্যে কাঠবাদামগাছের নিচে এসে দাঁড়ালে শরীরটা জুড়িয়ে যেত। আজ আর দাঁড়াতে পারছি না। গাছগুলোর মায়ার পড়ে গিয়েছিলাম!’

গাছ কাটার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের সরদার মো. গাজি জানান, আটজন শ্রমিক টানা তিন দিন ধরে গাছ কাটার কাজ করছেন। তিনি বলেন, সালাহউদ্দিন নামের এক ব্যবসায়ী সিটি করপোরেশন থেকে গাছগুলো কিনে নিয়েছেন।

সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী (উন্নয়ন) মাহমুদুর রহমান জানান, বন বিভাগের কাছ থেকে প্রাক্কলন করে নিয়ম অনুযায়ী গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে।

মাহমুদুর রহমান বলেন, ওই এলাকায় ফ্লাইওভার নির্মাণের পর রাস্তার একপাশের প্রস্থ কমে গেছে। প্রস্থ সাড়ে তিন মিটার হচ্ছে না। এ জন্য গাছগুলো কেটে ফেলা হচ্ছে। রাস্তাটা সম্প্রসারণ হবে। আর ড্রেনের ওপর দিয়ে ফুটপাত হবে। তখন ফুটপাতের পাশে নতুন করে গাছ লাগিয়ে দেওয়া হবে।

বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি আতিকুর রহমান বলেন, এটা একটা মনভোলানো জবাব যে নতুন করে গাছ লাগিয়ে দেওয়া হবে। গাছ রেখেও যে চমৎকার উন্নয়ন করা যায়, এই ভাবনাটা প্রকৌশলীদের ভেতর আসছে না। এভাবে গাছ কেটে ফেলা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। আগে গাছ লাগাত, তারপর কাটত। তাহলে বোঝা যেত যে তারা পরিবেশের কথা ভাবেন।

রাজশাহী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তিনি প্রায় ছয় মাস আগে রাজশাহীতে যোগদান করেছেন। এর মধ্যে গাছ কাটার ব্যাপারে যোগাযোগ হয়েছে বলে তিনি মনে করতে পারছেন না। তবে ফাইল দেখে বলতে পারবেন যে তিনি আসার আগে এ–সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না।

আবহাওয়া

রাজশাহীতে রাস্তা সম্প্রসারণে কাটা হল কাঠবাদামের ৩০টি গাছ

প্রকাশের সময় : ০১:১৮:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি : 

রাজশাহী শহরের একটি রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য ৩০টি কাঠবাদামের গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। নগরীর রাজীব চত্বর থেকে কলাবাগান হয়ে ঘোষপাড়া মোড় পর্যন্ত রাস্তাটির একপাশে ডালপালা মেলে গাছগুলো দাঁড়িয়ে ছিল ছায়া আর প্রশান্তি নিয়ে।

বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার (১৮ এপ্রিল) পর্যন্ত গাছগুলো কাটা হয়। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে রাজশাহী শহরের পরিবেশবাদীদের ভেতর।

নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে ২০১০ সালের দিকে নগরের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৭০টি কাঠবাদামের গাছ লাগায় রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)। এই ১৬ বছরে গাছগুলো বেশ বড় হয়েছিল। গাছে কাঠবাদাম ধরতো। রাস্তার পাশে পড়ে থাকতো। এখন ওই এলাকায় একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের পর রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য গাছগুলো কেটে ফেলা হলো।

শনিবার সকালে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ইতিমধ্যে ২৩টি গাছ কাটা হয়ে গেছে। আর মাত্র সাতটি গাছ কাটা বাকি আছে। সেসব গাছের কোনোটিতে উঠে ডাল কাটছেন শ্রমিকরা; কোনও গাছের গোড়ায় দুই পাশে দুজন বসে করাত টানছেন। অনেকে মন খারাপ করে এই দৃশ্য দেখছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা তুহিন আলী বলেন, গাছগুলো কাটা ঠিক হলো না। এই এলাকায় গাড়ির এত চাপ নেই যে রাস্তাটা সম্প্রসারণ করতে হবে। কেন যে তারা এসব করে বুঝি না।

 স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদুল ইসলাম কাটার সময় পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। গাছের প্রসঙ্গ তুলতেই বললেন, ‘খুব খারাপ লাগছে। গাছগুলো কাটা উচিত হয়নি। রোদের মধ্যে কাঠবাদামগাছের নিচে এসে দাঁড়ালে শরীরটা জুড়িয়ে যেত। আজ আর দাঁড়াতে পারছি না। গাছগুলোর মায়ার পড়ে গিয়েছিলাম!’

গাছ কাটার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের সরদার মো. গাজি জানান, আটজন শ্রমিক টানা তিন দিন ধরে গাছ কাটার কাজ করছেন। তিনি বলেন, সালাহউদ্দিন নামের এক ব্যবসায়ী সিটি করপোরেশন থেকে গাছগুলো কিনে নিয়েছেন।

সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী (উন্নয়ন) মাহমুদুর রহমান জানান, বন বিভাগের কাছ থেকে প্রাক্কলন করে নিয়ম অনুযায়ী গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে।

মাহমুদুর রহমান বলেন, ওই এলাকায় ফ্লাইওভার নির্মাণের পর রাস্তার একপাশের প্রস্থ কমে গেছে। প্রস্থ সাড়ে তিন মিটার হচ্ছে না। এ জন্য গাছগুলো কেটে ফেলা হচ্ছে। রাস্তাটা সম্প্রসারণ হবে। আর ড্রেনের ওপর দিয়ে ফুটপাত হবে। তখন ফুটপাতের পাশে নতুন করে গাছ লাগিয়ে দেওয়া হবে।

বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি আতিকুর রহমান বলেন, এটা একটা মনভোলানো জবাব যে নতুন করে গাছ লাগিয়ে দেওয়া হবে। গাছ রেখেও যে চমৎকার উন্নয়ন করা যায়, এই ভাবনাটা প্রকৌশলীদের ভেতর আসছে না। এভাবে গাছ কেটে ফেলা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। আগে গাছ লাগাত, তারপর কাটত। তাহলে বোঝা যেত যে তারা পরিবেশের কথা ভাবেন।

রাজশাহী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তিনি প্রায় ছয় মাস আগে রাজশাহীতে যোগদান করেছেন। এর মধ্যে গাছ কাটার ব্যাপারে যোগাযোগ হয়েছে বলে তিনি মনে করতে পারছেন না। তবে ফাইল দেখে বলতে পারবেন যে তিনি আসার আগে এ–সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না।