স্পোর্টস ডেস্ক :
চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান দল যে প্রস্তুতি নিয়েছিল, তার ধারেকাছেও সম্ভবত কেউ ছিল না। কিন্তু মাঠে করল কী! কেবল হতাশাই উপহার দিয়ে গেছে। গ্রুপে সহজ প্রতিপক্ষদের বিপক্ষে সাফল্য এসেছে। কিন্তু বড় দলগুলোর বিপক্ষে প্রশ্নবিদ্ধ পারফরম্যান্সে পরাজিত হয়েছে। সুপার এইটের শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারালেও লাভ হয়নি। সেমিফাইনাল না খেলে বিদায় নিয়েছে পাকিস্তান। তাদের পারফরম্যান্সে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) যারপরনাই হতাশ। কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে তারা সালমান আগা-বাবর আজমদের বিরুদ্ধে।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠতে না পারায় জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ৫০ লাখ রুপি জরিমানা করেছে পিসিবি। পুরো দল মিলে নয়, প্রত্যেক খেলোয়াড়ের ওপর এই জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। এই জরিমানার অঙ্ক বাংলাদেশি মুদ্রায় ২১ লাখ ৮৬ হাজার টাকা।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন এক প্রতিবেদনে এমন চাঞ্চল্যকর খবর দিয়েছে।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ডস ও নামিবিয়ার বিপক্ষে জিতলেও ভারতের কাছে হেরে গিয়েছিল পাকিস্তান। এরপর সুপার এইটে নিউজিল্যান্ড ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ার পর ইংল্যান্ডের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে চলে যায় দলটি। শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারালেও ব্যবধান বড় রাখতে না পারায় সেমিফাইনালের আগেই বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করতে হয় সালমান আগার দলকে।
এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানিয়েছে, কলম্বোতে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে ৬১ রানে হারের পরই পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নেয় মহসিন নাকভির বোর্ড। সূত্রমতে, পিসিবি কর্মকর্তারা খেলোয়াড়দের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে অনেক তোষণ করা হয়েছে, এখন থেকে আর্থিক সুবিধা পাওয়া যাবে শুধু পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে।
পিসিবির সূত্রটি আরও জানায়, এরই মধ্যে দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ৫০ লাখ পাকিস্তানি রুপি জরিমানা করা হয়েছে। পিসিবি বলেছে, খেলোয়াড়েরা যদি ভালো পারফরম্যান্সের জন্য পুরস্কার পান, তবে খারাপ পারফরম্যান্সের জন্যও তাদের জরিমানা দিতে হবে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে হারার পরপরই দলকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছিল।
সাবেক অধিনায়ক ও ব্যাটিং গ্রেট জাভেদ মিয়াঁদাদ বলেছেন, তোমাদের দেশের ক্রিকেটের শ্রেষ্ঠত্বের ছাপ রাখার জন্য তোমরা দুই বছরে একবার সুযোগ পাও এবং তোমরা আবারও ব্যর্থ হলে। এই সবকিছু দেখা অত্যন্ত হতাশাজনক।
সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ ইউসুফ বলেছেন, টি-টোয়েন্টিতে প্রতিষ্ঠিত হতে কিছু খেলোয়াড়কে অনেক বেশি সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং তারা বড় ইভেন্টে ব্যর্থ। তার কথা, ‘এখন এগিয়ে যাওয়ার সময় এবং ভুলগুলো থেকে শিখতে হবে।’
এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, পাকিস্তানের জাতীয় ক্রিকেটাররা বর্তমানে বছরে বড় অঙ্কের আয় করেন। একজন ‘এ’ ক্যাটাগরির খেলোয়াড় মাসে ৪৫ লাখ রুপি বেতনের পাশাপাশি আইসিসির রাজস্বের অংশ হিসেবে ২০.৭ লাখ রুপি পান। ‘বি’ ক্যাটাগরির খেলোয়াড়েরা মাসিক ৩০ লাখ রুপির সঙ্গে আইসিসির অংশ হিসেবে পান ১৫.৫২৫ লাখ রুপি।
এ ছাড়া ‘সি’ ক্যাটাগরির খেলোয়াড়দের জন্য মাসিক বেতন ১০ লাখ ও আইসিসির অংশ ১০.৩৫ লাখ; ‘ডি’ ক্যাটাগরির খেলোয়াড়দের জন্য মাসিক বেতন ৭.৫ লাখ ও আইসিসির অংশ ৫.১৭৫ লাখ রুপি। এর বাইরে স্কোয়াডে থাকলে পাওয়া যায় ম্যাচ ফি। ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুনের চলমান কেন্দ্রীয় চুক্তিতে অবশ্য ‘এ’ ক্যাটাগরিতে কোনো খেলোয়াড় নেই।
স্পোর্টস ডেস্ক 






















