Dhaka শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পল্লবীতে কিবরিয়া হত্যায় রিভলবারসহ ২ ‘শুটার’ গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজধানীর পল্লবী যুবদলের সদস্যসচিব গোলাম কিবরিয়া হত্যায় জড়িত দুই শুটারকে রিভলবারসহ গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি রিভলবার ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

র‌্যাব বলছে, তারা দুজন হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন এবং ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিলেন। দেশ ছাড়তে কাগজপত্র বানাতে ঢাকায় এসে তারা ধরা পড়েছেন।

এর মধ্যে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে রূপনগর ইস্টার্ন হাউজিং এলাকা থেকে মো. রাশেদ ওরফে লোপনকে (৩৫) এবং উত্তরা দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে কাল্লুকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে গ্রেপ্তার লোপনের দেওয়া তথ্যে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বিদেশি রিভলবার এবং তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করার কথা বলছে র‌্যাব।

গত বছরের ১৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় পল্লবীর পুরনো থানার কাছে সি ব্লকে একটি হার্ডওয়্যারের দোকানে মুখোশ ও হেলমেট পরা তিন ব্যক্তি ঢুকে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়াকে খুব কাছ থেকে গুলি করে চলে যায়।

রাত ৮টার দিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওই ঘটনায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো ৭/৮ জনকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা করেন নিহতের স্ত্রী সাবিহা আক্তার দিনা।

হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় লোকজন জনি ভূইয়া (২৫) নামে একজনকে ধরে পুলিশে দিয়েছিল।

ঘটনার পরদিন মামলার এজাহারনামীয় আসামি মো. মনির হোসেন ওরফে সোহেল ওরফে পাতা সোহেল (৩০) এবং হত্যাকাণ্ডের ‘অন্যতম সন্দেহভাজন’ ১৮ মামলার আসামি মো. সুজন ওরফে বুকপোড়া সুজনকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছিল র‌্যাব-৪।

পরদিন ১৯ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব বলেছিল, ‘রাজনৈতিক কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে’ কিবরিয়াকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়।

কিবরিয়াকে হত্যার ঘটনায় ‘বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেন’ হয় বলে গ্রেপ্তার দুজনের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছিল র‌্যাব।

কিবরিয়া হত্যার চার মাস পর এবার ‘কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া দুই শুটারকে’ গ্রেপ্তার করার কথা জানানো হল।

‘র‌্যাব-৪’ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহাবুদ্দিন কবির বলেন, ঘটনার পর থেকেই জড়িত আসামিদের আইনের আওতায় আনতে ছায়া তদন্ত শুরু করে করেছিল র‌্যাব। কিন্তু কিলিং মিশনে অংশগ্রহণকারী শুটাররা পলাতক ছিল। পলাতক শুটারদের গ্রেপ্তারে অব্যাহত ছায়াতদন্তের একপর্যায়ে র‌্যাব জানতে পারে, শুটার লোপন ও কাল্লু দেশ ছাড়ার জন্য ঢাকায় এসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করেছে। এরমধ্যে খবর পেয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার দুইজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, রাজনৈতিক কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কিবরিয়াকে হত্যা করা হয়েছে। তারা দুইজন ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ভিডিও দেখে নিজেদের সনাক্ত করেছে এবং কিলিং মিশনে অংশগ্রহণের কথা স্বীকার করেছে।

গ্রেপ্তার দুইজন ‘পেশাদার শুটার’ এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যা, চাঁদাবাজি ও মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

আবহাওয়া

জ্বালানি তেলে সরকার প্রতিদিন ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে : প্রতিমন্ত্রী

পল্লবীতে কিবরিয়া হত্যায় রিভলবারসহ ২ ‘শুটার’ গ্রেপ্তার

প্রকাশের সময় : ০২:৪৮:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজধানীর পল্লবী যুবদলের সদস্যসচিব গোলাম কিবরিয়া হত্যায় জড়িত দুই শুটারকে রিভলবারসহ গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি রিভলবার ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

র‌্যাব বলছে, তারা দুজন হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন এবং ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিলেন। দেশ ছাড়তে কাগজপত্র বানাতে ঢাকায় এসে তারা ধরা পড়েছেন।

এর মধ্যে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে রূপনগর ইস্টার্ন হাউজিং এলাকা থেকে মো. রাশেদ ওরফে লোপনকে (৩৫) এবং উত্তরা দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে কাল্লুকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে গ্রেপ্তার লোপনের দেওয়া তথ্যে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বিদেশি রিভলবার এবং তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করার কথা বলছে র‌্যাব।

গত বছরের ১৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় পল্লবীর পুরনো থানার কাছে সি ব্লকে একটি হার্ডওয়্যারের দোকানে মুখোশ ও হেলমেট পরা তিন ব্যক্তি ঢুকে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়াকে খুব কাছ থেকে গুলি করে চলে যায়।

রাত ৮টার দিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওই ঘটনায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো ৭/৮ জনকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা করেন নিহতের স্ত্রী সাবিহা আক্তার দিনা।

হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় লোকজন জনি ভূইয়া (২৫) নামে একজনকে ধরে পুলিশে দিয়েছিল।

ঘটনার পরদিন মামলার এজাহারনামীয় আসামি মো. মনির হোসেন ওরফে সোহেল ওরফে পাতা সোহেল (৩০) এবং হত্যাকাণ্ডের ‘অন্যতম সন্দেহভাজন’ ১৮ মামলার আসামি মো. সুজন ওরফে বুকপোড়া সুজনকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছিল র‌্যাব-৪।

পরদিন ১৯ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব বলেছিল, ‘রাজনৈতিক কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে’ কিবরিয়াকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়।

কিবরিয়াকে হত্যার ঘটনায় ‘বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেন’ হয় বলে গ্রেপ্তার দুজনের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছিল র‌্যাব।

কিবরিয়া হত্যার চার মাস পর এবার ‘কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া দুই শুটারকে’ গ্রেপ্তার করার কথা জানানো হল।

‘র‌্যাব-৪’ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহাবুদ্দিন কবির বলেন, ঘটনার পর থেকেই জড়িত আসামিদের আইনের আওতায় আনতে ছায়া তদন্ত শুরু করে করেছিল র‌্যাব। কিন্তু কিলিং মিশনে অংশগ্রহণকারী শুটাররা পলাতক ছিল। পলাতক শুটারদের গ্রেপ্তারে অব্যাহত ছায়াতদন্তের একপর্যায়ে র‌্যাব জানতে পারে, শুটার লোপন ও কাল্লু দেশ ছাড়ার জন্য ঢাকায় এসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করেছে। এরমধ্যে খবর পেয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার দুইজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, রাজনৈতিক কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কিবরিয়াকে হত্যা করা হয়েছে। তারা দুইজন ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ভিডিও দেখে নিজেদের সনাক্ত করেছে এবং কিলিং মিশনে অংশগ্রহণের কথা স্বীকার করেছে।

গ্রেপ্তার দুইজন ‘পেশাদার শুটার’ এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যা, চাঁদাবাজি ও মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।