Dhaka শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই দেশ আমাদের, তাই অন্য কেউ এটি গড়ে দিয়ে যাবে না : মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

এই দেশ আমাদের, তাই অন্য কেউ এটি গড়ে দিয়ে যাবে না বলে মন্তব্য করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে তরুণদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর ১০০ ফিটে জেসিআই কার্নিভালে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, পলিটিক্সের অনেক কচকচানি থাকবে। পার্লামেন্টের কথা শুনলে আপনাদের অনেক ভালো লাগবে, অনেকের ভালো লাগবে না। রাস্তায় বিভিন্ন বক্তৃতা শুনলে আপনাদের মনে হবে যে এটা আবার কী হলো? যা আমরা আশা করিনি। টেলিভিশনের টক শো আপনাদেরকে বিভ্রান্ত করবে। আরো বেশি বিভ্রান্ত করবে আপনাদের সোশ্যাল মিডিয়া। যে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনারা এখন সবাই আক্রান্ত। এই বিষয়গুলো সম্পর্কে আপনাদের ভাবতে হবে।

অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, অস্ট্রেলিয়া একটা উন্নত দেশ। ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত তারা সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যান করে দিয়েছে তাদের ছেলেমেয়েদের জন্য। কেন? কারণ সোশ্যাল মিডিয়া সব সময় ভালো জিনিসকে নিয়ে আসে না। আমাদের এখানে এই প্রভাবটা খুব বেশি পড়েছে।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, বিপুল জনগোষ্ঠী ও সীমিত খনিজসম্পদ থাকা সত্ত্বেও ১৮ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি বড় অর্জন।

তবে এসব বিষয় নিয়ে হতাশ না হয়ে নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বিএনপি মহাসচিব।

মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জাতি হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও গত ৫৬ বছরে প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করা যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বলেন, দেশের মাথাপিছু আয় ও জিডিপি এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এখনো প্রায় ৪২ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে এবং অনেকেই শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত।

এসময় তরুণদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি অংশের স্বউদ্যোগে ব্যবসা ও কৃষিভিত্তিক খামার প্রতিষ্ঠাকে দেশের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, তরুণদের একটি বিরাট অংশ স্বউদ্যোগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিক হচ্ছে, কৃষি খামার দিচ্ছে। তা অবশ্যই ইতিবাচক। তরুণদের জন্য কাজ করছে জেসিআই, যা প্রশংসনীয়।

তিনি আরো বলেন, বড় কিছু করতে হলে স্বপ্ন দেখতে হয়, যে নতুন স্বপ্ন দেখেছিলেন জিয়াউর রহমান। আমিও স্বপ্ন দেখি যে, আমরা পারব। আমি আশাবাদী মানুষ। এই দেশটা আমাদের। আমাদের কেউ ভালো করে দিয়ে যাবে না।

বক্তব্যের সমাপ্তিতে তিনি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তরুণদের স্বপ্ন দেখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বড় কিছু অর্জন করতে হলে স্বপ্নের প্রয়োজন হয়, যেমনটি দেখেছিলেন জিয়াউর রহমান। দেশ পুনর্গঠনের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, এই দেশ আমাদের এবং আমাদের উন্নয়ন আমাদেরই নিশ্চিত করতে হবে; অন্য কেউ এসে এটি করে দিয়ে যাবে না। তরুণদের মেধা ও শ্রমের মাধ্যমেই দেশ সব বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আবহাওয়া

এই দেশ আমাদের, তাই অন্য কেউ এটি গড়ে দিয়ে যাবে না : মির্জা ফখরুল

প্রকাশের সময় : ০৬:০১:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

এই দেশ আমাদের, তাই অন্য কেউ এটি গড়ে দিয়ে যাবে না বলে মন্তব্য করে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে তরুণদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর ১০০ ফিটে জেসিআই কার্নিভালে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, পলিটিক্সের অনেক কচকচানি থাকবে। পার্লামেন্টের কথা শুনলে আপনাদের অনেক ভালো লাগবে, অনেকের ভালো লাগবে না। রাস্তায় বিভিন্ন বক্তৃতা শুনলে আপনাদের মনে হবে যে এটা আবার কী হলো? যা আমরা আশা করিনি। টেলিভিশনের টক শো আপনাদেরকে বিভ্রান্ত করবে। আরো বেশি বিভ্রান্ত করবে আপনাদের সোশ্যাল মিডিয়া। যে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনারা এখন সবাই আক্রান্ত। এই বিষয়গুলো সম্পর্কে আপনাদের ভাবতে হবে।

অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, অস্ট্রেলিয়া একটা উন্নত দেশ। ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত তারা সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যান করে দিয়েছে তাদের ছেলেমেয়েদের জন্য। কেন? কারণ সোশ্যাল মিডিয়া সব সময় ভালো জিনিসকে নিয়ে আসে না। আমাদের এখানে এই প্রভাবটা খুব বেশি পড়েছে।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, বিপুল জনগোষ্ঠী ও সীমিত খনিজসম্পদ থাকা সত্ত্বেও ১৮ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি বড় অর্জন।

তবে এসব বিষয় নিয়ে হতাশ না হয়ে নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বিএনপি মহাসচিব।

মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জাতি হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও গত ৫৬ বছরে প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করা যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বলেন, দেশের মাথাপিছু আয় ও জিডিপি এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এখনো প্রায় ৪২ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে এবং অনেকেই শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত।

এসময় তরুণদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি অংশের স্বউদ্যোগে ব্যবসা ও কৃষিভিত্তিক খামার প্রতিষ্ঠাকে দেশের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, তরুণদের একটি বিরাট অংশ স্বউদ্যোগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিক হচ্ছে, কৃষি খামার দিচ্ছে। তা অবশ্যই ইতিবাচক। তরুণদের জন্য কাজ করছে জেসিআই, যা প্রশংসনীয়।

তিনি আরো বলেন, বড় কিছু করতে হলে স্বপ্ন দেখতে হয়, যে নতুন স্বপ্ন দেখেছিলেন জিয়াউর রহমান। আমিও স্বপ্ন দেখি যে, আমরা পারব। আমি আশাবাদী মানুষ। এই দেশটা আমাদের। আমাদের কেউ ভালো করে দিয়ে যাবে না।

বক্তব্যের সমাপ্তিতে তিনি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তরুণদের স্বপ্ন দেখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বড় কিছু অর্জন করতে হলে স্বপ্নের প্রয়োজন হয়, যেমনটি দেখেছিলেন জিয়াউর রহমান। দেশ পুনর্গঠনের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, এই দেশ আমাদের এবং আমাদের উন্নয়ন আমাদেরই নিশ্চিত করতে হবে; অন্য কেউ এসে এটি করে দিয়ে যাবে না। তরুণদের মেধা ও শ্রমের মাধ্যমেই দেশ সব বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।