নিজস্ব প্রতিবেদক :
ঈদের আগে থেকে চড়ে যাওয়া মুরগির বাজারে অবশেষে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। তবে পুরোপুরি কাটেনি বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট। একই সঙ্গে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে মসলার দাম। যদিও সপ্তাহ ব্যবধানে পটল, ঢ্যাঁড়স ও করোলার দাম কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা কমেছে, উল্টো বেগুনের দাম বেড়েছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর কারওয়ানবাজারসহ আশপাশের কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, আগে যেখানে মাসিক বাজারে থলে ভরে যেত, এখন সেখানে দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে ক্রেতাদের। এ কারণে সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও কারওয়ানবাজারে ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, গ্রীষ্মকালীন সব ধরনের সবজি গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে। এসব বাজারে বরবটি কেজিতে ২০ টাকা কমে ৮০ টাকা, বিভিন্ন ক্যাটাগরির বেগুন কেজিতে ১০ টাকা কমে ৭০-১২০ টাকা, কচুর লতি কেজিতে ২০ টাকা কমে ৮০ টাকা, করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ঢেঁড়স কেজিতে ৩০ টাকা কমে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পটল কেজিতে ২০ টাকা কমে ৮০ টাকা, কচুরমুখীর ১০০ থেকে ১২০ টাকা, সজিনা ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং ধুন্দল ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
শেওড়াপাড়ায় সবজি বিক্রেতা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, পাইকারি বাজারে সব ধরনের সবজি দাম প্রতি পাল্লায় (৫ কেজি) ৫০ থেকে ১০০ টাকা কমেছে।
তিনি বলেন, সবজির সংকট নেই, জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সবজির দাম অনেক কমে আসবে।
এসব বাজারে কাঁচামরিচ কেজিতে ৪০ টাকা কমে ৬০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, দেশি শসা ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং হাইব্রিড ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
বাজারগুলোতে এক হালি লেবু ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে দেশি ধনে পাতা ১৮০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ১০০ থেকে ১২০ কেজি, পুদিনা পাতা ২০০ টাকা কেজি, কাঁচা কলা হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, চাল কুমড়া ৬০ টাকা পিস এবং ক্যাপসিকাম ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
শীতকালীন শিম কেজিতে প্রকারভেদে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, টমেটো প্রকারভেদে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, দেশি গাজর ৫০ থেকে ৬০ টাকা, মুলা ৬০ টাকা, ফুল কপি বড় সাইজের প্রতি পিস ৬০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ টাকা এবং লাউ ৬০ থেকে ৭০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে।
এসব বাজারে লাল শাক আঁটি ১০ টাকা, লাউ শাক আঁটি ৩০ টাকা, কলমি শাক ২ আঁটি ২০ টাকা, পুঁই শাক ৩০ টাকা এবং ডাটা শাক দুই আঁটি ২০ টাকা, পালং শাক ২ আঁটি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারগুলোতে আলু ২৫ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
সোনালি মুরগি কেজিতে ৪০ টাকা কমে ৩৮০ টাকা এবং সোনালি হাইব্রিড মুরগি ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার ৩৩০ টাকা, সাদা লেয়ার ২৯০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৯০ টাকা দরে করে বিক্রি হচ্ছে।
এসব বাজারে গরুর মাংস ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, গরুর কলিজা ৮০০ টাকা, গরুর মাথার মাংস ৪৫০ টাকা, গরুর বট ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং খাসির মাংস কেজি প্রতি ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।
বাজারগুলোতে এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়, হাঁসের ডিম ২০০ টাকায়, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা এবং সোনালি কক মুরগির ডিম হালি ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।
তবে মাছের বাজারে অস্থিরতা দেখা গেছে। সব ধরনের মাছের দাম বেড়েছে। ৩০০ গ্রাম সাইজের ১ কেজি ইলিশ মাছ ১৪০০ টাকা থেকে ১৫০০ এবং ৫০০ গ্রামের ইলিশ ২০০০ থেকে ২২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি শিং মাছ চাষের (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায়, দেশি শিং ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা, প্রতি কেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, দেশি মাগুর মাছ ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকায়, চাষের পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়, চিংড়ি প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকায়, বোয়াল মাছ প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, তেলাপিয়া ২০০ টাকায়, কৈ মাছ ২০০ থেকে ২২০ টাকায়, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১৪০০ টাকায়, টেংরা মাছ ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি মাছ ৫০০ টাকায় এবং পাঁচমিশালি মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















