Dhaka বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ক্রিমিয়ায় রুশ সামরিক বিমান বিধ্বস্তে নিহত ২৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

রাশিয়ার ক্রিমিয়ায় পাহাড়ে ধাক্কা খেয়ে ভেঙে পড়ল এএন-২৬ মডেলের একটি রাশিয়ার সেনা বিমান। এতে বিমানটির ছয় ক্রুসহ ২৯ জন আরোহীর সবাই প্রাণ হারিয়েছেন বলে উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন।

বুধবার (১ এপ্রিল) ভোরে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদ সংস্থা তাস এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিমানটি একটি খাড়া পাহাড়ের গায়ে আছড়ে পড়ে।

মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে রুশ সংবাদ সংস্থা তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ ক্রিমিয়ার আকাশসীমায় নিয়মিত ফ্লাইট চলাকালে এএন-২৬ মডেলের বিমানের সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে অনুসন্ধানকারী দল দুর্ঘটনাস্থল শনাক্ত করে। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিমানে থাকা ৬ জন ক্রু ও ২৩ জন যাত্রীর সবাই নিহত হয়েছেন।

রুশ সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসকে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিমানটি ২৯ আরোহী নিয়ে রুটিন মহড়ায় বেরিয়েছিল। ওড়ার কিছুক্ষণ পরেই বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তার পরই জানা যায়, বিমানটি ক্রিমিয়ার কাছে পাহাড়ে ধাক্কা খেয়ে ভেঙে পড়েছে। খবর পেয়েই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ চালায়।

এই ঘটনার পরই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তা হলে কি ইউক্রেনের কোনও হামলার শিকার হল রুশ সেনা বিমানটি? যদিও রুশ সেনাবাহিনীর তরফে, সেই জল্পনা উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

রাশিয়ার দাবি, প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, যান্ত্রিক গোলযোগের কারণেই দুর্ঘটনা। তবে ব্ল্যাকবক্স উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে কোনো কিছু বলতে পারছে না সেনাবাহিনী।

সোভিয়েত জমানার এই বিমান মূলত সামরিক সরঞ্জাম এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবহার হয়। স্বল্প থেকে মাঝারি দূরত্বে সামরিক সরঞ্জাম বহনে এবং স্বল্প সংখ্যক যাত্রী বহনে সক্ষম এই বিমান।
এএন-২৬ সামরিক পরিবহন বিমানগুলো ১৯৬০ এর দশক থেকে চলছে। এগুলো মালবহনের কাজে ব্যবহার করা হয়। এ মডেলের একাধিক বিমান এর আগে বিধ্বস্ত হয়েছিল।

২০২২ সালে ইউক্রেনের একটি এএন-২৬ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে একজন প্রাণ হারান। তারও আগে ২০২০ সালে দেশটির আরেকটি এএন-২৬ বিধ্বস্ত হয়ে ২৬ জন নিহত হন। তবে বিমানটিতে থাকা এক যাত্রী অলৌকিকভাবে বেঁচে যান।

অপরদিকে দক্ষিণ সুদানে রুশ সেনাবাহিনীর এএন-২৬ বিধ্বস্ত হয়ে আটজন নিহত হয়েছিলেন। যারমধ্যে পাঁচজন ছিলেন রুশ নাগরিক। এছাড়া ২০১৭ সালে তাদের আরেকটি বিমান আইভরি কোস্টে বিধব্স্ত হয়। ওই দুর্ঘটনায় ১০ জন প্রাণ হারান।

আবহাওয়া

ক্রিমিয়ায় রুশ সামরিক বিমান বিধ্বস্তে নিহত ২৯

প্রকাশের সময় : ১২:২৭:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

রাশিয়ার ক্রিমিয়ায় পাহাড়ে ধাক্কা খেয়ে ভেঙে পড়ল এএন-২৬ মডেলের একটি রাশিয়ার সেনা বিমান। এতে বিমানটির ছয় ক্রুসহ ২৯ জন আরোহীর সবাই প্রাণ হারিয়েছেন বলে উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন।

বুধবার (১ এপ্রিল) ভোরে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদ সংস্থা তাস এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিমানটি একটি খাড়া পাহাড়ের গায়ে আছড়ে পড়ে।

মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে রুশ সংবাদ সংস্থা তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ ক্রিমিয়ার আকাশসীমায় নিয়মিত ফ্লাইট চলাকালে এএন-২৬ মডেলের বিমানের সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে অনুসন্ধানকারী দল দুর্ঘটনাস্থল শনাক্ত করে। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিমানে থাকা ৬ জন ক্রু ও ২৩ জন যাত্রীর সবাই নিহত হয়েছেন।

রুশ সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসকে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিমানটি ২৯ আরোহী নিয়ে রুটিন মহড়ায় বেরিয়েছিল। ওড়ার কিছুক্ষণ পরেই বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তার পরই জানা যায়, বিমানটি ক্রিমিয়ার কাছে পাহাড়ে ধাক্কা খেয়ে ভেঙে পড়েছে। খবর পেয়েই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ চালায়।

এই ঘটনার পরই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তা হলে কি ইউক্রেনের কোনও হামলার শিকার হল রুশ সেনা বিমানটি? যদিও রুশ সেনাবাহিনীর তরফে, সেই জল্পনা উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

রাশিয়ার দাবি, প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, যান্ত্রিক গোলযোগের কারণেই দুর্ঘটনা। তবে ব্ল্যাকবক্স উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে কোনো কিছু বলতে পারছে না সেনাবাহিনী।

সোভিয়েত জমানার এই বিমান মূলত সামরিক সরঞ্জাম এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবহার হয়। স্বল্প থেকে মাঝারি দূরত্বে সামরিক সরঞ্জাম বহনে এবং স্বল্প সংখ্যক যাত্রী বহনে সক্ষম এই বিমান।
এএন-২৬ সামরিক পরিবহন বিমানগুলো ১৯৬০ এর দশক থেকে চলছে। এগুলো মালবহনের কাজে ব্যবহার করা হয়। এ মডেলের একাধিক বিমান এর আগে বিধ্বস্ত হয়েছিল।

২০২২ সালে ইউক্রেনের একটি এএন-২৬ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে একজন প্রাণ হারান। তারও আগে ২০২০ সালে দেশটির আরেকটি এএন-২৬ বিধ্বস্ত হয়ে ২৬ জন নিহত হন। তবে বিমানটিতে থাকা এক যাত্রী অলৌকিকভাবে বেঁচে যান।

অপরদিকে দক্ষিণ সুদানে রুশ সেনাবাহিনীর এএন-২৬ বিধ্বস্ত হয়ে আটজন নিহত হয়েছিলেন। যারমধ্যে পাঁচজন ছিলেন রুশ নাগরিক। এছাড়া ২০১৭ সালে তাদের আরেকটি বিমান আইভরি কোস্টে বিধব্স্ত হয়। ওই দুর্ঘটনায় ১০ জন প্রাণ হারান।