Dhaka শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ

ভারতের সঙ্গে ড্রয়ে সেমিতে নেপালকে পেলো বাংলাদেশ

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৯:১৩:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
  • ১৮২ জন দেখেছেন

স্পোর্টস ডেস্ক :

শুরুতে পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি বাংলাদেশের তরুণরা। শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ভারতের বিপক্ষে লড়াই করে সমতা ফিরিয়ে এনে গুরুত্বপূর্ণ একটি ড্র তুলে নিয়েছে লাল-সবুজের দল। তাতে সেমি-ফাইনালের টিকিট কেটেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দল।

শনিবার (২৮ মার্চ) মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ ও ভারত। শুরু থেকেই আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। ১৭তম মিনিটে পিছিয়ে পড়ার পর আক্রমণের ধার বাড়ায় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত প্রথমার্ধের বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে সমতায় ফেরে বাংলাদেশ।

ভারতের সঙ্গে ড্র করায় সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানের পিছিয়ে থাকায় রানার্স আপ হয়ে সেমিফাইনাল খেলবে বাংলাদেশ। গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ভারত।

রানার্স আপ হওয়ায় শেষ চারে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ অন্য গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন নেপাল। অন্যদিকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ভারত সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ভুটানের।

ম্যাচের শুরুতে গোল হজমের পর সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। আক্রমণের ধার বাড়ালেও ৩৯ মিনিটে বড় ধাক্কা খায় দলটি। চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার আশিকুর রহমান, স্ট্রেচারে করে বাইরে নেওয়া হয় তাকে। তার পরিবর্তে মাঠে নামেন আব্দুল রিয়াদ ফাহিম।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ম্যাচে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। টাচলাইনের কাছে ভারতের এক খেলোয়াড়কে শক্ত ট্যাকল ঘিরে দুই দলের ডাগআউটে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মুহূর্তেই তা তর্ক-বিতর্ক থেকে হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছানোর উপক্রম হয় দুই দলের কোচিং স্টাফদের মধ্যে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রেফারি ভারতের সাপোর্ট স্টাফ মহেশ গাউলিকে হলুদ কার্ড দেখান। এরপর বাংলাদেশের ইংলিশ হেড কোচ মার্ক কক্সকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি।

ডাগআউটে এই অস্থিরতার পরও ছন্দ হারায়নি বাংলাদেশ। বরং যোগ করা সময়ের একেবারে শেষদিকে দারুণ এক আক্রমণ থেকে আসে সমতার গোল। রোনান সুলিভানের দারুণ এক কর্নার কিক থেকে বদলি হিসেবে নামা আব্দুল রিয়াদ ফাহিম চমৎকার ভলিতে বল জালে জড়ান। তার সেই গোলে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ।

দ্বিতীয়ার্ধেও লড়াই হয় হাড্ডাহাড্ডি। ৬৩তম মিনিটে বাংলাদেশের ত্রাতা গোলকিপার ইসমাইল হোসেন। দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে জায়গা করে নেওয়া ওমাং দুদু শট নেওয়ার আগেই পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে হাত বাড়িয়ে বল কর্নার করে দেন তিনি। নিশ্চিত গোল থেকে বেঁচে যায় বাংলাদেশ।

একটু পর ভারতের স্যামসনকে বক্সের ঠিক ওপর থেকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন ফাহিম। ওমং দুদুর ফ্রি কিক রক্ষণ দেয়ালে লেগে পোস্টের অনেক বাইরে দিয়ে যায়। সেই কর্নার ফিরিয়ে ম্যাচে টিকে থাকে বাংলাদেশ।

৮৭তম মিনিটে রোনানের শট পোস্টের অনেক বাইরে দিয়ে যায়। বাকি সময়ে বাংলাদেশ পায়নি জয়সূচক গোলের দেখা।

ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আগামী ১ এপ্রিল বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে নেপালের।

বয়সভিত্তিক এই প্রতিযোগিতা এ পর্যন্ত অনূর্ধ্ব-১৮, ১৯ ও ২০ ক্যাটাগরিতে মাঠে গড়িয়েছে সাতবার। ভারত চার বার, নেপাল দুই এবং বাংলাদেশ একবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ২০২৪ সালে অনূর্ধ্ব-২০ ক্যাটাগরিতেই নেপালকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে সেরা হয়েছিল বাংলাদেশ।

 

আবহাওয়া

গ্রিস উপকূলে ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু, ২১ বাংলাদেশিসহ উদ্ধার ২৬

সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ

ভারতের সঙ্গে ড্রয়ে সেমিতে নেপালকে পেলো বাংলাদেশ

প্রকাশের সময় : ০৯:১৩:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক :

শুরুতে পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি বাংলাদেশের তরুণরা। শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ভারতের বিপক্ষে লড়াই করে সমতা ফিরিয়ে এনে গুরুত্বপূর্ণ একটি ড্র তুলে নিয়েছে লাল-সবুজের দল। তাতে সেমি-ফাইনালের টিকিট কেটেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দল।

শনিবার (২৮ মার্চ) মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ ও ভারত। শুরু থেকেই আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। ১৭তম মিনিটে পিছিয়ে পড়ার পর আক্রমণের ধার বাড়ায় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত প্রথমার্ধের বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে সমতায় ফেরে বাংলাদেশ।

ভারতের সঙ্গে ড্র করায় সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানের পিছিয়ে থাকায় রানার্স আপ হয়ে সেমিফাইনাল খেলবে বাংলাদেশ। গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ভারত।

রানার্স আপ হওয়ায় শেষ চারে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ অন্য গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন নেপাল। অন্যদিকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ভারত সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ভুটানের।

ম্যাচের শুরুতে গোল হজমের পর সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। আক্রমণের ধার বাড়ালেও ৩৯ মিনিটে বড় ধাক্কা খায় দলটি। চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার আশিকুর রহমান, স্ট্রেচারে করে বাইরে নেওয়া হয় তাকে। তার পরিবর্তে মাঠে নামেন আব্দুল রিয়াদ ফাহিম।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ম্যাচে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। টাচলাইনের কাছে ভারতের এক খেলোয়াড়কে শক্ত ট্যাকল ঘিরে দুই দলের ডাগআউটে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মুহূর্তেই তা তর্ক-বিতর্ক থেকে হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছানোর উপক্রম হয় দুই দলের কোচিং স্টাফদের মধ্যে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রেফারি ভারতের সাপোর্ট স্টাফ মহেশ গাউলিকে হলুদ কার্ড দেখান। এরপর বাংলাদেশের ইংলিশ হেড কোচ মার্ক কক্সকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি।

ডাগআউটে এই অস্থিরতার পরও ছন্দ হারায়নি বাংলাদেশ। বরং যোগ করা সময়ের একেবারে শেষদিকে দারুণ এক আক্রমণ থেকে আসে সমতার গোল। রোনান সুলিভানের দারুণ এক কর্নার কিক থেকে বদলি হিসেবে নামা আব্দুল রিয়াদ ফাহিম চমৎকার ভলিতে বল জালে জড়ান। তার সেই গোলে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ।

দ্বিতীয়ার্ধেও লড়াই হয় হাড্ডাহাড্ডি। ৬৩তম মিনিটে বাংলাদেশের ত্রাতা গোলকিপার ইসমাইল হোসেন। দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে জায়গা করে নেওয়া ওমাং দুদু শট নেওয়ার আগেই পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে হাত বাড়িয়ে বল কর্নার করে দেন তিনি। নিশ্চিত গোল থেকে বেঁচে যায় বাংলাদেশ।

একটু পর ভারতের স্যামসনকে বক্সের ঠিক ওপর থেকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন ফাহিম। ওমং দুদুর ফ্রি কিক রক্ষণ দেয়ালে লেগে পোস্টের অনেক বাইরে দিয়ে যায়। সেই কর্নার ফিরিয়ে ম্যাচে টিকে থাকে বাংলাদেশ।

৮৭তম মিনিটে রোনানের শট পোস্টের অনেক বাইরে দিয়ে যায়। বাকি সময়ে বাংলাদেশ পায়নি জয়সূচক গোলের দেখা।

ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আগামী ১ এপ্রিল বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে নেপালের।

বয়সভিত্তিক এই প্রতিযোগিতা এ পর্যন্ত অনূর্ধ্ব-১৮, ১৯ ও ২০ ক্যাটাগরিতে মাঠে গড়িয়েছে সাতবার। ভারত চার বার, নেপাল দুই এবং বাংলাদেশ একবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ২০২৪ সালে অনূর্ধ্ব-২০ ক্যাটাগরিতেই নেপালকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে সেরা হয়েছিল বাংলাদেশ।