Dhaka শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খর্বশক্তির নিউজিল্যান্ডের কাছে হার দিয়ে সিরিজ শুরু বাংলাদেশের

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৯:১৮:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ২০৬ জন দেখেছেন

স্পোর্টস ডেস্ক : 

ভারতের চলমান আইপিএলের কারণে মূল দলের বেশ কয়েকজন তারকা ক্রিকেটারকে ছাড়াই বাংলাদেশ সফরে এসেছে নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল। এ কারণে দেশের বেশ কয়েকজন ক্রিকেট বিশ্লেষক কিউইদের ‘বি’ দল বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। তবে মাঠের লড়াইয়ে চমক দেখিয়ে প্রথম ওয়ানডেতে টাইগারদের ২৬ রানে হারিয়েছে টম লাথামের দল।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) টস জিতে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশকে ২৪৭ রানের লক্ষ্য দেয় নিউজিল্যান্ড। জবাব দিতে নেমে ৮ বল হাতে থাকতে ২২১ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। এতে ২৬ রানের জয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল সফরকারীরা।

নাগালে থাকা লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। চতুর্থ ওভারেই ফিরে যান তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। ন্যাথান স্মিথের পরপর দুই বলে বোল্ড হন তাঁরা। আগের ওভারে ১ রানে সাইফ হাসানের ক্যাচ হেনরি নিকোলস না ফেলে দিলে পড়তে পারত ৩ উইকেট।

২১ রানে ২ উইকেট হারিয়ে হকচকিয়ে পড়া দলকে এরপর স্থির করেন লিটন; জীবন পাওয়া সাইফকে নিয়ে পরিস্থিতি দারুণভাবে সামলে নেন তিনি। শুরুর কঠিন সময় পার করে অনায়াসে রান বের করতে থাকেন তারা। আগের সিরিজে রান না পাওয়া সাইফ ছিলেন সমালোচনায়। প্রবল চাপে নেমে শুরুতে ক্যাচ দিয়ে বাঁচার পর নিজেকে সামলে নেন তিনি।

আলগা বল কাজে লাগিয়ে ফিফটি পেরোতে বেগ পেতে হয়নি তাকে। তবে ফিফটির পর বেশি এগোনো হয়নি ডানহাতি ওপেনারের। ৮ চার, ১ ছক্কায় ৭৬ বলে ৫৭ করে ক্যাচ উঠিয়ে ফেরেন সাইফ। এতে ভাঙে ১১৬ বলে ৯৩ রানের বড় জুটি।

সাইফ বিদায় নিলেও লিটন ছিলেন সাবলীল, হৃদয়কে নিয়ে জুটির পথে ছিলেন তিনি। তবে ফিফটির কাছে গিয়ে ফক্সক্রফটের ভেতরে ঢোকা অফ স্পিন ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে যান কিপার ব্যাটার। লিটনের বিদায়ের পর রানের চাকা আচমকা মন্থর হয়ে পড়ে। ছয়ে নামা আফিফ কুঁকড়ে ছিলেন, রান বের করতে ধুঁকছিলেন তিনি। হৃদয়ও শুরুর দিকে আড়ষ্ট থাকায় কিছুটা চাপ বাড়ছিল দলের ওপর।

অবশ্য ধুঁকতে থাকলেও উইকেট ছুড়ে দেননি তারা, সময় নিলেও পুষিয়ে দেওয়ার বিশ্বাস ছিল হয়তো। আফিফ সেটা পারেননি। বাজে শটে শেষ হয় তাঁর ৪৯ বলে ২৭ রানের সংগ্রাম।

দুই ওভার পর টিকনার বল নিয়ে মেহেদী হাসান মিরাজকে থামান মাত্র ৪ রানে। টম ল্যাথামের ক্যাচ হন মিরাজ। এই পেসার তার পরের ওভারের শেষ তিন বলে রিশাদ হোসেন (৪) ও শরিফুল ইসলামকে খালি হাতে আউট করে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন। চার ওভারে ৩৫ রান দরকার ছিল বাংলাদেশ। ৮ উইকেট হারানোর পর সেই চাপ আর নিতে পারেনি স্বাগতিকরা।

বরং টিকনারের শেষ ওভারে তাসকিন আহমেদ (২) বিদায় নেন। ৪৯তম ওভারের প্রথম বলে হৃদয় ছক্কা মেরে ফিফটি করলেও দুই বল পর তাকে সাজঘরে ফিরতে হয় নিকলসের ক্যাচ হয়ে। স্মিথ তাকে ফেরান ৫৫ রানে। ৬০ বলের ইনিংসে ছিল দুটি করে চার ও ছয়। টিকনারের সঙ্গে স্মিথ তিনটি উইকেট নিয়ে কার্যকরী ভূমিকা রাখেন।

এর আগে টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে দেখে শুনেই এগোচ্ছিলেন নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার। শুরুটা তাদের জন্য স্বস্তির ছিল না। বাংলাদেশের বোলাররা শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চাপ তৈরি করেন। তবে মাঝপথে কিউই ব্যাটসম্যানরা কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও শেষ দিকে বাংলাদেশের দারুণ প্রত্যাবর্তনে বড় স্কোর গড়তে পারেনি সফরকারীরা।

শুরুর ১০ ওভারে শরিফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে নিউজিল্যান্ড রান তুলতে হিমশিম খায়। শরিফুল প্রথম ওভারেই নিক কেলিকে বোল্ড করে স্বাগতিকদের উৎসাহ জোগান। একটি ক্যাচ মিসের সুযোগ নিয়ে হেনরি নিকোলস ও উইল ইয়াং জুটি গড়ে তোলেন। ইয়াং ৩০ রান করে ফিরলেও নিকোলস ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে অর্ধশতক তুলে নেন।

টম ল্যাথামকে সঙ্গে নিয়ে নিকোলস ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। স্পিনারদের বিপক্ষে সাবলীল খেলে নিয়মিত বাউন্ডারি হাঁকান। কিন্তু মেহেদী হাসান মিরাজ ল্যাথামকে বোল্ড করে জুটি ভেঙে দেন। এরপর রিশাদ হোসেনের স্পিন ঘূর্ণিতে বড় ধাক্কা খায় নিউজিল্যান্ড। দারুণ খেলতে থাকা নিকোলস ৬৮ রান করে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে আউট হন।

এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকে। শরিফুল ফিরে এসে মোহাম্মদ আব্বাসকে তুলে নেন। শেষদিকে ডিন ফক্সক্রফট চেষ্টা করেন ইনিংস টেনে নিতে। তিনি অর্ধশতক তুলে নেন (৫৯ রান), কিন্তু নাহিদ রানার বলে আউট হয়ে যান। নাথান স্মিথরা কয়েকটা রান যোগ করলেও দলকে ২৬০-এর কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারেননি। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে নিউজিল্যান্ড থামে ২৪৭ রানে।

বাংলাদেশের হয়ে দুটি করে উইকেট শিকার করেন তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও রিশাদ হোসেন। এ ছাড়াও একটি করে উইকেট নেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাহিদ রানা।

আগামী সোমবার সিরিজ বাঁচানো লড়াইয়ে নামবে বাংলাদেশ।

আবহাওয়া

খর্বশক্তির নিউজিল্যান্ডের কাছে হার দিয়ে সিরিজ শুরু বাংলাদেশের

প্রকাশের সময় : ০৯:১৮:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক : 

ভারতের চলমান আইপিএলের কারণে মূল দলের বেশ কয়েকজন তারকা ক্রিকেটারকে ছাড়াই বাংলাদেশ সফরে এসেছে নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল। এ কারণে দেশের বেশ কয়েকজন ক্রিকেট বিশ্লেষক কিউইদের ‘বি’ দল বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। তবে মাঠের লড়াইয়ে চমক দেখিয়ে প্রথম ওয়ানডেতে টাইগারদের ২৬ রানে হারিয়েছে টম লাথামের দল।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) টস জিতে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশকে ২৪৭ রানের লক্ষ্য দেয় নিউজিল্যান্ড। জবাব দিতে নেমে ৮ বল হাতে থাকতে ২২১ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। এতে ২৬ রানের জয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল সফরকারীরা।

নাগালে থাকা লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। চতুর্থ ওভারেই ফিরে যান তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। ন্যাথান স্মিথের পরপর দুই বলে বোল্ড হন তাঁরা। আগের ওভারে ১ রানে সাইফ হাসানের ক্যাচ হেনরি নিকোলস না ফেলে দিলে পড়তে পারত ৩ উইকেট।

২১ রানে ২ উইকেট হারিয়ে হকচকিয়ে পড়া দলকে এরপর স্থির করেন লিটন; জীবন পাওয়া সাইফকে নিয়ে পরিস্থিতি দারুণভাবে সামলে নেন তিনি। শুরুর কঠিন সময় পার করে অনায়াসে রান বের করতে থাকেন তারা। আগের সিরিজে রান না পাওয়া সাইফ ছিলেন সমালোচনায়। প্রবল চাপে নেমে শুরুতে ক্যাচ দিয়ে বাঁচার পর নিজেকে সামলে নেন তিনি।

আলগা বল কাজে লাগিয়ে ফিফটি পেরোতে বেগ পেতে হয়নি তাকে। তবে ফিফটির পর বেশি এগোনো হয়নি ডানহাতি ওপেনারের। ৮ চার, ১ ছক্কায় ৭৬ বলে ৫৭ করে ক্যাচ উঠিয়ে ফেরেন সাইফ। এতে ভাঙে ১১৬ বলে ৯৩ রানের বড় জুটি।

সাইফ বিদায় নিলেও লিটন ছিলেন সাবলীল, হৃদয়কে নিয়ে জুটির পথে ছিলেন তিনি। তবে ফিফটির কাছে গিয়ে ফক্সক্রফটের ভেতরে ঢোকা অফ স্পিন ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে যান কিপার ব্যাটার। লিটনের বিদায়ের পর রানের চাকা আচমকা মন্থর হয়ে পড়ে। ছয়ে নামা আফিফ কুঁকড়ে ছিলেন, রান বের করতে ধুঁকছিলেন তিনি। হৃদয়ও শুরুর দিকে আড়ষ্ট থাকায় কিছুটা চাপ বাড়ছিল দলের ওপর।

অবশ্য ধুঁকতে থাকলেও উইকেট ছুড়ে দেননি তারা, সময় নিলেও পুষিয়ে দেওয়ার বিশ্বাস ছিল হয়তো। আফিফ সেটা পারেননি। বাজে শটে শেষ হয় তাঁর ৪৯ বলে ২৭ রানের সংগ্রাম।

দুই ওভার পর টিকনার বল নিয়ে মেহেদী হাসান মিরাজকে থামান মাত্র ৪ রানে। টম ল্যাথামের ক্যাচ হন মিরাজ। এই পেসার তার পরের ওভারের শেষ তিন বলে রিশাদ হোসেন (৪) ও শরিফুল ইসলামকে খালি হাতে আউট করে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন। চার ওভারে ৩৫ রান দরকার ছিল বাংলাদেশ। ৮ উইকেট হারানোর পর সেই চাপ আর নিতে পারেনি স্বাগতিকরা।

বরং টিকনারের শেষ ওভারে তাসকিন আহমেদ (২) বিদায় নেন। ৪৯তম ওভারের প্রথম বলে হৃদয় ছক্কা মেরে ফিফটি করলেও দুই বল পর তাকে সাজঘরে ফিরতে হয় নিকলসের ক্যাচ হয়ে। স্মিথ তাকে ফেরান ৫৫ রানে। ৬০ বলের ইনিংসে ছিল দুটি করে চার ও ছয়। টিকনারের সঙ্গে স্মিথ তিনটি উইকেট নিয়ে কার্যকরী ভূমিকা রাখেন।

এর আগে টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে দেখে শুনেই এগোচ্ছিলেন নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার। শুরুটা তাদের জন্য স্বস্তির ছিল না। বাংলাদেশের বোলাররা শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চাপ তৈরি করেন। তবে মাঝপথে কিউই ব্যাটসম্যানরা কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও শেষ দিকে বাংলাদেশের দারুণ প্রত্যাবর্তনে বড় স্কোর গড়তে পারেনি সফরকারীরা।

শুরুর ১০ ওভারে শরিফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে নিউজিল্যান্ড রান তুলতে হিমশিম খায়। শরিফুল প্রথম ওভারেই নিক কেলিকে বোল্ড করে স্বাগতিকদের উৎসাহ জোগান। একটি ক্যাচ মিসের সুযোগ নিয়ে হেনরি নিকোলস ও উইল ইয়াং জুটি গড়ে তোলেন। ইয়াং ৩০ রান করে ফিরলেও নিকোলস ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে অর্ধশতক তুলে নেন।

টম ল্যাথামকে সঙ্গে নিয়ে নিকোলস ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। স্পিনারদের বিপক্ষে সাবলীল খেলে নিয়মিত বাউন্ডারি হাঁকান। কিন্তু মেহেদী হাসান মিরাজ ল্যাথামকে বোল্ড করে জুটি ভেঙে দেন। এরপর রিশাদ হোসেনের স্পিন ঘূর্ণিতে বড় ধাক্কা খায় নিউজিল্যান্ড। দারুণ খেলতে থাকা নিকোলস ৬৮ রান করে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে আউট হন।

এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকে। শরিফুল ফিরে এসে মোহাম্মদ আব্বাসকে তুলে নেন। শেষদিকে ডিন ফক্সক্রফট চেষ্টা করেন ইনিংস টেনে নিতে। তিনি অর্ধশতক তুলে নেন (৫৯ রান), কিন্তু নাহিদ রানার বলে আউট হয়ে যান। নাথান স্মিথরা কয়েকটা রান যোগ করলেও দলকে ২৬০-এর কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারেননি। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে নিউজিল্যান্ড থামে ২৪৭ রানে।

বাংলাদেশের হয়ে দুটি করে উইকেট শিকার করেন তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও রিশাদ হোসেন। এ ছাড়াও একটি করে উইকেট নেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাহিদ রানা।

আগামী সোমবার সিরিজ বাঁচানো লড়াইয়ে নামবে বাংলাদেশ।