আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির চরম অবনতির প্রেক্ষাপটে দুবাই ভিত্তিক বিমান সংস্থা এমিরেটস তাদের সমস্ত ফ্লাইট চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেছে। শনিবার (৭ মার্চ) এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ এক জরুরি বার্তায় জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দুবাই থেকে কোনো ফ্লাইট ছাড়বে না এবং কোনো ফ্লাইট সেখানে অবতরণও করবে না।
দুবাই বিমানবন্দরের ওপর দিয়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এমিরেটস কর্তৃপক্ষ বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে যাত্রীদের অনুরোধ করেছে যেন তারা বর্তমান পরিস্থিতিতে বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা না হন। কারণ বিমানবন্দরের কার্যক্রম আপাতত সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং শহরের চেক-ইন সুবিধাগুলোও স্থগিত করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে এমিরেটস জানিয়েছে যে, যাত্রী এবং ক্রুদের নিরাপত্তাই তাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং এ বিষয়ে কোনো প্রকার আপস করা হবে না। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যাত্রীদের ধৈর্য ধরার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে সংস্থাটি বলেছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী আপডেট যথাসময়ে জানানো হবে।
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে দুবাই বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক এই বিমান সংস্থাটি এমন নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার আন্তর্জাতিক যাত্রী বিভিন্ন গন্তব্যে আটকা পড়েছেন এবং বৈশ্বিক আকাশপথের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে।
ফ্লাইট বাতিল হওয়ার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের জন্য এমিরেটস বিশেষ রি-বুকিং এবং অর্থ ফেরতের (রিফান্ড) সুবিধা ঘোষণা করেছে। যেসব যাত্রীর ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে ভ্রমণের টিকিট বুক করা ছিল, তারা চাইলে কোনো অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই তাদের ভ্রমণের তারিখ পরিবর্তন করতে পারবেন।
এক্ষেত্রে আগামী ৩০ এপ্রিল বা তার আগের যেকোনো সময়ের জন্য বিকল্প ফ্লাইটে বুকিং নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। যাত্রীদের বর্তমান যোগাযোগের তথ্য আপডেট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যাতে তারা দ্রুততম সময়ে সব খবর জানতে পারেন। ট্রাভেল এজেন্টের মাধ্যমে যারা টিকিট কেটেছেন, তাদের সংশ্লিষ্ট এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে এবং সরাসরি এয়ারলাইন্স থেকে টিকিট কেনা যাত্রীরা এমিরেটসের সাপোর্ট চ্যানেলে যোগাযোগ করতে পারবেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুবাই বিমানবন্দরের ওপর দিয়ে বিস্ফোরণের খবরটি এই অঞ্চলের বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বড় মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রধান এই ট্রানজিট হাব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এশিয়া থেকে ইউরোপ ও আমেরিকার যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এমিরেটস কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। যতদিন পর্যন্ত আকাশপথ সম্পূর্ণ নিরাপদ না হবে, ততদিন এই স্থগিতাদেশ বজায় থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে দুবাই বিমানবন্দর এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 























