Dhaka শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নিত্যপণ্যের চড়াও দামে বাজারে বাড়ছে অস্থিরতা

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

দূর থেকে দেখলে মনে হবে সবকিছু ঠিকই আছে, তবে কাছে গেলে বোঝা যায় বাজারে ঠিকঠাক বোতলজাত সয়াবিন তেল মিলছে না। সর্বোচ্চ দামে কিনতে হচ্ছে সোনালি মুরগি। এ ছাড়াও বাজারে সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। এখন ৮০ টাকার নিচে পেঁপে-গাজর ছাড়া তেমন কোনো সবজিও নেই। সীমিত আয়ের মানুষের জন্য নিত্যপণ্যের বাজার যেন এক অস্থিরতার মধ্যে পড়েছে।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির দামের এমন চিত্র দেখা গেছে।

গ্রীষ্মকালীন সবজির দাম বাড়ায় অধিকাংশ পণ্যই এখন ১০০ টাকার কাছাকাছি।

গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহের বেড়েছে সবজির দাম। এখন বাজারে প্রতিকেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৭০ থাকে ৮০ টাকা। সিম ৮০ টাকা, দেশি শশা ৬০ টাকা, করলা ১২০ টাকা, গাজর (দেশি) ৫০টাকা, চিচিঙ্গা ১০০ টাকা, বরবটি ও ঢেঁড়স ১০০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। পটল ৮০ টাকা, টমেটো ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কাঁচমরিচ ১২০ থেকে ১৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। এছাড়া, কাঁচা পেঁপে ৩০ টাকা, ফুলকপি ও বাঁধাকপির পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং প্রতিটি পিস জালি কুমড়া ও লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মুদি বাজারে চালসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। এখন নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়। দেশি পেঁয়াজ মানভেদে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, রসুন (দেশি) ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, দেশি আদা ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা, সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা, লেয়ার ৩০০ টাকা, দেশি মুরগি ৫৫০ থেকে ৫৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। হাঁসের মধ্যে দেড় কেজি ওজনের প্রতি পিস দেশি হাঁস ৫০০ টাকা, দুই কেজি ওজনের চীনা হাঁস প্রতি পিস ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস প্রতিকেজি ৭৮০ থেকে ৯০০ টাকা, খাসির মাংস ১২০০ টাকা এবং ছাগল ১১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এছাড়া প্রতি ডজন লাল ডিম ১১০ থেকে ১২০ টাকা, সাদা ডিম ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা ও দেশি হাঁসের ডিম ২০০ থেকে ২১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

আর মাছের বাজারে ইলিশের দাম আকাশচুম্বী। বাজারে মাঝারি আকারের চাষের রুই বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে। চাষের পাঙাস আকার অনুযায়ী কেজি ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, মাঝারি আকারের কৈ মাছ ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে দেশি শিং ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, বড় সাইজের পাবদা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, দেশি পাঁচমেশালি ছোট মাছ ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, মলা ৬২০ থেকে ৬৫০ টাকা, টেংরা ৭৫০ টাকা, রূপচাঁদা ১৫০০, বোয়াল ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ৪০০ গ্রাম ওজনের পদ্মার ইলিশ ১২০০ টাকা এবং চট্টগ্রামের ইলিশ ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতারা জানান, হঠাৎ বাজার থেকে উধাও হয়ে গেছে ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল। এক ও দুই লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলও সব দোকানে পাওয়া যাচ্ছে না। তুলনামূলক বড় দোকানগুলোতে পাওয়া গেলেও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ করেছেন তারা।

বিক্রেতাদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধের পর থেকেই বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কম। এই সুযোগে বড় কোম্পানিগুলো ডিলার পর্যায়ে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৩ থেকে ৪ টাকা করে বাড়িয়েছেন। পাশাপাশি খোলা সয়াবিন তেলের দামও লিটারে প্রায় ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

আবহাওয়া

ঝিনাইদহে ব্রিজ ভেঙে যানবাহন চলাচল বন্ধ, সাঁকোতে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

নিত্যপণ্যের চড়াও দামে বাজারে বাড়ছে অস্থিরতা

প্রকাশের সময় : ০৫:২৩:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

দূর থেকে দেখলে মনে হবে সবকিছু ঠিকই আছে, তবে কাছে গেলে বোঝা যায় বাজারে ঠিকঠাক বোতলজাত সয়াবিন তেল মিলছে না। সর্বোচ্চ দামে কিনতে হচ্ছে সোনালি মুরগি। এ ছাড়াও বাজারে সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। এখন ৮০ টাকার নিচে পেঁপে-গাজর ছাড়া তেমন কোনো সবজিও নেই। সীমিত আয়ের মানুষের জন্য নিত্যপণ্যের বাজার যেন এক অস্থিরতার মধ্যে পড়েছে।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির দামের এমন চিত্র দেখা গেছে।

গ্রীষ্মকালীন সবজির দাম বাড়ায় অধিকাংশ পণ্যই এখন ১০০ টাকার কাছাকাছি।

গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহের বেড়েছে সবজির দাম। এখন বাজারে প্রতিকেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৭০ থাকে ৮০ টাকা। সিম ৮০ টাকা, দেশি শশা ৬০ টাকা, করলা ১২০ টাকা, গাজর (দেশি) ৫০টাকা, চিচিঙ্গা ১০০ টাকা, বরবটি ও ঢেঁড়স ১০০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। পটল ৮০ টাকা, টমেটো ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কাঁচমরিচ ১২০ থেকে ১৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। এছাড়া, কাঁচা পেঁপে ৩০ টাকা, ফুলকপি ও বাঁধাকপির পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং প্রতিটি পিস জালি কুমড়া ও লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মুদি বাজারে চালসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। এখন নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়। দেশি পেঁয়াজ মানভেদে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, রসুন (দেশি) ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, দেশি আদা ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা, সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা, লেয়ার ৩০০ টাকা, দেশি মুরগি ৫৫০ থেকে ৫৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। হাঁসের মধ্যে দেড় কেজি ওজনের প্রতি পিস দেশি হাঁস ৫০০ টাকা, দুই কেজি ওজনের চীনা হাঁস প্রতি পিস ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস প্রতিকেজি ৭৮০ থেকে ৯০০ টাকা, খাসির মাংস ১২০০ টাকা এবং ছাগল ১১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এছাড়া প্রতি ডজন লাল ডিম ১১০ থেকে ১২০ টাকা, সাদা ডিম ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা ও দেশি হাঁসের ডিম ২০০ থেকে ২১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

আর মাছের বাজারে ইলিশের দাম আকাশচুম্বী। বাজারে মাঝারি আকারের চাষের রুই বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে। চাষের পাঙাস আকার অনুযায়ী কেজি ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, মাঝারি আকারের কৈ মাছ ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে দেশি শিং ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, বড় সাইজের পাবদা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, দেশি পাঁচমেশালি ছোট মাছ ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, মলা ৬২০ থেকে ৬৫০ টাকা, টেংরা ৭৫০ টাকা, রূপচাঁদা ১৫০০, বোয়াল ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ৪০০ গ্রাম ওজনের পদ্মার ইলিশ ১২০০ টাকা এবং চট্টগ্রামের ইলিশ ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতারা জানান, হঠাৎ বাজার থেকে উধাও হয়ে গেছে ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল। এক ও দুই লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলও সব দোকানে পাওয়া যাচ্ছে না। তুলনামূলক বড় দোকানগুলোতে পাওয়া গেলেও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ করেছেন তারা।

বিক্রেতাদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধের পর থেকেই বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কম। এই সুযোগে বড় কোম্পানিগুলো ডিলার পর্যায়ে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৩ থেকে ৪ টাকা করে বাড়িয়েছেন। পাশাপাশি খোলা সয়াবিন তেলের দামও লিটারে প্রায় ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।